আজও আলোর মুখ দেখেনি শেখ কামাল ক্রীড়া কমপ্লেক্স

‘আমার অনুরোধ থাকবে, শেখ কামাল ক্রীড়া কমপ্লেক্স নির্মাণের মাধ্যমে কামাল ভাইয়ের কীর্তি চির জাগরূক করে রাখা হোক’

  মোজাম্মেল হক চঞ্চল ০৬ আগস্ট ২০২০, ০০:০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বড় ছেলে আবাহনীর প্রতিষ্ঠাতা শহীদ শেখ কামালের জন্মদিন ছিল ৫ আগস্ট। ১৯৪৯ সালের এই দিনে গোপালগঞ্জের টুঙ্গীপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেছিলেন আবাহনীর স্বপ্নদ্রষ্টা। দুই দশক আগে শহীদ শেখ কামাল কমপ্লেক্সের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছিল। অথচ, আজও তা আলোর মুখ দেখেনি। আবাহনী লিমিটেড ক্লাব, আবাহনী হেলথ ক্লাব, শেখ কামাল মিলনায়তন, শেখ কামাল একাডেমি ও সুপরিসর ওয়াকওয়ে- এই পাঁচটি স্থাপনার মাধ্যমে শেখ কামাল ক্রীড়া কমপ্লেক্স গড়ে তোলার কথা ছিল। শেখ কামাল একাডেমির নামে একটি একতলা ভবন নির্মাণ ছাড়া কমপ্লেক্সের আর কিছুই হয়নি।

১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর কমপ্লেক্স নির্মাণের ঘোষণা দিয়েছিলেন আবাহনীর কর্তারা। প্রায় একশ’ কোটি টাকা বাজেটে ক্রীড়া কমপ্লেক্স নির্মাণ প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করেছিল আবাহনী। কিন্তু কাজ শুরুর আগে আওয়ামী লীগ সরকার বিদায় নেয়। চারদলীয় জোট সরকারের সময় পুরো প্রক্রিয়া থমকে যায়। ২০০৮ সালে মহাজোট সরকার আবার ক্ষমতায় এলে নড়েচড়ে বসে আবাহনী। ধানমণ্ডির মাঠ ৯৯ বছরের জন্য লিজ দেয়া হয় আবাহনীকে। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের নিয়ন্ত্রণাধীন বাস্কেটবল জিমনেশিয়ামটিও তুলে দেয়া হয় আবাহনীকে। ২০১১ সালের ৫ আগস্ট শেখ কামালের জন্মদিনে আবাহনী সমর্থকগোষ্ঠী ক্রীড়া কমপ্লেক্সের ভিডিওচিত্র প্রদর্শন করে। নকশা ও কমপ্লেক্সের বিবরণ তুলে ধরেছিলেন আবাহনীর পরিচালক ও বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান। ছয় মাসের মধ্যে কাজ শুরু করার কথা ছিল। ভিডিও প্রজেক্টরের মধ্যেই আটকে যায় শেখ কামাল ক্রীড়া কমপ্লেক্স প্রকল্প। ক্রীড়া সংগঠক হিসেবে বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী এবং সাংস্কৃতিকব্যক্তিত্ব শেখ কামালকে ১৯৯৮ সালে ‘স্বাধীনতা পুরস্কার’ এবং ২০১১ সালে জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কার দেয়া হয়। ক্রীড়া অন্তঃপ্রাণ এই ব্যক্তিত্বকে বিনম্র শ্রদ্ধায় স্মরণ করে আবাহনীর প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশিদ বলেন, ‘ক্রীড়াব্যক্তিত্ব হিসেবে শেখ কামাল চিরস্মরণীয় হয়ে আছেন। এক মাঠ থেকে আরেক মাঠে ছুটেছেন নিরন্তর। কখনও বাস্কেটবল। কখনও ক্রিকেট। ফুটবল, ভলিবল, ব্যাডমিন্টন। আবার কখনও অ্যাথলেটিক্স। সর্বত্র ছিল তার অবাধ বিচরণ। ষাটের দশকের মাঝামাঝি থেকে প্রথম বিভাগ বাস্কেটবল লিগে সেই সময়ের বিখ্যাত আজাদ স্পোর্টিং ক্লাব, রেঞ্জার্স, স্পার্স, ওয়ান্ডারার্স ক্লাবে খেলেছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের বাস্কেটবল দলের অধিনায়ক ছিলেন। প্রথম বিভাগ ক্রিকেট লিগে স্বাধীনতার আগে খেলেছেন উদিতি ও স্বাধীনতার পর আবাহনী ক্রীড়া চক্রে।’

সাবেক ফুটবলার দেওয়ান শফিউল আরেফিন টুটুল বলেন, ‘রাজনৈতিক পরিবারে জন্ম নিয়েও কামাল ভাই ছিলেন ভিন্ন ঘরানার। নিজেকে পরিপূর্ণ মানুষ হিসেবে গড়ে তুলেছিলেন। বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী ছিলেন তিনি। সামাজিক, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক, ক্রীড়াঙ্গন- সব ক্ষেত্রে এগিয়ে ছিলেন। স্বাধিকার আন্দোলনের উত্তাল দিনগুলোতে তিনি মিছিলের সামনে থাকাতেন। বাঙালি জাতির ইতিহাসের মাহেন্দ্রক্ষণ মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছেন।’ সাবেক তারকা ফুটবলার আবদুল গাফ্ফার বলেন, ‘আমার অনুরোধ থাকবে, শেখ কামাল ক্রীড়া কমপ্লেক্স নির্মাণের মাধ্যমে কামাল ভাইয়ের কীর্তি চির জাগরূক করে রাখা হোক।’ ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের কালরাতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিবসহ পরিবারের অন্যদের সঙ্গে ঘাতকদের নির্মম বুলেটের আঘাতে শাহাদতবরণ করেন বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী ক্ষণজন্মা ক্রীড়াব্যক্তিত্ব শেখ কামাল।

আরও খবর

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত