‘ওস্তাদ ফজলু’র সাফল্য

  স্পোর্টস রিপোর্টার ০১ এপ্রিল ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

‘ওস্তাদ ফজলু’র সাফল্য
হকি প্রশিক্ষক ‘ওস্তাদ ফজলু’

পুরান ঢাকার একটি নামকরা এলাকা ‘আরমানিটোলা’। সকাল হতেই হাতে হকিস্টিক বেরিয়ে পড়ে ছোট্ট শিশুরা। আরমানিটোলা সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ের মাঠে গিয়ে অনুশীলন করে।

ওস্তাদ ফজলু পরম যত্নে এসব শিশুদের স্টিক ধরতে শেখান। স্টিক দিয়ে বল মারতে শেখান। সেদিনের ছোট্ট শিশুটিই একসময় জাতীয় দলের হয়ে দেশের প্রতিনিধিত্ব করেন। এমন শত শত হকি খেলোয়াড় তৈরি করেছেন ফজলু ওস্তাদ ওরফে ফজলুল ইসলাম।

তার সাফল্যের পালকে আরেকটি মুকুট যোগ হয়েছে- বাংলাদেশ জাতীয় স্কুল ও মাদ্রাসা প্রতিযোগিতায় অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন করিয়েছেন আরমানিটোলা সরকারি উচ্চবিদ্যালয়কে।

সাবেক তারকা হকি খেলোয়াড় রফিকুল ইসলাম কামাল, আন্তর্জাতিক হকি আম্পায়ার সেলিম লাকি, রাসেল মাহমুদ জিমি, আবদুস সাজ্জাদ, মাকসুদ আলম হাবুলরাও তার সরাসরি ছাত্র। তাদের মতো হকি খেলোয়াড়ও তৈরি করেছেন তিনি।

ফজলু ওস্তাদের মুখের বুলি, ‘চলো সবাই হকি খেলি’- পুরান ঢাকার পাড়া-মহল্লায় এটা এখন আবালবৃদ্ধবনিতারও বুলি। তারকা হয়ে গেলেও কেউই অস্বীকার করেন না ওস্তাদের ঋণের কথা। আরমানিটোলা স্কুলের মাঠই ফজলু ওস্তাদের হকির বিদ্যাপীঠ।

বাড়ি থেকে হাঁটা দূরত্বে এই মাঠেই স্টিক আর বল হাতে ছোট ছোট ছেলেমেয়ে নিয়ে খেলায় মেতে ওঠেন। এজন্য অবশ্য তিনি কোনো অর্থও নেন না। উল্টো দোকান থেকে জার্সি-জুতা কিনে নিজেই গরিব ছেলেমেয়েদের উপহার দেন।

সিনিয়র খেলোয়াড়দের পুরনো স্টিক চেয়ে নিয়ে নিজেই কেটে ছোট করে নেন তার ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের জন্য। নিজের হাতে তৈরি খেলোয়াড়রা আজ জাতীয় দলের সদস্য। কিন্তু সর্বোচ্চ পর্যায়ে খেলতে না পারায় আজও আক্ষেপে পোড়েন ফজলু।

১৯৮৪ সালে ব্যথা পেয়ে খেলার চেয়ে কোচিংয়ে মনোযোগ দেন। ১৯৭৮ সাল থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত খেলাটা চালিয়ে গেলেও জাতীয় দলে না খেলার আফসোস এখনও তার মুখে। ফজলু ওস্তাদের কথায়, ‘জাতীয় দলের জার্সি হয়তো আমি গায়ে চাপাতে পারিনি।

কিন্তু আমার ছাত্ররা তো পারছে।’ সম্প্রতি ফজলু ওস্তাদের সাফল্যের মুকুটে আরও একটি পালক যোগ হল। জাতীয় স্কুল ও মাদ্রাসা ক্রীড়া প্রতিযোগিতার হকি ইভেন্টে আরমানিটোলা স্কুলকে চ্যাম্পিয়ন করিয়েছেন তিনি।

২১-২৫ মার্চ বরিশাল জেলা স্কুল মাঠে অনুষ্ঠিত শেষ ম্যাচে তার স্কুল আরমানিটোলা ৩-২ গোলে স্বাগতিক বরিশালকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়। ঢাকায় ফেরার পর আরমানিটোলা সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে ফুলেল সংবর্ধনা দেয়া হয় ফজলু ওস্তাদ ও খেলোয়াড়দের।

ফজলুর কথায়, ‘আমার এলাকায় আমাকে ফুলের মালা দিয়ে যে সংবর্ধনা দেয়া হয়েছে, এটা অনেক সম্মানের। ছেলেরা ভালো খেলে আমাকে এই সম্মান এনে দিয়েছে। আমি ওদের জন্য গর্বিত।’

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter