মেসি-লেওয়ানডোস্কি লড়াই
jugantor
মেসি-লেওয়ানডোস্কি লড়াই

  স্পোর্টস ডেস্ক  

১০ আগস্ট ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

‘বাস্তবে নয়, মেসিকে শুধু স্বপ্নেই আটকানো সম্ভব’, বার্সেলোনার মুখোমুখি হওয়ার আগে কথাটা বলেছিলেন নাপেলির কোচ জেনারো গাত্তুসো। মুখে বললেও শনিবার রাতে মাঠে মেসিকে থামানোর সব চেষ্টাই তিনি করেছিলেন। তাতে কোনো লাভ হয়নি।

একের পর এক ফাউল করেও মেসিকে থামানো যায়নি। আর্জেন্টাইন জাদুকরের উদ্ভাসিত নৈপুণ্যে নাপোলির বিদায়ঘণ্টা বাজিয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের কোয়ার্টার ফাইনালে চলে গেল বার্সেলোনা। ঘরের মাঠ ন্যুক্যাম্পে শেষ ষোলোর ফিরতি ম্যাচে ৩-১ গোলে জিতেছে বার্সা। নাপোলির মাঠে প্রথম লেগ ১-১ গোলে ড্র হয়েছিল। ফিরতি ম্যাচে মেসি একটি গোল করেছেন। তবু ম্যাচটি মেসিমর বললে ভুল হবে না।

বার্সার অধিনায়কের গোলটাই গত পরশু রাতে সেরা মুহূর্ত। এমন অবিশ্বাস্য গোল প্রতিদিন দেখা যায় না। ভাগ্য সহায় হলে তার নামের পাশে লেখা থাকত হ্যাটট্রিক। একটি গোল তার বাতিল হয়। ক্ষিপ্রতা, গতি ও বুদ্ধির ঝলকে আদায় করেন একটি পেনাল্টি। সেই পেনাল্টি থেকে দলের শেষ গোলটি করেন লুইস সুয়ারেজ।

এত কিছুর পরও শনিবার রাতটা শুধু মেসির নয়। মিউনিখে শেষ ষোলোর আরেক ফিরতি ম্যাচে চেলসিকে একাই লণ্ডভণ্ড করেছেন বায়ার্ন মিউনিখের পোলিশ ফরোয়ার্ড রবার্ট লেওয়ানডোস্কি। ঘরের মাঠে দ্বিতীয় লেগ ৪-১ গোলে জিতে দুই লেগ মিলিয়ে ৭-১ ব্যবধানে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠে গেছে বায়ার্ন। চেলসিকে এভাবে পর্যুদস্ত করার কারিগর লেওয়ানডোস্কি। প্রথম লেগে দলের তিন গোলের মধ্যে একটি করেছিলেন, দুটি বানিয়ে দিয়েছিলেন।

ফিরতি ম্যাচেও দলের চার গোলেই থাকল তার ভূমিকা। নিজে করেছেন জোড়া গোল। পেরেসিচ ও তোলিসোর করা দলের বাকি দুটি গোল তার বানিয়ে দেয়া। এবারের চ্যাম্পিয়ন্স লিগে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ ১৩ গোল লেওয়ানডোস্কির। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে এ মৌসুমে সর্বোচ্চ ৫৩ গোল এই পোলিশ ফরোয়ার্ডের। শুক্রবার লিসবনে হাইভোল্টেজ কোয়ার্টার ফাইনালে মেসির বার্সেলোনার মুখোমুখি হবে লেওয়ানডোস্কির বায়ার্ন।

যেখানে ইউরোপের অন্যতম সেরা দুই দলের লড়াইয়ের মোড়কে থাকছে জিভে জল আনার মতো এক খণ্ডযুদ্ধ। মেসি বনাম লেওয়ানডোস্কি। সব মিলিয়ে এ মৌসুমে ৪৪ ম্যাচে ৫৩ গোল করার পাশাপাশি আটটি গোল বানিয়ে দিয়েছেন লেওয়ানডোস্কি। অন্যদিকে ৪২ ম্যাচে ৩০ গোল করা মেসি বানিয়ে দিয়েছেন ২৬টি গোল।

দুই দলের সাম্প্রতিক ফর্ম বিবেচনায় সেমিতে ওঠার লড়াইয়ে বায়ার্নই ফেভারিট। তবে মেসি জ্বলে উঠলে পাশার দান উল্টে যেতে পারে। নাপোলির বিপক্ষেই সেটি দেখিয়েছেন বার্সা অধিনায়ক। পোস্ট ত্রাতা না হলে দুই মিনিটেই গোল খেয়ে বসত কাতালানরা। ১০ মিনিটে ডিফেন্ডার লংলের গোলে এগিয়ে গেলেও স্বস্তিতে ছিল না বার্সা।

২৩ মিনিটে মেসির সেই জাদুকরী গোলের পর স্বরূপে ফেরে স্বাগতিকরা। প্রায় ৪০ গজ দূর থেকে স্বপ্নের দৌড়ে চারজনকে কাটিয়ে এগিয়ে যাওয়ার পথে দু’বার পড়ে গিয়েও বলের নিয়ন্ত্রণ হারাননি মেসি। এরপর বক্সের সামনে নাপোলির মানব দেয়ালের মধ্যে ফাঁক বের করে বাঁ পায়ের নিখুঁত শটে খুঁজে নেন জাল। সাত মিনিট পর মেসির আরেকটি গোল কাটা পড়ে হ্যান্ডেবলের কারণে। বিরতির ঠিক আগে মেসির আদায় করা পেনাল্টি থেকে ব্যবধান ৩-০ করেন সুয়ারেজ।

শেষ আটের লাইনআপ

আতালান্তা ও পিএসজি (১২ আগস্ট)

লিপজিগ ও অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ (১৩ আগস্ট)

বার্সেলোনা ও বায়ার্ন মিউনিখ (১৪ আগস্ট)

ম্যানসিটি ও লিঁও (১৫ আগস্ট) (সব ম্যাচ লিসবনে)

মেসি-লেওয়ানডোস্কি লড়াই

 স্পোর্টস ডেস্ক 
১০ আগস্ট ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

‘বাস্তবে নয়, মেসিকে শুধু স্বপ্নেই আটকানো সম্ভব’, বার্সেলোনার মুখোমুখি হওয়ার আগে কথাটা বলেছিলেন নাপেলির কোচ জেনারো গাত্তুসো। মুখে বললেও শনিবার রাতে মাঠে মেসিকে থামানোর সব চেষ্টাই তিনি করেছিলেন। তাতে কোনো লাভ হয়নি।

একের পর এক ফাউল করেও মেসিকে থামানো যায়নি। আর্জেন্টাইন জাদুকরের উদ্ভাসিত নৈপুণ্যে নাপোলির বিদায়ঘণ্টা বাজিয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের কোয়ার্টার ফাইনালে চলে গেল বার্সেলোনা। ঘরের মাঠ ন্যুক্যাম্পে শেষ ষোলোর ফিরতি ম্যাচে ৩-১ গোলে জিতেছে বার্সা। নাপোলির মাঠে প্রথম লেগ ১-১ গোলে ড্র হয়েছিল। ফিরতি ম্যাচে মেসি একটি গোল করেছেন। তবু ম্যাচটি মেসিমর বললে ভুল হবে না।

বার্সার অধিনায়কের গোলটাই গত পরশু রাতে সেরা মুহূর্ত। এমন অবিশ্বাস্য গোল প্রতিদিন দেখা যায় না। ভাগ্য সহায় হলে তার নামের পাশে লেখা থাকত হ্যাটট্রিক। একটি গোল তার বাতিল হয়। ক্ষিপ্রতা, গতি ও বুদ্ধির ঝলকে আদায় করেন একটি পেনাল্টি। সেই পেনাল্টি থেকে দলের শেষ গোলটি করেন লুইস সুয়ারেজ।

এত কিছুর পরও শনিবার রাতটা শুধু মেসির নয়। মিউনিখে শেষ ষোলোর আরেক ফিরতি ম্যাচে চেলসিকে একাই লণ্ডভণ্ড করেছেন বায়ার্ন মিউনিখের পোলিশ ফরোয়ার্ড রবার্ট লেওয়ানডোস্কি। ঘরের মাঠে দ্বিতীয় লেগ ৪-১ গোলে জিতে দুই লেগ মিলিয়ে ৭-১ ব্যবধানে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠে গেছে বায়ার্ন। চেলসিকে এভাবে পর্যুদস্ত করার কারিগর লেওয়ানডোস্কি। প্রথম লেগে দলের তিন গোলের মধ্যে একটি করেছিলেন, দুটি বানিয়ে দিয়েছিলেন।

ফিরতি ম্যাচেও দলের চার গোলেই থাকল তার ভূমিকা। নিজে করেছেন জোড়া গোল। পেরেসিচ ও তোলিসোর করা দলের বাকি দুটি গোল তার বানিয়ে দেয়া। এবারের চ্যাম্পিয়ন্স লিগে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ ১৩ গোল লেওয়ানডোস্কির। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে এ মৌসুমে সর্বোচ্চ ৫৩ গোল এই পোলিশ ফরোয়ার্ডের। শুক্রবার লিসবনে হাইভোল্টেজ কোয়ার্টার ফাইনালে মেসির বার্সেলোনার মুখোমুখি হবে লেওয়ানডোস্কির বায়ার্ন।

যেখানে ইউরোপের অন্যতম সেরা দুই দলের লড়াইয়ের মোড়কে থাকছে জিভে জল আনার মতো এক খণ্ডযুদ্ধ। মেসি বনাম লেওয়ানডোস্কি। সব মিলিয়ে এ মৌসুমে ৪৪ ম্যাচে ৫৩ গোল করার পাশাপাশি আটটি গোল বানিয়ে দিয়েছেন লেওয়ানডোস্কি। অন্যদিকে ৪২ ম্যাচে ৩০ গোল করা মেসি বানিয়ে দিয়েছেন ২৬টি গোল।

দুই দলের সাম্প্রতিক ফর্ম বিবেচনায় সেমিতে ওঠার লড়াইয়ে বায়ার্নই ফেভারিট। তবে মেসি জ্বলে উঠলে পাশার দান উল্টে যেতে পারে। নাপোলির বিপক্ষেই সেটি দেখিয়েছেন বার্সা অধিনায়ক। পোস্ট ত্রাতা না হলে দুই মিনিটেই গোল খেয়ে বসত কাতালানরা। ১০ মিনিটে ডিফেন্ডার লংলের গোলে এগিয়ে গেলেও স্বস্তিতে ছিল না বার্সা।

২৩ মিনিটে মেসির সেই জাদুকরী গোলের পর স্বরূপে ফেরে স্বাগতিকরা। প্রায় ৪০ গজ দূর থেকে স্বপ্নের দৌড়ে চারজনকে কাটিয়ে এগিয়ে যাওয়ার পথে দু’বার পড়ে গিয়েও বলের নিয়ন্ত্রণ হারাননি মেসি। এরপর বক্সের সামনে নাপোলির মানব দেয়ালের মধ্যে ফাঁক বের করে বাঁ পায়ের নিখুঁত শটে খুঁজে নেন জাল। সাত মিনিট পর মেসির আরেকটি গোল কাটা পড়ে হ্যান্ডেবলের কারণে। বিরতির ঠিক আগে মেসির আদায় করা পেনাল্টি থেকে ব্যবধান ৩-০ করেন সুয়ারেজ।

শেষ আটের লাইনআপ

আতালান্তা ও পিএসজি (১২ আগস্ট)

লিপজিগ ও অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ (১৩ আগস্ট)

বার্সেলোনা ও বায়ার্ন মিউনিখ (১৪ আগস্ট)

ম্যানসিটি ও লিঁও (১৫ আগস্ট) (সব ম্যাচ লিসবনে)