১৬ দলের আদ্যোপান্ত
jugantor
১৬ দলের আদ্যোপান্ত

  ইশতিয়াক সজীব  

১৫ অক্টোবর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

২০০৭ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে ছয়টি টি ২০ বিশ্বকাপের আসর বসেছিল। এরপর পাঁচ বছরের বিরতি। অপেক্ষার দীর্ঘ প্রহর শেষে আবারও মাঠে গড়াচ্ছে টি ২০ বিশ্বকাপ। ওমান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে এবারের আসরে অংশ নিচ্ছে ১৬টি দল।

এর মধ্যে আট দলের প্রথম রাউন্ড থেকে বিদায় নেবে চারটি দল। ১২ দল নিয়ে হবে সুপার টুয়েলভ রাউন্ড।

সপ্তম টি ২০ বিশ্বকাপের ১৬ দলের আদ্যোপান্ত নিয়ে এ আয়োজন। লিখেছেন ইশতিয়াক সজীব

ইংল্যান্ড

টি ২০ র‌্যাংকিং : ১

বিশ্বকাপ রেকর্ড : ম্যাচ ৩২ জয় ১৫ হার ১৬ ফল হয়নি ১

সীমিত ওভারের ক্রিকেটে এক সময় পায়ের নিচে মাটি খুঁজে না পাওয়া ইংল্যান্ড এখন সময়ের সেরা দলগুলোর একটি। বিস্ফোরক ব্যাটার ও কার্যকর অলরাউন্ডারে ঠাসা দলটির সবচেয়ে বড় শক্তি ভয়ডরহীন মানসিকতা। ২০১০ সালে টি ২০ বিশ্বকাপের তৃতীয় আসরে নিজেদের প্রথম বৈশ্বিক শিরোপা জেতা ইংল্যান্ড ২০১৬ সালে সবশেষ আসরের ফাইনালে হেরেছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে। এরপর ২০১৯ সালে তারা জিতেছে ওয়ানডে বিশ্বকাপ।

এবারের টি ২০ বিশ্বকাপেও শিরোপার অন্যতম দাবিদার ইংল্যান্ড। তবে মানসিক অবসাদ ও চোটের কারণে এবার তারা পাচ্ছে না ওয়ানডে বিশ্বকাপ জয়ের দুই নায়ক অলরাউন্ডার বেন স্টোকস ও পেসার জফরা আর্চারকে। অধিনায়ক এউইন মরগানের পড়তি ফর্ম দলের

আরেকটি দুর্বল জায়গা। সেই দুর্বলতা অবশ্য ঢেকে দিতে পারেন জস বাটলার, দাভিদ মালান, জনি বেয়ারস্টো, জেসন রয়, আদিল রশিদ ও মঈন আলী। দুর্দান্ত

ফর্মে থাকা হার্ডহিটার ব্যাটার লিয়াম লিভিংস্টোনও

হতে পারেন ইংল্যান্ডের তুরুপের তাস।

ভারত

টি ২০ র‌্যাংকিং : ২

বিশ্বকাপ রেকর্ড : ম্যাচ ৩৩ জয় ২১ হার ১১ ফল হয়নি ১

টি ২০ সংস্করণে সব সময়ের ফেভারিট ভারত। ২০০৭ সালে টি ২০ বিশ্বকাপের প্রথম আসরে চ্যাম্পিয়ন হওয়া দলটি ২০১৪ আসরের ফাইনালে হেরেছিল শ্রীলংকার কাছে। সব বিভাগেই দারুণ শক্তিশালী ভারতের দৃষ্টি এবার দ্বিতীয় শিরোপায়। আইপিএলের সুবাদে বিশ্বকাপের

আগে সংযুক্ত আরব আমিরাতে ভারতের সব ক্রিকেটার খেলার মধ্যে ছিলেন। বিশ্বকাপের পর ভারতের টি ২০ দলের নেতৃত্ব ছেড়ে দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া বিরাট কোহলি অধিনায়ক হিসাবে এখনো আইসিসির কোনো টুর্নামেন্টের শিরোপা জিততে পারেননি। এবার সেই অপূর্ণতা ঘোচাতে মুখিয়ে আছেন সময়ের সেরা ব্যাটার। আন্তর্জাতিক টি ২০তে সবচেয়ে বেশি রান ও সেরা গড় কোহলির।

তার ডেপুটি রোহিত শর্মা এ সংস্করণে আরও বেশি কার্যকর। লোকেশ রাহুল ও ঋষভ পন্তও গড়ে দিতে পারেন ব্যবধান। বোলিংয়ে আছেন জাসপ্রিত বুমরা, মোহাম্মদ শামি, রবীন্দ্র জাদেজা ও রবিচন্দ্রন অশ্বিনের মতো পরীক্ষিত সেনানী। দুর্বলতা বলতে পেস বোলিং অলরাউন্ডার হার্দিক পান্ডিয়ার বাজে ফর্ম।

পাকিস্তান

টি ২০ র‌্যাংকিং : ৩

বিশ্বকাপ রেকর্ড : ম্যাচ ৩৪ জয় ১৯ হার ১৫

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পাকিস্তানের বড় শক্তি তাদের অননুমেয় চরিত্র। আর বড় দুর্বলতা অধারাবাহিকতা। ২০০৭ সালে প্রথম টি ২০ বিশ্বকাপ ফাইনালে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতের কাছে হেরে যাওয়া দলটি পরের আসরে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল শ্রীলংকাকে হারিয়ে। এরপর আর ফাইনালে উঠতে পারেনি পাকিস্তান। এবার ফেভারিটের কাতারে না থাকলেও তাদের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। অধিনায়ক বাবর আজম সময়ের অন্যতম সেরা ব্যাটার। আন্তর্জাতিক টি ২০তে ৫৫ ম্যাচে ৪৮.১৮ গড়ে ২১২০ রান করেছেন বাবর। আছে ১৯ ফিফটি ও একটি সেঞ্চুরি। স্ট্রাইক রেট প্রায় ১৩১। নিজের দিনে বাবর একাই জেতাতে পারেন দলকে। কিপার-ব্যাটার মোহাম্মদ রিজওয়ানও টি ২০তে দারুণ কার্যকর। সমস্যা হলো, এ দুজন ছাড়া পাকিস্তান দলে কোনো নির্ভরযোগ্য ব্যাটার নেই। বোলিংয়ে তুরুপের তাস হতে পারেন পেসার শাহিন শাহ আফ্রিদি। এ ছাড়া দুই বুড়ো অলরাউন্ডার মোহাম্মদ হাফিজ ও শোয়েব মালিকের অভিজ্ঞতা বড় সম্পদ হতে পারে পাকিস্তানের।

নিউজিল্যান্ড

টি ২০ র‌্যাংকিং : ৪

বিশ্বকাপ রেকর্ড : ম্যাচ ৩০ জয় ১৫ হার ১৫

একসময় নিউজিল্যান্ডকে বলা হতো সেমিফাইনালের দল। সেই গেরো খুলে ওয়ানডে বিশ্বকাপের শেষ দুই আসরেই ফাইনালে খেলেছে কিউইরা। শিরোপার দেখা অবশ্য মেলেনি। সেই দুঃখ তারা ভুলেছে আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের প্রথম চক্রে চ্যাম্পিয়ন হয়ে। এবার নিউজিল্যান্ডের লক্ষ্য অধরা টি ২০ বিশ্বকাপ জয়। আগের ছয় আসরে কখনো ফাইনালে উঠতে না পারলেও এবার কিউইদের নিয়ে অনেকেই বাজি ধরবেন। অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসন যে কোনো কন্ডিশনে ও যে কোনো সংস্করণে সমান কার্যকর। তার সঙ্গে আছেন মার্টিন গাপটিল, গ্লেন ফিলিপস, জিমি নিশাম ও মার্ক চ্যাপম্যানের মতো বিস্ফোরক ব্যাটার। বোলিংয়ে ট্রেন্ট বোল্ট, কাইল জেমিসন ও লকি ফার্গুসন গতির ঝড়ে উড়িয়ে দিতে পারেন যে কোনো দলকে। মিচেল স্যান্টনার ও ইশ সোধির স্পিনও গড়ে

দিতে পারে ব্যবধান। দুর্বলতা বলতে, দলটিতে

টি ২০-র প্রতিষ্ঠিত কোনো মহাতারকা নেই।

দক্ষিণ আফ্রিকা

টি ২০ র‌্যাংকিং : ৫

বিশ্বকাপ রেকর্ড : ম্যাচ ৩০ জয় ১৮ হার ১২

টি ২০ বিশ্বকাপে ম্যাচ জেতার রেকর্ডে দক্ষিণ আফ্রিকা ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের অবস্থান পাশাপাশি। কিন্তু ওয়েস্ট ইন্ডিজ যেখানে দুবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে, সেখানে কখনো ফাইনালেই উঠতে পারেনি দক্ষিণ আফ্রিকা। কারণ নকআউট ম্যাচের চাপ নিতে পারে না প্রোটিয়ারা। চাপের মুখে ভেঙে পড়ার অভ্যাসের কারণে তাদের ডাক-নামই হয়ে গেছে ‘চোকার’। এবার প্রত্যাশার চাপ না থাকায় উপভোগের ক্রিকেট খেলে অভাবনীয় কিছু করে দেখানোর স্বপ্ন দেখছে দক্ষিণ আফ্রিকা। আলোচনায় না থাকলেও টেম্বা বাভুমার নেতৃত্বে তরুণ দলটিতে

দারুণ কিছু ক্রিকেটার আছেন। ব্যাটিংয়ে কুইন্টন ডি কক, ডেভিড মিলার, এইডেন মার্করাম ও ভ্যান ডার ডুসেন। বোলিংয়ে কাগিসো রাবাদা, এনগিডি, নর্কিয়া, কেশব মহারাজ ও টি ২০ র‌্যাংকিংয়ের এক নম্বর বোলার তাবরাইজ শামসি।

বাংলাদেশ

টি ২০ র‌্যাংকিং : ৬

বিশ্বকাপ রেকর্ড : ম্যাচ ২৫ জয় ৫ হার ১৯ ফল হয়নি ১

বিশ্বকাপের আগে জিম্বাবুয়ে, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে টানা তিনটি সিরিজ জিতে টি ২০ র‌্যাংকিংয়ে ছয়ে উঠে এসেছে বাংলাদেশ। কিন্তু বিশ্বকাপের গ্রুপিংয়ের সময় শীর্ষ আটের বাইরে থাকায় গত আসরের মতো এবারও প্রথম রাউন্ডে খেলতে হচ্ছে মাহমুদউল্লাহদের। বাংলাদেশের প্রাথমিক লক্ষ্য তাই নিজেদের গ্রুপে সেরা দুই দলের একটি হয়ে সুপার টুয়েলভ পর্বের টিকিট নিশ্চিত করা। তবে মূল লক্ষ্য সেমিফাইনাল। প্রথম রাউন্ডে স্কটল্যান্ড, ওমান ও পাপুয়া নিউগিনির বিপক্ষে পারিষ্কার ফেভারিট বাংলাদেশ। সুপার টুয়েলভে দিতে হবে আসল পরীক্ষা। গত আসরে এই পর্বে চার ম্যাচের সবকটিই হেরেছিল বাংলাদেশ। টি ২০ বিশ্বকাপে বাংলাদেশের সার্বিক রেকর্ডও ভুলে যাওয়ার মতো। ২৫ ম্যাচে জয় মোটে পাঁচটি। তবে এবার দল জয়ের ধারায় থাকায় বিবর্ণ রেকর্ড রঙিন করার স্বপ্ন দেখছেন অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ।

আইপিএলের আরব আমিরাত পর্বে খেলার সুবাদে বাংলাদেশের বাজির ঘোড়া হতে পারেন সাকিব আল হাসান ও মোস্তাফিজুর রহমান। অভিজ্ঞতা ও তারুণ্যের সঠিক সমন্বয়ে কাগজে-কলমে বাংলাদেশের বিশ্বকাপ স্কোয়াড যথেষ্ট শক্তিশালী। মুশফিকুর, লিটন, সৌম্য, নুরুল, আফিফ, সাইফউদ্দিন ও নাসুমের মতো অনেক ম্যাচ জেতানো ক্রিকেটার আছেন দলে।

অস্ট্রেলিয়া

টি ২০ র‌্যাংকিং : ৭

বিশ্বকাপ রেকর্ড : ম্যাচ ২৯ জয় ১৬ হার ১৩

ওয়ানডে বিশ্বকাপে রেকর্ড পাঁচবারের চ্যাম্পিয়ন অস্টেলিয়া কখনো টি ২০ বিশ্বকাপ জিততে পারেনি। সেরা সাফল্য ২০১০ আসরে রানার্সআপ হওয়া। ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও বাংলাদেশের বিপক্ষে শেষ দুটি টি ২০ সিরিজ ৪-১ ব্যবধানে হারায় অস্ট্রেলিয়াকে এবার কেউ ফেভারিটের কাতারে রাখছেন না। চোট, বিশ্রাম মিলিয়ে দলের মূল খেলোয়াড়রা গত কয়েকটি সিরিজে না খেলায় অস্ট্রেলিয়ার বিশ্বকাপ প্রস্তুতি মোটেও ভালো হয়নি। তবে শক্তির বিচারে অস্ট্রেলিয়াকে পিছিয়ে রাখা যাবে না। ব্যাটিংয়ে অ্যারন ফিঞ্চ, ডেভিড ওর্য়ানার, স্টিভেন স্মিথ ও গ্লেন ম্যাক্সওয়েলের যে কেউ একাই গড়ে দিতে পারেন ব্যবধান। বোলিং আক্রমণে আছেন মিচেল স্টার্ক, প্যাট কামিন্স ও জশ হ্যাজলউডের মতো বিশ্বসেরা তিন পেসার। পেস বোলিং অলরাউন্ডার মিচেল মার্শও হতে পারেন এক্স ফ্যাক্টর। শেষ দুই সিরিজে দল হারলেও তিনে ব্যাট করে ১০ ম্যাচে ৩৮৫ রান করেছেন মিচেল মার্শ। আরব আমিরাতের উইকেটে অ্যাডাম জাম্পা ও মিচেল সোয়েপসনের স্পিনও দারুণ কার্যকর হতে পারে।

আফগানিস্তান

টি ২০ র‌্যাংকিং : ৮

বিশ্বকাপ রেকর্ড : ম্যাচ ১৪ জয় ৫ হার ৯

তালেবানরা আফগানিস্তানের ক্ষমতা দখলের পর বিশ্বকাপে দলটির অংশগ্রহণ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছিল। শেষ পর্যন্ত অনিশ্চয়তা কাটলেও দল নির্বাচনে বোর্ড তার মতামত না নেওয়ায় হুট করে নেতৃত্ব ছেড়ে দিয়েছেন আফগান ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় তারকা রশিদ খান। বিশ্বকাপে দলকে নেতৃত্ব দেবেন অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার মোহাম্মদ নবী। আফগানিস্তান দলে ঐক্যের সংকট থাকলেও প্রতিভার কোনো ঘাটতি নেই।

সীমিত ওভারের ক্রিকেটে সময়ের সেরা স্পিনার রশিদ খান। আন্তর্জাতিক টি ২০তে ৫১ ম্যাচে তার উইকেট সংখ্যা ৯৫। ওভার প্রতি মাত্র ৬.২২ রান দেওয়া রশিদ ব্যাট হাতেও ঝড় তুলতে পারেন। আরেক স্পিনার মুজিব উর রেহমানও টি ২০তে দারুণ সফল। সেই তুলনায় আফগানিস্তানের পেস আক্রমণ কিছুটা দুর্বল। ব্যাটিংয়ে ভরসা আসগর আফগান, হাশমতউল্লাহ শাহিদি, নবী ও হযরতউল্লাহ জাজাই। আফগানিস্তানের লক্ষ্য সেমিফাইনাল।

ওয়েস্ট ইন্ডিজ

টি ২০ র‌্যাংকিং : ৯

বিশ্বকাপ রেকর্ড : ম্যাচ ৩১ জয় ১৮ হার ১২ ফল হয়নি ১

র‌্যাংকিং দিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে কখনো বিচার করা যায় না। টি ২০ বিশ্বকাপের সবচেয়ে সফল দল তারা। বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের সামনে এবার তৃতীয় শিরোপার হাতছানি। কার্যকর অলরাউন্ডার ও বিস্ফোরক ব্যাটারে ধাসা উইন্ডিজ দলের যে কেউ হতে পারেন এক্স ফ্যাক্টর। টি ২০’র মহাতারকা ক্রিস গেইল নিজের সম্ভাব্য শেষ বিশ্বকাপ শিরোপার আল্পনায় রাঙাতে মুখিয়ে আছেন। টি ২০ বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ ছক্কা ও সেঞ্চুরির রেকর্ড আগেই গড়েছেন গেইল। এবার শ্রীলংকার মাহেলা জয়াবর্ধনেকে ছাড়িয়ে সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড নিজের করে নিতে তাকে করতে হবে আর ৯৭ রান।

উইন্ডিজের তুরুপের তাস হতে পারেন অধিনায়ক কাইরন পোলার্ড ও আন্দ্রে রাসেলও। জাতীয় দলের হয়ে নিজেকে সেভাবে মেলে ধরতে না পারলেও বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন টি ২০ লিগে দারুণ সফল রাসেল। আইপিএলে দুবার টুর্নামেন্টসেরার পুরস্কার জিতেছেন এই অলরাউন্ডার। এভিন লুইস, ডুয়ানে ব্রাভো, নিকোলোস পুরান ও শিমরন হেটমায়ারও গড়ে দিতে পারেন ব্যবধান।

শ্রীলংকা

টি ২০ র‌্যাংকিং : ১০

বিশ্বকাপ রেকর্ড : ম্যাচ ৩৫ জয় ২৩ হার ১২

টি ২০ বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ তিনবার ফাইনালে খেলেছে শ্রীলংকা। ২০১৪ আসরে জিতেছে শিরোপা। সেই শ্রীলংকা এখন অতীতের কংকাল। শিরোপাজয়ী দলগুলোর মধ্যে একমাত্র তারাই এবার প্রথম রাউন্ডে খেলছে। তিন ব্যাটিং গ্রেট কুমার সাঙ্গাকারা, মাহেলা জয়াবর্ধনে ও তিলকারত্নে দিলশানের অবসরের পর থেকে ধুঁকছে লংকানরা। বোলিং গ্রেট লাসিথ মালিঙ্গার অবসরের পর পরাশক্তির মর্যাদাও হারিয়েছে তারা।

বেতন-ভাতা নিয়ে বোর্ডের সঙ্গে দ্বন্দ্বের জের ধরে বিশ্বকাপ দলে জায়গা হয়নি অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার অ্যাঞ্জেলো ম্যাথিউসের। চোটের থাবায় শেষ মুহূর্তে ছিটকে গেছেন নুয়ান প্রদীপ, প্রভিন জয়াবিক্রমা ও কামিন্দু মেন্ডিস। দাসুন শানাকার নেতৃত্বে ভাঙাচোরা একদল নিয়ে বিশ্বকাপ অভিযানে নামছে লংকানরা। কুশল পেরেরা, দিনেশ চান্দিমাল, হাসারাঙ্গারা ভালো করলে প্রথম রাউন্ডের বাধা হয়তো উতরে যাবে শ্রীলংকা। কিন্তু সুপার টুয়েলভে বাস্তবসম্মত কোনো আশা নেই তাদের।

আয়ারল্যান্ড

টি ২০ র‌্যাংকিং : ১২

বিশ্বকাপ রেকর্ড : ম্যাচ ১৫ জয় ৩ হার ৯ ফল হয়নি ৩

২০০৯ সালে নিজেদের প্রথম টি ২০ বিশ্বকাপে সবাইকে চমকে দিয়ে সুপার এইট পর্বে জায়গা করে নিয়েছিল আয়ারল্যান্ড। পরের গল্পটা শুধুই ব্যর্থতার। শেষ চার আসরেই প্রথম রাউন্ড থেকে বিদায় নিয়েছে আইরিশরা। সবমিলিয়ে টি ২০ বিশ্বকাপে ১৫ ম্যাচে তাদের জয় মাত্র তিনটি। এবার প্রথম রাউন্ডে আয়ারল্যান্ডকে লড়তে হবে শ্রীলংকা, নেদারল্যান্ডস ও নামিবিয়ার বিপক্ষে। বিশ্বকাপের প্রস্তুতি মন্দ হয়নি আইরিশদের। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সবশেষ সিরিজে রান পেয়েছেন দলের বড় তিন তারকা পল স্টার্লিং, কেভিন ও’ব্রায়েন ও অধিনায়ক অ্যান্ড্রু বলবার্নি।

স্কটল্যান্ড

টি ২০ র‌্যাংকিং : ১৪

বিশ্বকাপ রেকর্ড : ম্যাচ ৭ জয় ১ হার ৫ ফল হয়নি ১

২০১৯ সালে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে খেলা দলগুলোর মধ্যে র‌্যাংকিংয়ে সবার উপরে ছিল স্কটল্যান্ড (১১)। কিন্তু নিজেদের গ্রুপে ছয় ম্যাচের তিনটি হেরে তারা চতুর্থ হয়। পরে প্লে-অফ ম্যাচে স্বাগতিক সংযুক্ত আরব আমিরাতকে হারিয়ে বিশ্বকাপের টিকিট নিশ্চিত করে স্কটিশরা। প্রথম রাউন্ডে তাদের গ্রুপে রয়েছে বাংলাদেশ, ওমান ও পাপুয়া নিউগিনি। গ্রুপে দ্বিতীয় হয়ে সুপার টুয়েলভ পর্বে জায়গা করে নেওয়াই তাদের মূল লক্ষ্য।

গতবার প্রথম রাউন্ড থেকে বিদায় নেওয়া স্কটল্যান্ড টি ২০ বিশ্বকাপে নিজেদের একমাত্র জয় পেয়েছে হংকংয়ের বিপক্ষে। এবার তাদের সাফল্য নির্ভর করছে ওপেনার জর্জ মুনসি ও পেসার সাফিয়ান শরিফের ওপর। বাছাইপর্বে আট ম্যাচে সর্বোচ্চ ২৩৪ রান করেছেন মুনসি। আর সাত ম্যাচে ১৩ উইকেট নিয়েছেন শরিফ।

পাপুয়া নিউগিনি

টি ২০ র‌্যাংকিং : ১৫

বিশ্বকাপ রেকর্ড : প্রথম অংশগ্রহণ

ওশেনিয়া অঞ্চলের দেশ পাপুয়া নিউগিনি এবারই প্রথম টি ২০ বিশ্বকাপে অংশ নিচ্ছে। ২০১৪ ও ২০১৬ আসরের বাছাইপর্বে তীরে এসে তরী ডুবেছিল তাদের। এবার বাছাইপর্বে রানার্সআপ হয়ে তারা সরাসরি জায়গা করে নিয়েছে বিশ্বকাপে। নিজেদের গ্রুপে ছয় ম্যাচের পাঁচটিই জিতেছে পাপুয়া নিউগিনি। বিশ্বকাপে প্রথম রাউন্ডের বাধা পেরোতে পারলে সেটাই হবে তাদের জন্য বিরাট সাফল্য। অধিনায়ক আসাদ ভালা দলটির সেরা খেলোয়াড়। মারকাটারি ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি আসাদের অফ-স্পিনও দারুণ কার্যকর। অলরাউন্ডার নরম্যান ভানুয়াও ব্যাটে-বলে ব্যবধান গড়ে দিতে পারেন। এছাড়া দুর্দান্ত ফিল্ডিংয়ের জন্য অনেকের চোখ থাকবে চার্লস আমিনির ওপর।

নেদারল্যান্ডস

টি ২০ র‌্যাংকিং : ১৭

বিশ্বকাপ রেকর্ড : ম্যাচ ১২ জয় ৫ হার ৬ ফল হয়নি ১

আইসিসির সহযোগী দেশগুলোর মধ্যে টি ২০ বিশ্বকাপে সবচেয়ে ভালো রেকর্ড নেদারল্যান্ডসের। ১২ ম্যাচের পাঁচটি জিতেছে তারা। ২০০৯ আসরে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে হইচই ফেলে দেয় ডাচরা। ২০১৪ আসরে ইংল্যান্ড ও আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে আছে আরও দুটি স্মরণীয় জয়। এবার বাছাইপর্বে তারা চ্যাম্পিয়ন হয়েছে।

নেদারল্যান্ডসের সর্বকালের সেরা ক্রিকেটার রায়ান টেন ডেসকাট এই বিশ্বকাপ দিয়েই আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ইতি টানবেন। অধিনায়ক পিটার সিলার, অলরাউন্ডার ভ্যান ডার মারউই ও পেসার পল ভ্যান মিকরেনও থাকবেন পাদপ্রদীপের আলোয়।

ওমান

টি ২০ র‌্যাংকিং : ১৮

বিশ্বকাপ রেকর্ড : ম্যাচ ৩ জয় ১ হার ১ ফল হয়নি ১

শেষ মুহূর্তে বিশ্বকাপের যৌথ আয়োজক হওয়ার সুযোগ পাওয়ায় প্রথম রাউন্ডের ম্যাচগুলো নিজেদের আঙিনায় খেলবে ওমান। ২০১৬ সালে নিজেদের অভিষেক টি ২০ বিশ্বকাপে আয়ারল্যান্ডকে হারিয়ে শুরুটা দারুণ হয়েছিল ওমানের। কিন্তু শেষ ম্যাচে বাংলাদেশের কাছে হেরে প্রথম রাউন্ড থেকেই বিদায় নিতে হয় তাদের। এবার স্বাগতিক হওয়ার সুবাদে সুপার টুয়েলভে খেলার স্বপ্ন দেখছে ওমান। দলটির বড় ভরসা অধিনায়ক জিশান মাকসুদ। আর বড় দুর্বলতা, দলে কোনো হার্ডহিটার ব্যাটার নেই।

নামিবিয়া

টি ২০ র‌্যাংকিং : ১৯

বিশ্বকাপ রেকর্ড : প্রথম অংশগ্রহণ

টি ২০ সংস্করণে এটা তাদের প্রথম বিশ্বকাপ হলেও ক্রিকেটের বিশ্বমঞ্চে নবাগত নয় নামিবিয়া। ২০০৩ ওয়ানডে

বিশ্বকাপে খেলা আফ্রিকার দেশটি ১৮ বছর পর ফিরেছে বিশ্বকাপের ময়দানে। ওয়ানডে বিশ্বকাপে ছয় ম্যাচের সবকটিতে হারা নামিবিয়া টি ২০ বিশ্বকাপে একটি জয় পেলেই বর্তে যাবে।

দলটির তুরুপের তাস হতে পারেন অলরাউন্ডার ডেভিড ভিসে। গত আসরে ভিসে খেলেছেন দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে। নামিবিয়ান বাবার সূত্রে এবার তিনি নামিবিয়ার হয়ে খেলার সুযোগ পেয়েছেন।

১৬ দলের আদ্যোপান্ত

 ইশতিয়াক সজীব 
১৫ অক্টোবর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

২০০৭ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে ছয়টি টি ২০ বিশ্বকাপের আসর বসেছিল। এরপর পাঁচ বছরের বিরতি। অপেক্ষার দীর্ঘ প্রহর শেষে আবারও মাঠে গড়াচ্ছে টি ২০ বিশ্বকাপ। ওমান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে এবারের আসরে অংশ নিচ্ছে ১৬টি দল।

এর মধ্যে আট দলের প্রথম রাউন্ড থেকে বিদায় নেবে চারটি দল। ১২ দল নিয়ে হবে সুপার টুয়েলভ রাউন্ড।

সপ্তম টি ২০ বিশ্বকাপের ১৬ দলের আদ্যোপান্ত নিয়ে এ আয়োজন। লিখেছেন ইশতিয়াক সজীব

ইংল্যান্ড

টি ২০ র‌্যাংকিং : ১

বিশ্বকাপ রেকর্ড : ম্যাচ ৩২ জয় ১৫ হার ১৬ ফল হয়নি ১

সীমিত ওভারের ক্রিকেটে এক সময় পায়ের নিচে মাটি খুঁজে না পাওয়া ইংল্যান্ড এখন সময়ের সেরা দলগুলোর একটি। বিস্ফোরক ব্যাটার ও কার্যকর অলরাউন্ডারে ঠাসা দলটির সবচেয়ে বড় শক্তি ভয়ডরহীন মানসিকতা। ২০১০ সালে টি ২০ বিশ্বকাপের তৃতীয় আসরে নিজেদের প্রথম বৈশ্বিক শিরোপা জেতা ইংল্যান্ড ২০১৬ সালে সবশেষ আসরের ফাইনালে হেরেছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে। এরপর ২০১৯ সালে তারা জিতেছে ওয়ানডে বিশ্বকাপ।

এবারের টি ২০ বিশ্বকাপেও শিরোপার অন্যতম দাবিদার ইংল্যান্ড। তবে মানসিক অবসাদ ও চোটের কারণে এবার তারা পাচ্ছে না ওয়ানডে বিশ্বকাপ জয়ের দুই নায়ক অলরাউন্ডার বেন স্টোকস ও পেসার জফরা আর্চারকে। অধিনায়ক এউইন মরগানের পড়তি ফর্ম দলের

আরেকটি দুর্বল জায়গা। সেই দুর্বলতা অবশ্য ঢেকে দিতে পারেন জস বাটলার, দাভিদ মালান, জনি বেয়ারস্টো, জেসন রয়, আদিল রশিদ ও মঈন আলী। দুর্দান্ত

ফর্মে থাকা হার্ডহিটার ব্যাটার লিয়াম লিভিংস্টোনও

হতে পারেন ইংল্যান্ডের তুরুপের তাস।

ভারত

টি ২০ র‌্যাংকিং : ২

বিশ্বকাপ রেকর্ড : ম্যাচ ৩৩ জয় ২১ হার ১১ ফল হয়নি ১

টি ২০ সংস্করণে সব সময়ের ফেভারিট ভারত। ২০০৭ সালে টি ২০ বিশ্বকাপের প্রথম আসরে চ্যাম্পিয়ন হওয়া দলটি ২০১৪ আসরের ফাইনালে হেরেছিল শ্রীলংকার কাছে। সব বিভাগেই দারুণ শক্তিশালী ভারতের দৃষ্টি এবার দ্বিতীয় শিরোপায়। আইপিএলের সুবাদে বিশ্বকাপের

আগে সংযুক্ত আরব আমিরাতে ভারতের সব ক্রিকেটার খেলার মধ্যে ছিলেন। বিশ্বকাপের পর ভারতের টি ২০ দলের নেতৃত্ব ছেড়ে দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া বিরাট কোহলি অধিনায়ক হিসাবে এখনো আইসিসির কোনো টুর্নামেন্টের শিরোপা জিততে পারেননি। এবার সেই অপূর্ণতা ঘোচাতে মুখিয়ে আছেন সময়ের সেরা ব্যাটার। আন্তর্জাতিক টি ২০তে সবচেয়ে বেশি রান ও সেরা গড় কোহলির।

তার ডেপুটি রোহিত শর্মা এ সংস্করণে আরও বেশি কার্যকর। লোকেশ রাহুল ও ঋষভ পন্তও গড়ে দিতে পারেন ব্যবধান। বোলিংয়ে আছেন জাসপ্রিত বুমরা, মোহাম্মদ শামি, রবীন্দ্র জাদেজা ও রবিচন্দ্রন অশ্বিনের মতো পরীক্ষিত সেনানী। দুর্বলতা বলতে পেস বোলিং অলরাউন্ডার হার্দিক পান্ডিয়ার বাজে ফর্ম।

পাকিস্তান

টি ২০ র‌্যাংকিং : ৩

বিশ্বকাপ রেকর্ড : ম্যাচ ৩৪ জয় ১৯ হার ১৫

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পাকিস্তানের বড় শক্তি তাদের অননুমেয় চরিত্র। আর বড় দুর্বলতা অধারাবাহিকতা। ২০০৭ সালে প্রথম টি ২০ বিশ্বকাপ ফাইনালে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতের কাছে হেরে যাওয়া দলটি পরের আসরে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল শ্রীলংকাকে হারিয়ে। এরপর আর ফাইনালে উঠতে পারেনি পাকিস্তান। এবার ফেভারিটের কাতারে না থাকলেও তাদের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। অধিনায়ক বাবর আজম সময়ের অন্যতম সেরা ব্যাটার। আন্তর্জাতিক টি ২০তে ৫৫ ম্যাচে ৪৮.১৮ গড়ে ২১২০ রান করেছেন বাবর। আছে ১৯ ফিফটি ও একটি সেঞ্চুরি। স্ট্রাইক রেট প্রায় ১৩১। নিজের দিনে বাবর একাই জেতাতে পারেন দলকে। কিপার-ব্যাটার মোহাম্মদ রিজওয়ানও টি ২০তে দারুণ কার্যকর। সমস্যা হলো, এ দুজন ছাড়া পাকিস্তান দলে কোনো নির্ভরযোগ্য ব্যাটার নেই। বোলিংয়ে তুরুপের তাস হতে পারেন পেসার শাহিন শাহ আফ্রিদি। এ ছাড়া দুই বুড়ো অলরাউন্ডার মোহাম্মদ হাফিজ ও শোয়েব মালিকের অভিজ্ঞতা বড় সম্পদ হতে পারে পাকিস্তানের।

