‘পঞ্চাশের চেয়ে ১০০ যেন বেশি হয়’: নাজমুল

সদ্যসমাপ্ত ঢাকা লিগে সবচেয়ে বেশি রান করা নাজমুল হোসেন শান্তর সাক্ষাৎকার

প্রকাশ : ০৮ এপ্রিল ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  স্পোর্টস রিপোর্টার

ক্রিকেটার নাজমুল হোসেন শান্ত

ঢাকা প্রিমিয়ার ক্রিকেট লিগে শুরুটা ভালো হয়নি ১৯ বছর বয়সী বাঁ-হাতি ব্যাটসম্যান নাজমুল হোসেন শান্তর। পরে দারুণ ব্যাটিং করেছেন তিনি। লিগের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হয়েছেন।

আবাহনীর হয়ে চারটি সেঞ্চুরিসহ ৫৭.৬১ গড়ে করেছেন ৭৪৯ রান। গত বছরের জানুয়ারিতে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ক্রাইস্টচার্চ টেস্টে হঠাৎ তার অভিষেক হয়।

মাশরাফি মুর্তজা নাজমুলকে লম্বা রেসের ঘোড়া হিসেবে দেখছেন। নাজমুল জানালেন, তার লক্ষ্য রান করে যাওয়া-

যুগান্তর: ঢাকা লিগে সর্বোচ্চ রান আপনার। ব্যাটিং নিশ্চয়ই উপভোগ করলেন?

নাজমুল : কয়েক বছর ধরেই আমি রান করছি। এ বছর সাড়ে সাতশ’ (আসলে ৭৪৯) রান করেছি। চারটি সেঞ্চুরি এবং দুটি হাফ সেঞ্চুরি করে ভালো লাগছে। আমার লক্ষ্য থাকে যেন পঞ্চাশের চেয়ে একশ’ বেশি হয়। এবার পেরেছি। এ কারণেই বেশি ভালো লাগছে। হয়তো আরও একটু ভালো করার সুযোগ ছিল।

যুগান্তর: দেশি-বিদেশি বেশ কয়েকজন ভালো ব্যাটসম্যান এবার লিগে খেলেছেন। তাদের মধ্যে সর্বোচ্চ রান করার রহস্যটা কি?

নাজমুল : শুরুর দিকে ইনিংস বড় করতে পারছিলাম না। আমার দলে খেলেছেন মাশরাফি ভাই। দ্রুত আউট হয়ে ফিরলে তিনি কখনও বকা দিতেন, কখনও বুঝিয়ে বলতেন। এটা আমাকে রানে ফিরতে সাহায্য করেছে।

শুরুতে সুজন (খালেদ মাহমুদ) স্যার ছিলেন না। তিনি দলে যোগ দেয়ার পর একদিন আমাকে বললেন, তোর নেটে ব্যাট করার দরকার নেই, ম্যাচের সময়ই শুধু ব্যাটিং করিস।’ ওটা আসলে তিনি রাগ করে বলেছিলেন।

শেষ পর্যন্ত ভালো রান করতে পেরে আমি খুশি। সেঞ্চুরি করার পরও ইনিংস বড় করতে পেরেছি। এটাই বেশি তৃপ্তি দিচ্ছে।

যুগান্তর: কয়েকটা ম্যাচে বড় ইনিংস খেলতে পারেননি। দুটি ম্যাচে শূন্য রানেও আউট হয়েছেন। এখন কি মনে হয় ওই ইনিংসগুলো আরেকটু ভালো হতে পারত?

নাজমুল : হয়তো ভালো হতে পারত। আর কিছু রান করলে ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকতে পারতাম। তবে ৩০ বা ৪০ এর ঘরে খুব বেশি আউট না হওয়ায় আমি খুশি।

আমার মনে হয়, ৩০-৩৫ রানে আউট হওয়ার চেয়ে শূন্য রানে ফেরাই ভালো।

যুগান্তর: আপনি টপঅর্ডারে ব্যাট করেন। জাতীয় দলে এই জায়গাগুলোতে ভালো ব্যাটসম্যান রয়েছেন। আপনার জন্য এটা কি চ্যালেঞ্জ নয়?

নাজমুল : আমার বিশ্বাস, পারফর্ম করলে সুযোগ আসবেই। আমি শুধু চিন্তা করি আমার পজিশনে যারা খেলছে, তাদের চেয়ে আমাকে ভালো খেলতে হবে।

ভালো করতে পারলে সুযোগ আসবেই। অবশ্যই চিন্তা থাকে, আমাকে জাতীয় দলে ঢুকতে হবে। কিন্তু কাজটা সহজ নয়। অন্যদের চেয়ে ভালো করলেই আমি হয়তো সুযোগ পাব।

এই পরিকল্পনা নিয়েই এগোচ্ছি। ধারাবাহিকভাবে রান করতে পারলে জাতীয় দলে সুযোগ আসবেই।

যুগান্তর: লিগ শেষ হওয়ার পর মাশরাফি বলেছেন, আপনি যেন আরও পরিণত হয়ে জাতীয় দলে খেলেন। আপনার কাছ থেকে তিনি দীর্ঘদিন সার্ভিস আশা করেন। আপনি কি ভাবছেন?

নাজমুল: মাশরাফি ভাইয়ের এমন মন্তব্য আমাকে অনুপ্রাণিত করবে। এটা আমার জন্য বিশাল প্রাপ্তি। তার কথা মতো আরও কিছুদিন পর জাতীয় দলে সুযোগ পেলে আমি ভালো করব।

অভিজ্ঞতা থেকে এমন কথা বলেছেন তিনি। দুটো টুর্নামেন্টে তিনি খুব কাছ থেকে আমাকে দেখেছেন। আমি তার প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তবে এটা বলব, নির্বাচকরা সুযোগ দিলে আমি যে কোনো সময় জাতীয় দলে খেলতে প্রস্তুত।

যুগান্তর: রই মধ্যে একটি টেস্ট ম্যাচ খেলেছেন আপনি। আন্তর্জাতিক ও ঘরোয়া ক্রিকেটের মধ্যে কোনো পার্থক্য টের পেয়েছেন?

নাজমুল : ঘরোয়া ক্রিকেটে যেখানেই খেলি না কেন, বিপিএল, জাতীয় লিগ, ঢাকা লিগ বা বিসিএল- সবখানেই আমার লক্ষ্য থাকে পারফর্ম করা।

ঘরোয়া ক্রিকেট ও জাতীয় দলে খেলার মধ্যে অনেক পার্থক্য। যেখানেই খেলি না কেন, পারফরম্যান্স দিয়ে যেন সবাইকে সন্তুষ্ট করতে পারি।

যুগান্তর: মেহেদী হাসান মিরাজ বয়সভিত্তিক দল থেকে আপনার সতীর্থ। তিনি জাতীয় দলে সব ফরম্যাটে খেলে যাচ্ছেন ...?

নাজমুল : মিরাজের সঙ্গে অনূর্ধ্ব-১৫ দল থেকে খেলেছি। এখন সে জাতীয় দলে। আমি বিশ্বাস করি, ক্রিকেটে আবেগের কেনো জায়গা নেই। আমার কাজ হল যাদের সঙ্গে প্রতিযোগিতা হয়, তাদের চেয়ে ভালো পারফর্ম করা।

যুগান্তর: এবার ঢাকা লিগে ব্যাটিংবান্ধব উইকেট ছিল। শুরুতে মন্থর ব্যাটিং করতে দেখা গেছে আপনাকে?

নাজমুল : অনেক ম্যাচে দেখা গেছে, শুরুতে দ্রুত উইকেট হারিয়ে কম রানে অলআউট হয়েছে দল। দিনের শুরুতে ব্যাটিং করা কিছুটা কঠিন ছিল।