বস্তি থেকে রাজপথে

  যুগান্তর ডেস্ক    ১৯ মে ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ডেলে আলি,

বছর তিনেক আগের কথা। মিলটন কেনেস ডন্সের তৎকালীন কোচ কার্ল রবিনসন সব ফুটবলারকে জড়ো করে কর্নারের নতুন কৌশল বোঝাচ্ছিলেন। সবার মধ্যে বেছে নিলেন একটি ছেলেকে। তার উচ্চতা একটু বেশি। হেড করার পক্ষে উপযুক্ত।

ছেলেটিকে দ্বিতীয় পোস্টের সামনে দাঁড়ানোর নির্দেশ দিলেন কার্ল। তাকে বলে দিলেন, কর্নার করতে এগোনোর সঙ্গে সঙ্গে সে যেন প্রথম পোস্টের দিকে ছুটে যায় এবং উড়ে আসা বল ব্যাক হেড করে পেছন দিকে পাঠায়। কিন্তু ক্রসটা এলো নিচুতে। হেড দেয়ার সম্ভাবনা ছিল না। কিন্তু কার্ল অবাক হয়ে দেখলেন, ছেলেটা অনবদ্য দক্ষতায় বলটা ব্যাকহিল করে জালে জড়িয়ে দিল।

শুধু তা-ই নয়, গোল উদযাপন করার সময় মুখ থেকে চুইংগাম বের করে সেটাকে প্রথমে হাঁটু দিয়ে নাচাল, তারপর পা দিয়ে কিছুক্ষণ জাগলিং করে শট মেরে ওপরের দিকে পাঠাল। আবার সেটা মুখে নিয়ে হাসতে থাকল। ১৬ বছরের ছেলেটির এমন কাণ্ড দেখে কার্ল তো বটেই, তার সতীর্থরাও অবাক।

কার্ল পরে বলেছিলেন, প্রতিভার দিক থেকে বরাবর লিভারপুল একাডেমি অন্যদের চেয়ে এগিয়ে। কিন্তু ছোট্ট ক্লাব এমকে ডন্সে এরকম এক প্রতিভা আসবে, তিনি ভাবতেই পারেনি। ওই ঘটনার পরেই ছেলেটাকে আলাদা করে নজর দিতে শুরু করলেন। সেদিনের সেই ছেলেটিই আজকের ইংল্যান্ড দলের অন্যতম সেরা মিডফিল্ডার ডেলে আলি।

টটেনহ্যামের হয়ে দুই মৌসুম খেলেই যিনি গোটা বিশ্বের নজর নিজের দিকে ঘুরিয়ে নিয়েছেন। ডন্সের যুব একাডেমির কোচ মাইক ডাভ একসময় বলেছিলেন, ‘এই বয়সেই এত চ্যালেঞ্জ নিতে খুব কম ছেলেকেই দেখেছি। সে ভয় পায় না। আবার নাকউঁচু ভাবও নেই।’

চ্যালেঞ্জ নেয়াটা জন্মের পর থেকেই শিখে গিয়েছিলেন বামিডেলে জারমেইন আলি। সংক্ষেপে ডেলে আলি। মিলটন কেনেসের যেখানে তার জন্ম, সেটাকে রিও ডি জেনিরোর বস্তির সঙ্গে গুলিয়ে ফেললে ভুল হবে না।

ছোটবেলাটা একেবারেই সুখের ছিল না। মা একা থাকতেন। ডেলের নাইজেরিয়ান বাবা তার জন্মের এক সপ্তাহ আগেই সেই যে যুক্তরাষ্ট্রে চলে গিয়েছিলেন, আর ফেরেননি। পড়াশোনা ভালো লাগত না। বরং ছোট থেকেই ফুটবলের প্রতি ছিল তুমুল আগ্রহ। ভুল করতেন, আবার সঙ্গে সঙ্গে শুধরে নিতেন।

সাধারণত পাঁচ বছর বয়সে যেখানে অন্য ছেলেরা একাডেমিতে ভর্তি হয়, ডেলে সেখানে এমকে ডন্সে যান ১১ বছর বয়সে। তাকে নিয়েছিলেন ডাভই। ফুটবল খেলার উপযুক্ত শারীরিক দক্ষতাও ছিল। কিছুদিনের মধ্যেই ডন্সের হয়ে একের পর এক রেকর্ড ভাঙতে লাগলেন। ক্রিস্টাল প্যালেসের বিরুদ্ধে একটা ম্যাচে বিপক্ষের ১৪ জনকে নাটমেগ (পায়ের ফাঁক দিয়ে বল গলানো) করেছিলেন। ওয়েবসাইট।

ঘটনাপ্রবাহ : বিশ্বকাপ ফুটবল ২০১৮

 

 

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter