একদিন ফিরে যাব বার্সেলোনায়
jugantor
সাক্ষাৎকারে মেসি
একদিন ফিরে যাব বার্সেলোনায়

  ক্রীড়া ডেস্ক  

২৪ নভেম্বর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

প্রাণের শহর, প্রাণের ক্লাব বার্সেলোনা ছেড়ে পিএসজিতে পাড়ি জমানোর পর মঙ্গলবার স্প্যানিশ ক্রীড়া দৈনিক মার্কাকে দেওয়া প্রথম সাক্ষাৎকারে লিওনেল মেসি জানালেন, একদিন তিনি ফিরে যাবেন বার্সেলোনায়। গত মৌসুমে লা লিগার সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরস্কার পিচিচি ট্রফি জেতার পর প্যারিসে নিজের নতুন বাড়িতে মার্কার মুখোমুখি হয়েছিলেন আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড।

প্রশ্ন : রেকর্ড অষ্টম পিচিচি ট্রফি জিতে কেমন লাগছে?

মেসি : সত্যি বলতে, এতগুলো পিচিচি ট্রফি জেতা অদ্ভুত ব্যাপার। তেলমো জারার ছয়টি পিচিচি জয়ের রেকর্ড ছোঁয়াই একসময় আমার কাছে অসম্ভব মনে হতো। সেখানে তাকে ছাড়িয়ে আটটি জেতা অবশ্যই বিশেষ কিছু।

প্রশ্ন : প্যারিসে মানিয়ে নেওয়া কতটা চ্যালেঞ্জিং ছিল?

মেসি : এখন আমি খুব ভালো আছি। নতুন বাড়িতে ওঠার পর মানিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে। বাচ্চারা স্কুলে যাচ্ছে। নতুন জীবনে অভ্যস্ত হয়ে গেছে। বিশ্বকাপ বাছাইয়ে ম্যাচ খেলতে বারবার আর্জেন্টিনায় যাওয়ায় স্থানীয়দের সঙ্গে এখনো সেভাবে মেশার সুযোগ হয়নি। তবে প্যারিসে আমি থিতু হয়েছি।

প্রশ্ন : পিএসজি যে দল গড়েছে তাতে এবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়ের দৌড়ে তাদের হট ফেভারিট না ভাবাটা কী সম্ভব?

মেসি : সবাই বলছে, আমরাই এবার মূল ফেভারিট। আমি অস্বীকার করছি না যে, আমরা শিরোপার অন্যতম দাবিদার। কিন্তু সত্যিকারের শক্তিশালী দল হয়ে উঠতে এখনো অনেক কাজ করতে হবে আমাদের। শিরোপা জেতার মতো বেশ কিছু দল আছে। আমি এগিয়ে রাখব লিভারপুলকে। এরপর ম্যানসিটি, বায়ার্ন মিউনিখ, রিয়াল মাদ্রিদ, আতলেতিকো মাদ্রিদ... অনেক দলই এবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জেতার লড়াইয়ে আছে। চ্যাম্পিয়ন্স লিগ খুবই কঠিন প্রতিযোগিতা। এটাই এই টুর্নামেন্টের অনন্যতা।

প্রশ্ন : ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর সঙ্গে সরাসরি দ্বৈরথের সেই দিনগুলো কী মিস করেন?

মেসি : একই লিগে আমাদের লড়াই থেমে গেছে আগেই। ব্যক্তিগত ও দল হিসাবে অভিন্ন লক্ষ্য অর্জনে আমরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতাম। আমাদের জন্য সুন্দর অধ্যায় ছিল সেটি। সমর্থকরাও উপভোগ করত। সেই সুন্দর স্মৃতি ফুটবল ইতিহাসের অংশ হয়ে থাকবে।

প্রশ্ন : পিএসজির ড্রেসিংরুমের অভিজ্ঞতা কেমন? সের্হিও রামোসের সঙ্গে ড্রেসিংরুম ভাগাভাগি করবেন কখনো ভেবেছিলেন?

মেসি : আমি সৌভাগ্যবান যে, নতুন ড্রেসিংরুমে এসেই ভালো খেলোয়াড় ও ভালো মানুষদের পেয়েছি। এজন্য দ্রুত মানিয়ে নিতে পেরেছি। অনেকেই এখানে স্প্যানিশ ভাষায় কথা বলে। আগে থেকেই অনেকের সঙ্গে পরিচয় ছিল। রামোসের সঙ্গে ড্রেসিংরুম ভাগাভাগি শুরুতে একটু অদ্ভুত লাগলেও কোনো সমস্যা হয়নি। দীর্ঘদিনের প্রতিদ্বন্দ্বী হলেও সব সময় পরস্পরের প্রতি শ্রদ্ধা ছিল আমাদের।

প্র্রশ্ন : বার্সেলোনাকে কী দিতে পারেন জাভি?

মেসি : অনেক কিছুই দিতে পারেন। বার্সেলোনার সব কিছুই জানেন জাভি। সমর্থক ও খেলোয়াড়দের কাছে তিনি কিংবদন্তি। কোচ হিসাবেও তিনি সত্যিকারের জ্ঞানী। দলের তরুণ খেলোয়াড়রা তার কাছ থেকে অনেক কিছু শিখতে পারবে। দলেরও অনেক উন্নতি হবে।

প্রশ্ন : সভাপতি লাপোর্তা বলেছিলেন, আপনি ও ইনিয়েস্তা বার্সেলোনায় ফিরতে পারেন। সেই স্বপ্ন কি আপনি সত্যি করবেন?

মেসি : আগেও বলেছি, কোনো একসময় বার্সেলোনায় ফিরব আমি। এটা আমার ঘর। আমি সেখানে থাকতে যাব। সুযোগ থাকলে অবশ্যই আমি ক্লাবকে সাহায্য করতে চাই। সেটা কোন ভূমিকায় তা এখনো জানি না।

প্রশ্ন : বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার লক্ষ্য কী?

মেসি : জাতীয় দলের হয়ে বছরটা ছিল অবিশ্বাস্য। কোপা আমেরিকা জিতে ক্যারিয়ারের অন্যতম বড় লক্ষ্য অর্জন করেছি। বিশ্বকাপে খেলা নিশ্চিত করেছি। খুব ভালো খেলছি আমরা। কিন্তু বিশ্বকাপে ফেভারিটের কাতারে যেতে এখনো লম্বা পথ পাড়ি দিতে হবে। ব্যক্তিগতভাবে অবশ্যই আমি আরেকটি ফাইনালে উঠে আরেকটি বড় লক্ষ্য অর্জন করতে চাই।

সাক্ষাৎকারে মেসি

একদিন ফিরে যাব বার্সেলোনায়

 ক্রীড়া ডেস্ক 
২৪ নভেম্বর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

প্রাণের শহর, প্রাণের ক্লাব বার্সেলোনা ছেড়ে পিএসজিতে পাড়ি জমানোর পর মঙ্গলবার স্প্যানিশ ক্রীড়া দৈনিক মার্কাকে দেওয়া প্রথম সাক্ষাৎকারে লিওনেল মেসি জানালেন, একদিন তিনি ফিরে যাবেন বার্সেলোনায়। গত মৌসুমে লা লিগার সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরস্কার পিচিচি ট্রফি জেতার পর প্যারিসে নিজের নতুন বাড়িতে মার্কার মুখোমুখি হয়েছিলেন আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড।

প্রশ্ন : রেকর্ড অষ্টম পিচিচি ট্রফি জিতে কেমন লাগছে?

মেসি : সত্যি বলতে, এতগুলো পিচিচি ট্রফি জেতা অদ্ভুত ব্যাপার। তেলমো জারার ছয়টি পিচিচি জয়ের রেকর্ড ছোঁয়াই একসময় আমার কাছে অসম্ভব মনে হতো। সেখানে তাকে ছাড়িয়ে আটটি জেতা অবশ্যই বিশেষ কিছু।

প্রশ্ন : প্যারিসে মানিয়ে নেওয়া কতটা চ্যালেঞ্জিং ছিল?

মেসি : এখন আমি খুব ভালো আছি। নতুন বাড়িতে ওঠার পর মানিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে। বাচ্চারা স্কুলে যাচ্ছে। নতুন জীবনে অভ্যস্ত হয়ে গেছে। বিশ্বকাপ বাছাইয়ে ম্যাচ খেলতে বারবার আর্জেন্টিনায় যাওয়ায় স্থানীয়দের সঙ্গে এখনো সেভাবে মেশার সুযোগ হয়নি। তবে প্যারিসে আমি থিতু হয়েছি।

প্রশ্ন : পিএসজি যে দল গড়েছে তাতে এবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়ের দৌড়ে তাদের হট ফেভারিট না ভাবাটা কী সম্ভব?

মেসি : সবাই বলছে, আমরাই এবার মূল ফেভারিট। আমি অস্বীকার করছি না যে, আমরা শিরোপার অন্যতম দাবিদার। কিন্তু সত্যিকারের শক্তিশালী দল হয়ে উঠতে এখনো অনেক কাজ করতে হবে আমাদের। শিরোপা জেতার মতো বেশ কিছু দল আছে। আমি এগিয়ে রাখব লিভারপুলকে। এরপর ম্যানসিটি, বায়ার্ন মিউনিখ, রিয়াল মাদ্রিদ, আতলেতিকো মাদ্রিদ... অনেক দলই এবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জেতার লড়াইয়ে আছে। চ্যাম্পিয়ন্স লিগ খুবই কঠিন প্রতিযোগিতা। এটাই এই টুর্নামেন্টের অনন্যতা।

প্রশ্ন : ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর সঙ্গে সরাসরি দ্বৈরথের সেই দিনগুলো কী মিস করেন?

মেসি : একই লিগে আমাদের লড়াই থেমে গেছে আগেই। ব্যক্তিগত ও দল হিসাবে অভিন্ন লক্ষ্য অর্জনে আমরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতাম। আমাদের জন্য সুন্দর অধ্যায় ছিল সেটি। সমর্থকরাও উপভোগ করত। সেই সুন্দর স্মৃতি ফুটবল ইতিহাসের অংশ হয়ে থাকবে।

প্রশ্ন : পিএসজির ড্রেসিংরুমের অভিজ্ঞতা কেমন? সের্হিও রামোসের সঙ্গে ড্রেসিংরুম ভাগাভাগি করবেন কখনো ভেবেছিলেন?

মেসি : আমি সৌভাগ্যবান যে, নতুন ড্রেসিংরুমে এসেই ভালো খেলোয়াড় ও ভালো মানুষদের পেয়েছি। এজন্য দ্রুত মানিয়ে নিতে পেরেছি। অনেকেই এখানে স্প্যানিশ ভাষায় কথা বলে। আগে থেকেই অনেকের সঙ্গে পরিচয় ছিল। রামোসের সঙ্গে ড্রেসিংরুম ভাগাভাগি শুরুতে একটু অদ্ভুত লাগলেও কোনো সমস্যা হয়নি। দীর্ঘদিনের প্রতিদ্বন্দ্বী হলেও সব সময় পরস্পরের প্রতি শ্রদ্ধা ছিল আমাদের।

প্র্রশ্ন : বার্সেলোনাকে কী দিতে পারেন জাভি?

মেসি : অনেক কিছুই দিতে পারেন। বার্সেলোনার সব কিছুই জানেন জাভি। সমর্থক ও খেলোয়াড়দের কাছে তিনি কিংবদন্তি। কোচ হিসাবেও তিনি সত্যিকারের জ্ঞানী। দলের তরুণ খেলোয়াড়রা তার কাছ থেকে অনেক কিছু শিখতে পারবে। দলেরও অনেক উন্নতি হবে।

প্রশ্ন : সভাপতি লাপোর্তা বলেছিলেন, আপনি ও ইনিয়েস্তা বার্সেলোনায় ফিরতে পারেন। সেই স্বপ্ন কি আপনি সত্যি করবেন?

মেসি : আগেও বলেছি, কোনো একসময় বার্সেলোনায় ফিরব আমি। এটা আমার ঘর। আমি সেখানে থাকতে যাব। সুযোগ থাকলে অবশ্যই আমি ক্লাবকে সাহায্য করতে চাই। সেটা কোন ভূমিকায় তা এখনো জানি না।

প্রশ্ন : বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার লক্ষ্য কী?

মেসি : জাতীয় দলের হয়ে বছরটা ছিল অবিশ্বাস্য। কোপা আমেরিকা জিতে ক্যারিয়ারের অন্যতম বড় লক্ষ্য অর্জন করেছি। বিশ্বকাপে খেলা নিশ্চিত করেছি। খুব ভালো খেলছি আমরা। কিন্তু বিশ্বকাপে ফেভারিটের কাতারে যেতে এখনো লম্বা পথ পাড়ি দিতে হবে। ব্যক্তিগতভাবে অবশ্যই আমি আরেকটি ফাইনালে উঠে আরেকটি বড় লক্ষ্য অর্জন করতে চাই।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন