ডিশ ব্যবসায়ী যখন খেলোয়াড়!

স্বাধীনতা কাপ কাবাডি

  স্পোর্টস রিপোর্টার ০৫ মে ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

নীল রঙের ম্যাট। ম্যাটের চারদিকে ইলেক্ট্রোনিক্স ডিভাইসে ভাসছে বিজ্ঞাপনচিত্র। দক্ষিণ দিকে বড় মঞ্চ। নিরাপত্তা কর্মীদের ভিড়। সাজসাজ রব শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ ইনডোর স্টেডিয়ামে। স্বাধীনতা কাপ কাবাডির চূড়ান্তপর্বের খেলা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। কিন্তু যারা খেলছেন, তারা কেউ ডিশ ব্যবসায়ী, কেউ কসমেটিকস ব্যবসায়ী। কেউ মোবাইল ব্যবসায়ী। সার্ভিসেস দলের খেলোয়াড়দের অনুমতি না থাকলেও কোনো কোনো জেলার হয়ে খেলার অভিযোগও রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। তৃণমূল থেকে খেলোয়াড় তুলে আনার উদ্দেশ্য কি এতে পূরণ হচ্ছে? যেন আলোর নিচেই অন্ধকার।

ডিশ ক্যাবল ব্যবসায়ী বরিশালের মাসুদ রানা। ছোট ভাইয়ের ব্যবসা হলেও তাকেই দেখতে হয়। গ্রামে হাডুডু খেলে বড় হয়েছেন তিনি। কিছুদিন অনুশীলন করে এখন কাবাডি খেলছেন। মাসুদের কথায়, ‘আমাদের প্রায় সব থানায় কাবাডি খেলা হয়। ওখানে ম্যাট নেই।’ দলের কোচ আব্বাস আলী তালুকদার অবশ্য বললেন ভিন্ন কথা, ‘বরিশালে অন্য বিভাগের তুলনায় কাবাডি খেলা হয় কম। কারণ পৃষ্ঠপোষকতা নেই। আর্থিক দৈন্য রয়েছে। পুলিশ প্রশাসন কিছুটা সহায়তা করে। বাকিটা জেলা ও বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থা করে।’ ২০০৬-০৭ সালে জার্মানিতে ফুটবল রেফারির ওপর উচ্চতর প্রশিক্ষণ নেন আব্বাস। ক্রিকেট, ফুটবল, কাবাডিসহ প্রায় সব খেলায় কোচিং করান। তিনি বলেন, ‘এখন কাবাডির প্রসারের জন্য কাজ করছি। গতবার এই স্বাধীনতা দিবস কাবাডিতে তৃতীয় হয়েছি। এবার নিরপেক্ষ রেফারিং হলে চ্যাম্পিয়ন হব।’ তিনি যোগ করেন, ‘সাধারণত প্রতিভা অন্বেষণ করতে হয় স্কুল ও কলেজ থেকে। অন্যভাবে করলে তা থেকে কিছু আশা করা যায় না। ইউরোপে ১২ বছর বয়স থেকে পরিচর্যা করা হয়।’ মাদারীপুরের আবুল হাসনাত ট্রাক ব্যবসায়ী। গ্রামে হাডুডু খেলেন। হাডুডুর সঙ্গে কাবাডির ফারাক। তার মতে, হাডুডু খেলে জাতীয় দলে আসা সম্ভব। হাসনাতের কথায়, ‘আমরা সবাই কর্মজীবী। তারপরও খেলি। এভাবেই একসময় জাতীয় দলে আসা সম্ভব।’ একই জেলার মোবাইল ব্যবসায়ী নুরে আলম। তার কথায়, ‘আমাদের প্রধান খেলা হাডুডু। মাঝেসাঝে কাবাডি খেলি। এভাবেই খেলে এবার ঢাকা বিভাগের চ্যাম্পিয়ন দল হিসেবে চূড়ান্তপর্বে এসেছি আমরা।’ স্বাধীনতা দিবস কাবাডির চূড়ান্তপর্ব নিয়ে অভিযোগও রয়েছে। দিনাজপুর বিভাগের চ্যাম্পিয়ন হিসেবে কুড়িগ্রাম খেললেও এই দলে নাকি দিনাজপুর, ফুলবাড়িয়াসহ বেশ কয়েকটি অন্য জেলার খেলোয়াড়ও রয়েছেন। এছাড়া কয়েকটি দলে সার্ভিসেস দলের খেলোয়াড়ও খেলছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। যদিও টুর্নামেন্টের বাইলজের ৪-এর ধারায় লেখা রয়েছে, এক জেলার খেলোয়াড় অন্য জেলার পক্ষে অংশ নিতে পারবেন না। সার্ভিসেস দলের কোনো খেলোয়াড়ও কোনো জেলার পক্ষে খেলতে পারবেন না। চট্টগ্রাম জেলার কোচ মো. শাহজালাল বলেন, ‘এই টুর্নামেন্ট করে তেমন কোনো লাভ হবে না ফেডারেশনের। কারণ এখান থেকে খেলোয়াড় বাছাই করে পরিচর্যা করার মতো কিছু নেই। এখানে খেলা অধিকাংশ খেলোয়াড়ই সেই বয়স পেরিয়ে এসেছে।’ ম্যানেজার মজিবুর রহমান বলেন, ‘এটা শুধুই একটি টুর্নামেন্ট। যেখানে নিয়ম থাকলেও তা মানছে না অনেকে।’

আগের আসরগুলোতে সার্ভিসেস দলের খেলোয়াড়রা ছিলেন। এবার এশিয়ান গেমসের ক্যাম্পে থাকায় সার্ভিসেস দলগুলো অংশ নেয়নি। অনেকের মতে, প্রত্যেকটি সার্ভিসেস দলের বি-দল রয়েছে। ফেডারেশন ইচ্ছে করলেই তাদের খেলাতে পারত। তাই স্বাধীনতা কাপ কাবাডি শৌখিন খেলোয়াড়দের টুর্নামেন্টে পরিণত হয়েছে বলে মনে করেন কাবাডিপ্রেমীরা।

 

 

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter