রিয়ালের সঙ্গে বিদায় রোনাল্ডোরও
jugantor
রিয়ালের সঙ্গে বিদায় রোনাল্ডোরও
ম্যানসিটি ২, ১ রিয়াল মাদ্রিদ * (দুই লেগ মিলিয়ে ৪-২ ব্যবধানে জয়ী ম্যানসিটি) * জুভেন্টাস ২, ১ লিঁও * (দুই লেগ মিলিয়ে ২-২ সমতা অ্যাওয়ে গোলের অগ্রগামিতায় শেষ আটে লিঁও)

  স্পোর্টস ডেস্ক  

০৯ আগস্ট ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

দরকার ছিল জয়। সেখানে রক্ষণের মারাত্মক ভুলে উল্টো হেরে গেল রিয়াল মাদ্রিদ। বার্নাব্যুর পর ঘরের মাঠেও জিতে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিল ম্যানসিটি। শুক্রবার ইতিহাদে শেষ ষোলোর ফিরতি ম্যাচে রিয়ালকে ২-১ গোলে হারিয়ে শেষ হাসি হেসেছে পেপ গার্দিওলার দল।

রিয়ালের মাঠে প্রথম লেগেও একই ব্যবধানে জিতেছিল সিটি। শেষ আটে তাদের প্রতিপক্ষ ফরাসি ক্লাব লিঁও। রিয়ালের পতনের রাতে ইউরো মঞ্চ থেকে বিদায় নিয়েছে তাদের সাবেক নক্ষত্র ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর বর্তমান দল জুভেন্টাসও। রিয়ালকে টানা তিনবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জিতিয়ে ২০১৮ সালে জুভেন্টাসে নাম লেখানো রোনাল্ডো বাঁচা-মরার ম্যাচে জোড়া গোল করেও বাঁচাতে পারেননি দলকে।

পারফরম্যান্সের ওঠানামার মাঝে লিগ শিরোপা ঘরে তুললেও চ্যাম্পিয়ন্স লিগে পার পেল না জুভেন্টাস। রেফারির বিতর্কিত সিদ্ধান্তে শুরুতে খেয়ে বসল গোল; শেষ পর্যন্ত সেটিই কাল হল। রোনাল্ডোর জোড়া গোলে জয় মিললেও পরের রাউন্ডের টিকিট মিলল না।

অ্যাওয়ে গোলে তাদের পেছনে ফেলে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে লিঁও। শেষ ষোলোর ফিরতি ম্যাচে ঘরের মাঠে ২-১ গোলে জিতেছে জুভেন্টাস। প্রথম লেগে লিঁও ১-০ গোলে জেতায় দুই লেগ মিলে স্কোরলাইন দাঁড়ায় ২-২। পার্থক্য গড়ে দেয় এই ম্যাচের শুরুতে মেমফিস ডিপাইয়ের পেনাল্টি গোল।

১২ মিনিটে বিতর্কিত গোলে এগিয়ে যায় লিঁও। ডি-বক্সে ঢুকে পড়া আউয়ারকে স্লাইড ট্যাকল করেন রদ্রিগো বেন্তানকুর। টিভি রিপ্লেতে পরিষ্কার ট্যাকলই মনে হয়েছে, বলে পা লাগিয়েছিলেনও তিনি। তবে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি, ভিএআরেও সিদ্ধান্ত বহাল থাকে। ঠাণ্ডা মাথার স্পট কিকে বল জালে পাঠান ডাচ ফরোয়ার্ড ডিপাই।

১৯ মিনিটে দারুণ সুযোগ তৈরি করেন ফেদেরিকো বের্নারদেস্কি। ডান দিকের বাইলাইন ধরে দু’জনকে কাটিয়ে চলে যান পোস্টের খুব কাছে। তবে তার শট নেয়ার আগমুহূর্তে লিঁওকে বিপদমুক্ত করেন ডিফেন্ডার মার্সেলো। ৪০ মিনিটে রোনাল্ডোর ফ্রিকিক ঝাঁপিয়ে রুখে দেন গোলকিপার লোপেজ।

এর তিন মিনিট পর রোনাল্ডোর সফল স্পট কিকে সমতায় ফেরে স্বাগতিকরা। মিরালেম পিয়ানিচের ফ্রিকিকে বল ডিপাইয়ের বুকের সঙ্গে লেগে থাকা হাতে লাগলে পেনাল্টি দেন রেফারি। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে জুভেন্টাসের পারফরম্যান্স ছিল বড্ড সাদামাটা। এরই মাঝে ৬০ মিনিটে রোনাল্ডোর একক নৈপুণ্যে এগিয়ে যায় তারা। চলতি মৌসুমে সব প্রতিযোগিতা মিলে তার গোল ৩৭টি। তাই জিতেও ইউরোপ সেরার মঞ্চ থেকে ছিটকে পড়ার হতাশায় মাঠ ছাড়ে মাওরিসিও সারির দল।

আগামী শনিবার লিসবনে সেমিফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে মুখোমুখি হবে সিটি ও লিঁও। ফল উল্টো হলে শেষ আটে দেখা হতো রিয়াল ও রোনাল্ডোর। পর্তুগিজ তারকার বিদায়ের পর টানা দু’বার শেষ ষোলো থেকে বিদায় নিল রিয়াল। অন্যদিকে রোনাল্ডোকে এনেও চ্যাম্পিয়ন্স লিগে দুই যুগের শিরোপা খরা কাটাতে পারল না জুভেন্টাস।

নিজেদের মাঠে প্রথম লেগে হারায় জয়ের বিকল্প ছিল না রিয়ালের সামনে। কিন্তু সিটির আক্রমণের মুখে বেশিরভাগ সময় নিজেদের রক্ষণ সামলাতেই বেশি ব্যস্ত থাকতে হয় জিনেদিন জিদানের দলকে। সেটাও ভালোভাবে পারেনি তারা।

নয় মিনিটে এগিয়ে যায় সিটি। গোলটি তাদের একরকম উপহারই দেয় রিয়াল। থিবো কুর্তোয়া লম্বা শট না নিয়ে বাইলাইনের কাছে রাফায়েল ভারানেকে খুঁজে নেন। ফরাসি ডিফেন্ডারও শট নেননি। তার কালক্ষেপণের সুযোগে দ্রুত ছুটে গিয়ে বল কেড়ে নেন গ্যাব্রিয়েল জেসুস। ব্রাজিলীয় স্ট্রাইকারের কাছ থেকে বল পেয়ে বাকিটা অনায়াসে সারেন ছন্দে থাকা রাহিম স্টার্লিং। ২৮ মিনিটে ম্যাচে সমতা ফেরান করিম বেনজেমা। রদ্রিগোর ক্রস থেকে নিখুঁত হেডে জাল খুঁজে নেন এই ফরাসি স্ট্রাইকার।

অধিনায়ক সের্গিও রামোসের অনুপস্থিতিতে বাড়তি দায়িত্ব ছিল ভারানের কাঁধে। কিন্তু ইতিহাদে ফরাসি ডিফেন্ডারের রাতটা কেটেছে দুঃস্বপ্নের মতো। তার ভুলেই ৬৮ মিনিটে জেসুসের গোলে আবার এগিয়ে যায় সিটি। রক্ষণের মূল ভরসা রামোসের অনুপস্থিতিতে রিয়াল যেন ছিল দিশাহীন।

শেষ দিকে মরিয়া চেষ্টা চালায় রিয়াল, কিন্তু জালের দেখা আর পায়নি স্প্যানিশ চ্যাম্পিয়নরা। প্রথমবারের মতো কোচ হিসেবে ইউরোপ সেরার মঞ্চের নকআউট পর্ব থেকে বিদায় নিলেন জিদান।

রিয়ালের সঙ্গে বিদায় রোনাল্ডোরও

ম্যানসিটি ২, ১ রিয়াল মাদ্রিদ * (দুই লেগ মিলিয়ে ৪-২ ব্যবধানে জয়ী ম্যানসিটি) * জুভেন্টাস ২, ১ লিঁও * (দুই লেগ মিলিয়ে ২-২ সমতা অ্যাওয়ে গোলের অগ্রগামিতায় শেষ আটে লিঁও)
 স্পোর্টস ডেস্ক 
০৯ আগস্ট ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

দরকার ছিল জয়। সেখানে রক্ষণের মারাত্মক ভুলে উল্টো হেরে গেল রিয়াল মাদ্রিদ। বার্নাব্যুর পর ঘরের মাঠেও জিতে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিল ম্যানসিটি। শুক্রবার ইতিহাদে শেষ ষোলোর ফিরতি ম্যাচে রিয়ালকে ২-১ গোলে হারিয়ে শেষ হাসি হেসেছে পেপ গার্দিওলার দল।

রিয়ালের মাঠে প্রথম লেগেও একই ব্যবধানে জিতেছিল সিটি। শেষ আটে তাদের প্রতিপক্ষ ফরাসি ক্লাব লিঁও। রিয়ালের পতনের রাতে ইউরো মঞ্চ থেকে বিদায় নিয়েছে তাদের সাবেক নক্ষত্র ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর বর্তমান দল জুভেন্টাসও। রিয়ালকে টানা তিনবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জিতিয়ে ২০১৮ সালে জুভেন্টাসে নাম লেখানো রোনাল্ডো বাঁচা-মরার ম্যাচে জোড়া গোল করেও বাঁচাতে পারেননি দলকে।

পারফরম্যান্সের ওঠানামার মাঝে লিগ শিরোপা ঘরে তুললেও চ্যাম্পিয়ন্স লিগে পার পেল না জুভেন্টাস। রেফারির বিতর্কিত সিদ্ধান্তে শুরুতে খেয়ে বসল গোল; শেষ পর্যন্ত সেটিই কাল হল। রোনাল্ডোর জোড়া গোলে জয় মিললেও পরের রাউন্ডের টিকিট মিলল না।

অ্যাওয়ে গোলে তাদের পেছনে ফেলে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে লিঁও। শেষ ষোলোর ফিরতি ম্যাচে ঘরের মাঠে ২-১ গোলে জিতেছে জুভেন্টাস। প্রথম লেগে লিঁও ১-০ গোলে জেতায় দুই লেগ মিলে স্কোরলাইন দাঁড়ায় ২-২। পার্থক্য গড়ে দেয় এই ম্যাচের শুরুতে মেমফিস ডিপাইয়ের পেনাল্টি গোল।

১২ মিনিটে বিতর্কিত গোলে এগিয়ে যায় লিঁও। ডি-বক্সে ঢুকে পড়া আউয়ারকে স্লাইড ট্যাকল করেন রদ্রিগো বেন্তানকুর। টিভি রিপ্লেতে পরিষ্কার ট্যাকলই মনে হয়েছে, বলে পা লাগিয়েছিলেনও তিনি। তবে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি, ভিএআরেও সিদ্ধান্ত বহাল থাকে। ঠাণ্ডা মাথার স্পট কিকে বল জালে পাঠান ডাচ ফরোয়ার্ড ডিপাই।

১৯ মিনিটে দারুণ সুযোগ তৈরি করেন ফেদেরিকো বের্নারদেস্কি। ডান দিকের বাইলাইন ধরে দু’জনকে কাটিয়ে চলে যান পোস্টের খুব কাছে। তবে তার শট নেয়ার আগমুহূর্তে লিঁওকে বিপদমুক্ত করেন ডিফেন্ডার মার্সেলো। ৪০ মিনিটে রোনাল্ডোর ফ্রিকিক ঝাঁপিয়ে রুখে দেন গোলকিপার লোপেজ।

এর তিন মিনিট পর রোনাল্ডোর সফল স্পট কিকে সমতায় ফেরে স্বাগতিকরা। মিরালেম পিয়ানিচের ফ্রিকিকে বল ডিপাইয়ের বুকের সঙ্গে লেগে থাকা হাতে লাগলে পেনাল্টি দেন রেফারি। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে জুভেন্টাসের পারফরম্যান্স ছিল বড্ড সাদামাটা। এরই মাঝে ৬০ মিনিটে রোনাল্ডোর একক নৈপুণ্যে এগিয়ে যায় তারা। চলতি মৌসুমে সব প্রতিযোগিতা মিলে তার গোল ৩৭টি। তাই জিতেও ইউরোপ সেরার মঞ্চ থেকে ছিটকে পড়ার হতাশায় মাঠ ছাড়ে মাওরিসিও সারির দল।

আগামী শনিবার লিসবনে সেমিফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে মুখোমুখি হবে সিটি ও লিঁও। ফল উল্টো হলে শেষ আটে দেখা হতো রিয়াল ও রোনাল্ডোর। পর্তুগিজ তারকার বিদায়ের পর টানা দু’বার শেষ ষোলো থেকে বিদায় নিল রিয়াল। অন্যদিকে রোনাল্ডোকে এনেও চ্যাম্পিয়ন্স লিগে দুই যুগের শিরোপা খরা কাটাতে পারল না জুভেন্টাস।

নিজেদের মাঠে প্রথম লেগে হারায় জয়ের বিকল্প ছিল না রিয়ালের সামনে। কিন্তু সিটির আক্রমণের মুখে বেশিরভাগ সময় নিজেদের রক্ষণ সামলাতেই বেশি ব্যস্ত থাকতে হয় জিনেদিন জিদানের দলকে। সেটাও ভালোভাবে পারেনি তারা।

নয় মিনিটে এগিয়ে যায় সিটি। গোলটি তাদের একরকম উপহারই দেয় রিয়াল। থিবো কুর্তোয়া লম্বা শট না নিয়ে বাইলাইনের কাছে রাফায়েল ভারানেকে খুঁজে নেন। ফরাসি ডিফেন্ডারও শট নেননি। তার কালক্ষেপণের সুযোগে দ্রুত ছুটে গিয়ে বল কেড়ে নেন গ্যাব্রিয়েল জেসুস। ব্রাজিলীয় স্ট্রাইকারের কাছ থেকে বল পেয়ে বাকিটা অনায়াসে সারেন ছন্দে থাকা রাহিম স্টার্লিং। ২৮ মিনিটে ম্যাচে সমতা ফেরান করিম বেনজেমা। রদ্রিগোর ক্রস থেকে নিখুঁত হেডে জাল খুঁজে নেন এই ফরাসি স্ট্রাইকার।

অধিনায়ক সের্গিও রামোসের অনুপস্থিতিতে বাড়তি দায়িত্ব ছিল ভারানের কাঁধে। কিন্তু ইতিহাদে ফরাসি ডিফেন্ডারের রাতটা কেটেছে দুঃস্বপ্নের মতো। তার ভুলেই ৬৮ মিনিটে জেসুসের গোলে আবার এগিয়ে যায় সিটি। রক্ষণের মূল ভরসা রামোসের অনুপস্থিতিতে রিয়াল যেন ছিল দিশাহীন।

শেষ দিকে মরিয়া চেষ্টা চালায় রিয়াল, কিন্তু জালের দেখা আর পায়নি স্প্যানিশ চ্যাম্পিয়নরা। প্রথমবারের মতো কোচ হিসেবে ইউরোপ সেরার মঞ্চের নকআউট পর্ব থেকে বিদায় নিলেন জিদান।