নিউজিল্যান্ড

টি ২০ র‌্যাংকিং : ৪

বিশ্বকাপ রেকর্ড : ম্যাচ ৩০ জয় ১৫ হার ১৫

একসময় নিউজিল্যান্ডকে বলা হতো সেমিফাইনালের দল। সেই গেরো খুলে ওয়ানডে বিশ্বকাপের শেষ দুই আসরেই ফাইনালে খেলেছে কিউইরা। শিরোপার দেখা অবশ্য মেলেনি। সেই দুঃখ তারা ভুলেছে আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের প্রথম চক্রে চ্যাম্পিয়ন হয়ে। এবার নিউজিল্যান্ডের লক্ষ্য অধরা টি ২০ বিশ্বকাপ জয়। আগের ছয় আসরে কখনো ফাইনালে উঠতে না পারলেও এবার কিউইদের নিয়ে অনেকেই বাজি ধরবেন। অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসন যে কোনো কন্ডিশনে ও যে কোনো সংস্করণে সমান কার্যকর। তার সঙ্গে আছেন মার্টিন গাপটিল, গ্লেন ফিলিপস, জিমি নিশাম ও মার্ক চ্যাপম্যানের মতো বিস্ফোরক ব্যাটার। বোলিংয়ে ট্রেন্ট বোল্ট, কাইল জেমিসন ও লকি ফার্গুসন গতির ঝড়ে উড়িয়ে দিতে পারেন যে কোনো দলকে। মিচেল স্যান্টনার ও ইশ সোধির স্পিনও গড়ে

দিতে পারে ব্যবধান। দুর্বলতা বলতে, দলটিতে

টি ২০-র প্রতিষ্ঠিত কোনো মহাতারকা নেই।

দক্ষিণ আফ্রিকা

টি ২০ র‌্যাংকিং : ৫

বিশ্বকাপ রেকর্ড : ম্যাচ ৩০ জয় ১৮ হার ১২

টি ২০ বিশ্বকাপে ম্যাচ জেতার রেকর্ডে দক্ষিণ আফ্রিকা ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের অবস্থান পাশাপাশি। কিন্তু ওয়েস্ট ইন্ডিজ যেখানে দুবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে, সেখানে কখনো ফাইনালেই উঠতে পারেনি দক্ষিণ আফ্রিকা। কারণ নকআউট ম্যাচের চাপ নিতে পারে না প্রোটিয়ারা। চাপের মুখে ভেঙে পড়ার অভ্যাসের কারণে তাদের ডাক-নামই হয়ে গেছে ‘চোকার’। এবার প্রত্যাশার চাপ না থাকায় উপভোগের ক্রিকেট খেলে অভাবনীয় কিছু করে দেখানোর স্বপ্ন দেখছে দক্ষিণ আফ্রিকা। আলোচনায় না থাকলেও টেম্বা বাভুমার নেতৃত্বে তরুণ দলটিতে

দারুণ কিছু ক্রিকেটার আছেন। ব্যাটিংয়ে কুইন্টন ডি কক, ডেভিড মিলার, এইডেন মার্করাম ও ভ্যান ডার ডুসেন। বোলিংয়ে কাগিসো রাবাদা, এনগিডি, নর্কিয়া, কেশব মহারাজ ও টি ২০ র‌্যাংকিংয়ের এক নম্বর বোলার তাবরাইজ শামসি।

বাংলাদেশ

টি ২০ র‌্যাংকিং : ৬

বিশ্বকাপ রেকর্ড : ম্যাচ ২৫ জয় ৫ হার ১৯ ফল হয়নি ১

বিশ্বকাপের আগে জিম্বাবুয়ে, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে টানা তিনটি সিরিজ জিতে টি ২০ র‌্যাংকিংয়ে ছয়ে উঠে এসেছে বাংলাদেশ। কিন্তু বিশ্বকাপের গ্রুপিংয়ের সময় শীর্ষ আটের বাইরে থাকায় গত আসরের মতো এবারও প্রথম রাউন্ডে খেলতে হচ্ছে মাহমুদউল্লাহদের। বাংলাদেশের প্রাথমিক লক্ষ্য তাই নিজেদের গ্রুপে সেরা দুই দলের একটি হয়ে সুপার টুয়েলভ পর্বের টিকিট নিশ্চিত করা। তবে মূল লক্ষ্য সেমিফাইনাল। প্রথম রাউন্ডে স্কটল্যান্ড, ওমান ও পাপুয়া নিউগিনির বিপক্ষে পারিষ্কার ফেভারিট বাংলাদেশ। সুপার টুয়েলভে দিতে হবে আসল পরীক্ষা। গত আসরে এই পর্বে চার ম্যাচের সবকটিই হেরেছিল বাংলাদেশ। টি ২০ বিশ্বকাপে বাংলাদেশের সার্বিক রেকর্ডও ভুলে যাওয়ার মতো। ২৫ ম্যাচে জয় মোটে পাঁচটি। তবে এবার দল জয়ের ধারায় থাকায় বিবর্ণ রেকর্ড রঙিন করার স্বপ্ন দেখছেন অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ।

আইপিএলের আরব আমিরাত পর্বে খেলার সুবাদে বাংলাদেশের বাজির ঘোড়া হতে পারেন সাকিব আল হাসান ও মোস্তাফিজুর রহমান। অভিজ্ঞতা ও তারুণ্যের সঠিক সমন্বয়ে কাগজে-কলমে বাংলাদেশের বিশ্বকাপ স্কোয়াড যথেষ্ট শক্তিশালী। মুশফিকুর, লিটন, সৌম্য, নুরুল, আফিফ, সাইফউদ্দিন ও নাসুমের মতো অনেক ম্যাচ জেতানো ক্রিকেটার আছেন দলে।

অস্ট্রেলিয়া

টি ২০ র‌্যাংকিং : ৭

বিশ্বকাপ রেকর্ড : ম্যাচ ২৯ জয় ১৬ হার ১৩

ওয়ানডে বিশ্বকাপে রেকর্ড পাঁচবারের চ্যাম্পিয়ন অস্টেলিয়া কখনো টি ২০ বিশ্বকাপ জিততে পারেনি। সেরা সাফল্য ২০১০ আসরে রানার্সআপ হওয়া। ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও বাংলাদেশের বিপক্ষে শেষ দুটি টি ২০ সিরিজ ৪-১ ব্যবধানে হারায় অস্ট্রেলিয়াকে এবার কেউ ফেভারিটের কাতারে রাখছেন না। চোট, বিশ্রাম মিলিয়ে দলের মূল খেলোয়াড়রা গত কয়েকটি সিরিজে না খেলায় অস্ট্রেলিয়ার বিশ্বকাপ প্রস্তুতি মোটেও ভালো হয়নি। তবে শক্তির বিচারে অস্ট্রেলিয়াকে পিছিয়ে রাখা যাবে না। ব্যাটিংয়ে অ্যারন ফিঞ্চ, ডেভিড ওর্য়ানার, স্টিভেন স্মিথ ও গ্লেন ম্যাক্সওয়েলের যে কেউ একাই গড়ে দিতে পারেন ব্যবধান। বোলিং আক্রমণে আছেন মিচেল স্টার্ক, প্যাট কামিন্স ও জশ হ্যাজলউডের মতো বিশ্বসেরা তিন পেসার। পেস বোলিং অলরাউন্ডার মিচেল মার্শও হতে পারেন এক্স ফ্যাক্টর। শেষ দুই সিরিজে দল হারলেও তিনে ব্যাট করে ১০ ম্যাচে ৩৮৫ রান করেছেন মিচেল মার্শ। আরব আমিরাতের উইকেটে অ্যাডাম জাম্পা ও মিচেল সোয়েপসনের স্পিনও দারুণ কার্যকর হতে পারে।

আফগানিস্তান

টি ২০ র‌্যাংকিং : ৮

বিশ্বকাপ রেকর্ড : ম্যাচ ১৪ জয় ৫ হার ৯

তালেবানরা আফগানিস্তানের ক্ষমতা দখলের পর বিশ্বকাপে দলটির অংশগ্রহণ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছিল। শেষ পর্যন্ত অনিশ্চয়তা কাটলেও দল নির্বাচনে বোর্ড তার মতামত না নেওয়ায় হুট করে নেতৃত্ব ছেড়ে দিয়েছেন আফগান ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় তারকা রশিদ খান। বিশ্বকাপে দলকে নেতৃত্ব দেবেন অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার মোহাম্মদ নবী। আফগানিস্তান দলে ঐক্যের সংকট থাকলেও প্রতিভার কোনো ঘাটতি নেই।

সীমিত ওভারের ক্রিকেটে সময়ের সেরা স্পিনার রশিদ খান। আন্তর্জাতিক টি ২০তে ৫১ ম্যাচে তার উইকেট সংখ্যা ৯৫। ওভার প্রতি মাত্র ৬.২২ রান দেওয়া রশিদ ব্যাট হাতেও ঝড় তুলতে পারেন। আরেক স্পিনার মুজিব উর রেহমানও টি ২০তে দারুণ সফল। সেই তুলনায় আফগানিস্তানের পেস আক্রমণ কিছুটা দুর্বল। ব্যাটিংয়ে ভরসা আসগর আফগান, হাশমতউল্লাহ শাহিদি, নবী ও হযরতউল্লাহ জাজাই। আফগানিস্তানের লক্ষ্য সেমিফাইনাল।

ওয়েস্ট ইন্ডিজ

টি ২০ র‌্যাংকিং : ৯

বিশ্বকাপ রেকর্ড : ম্যাচ ৩১ জয় ১৮ হার ১২ ফল হয়নি ১

র‌্যাংকিং দিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে কখনো বিচার করা যায় না। টি ২০ বিশ্বকাপের সবচেয়ে সফল দল তারা। বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের সামনে এবার তৃতীয় শিরোপার হাতছানি। কার্যকর অলরাউন্ডার ও বিস্ফোরক ব্যাটারে ধাসা উইন্ডিজ দলের যে কেউ হতে পারেন এক্স ফ্যাক্টর। টি ২০’র মহাতারকা ক্রিস গেইল নিজের সম্ভাব্য শেষ বিশ্বকাপ শিরোপার আল্পনায় রাঙাতে মুখিয়ে আছেন। টি ২০ বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ ছক্কা ও সেঞ্চুরির রেকর্ড আগেই গড়েছেন গেইল। এবার শ্রীলংকার মাহেলা জয়াবর্ধনেকে ছাড়িয়ে সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড নিজের করে নিতে তাকে করতে হবে আর ৯৭ রান।

উইন্ডিজের তুরুপের তাস হতে পারেন অধিনায়ক কাইরন পোলার্ড ও আন্দ্রে রাসেলও। জাতীয় দলের হয়ে নিজেকে সেভাবে মেলে ধরতে না পারলেও বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন টি ২০ লিগে দারুণ সফল রাসেল। আইপিএলে দুবার টুর্নামেন্টসেরার পুরস্কার জিতেছেন এই অলরাউন্ডার। এভিন লুইস, ডুয়ানে ব্রাভো, নিকোলোস পুরান ও শিমরন হেটমায়ারও গড়ে দিতে পারেন ব্যবধান।

শ্রীলংকা

টি ২০ র‌্যাংকিং : ১০

বিশ্বকাপ রেকর্ড : ম্যাচ ৩৫ জয় ২৩ হার ১২

টি ২০ বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ তিনবার ফাইনালে খেলেছে শ্রীলংকা। ২০১৪ আসরে জিতেছে শিরোপা। সেই শ্রীলংকা এখন অতীতের কংকাল। শিরোপাজয়ী দলগুলোর মধ্যে একমাত্র তারাই এবার প্রথম রাউন্ডে খেলছে। তিন ব্যাটিং গ্রেট কুমার সাঙ্গাকারা, মাহেলা জয়াবর্ধনে ও তিলকারত্নে দিলশানের অবসরের পর থেকে ধুঁকছে লংকানরা। বোলিং গ্রেট লাসিথ মালিঙ্গার অবসরের পর পরাশক্তির মর্যাদাও হারিয়েছে তারা।

বেতন-ভাতা নিয়ে বোর্ডের সঙ্গে দ্বন্দ্বের জের ধরে বিশ্বকাপ দলে জায়গা হয়নি অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার অ্যাঞ্জেলো ম্যাথিউসের। চোটের থাবায় শেষ মুহূর্তে ছিটকে গেছেন নুয়ান প্রদীপ, প্রভিন জয়াবিক্রমা ও কামিন্দু মেন্ডিস। দাসুন শানাকার নেতৃত্বে ভাঙাচোরা একদল নিয়ে বিশ্বকাপ অভিযানে নামছে লংকানরা। কুশল পেরেরা, দিনেশ চান্দিমাল, হাসারাঙ্গারা ভালো করলে প্রথম রাউন্ডের বাধা হয়তো উতরে যাবে শ্রীলংকা। কিন্তু সুপার টুয়েলভে বাস্তবসম্মত কোনো আশা নেই তাদের।

আয়ারল্যান্ড

টি ২০ র‌্যাংকিং : ১২

বিশ্বকাপ রেকর্ড : ম্যাচ ১৫ জয় ৩ হার ৯ ফল হয়নি ৩

২০০৯ সালে নিজেদের প্রথম টি ২০ বিশ্বকাপে সবাইকে চমকে দিয়ে সুপার এইট পর্বে জায়গা করে নিয়েছিল আয়ারল্যান্ড। পরের গল্পটা শুধুই ব্যর্থতার। শেষ চার আসরেই প্রথম রাউন্ড থেকে বিদায় নিয়েছে আইরিশরা। সবমিলিয়ে টি ২০ বিশ্বকাপে ১৫ ম্যাচে তাদের জয় মাত্র তিনটি। এবার প্রথম রাউন্ডে আয়ারল্যান্ডকে লড়তে হবে শ্রীলংকা, নেদারল্যান্ডস ও নামিবিয়ার বিপক্ষে। বিশ্বকাপের প্রস্তুতি মন্দ হয়নি আইরিশদের। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সবশেষ সিরিজে রান পেয়েছেন দলের বড় তিন তারকা পল স্টার্লিং, কেভিন ও’ব্রায়েন ও অধিনায়ক অ্যান্ড্রু বলবার্নি।

স্কটল্যান্ড

টি ২০ র‌্যাংকিং : ১৪

বিশ্বকাপ রেকর্ড : ম্যাচ ৭ জয় ১ হার ৫ ফল হয়নি ১

২০১৯ সালে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে খেলা দলগুলোর মধ্যে র‌্যাংকিংয়ে সবার উপরে ছিল স্কটল্যান্ড (১১)। কিন্তু নিজেদের গ্রুপে ছয় ম্যাচের তিনটি হেরে তারা চতুর্থ হয়। পরে প্লে-অফ ম্যাচে স্বাগতিক সংযুক্ত আরব আমিরাতকে হারিয়ে বিশ্বকাপের টিকিট নিশ্চিত করে স্কটিশরা। প্রথম রাউন্ডে তাদের গ্রুপে রয়েছে বাংলাদেশ, ওমান ও পাপুয়া নিউগিনি। গ্রুপে দ্বিতীয় হয়ে সুপার টুয়েলভ পর্বে জায়গা করে নেওয়াই তাদের মূল লক্ষ্য।

গতবার প্রথম রাউন্ড থেকে বিদায় নেওয়া স্কটল্যান্ড টি ২০ বিশ্বকাপে নিজেদের একমাত্র জয় পেয়েছে হংকংয়ের বিপক্ষে। এবার তাদের সাফল্য নির্ভর করছে ওপেনার জর্জ মুনসি ও পেসার সাফিয়ান শরিফের ওপর। বাছাইপর্বে আট ম্যাচে সর্বোচ্চ ২৩৪ রান করেছেন মুনসি। আর সাত ম্যাচে ১৩ উইকেট নিয়েছেন শরিফ।

পাপুয়া নিউগিনি

টি ২০ র‌্যাংকিং : ১৫

বিশ্বকাপ রেকর্ড : প্রথম অংশগ্রহণ

ওশেনিয়া অঞ্চলের দেশ পাপুয়া নিউগিনি এবারই প্রথম টি ২০ বিশ্বকাপে অংশ নিচ্ছে। ২০১৪ ও ২০১৬ আসরের বাছাইপর্বে তীরে এসে তরী ডুবেছিল তাদের। এবার বাছাইপর্বে রানার্সআপ হয়ে তারা সরাসরি জায়গা করে নিয়েছে বিশ্বকাপে। নিজেদের গ্রুপে ছয় ম্যাচের পাঁচটিই জিতেছে পাপুয়া নিউগিনি। বিশ্বকাপে প্রথম রাউন্ডের বাধা পেরোতে পারলে সেটাই হবে তাদের জন্য বিরাট সাফল্য। অধিনায়ক আসাদ ভালা দলটির সেরা খেলোয়াড়। মারকাটারি ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি আসাদের অফ-স্পিনও দারুণ কার্যকর। অলরাউন্ডার নরম্যান ভানুয়াও ব্যাটে-বলে ব্যবধান গড়ে দিতে পারেন। এছাড়া দুর্দান্ত ফিল্ডিংয়ের জন্য অনেকের চোখ থাকবে চার্লস আমিনির ওপর।

নেদারল্যান্ডস

টি ২০ র‌্যাংকিং : ১৭

বিশ্বকাপ রেকর্ড : ম্যাচ ১২ জয় ৫ হার ৬ ফল হয়নি ১

আইসিসির সহযোগী দেশগুলোর মধ্যে টি ২০ বিশ্বকাপে সবচেয়ে ভালো রেকর্ড নেদারল্যান্ডসের। ১২ ম্যাচের পাঁচটি জিতেছে তারা। ২০০৯ আসরে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে হইচই ফেলে দেয় ডাচরা। ২০১৪ আসরে ইংল্যান্ড ও আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে আছে আরও দুটি স্মরণীয় জয়। এবার বাছাইপর্বে তারা চ্যাম্পিয়ন হয়েছে।

নেদারল্যান্ডসের সর্বকালের সেরা ক্রিকেটার রায়ান টেন ডেসকাট এই বিশ্বকাপ দিয়েই আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ইতি টানবেন। অধিনায়ক পিটার সিলার, অলরাউন্ডার ভ্যান ডার মারউই ও পেসার পল ভ্যান মিকরেনও থাকবেন পাদপ্রদীপের আলোয়।

ওমান

টি ২০ র‌্যাংকিং : ১৮

বিশ্বকাপ রেকর্ড : ম্যাচ ৩ জয় ১ হার ১ ফল হয়নি ১

শেষ মুহূর্তে বিশ্বকাপের যৌথ আয়োজক হওয়ার সুযোগ পাওয়ায় প্রথম রাউন্ডের ম্যাচগুলো নিজেদের আঙিনায় খেলবে ওমান। ২০১৬ সালে নিজেদের অভিষেক টি ২০ বিশ্বকাপে আয়ারল্যান্ডকে হারিয়ে শুরুটা দারুণ হয়েছিল ওমানের। কিন্তু শেষ ম্যাচে বাংলাদেশের কাছে হেরে প্রথম রাউন্ড থেকেই বিদায় নিতে হয় তাদের। এবার স্বাগতিক হওয়ার সুবাদে সুপার টুয়েলভে খেলার স্বপ্ন দেখছে ওমান। দলটির বড় ভরসা অধিনায়ক জিশান মাকসুদ। আর বড় দুর্বলতা, দলে কোনো হার্ডহিটার ব্যাটার নেই।

নামিবিয়া

টি ২০ র‌্যাংকিং : ১৯

বিশ্বকাপ রেকর্ড : প্রথম অংশগ্রহণ

টি ২০ সংস্করণে এটা তাদের প্রথম বিশ্বকাপ হলেও ক্রিকেটের বিশ্বমঞ্চে নবাগত নয় নামিবিয়া। ২০০৩ ওয়ানডে

বিশ্বকাপে খেলা আফ্রিকার দেশটি ১৮ বছর পর ফিরেছে বিশ্বকাপের ময়দানে। ওয়ানডে বিশ্বকাপে ছয় ম্যাচের সবকটিতে হারা নামিবিয়া টি ২০ বিশ্বকাপে একটি জয় পেলেই বর্তে যাবে।

দলটির তুরুপের তাস হতে পারেন অলরাউন্ডার ডেভিড ভিসে। গত আসরে ভিসে খেলেছেন দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে। নামিবিয়ান বাবার সূত্রে এবার তিনি নামিবিয়ার হয়ে খেলার সুযোগ পেয়েছেন।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন