‘ডাবল দাম দেব’

  যুগান্তর ডেস্ক ১৩ এপ্রিল ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

‘ডাবল দাম দেব’

‘তুমি পাঁচটা বরবি কিনেছ, আমাকে একটা দেবে? আমি ডাবল দাম দেব’- এক কানাডিয়ানকে কথাটি বলতেই মনে হল তেলে-বেগুনে জ্বলে উঠলেন। মেয়ে লাবিবার বায়না ছিল, একটা পুতুল কিনে নেয়ার জন্য।

গোল্ডকোস্টে এসে মনস্থির করেছিলাম গেমসের মাসকট ‘বরবি’র পুতুল নিয়ে যাব। আজ-কাল করতে করতে পুতুল আর কেনাই হয় না। বৃহস্পতিবার হাতের লেখা শেষ করে গিয়েছিলাম গেমস ভিলেজের অফিসিয়াল স্যুভেনির শপে। বরবি নেই। সব পুতুল বিক্রি শেষ।

ওখানে না পেয়ে মিডিয়া সেন্টার। কারারা স্টেডিয়ামসহ কয়েকটি শপে যাই। সব জায়গায় একই দশা। মনটা খারাপ। এক ইন্ডিয়ান সাংবাদিক জানালেন ব্রডবিচের শপে বরবি দেখেছেন। পড়িমরি করে ছুটছি। লম্বা লাইনের পেছনে। সামনে কমপক্ষে পাঁচশ’ মানুষ। সবাই বরবি কিনছেন।

শ’দুয়েক লোকের পর জানিয়ে দেয়া হল বরবি শেষ। কেন যে গেমসের শুরুতেই কিনলাম না? দেখি এক সাদা চামড়ার লোক পাঁচটি ‘বরবি’ নিয়ে পাশ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছেন। ভাব জমানোর চেষ্টা করছি।

এটাসেটা বলে পটানোর উপায় খুঁজছি। জানালেন কানাডা থেকে এসেছেন গেমস দেখতে। দেশে ব্ল্যাকে অনেক টিকিট কিনে খেলা দেখেছি। ১৯৯১ সালে ঘূর্ণিঝড়ের সময় ডাবল দামে মোমবাতি কিনেছিলাম। সকালে ৪০ টাকার পেঁয়াজ বিকালে ৮০ টাকায় কেনার অভিজ্ঞতা তো আছেই।

সেই কথা চিন্তা করেই ধুম করে অফার দিলাম, ‘একটা বরবি দাও। তোমাকে ডাবল দাম দিব।’ লোকটি আমার দিকে এমনভাবে তাকালেন, মনে হচ্ছে ভিনগ্রহ থেকে আমি এসেছি। কোনো কথা না বলে মানে মানে কেটে পড়লাম।

গেমস কভার করতে এসেছি। সাংবাদিক মানুষ। হয়তো ফেভার পেতে পারি- চিন্তা করতেই ঢুকে পড়লাম শপের ম্যানেজারের রুমে। অনুরোধ করলাম একটি বরবি পুতুল ম্যানেজ করে দিতে। ম্যানেজার আমার অনুরোধে কম্পিউটারে চেক করছেন কোনো শপে বরবি আছে কিনা? কোথা থেকেও আশাব্যঞ্জক সারা মিলল না।

৯০ হাজার তিন ধরনের ‘বরবি’ পুতুল বিক্রি শেষ। কমনওয়েলথ গেমস উপলক্ষে আড়াই লাখ কয়েন, আট লাখ পিন এবং ব্যাজ, ৪৫ হাজার টি-শার্ট এবং ৩০ হাজার ক্যাপ বিক্রি হয়েছে। গেমসের প্রোগ্রাম সিডিউল বিক্রি হয়েছে ৫৫ হাজার।

আর এসব বিক্রি করে ৩.৬ মিলিয়ন অস্ট্রেলিয়ান ডলার আয় হয়েছে মার্চেন্টডাইজারের। এসব তথ্য বলছিলেন ম্যানেজার ভদ্রলোক। আমি এক কান দিয়ে শুনছি। অন্য কান দিয়ে বের করে দিচ্ছি।

ঘটনাপ্রবাহ : কমনওয়েলথ গেমস ২০১৮

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×