উৎসবের নগরীতে রেকর্ডের বরপুত্র

  স্পোর্টস ডেস্ক ১৩ এপ্রিল ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

বোল্ট,

এলেন, দেখলেন, মাতালেন- গোল্ডকোস্ট যেন উৎসবের নগরীতে পরিণত হয়েছিল বৃহস্পতিবার। এই উৎসব গেমসের উৎসবের চেয়ে কোনো অংশে কম ছিল না। ধন্য ধন্য পড়ে গিয়েছিল সর্বত্র। পড়বেইবা না কেন।

উসাইন বোল্ট যে এখন গোল্ডকোস্টে। হতে পারতেন ফুটবলার। জ্যামাইকার গ্রামের রাস্তায় ফুটবল খেলেছেন। প্লাস্টিকের বোতল কাপড়ের বান্ডিল নিয়ে মেতে উঠতেন ছোটবেলায়। কল্পনাই করেননি কখনও যে, আজকের অবস্থানে আসতে পারবেন।

গেম শুরু হওয়ার পর থেকে অধীর অপেক্ষায় ছিল গোল্ডকোস্ট। বুধবার রাতে পূরণ হল তাদের স্বপ্ন। ছবির মতো সাজানো এই শহরে এলেন বিশ্ব জয় করা এই কিংবদন্তি দৌড়বিদ। অ্যাথলেটিক্স থেকে অবসর নিয়েছেন আগেই। তারপরও তাকে নিয়ে মাতামাতির কমতি নেই।

বোল্টকে ঘিরে চলছে নানা আয়োজন। কমনওয়েলথ গেমসে উৎসবের আমেজ রাতারাতি বাড়িয়ে দিয়েছেন এই জ্যামাইকান। বোল্ট প্রাণবন্ত অ্যাথলেট। দৌড় শেষে তার সেলিব্রেশনের স্টাইল জগদ্বিখ্যাত।

গোল্ডকোস্টও মেতে রয়েছে তাকে নিয়ে। সবাইকে মাতিয়ে রাখতে যার জুড়ি নেই সেই বোল্ট বুধবার রাতে গোল্ডকোস্ট বিমানবন্দরে সবাইকে পাশ কাটিয়ে বেরিয়ে যান। তাসমান সাগরের নীল পানিতে নামতে অধীর ছিলেন বোল্ট।

২০০৯ সালে বার্লিনে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে ৯.৫৮ সেকেন্ড সময় নিয়ে ১০০ মিটার স্প্রিন্টে বিশ্বরেকর্ড গড়েন বোল্ট। সেই রেকর্ড ভাঙতে পারেননি কেউ। গত বছর অবসর নিয়েছেন। অবসরের সঙ্গী হিসেবে বেছে নিয়েছেন

ফুটবলকে। অবসরের পর বোল্ট এই প্রথম কোনো আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আসরে প্রতিযোগী না হয়েও অংশ নিচ্ছেন। দর্শকের সারিতে বসে গেমস উপভোগের আনন্দ কেমন সেটা জানাতে গিয়ে বোল্ট বললেন ‘দুর্দান্ত’।

গোল্ডকোস্টে নানা অনুষ্ঠানে যোগ দিতে হচ্ছে বোল্টকে। তবে সবার আগে ছবি তুলেছেন গেমসের মাসকট বরোবির সঙ্গে। বোল্ট হলেন রেকর্ডের বরপুত্র।

১৯.১৯ সেকেন্ড নিয়ে ২০০ মিটার স্প্রিন্টে এবং ৩৭.০৪ সেকেন্ড নিয়ে ৪ x ১০০ মিটারেও বিশ্বরেকর্ডের অধিকারী তিনি।

গোল্ডকোস্টের অপটাস কনফারেন্স সেন্টারে বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের নানা প্রশ্নের জবাব দেন বোল্ট। কথা বলেন নিজের অতীত, বতর্মান ও ভবিষ্যৎ নিয়ে। স্মৃতিচারণ ও অভিজ্ঞতা বিনিময় করেন সাংবাদিকদের সঙ্গে। জানান, এই মুহূর্তে তার প্রাণের খেলা ফুটবল। বিশ্বকাপ দেখতে রাশিয়া যাচ্ছেন কিনা সে বিষয় অবশ্য নিশ্চিত করেননি। ট্র্যাক অ্যান্ড ফিল্ডে গতির লড়াইয়ে তার রেকর্ড কখনও ভাঙবে কী?

এই প্রশ্নে বোল্ট হাসতে হাসতে বলেন, ‘রেকর্ড তো ভাঙার জন্যই গড়া হয়। আর আমার তো মনে হয়, কেউ না কেউ আমার রেকর্ড ঠিকই ভেঙে ফেলবে।’

বোল্ট বলেন, শুধু অ্যাথলেট নয়, তিনি সবাইকে সবসময় শুধু এ কথাটাই বলতে চেয়েছেন যে, তারা যেন তাকে দেখে অনুপ্রাণিত হয়। কঠোর পরিশ্রম করে এবং নিজেকে কাক্সিক্ষত লক্ষ্যে নিয়ে যেতে যেন পিছপা না হয়।

ক্রীড়াবিদদের ডোপ গ্রহণে নিরুৎসাহিত করে জ্যামাইকান তারকা বলেন, ‘ডোপ কখনও কোনো ক্রীড়াবিদকে সাহায্য করে না। বরং সর্বনাশ ডেকে আনে।’ অবসর গ্রহণের পর কেমন কাটছে দিনকাল?

বোল্ট বলেন, ‘অবসরের পর আমার ব্যস্ততা বেড়ে গেছে। আমি প্রচুর ভ্রমণ করি। ঘরে বসে থাকার সময় পাই না। সত্যি বলতে, অবসরের পর থেকে এখন পর্যন্ত ভালোই আছি। জানতাম এই লড়াই, এই দর্শক উপস্থিতি আর দেখতে পাব না। তবে একজীবনে যা পেয়েছি তাতে আমি সন্তুষ্ট।’

বোল্ট ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের অন্যতম সেরা ক্লাব ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে যোগ দিচ্ছেন, এমন গুজব শোনা যায়। গুজব উড়িয়ে দিয়ে তিনি বলেন, ‘ওরকম কিছু এখনও ঘটেনি। তবে ফুটবলের বিষয়ে আমি খুবই সিরিয়াস।’

তবে ম্যানইউর সঙ্গে ভবিষ্যতে তার সম্পর্ক গড়ে উঠতে পারে বলে মন্তব্য করেন বোল্ট। গতিমানবকে দেখে আবেগাপ্লুত গ্রিফিথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী ক্রিস্টিনা মে উচ্ছ্বসিত কণ্ঠে বলেন, ‘গত এক সপ্তাহ আমি খুবই এক্সাইটেড ছিলাম। অপেক্ষা করেছি গতিমানবকে একপলক দেখার জন্য। আজ আমার স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। শুধু দেখা নয়, বোল্টের সঙ্গে ছবিও তুলেছি, যা আমার জীবনের সেরা মুহূর্ত।’

ঘটনাপ্রবাহ : কমনওয়েলথ গেমস ২০১৮

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×