গোল্ডকোস্টের ডায়েরি

জ্যামাইকান অ্যাথলেটরা পাড়ি জমাচ্ছেন ইউরোপ আমেরিকায়

  মোজাম্মেল হক চঞ্চল ১১ এপ্রিল ২০১৮, ০০:০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

‘জ্যামাইকা, ল্যান্ড উই লাভ’- জাতীয় সঙ্গীত এখন পর্যন্ত গোল্ডকোস্টে শুনতে পেলাম না। ২০০৮ সালে বেইজিং অলিম্পিকে কিংবা ২০১২ লন্ডন অলিম্পিকের অ্যাথলেটিক্স স্টেডিয়ামে বেজেছে জ্যামাইকার জাতীয় সঙ্গীত।

উসাইন বোল্ট, শেলি অ্যান ফ্রেজাররা গতির ঝড় তুলে একের পর এক স্বর্ণপদক তুলে আনতেন, কিন্তু গোল্ডকোস্ট এখন পর্যন্ত হতাশ করেছে দেশটি।

মঙ্গলবার কারারা স্টেডিয়ামের প্রেস সেন্টার থেকে বের হতেই দেখা হল অ্যানসেরিও’র সঙ্গে। জ্যামাইকার অন্যতম নামকরা ক্রীড়া সাংবাদিক। অনেক বছরের চেনা। ২০০৮ সালে বেইজিংয়ে ও ২০১৪ সালে গ্লাসগোতেও ছিলাম আমরা।

প্রসঙ্গক্রমে সেরিও’র কাছে জ্যামাইকার অ্যাথলেটের দৈন্যদশার কথা জানতে চাইলাম। গ্লাসগোতে জ্যামাইকা ১০টি গোল্ড, চারটি সিলভার ও আটটি ব্রোঞ্জও জিতেছিল। যার অধিকাংশই এসেছিল অ্যাথলেটদের কাছ থেকে।

ডন কুয়েরি, মারলিন ওটি, আসাফা পাওয়েল, উসাইন বোল্ট ও শেলি অ্যান ফ্রেজারের দেশের করুণ হাল মানতে পারছেন না সেরিও নিজেই। এই সাংবাদিক জানালেন, ‘জ্যামাইকার বর্তমান প্রজন্ম বোল্ট-শেলিকে আইডল ধরে এগোচ্ছে। সবার লক্ষ্য বোল্ট, শেলি হওয়া। বাবা, মা’রাও সন্তানদের অ্যাথলেটিক্সের দিকে ঠেলে দেন। অ্যাথলেটিক্স আমাদের যেন দ্বিতীয় ধর্ম। ছেলেপুলেরা পড়াশোনার পর বাকি সময়টা দৌড়ে কাটায়। যারা স্কুলে যায় না তারা তো সারা দিনই খেলাধুলা নিয়ে পড়ে থাকে। অ্যাথলেটিক্সই আজ আমাদের বিশ্ব চিনিয়েছে।’

কথা বলছিলেন সেরিও। কিছুটা হতাশা ঘিরে ধরলো তার কণ্ঠে। ‘আর্থিক সচ্ছলতা না থাকায় অনেক জ্যামাইকান অ্যাথলেট এখন ইউরোপ-আমেরিকায় পাড়ি দিচ্ছেন,’ বলছিলেন সেরিও।

হতাশাগ্রস্ত এই জ্যামাইকান সাংবাদিক জানালেন, ‘আমেরিকান বাস্কেটবলও আমাদের অ্যাথলেটিক্সকে ধ্বংস করে দেয়ার অন্যতম কারণ। লম্বা লম্বা অ্যাথলেটরা পাড়ি জমাচ্ছেন আমেরিকায়। ঝুঁকেছেন বাস্কেটবলে। রাশি রাশি ডলারের লোভে। অ্যাথলেটিক্সে তো আর তত পয়সা নেই। সেরিও’র কথা শুনে চমকে উঠলাম। ‘রাশি রাশি ডলার।’

আমাদের দেশের এক শ্রেণীর ক্রীড়াবিদ, ক্রীড়া সংগঠক ও ক্রীড়া সাংবাদিক গেমস থেকে উন্নত জীবনের আশায় বিদেশে পালিয়ে যান। গিয়ে খেলাধুলা নয়, শ্রম বাজারে হারিয়ে যান বাংলাদেশের ক্রীড়া ব্যক্তিত্বরা।

আরও খবর

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত