‘নতুন লাম’ জার্মানির

  যুগান্তর ডেস্ক    ২৪ মে ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

কিমিচ,

দীর্ঘ ১৬ বছর জার্মানি দলে রাইট-ব্যাক হিসেবে একজনের নামই ঠোঁটে আসত- ফিলিপ লাম। ডিফেন্স করাই নয় শুধু, প্রয়োজনে উঠে গিয়ে অ্যাসিস্টও করতেন। গোলও করেছেন। লাম অবসর নেয়ার পর কে তার জায়গা নেবেন, এ নিয়ে উঠেছিল প্রশ্ন।

ভাগ্যিস, বেশিদিন অপেক্ষা করতে হয়নি জার্মানিকে। বায়ার্ন মিউনিখকেও। জশুয়া কিমিচের দক্ষতা দেখে ইতিমধ্যেই তাকে বিশেষজ্ঞরা ডাকতে শুরু করেছেন ‘নতুন লাম’ বলে। লাম যে কাজটা বায়ার্ন এবং জার্মানির হয়ে করে এসেছিলেন, গত দু’বছর ধরে সেটাই করে দেখাচ্ছেন কিমিচ। অর্থাৎ গোল রোখার পাশাপাশি গোল করাও তার অন্যতম অভ্যাস।

মাত্র পাঁচ বছরে কিমিচের অবিশ্বাস্য উত্থান অবাক করার মতো। ক’দিন আগেও তিনি খেলতেন তৃতীয় ডিভিশনে। সেখান থেকে আর বি লিপজিগ হয়ে এখন বায়ার্নে। প্রথম একাদশ তাকে ছাড়া ভাবাই যায় না।

জার্মানির রটওয়েলে কিমিচের জন্ম। ১২ বছর বয়সে তিনি ভিএফবি স্টুটগার্টে যোগ দেন। খেলতেন যুব দলে। প্রতিভা চোখে পড়েছিল সেই সময়েই। কিন্তু সিনিয়র দলে খেলানোর অপেক্ষা না করেই স্টুটগার্ট কিমিচকে বিক্রি করে দেয় লিপজিগে।

অনেকেই সেই সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন। কারণ নতুন খেলোয়াড়দের তুলে এনে তাদের খেলানোটা স্টুটগার্টের দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য। লিপজিগে এসে নিয়মিত প্রথম দলে খেলতে থাকেন কিমিচ। তখন লিপজিগ খেলছে তৃতীয় ডিভিশনে। মূলত কিমিচের দুরন্ত ফুটবলের সৌজন্যেই পরের বছর দ্বিতীয় ডিভিশনে উঠে আসে তারা।

সেবারই শীতকালীন বিরতির সময় কিমিচ তার এজেন্টের ফোন পান। জানতে পারেন, সামনের বছর তাকে চাইছে বায়ার্ন। সুযোগ নষ্ট করেননি এই তরুণ। মাত্র সাত মিলিয়ন পাউন্ডের বিনিময়ে বায়ার্ন তাকে কিনে নেয়। তখন বায়ার্নের কোচ ছিলেন পেপ গুয়ারডিওলা। স্প্যানিশ কোচ বুঝতে পারেন, তার হাতে কী অমূল্য রত্ন এসে পড়েছে।

গুয়ারডিওলা তাকে খেলাতেন সেন্টার-হাফ পজিশনে। মৌসুমে ৩৬ ম্যাচ খেলেন সেবার। ডাক পান জার্মানি জাতীয় দলেও। সেসময় কিমিচ সম্পর্কে গুয়ারডিওলা বলেছিলেন, ‘আমি ওকে বলেছি যে, ও বিশ্বের অন্যতম সেরা সেন্টার-ব্যাংক। ওর সেই খিদে, প্যাশন এবং জন্মগত প্রতিভা রয়েছে। সেটাই কাজে লাগাতে বলেছি।’

কার্লো আন্সেলোত্তি কোচ হয়ে আসার পর আবার পজিশন বদলে যায় কিমিচের। আন্সেলোত্তি তাকে খেলাতে শুরু করেন সেন্টার-মিডফিল্ডে। প্রথম ১৪ ম্যাচে সাতটা গোল করেন। তাতে মন পাওয়া যায়নি আন্সেলোত্তির। বড় ম্যাচে বারবার তুলে নিতেন কিমিচকে।

জুপ হেইনকেস কোচ হয়ে এসে কিমিচকে পুরনো জায়গা ফিরিয়ে দেন। এ সময় ডানদিকে আর্জেন রবেনের সঙ্গে দারুণ একটা বোজাপড়া গড়ে ওঠে কিমিচের। এর কিছুদিন পরেই দেশের হয়ে প্রথম অধিনায়কত্ব করেন।

ইউরো কাপেও বেশ কয়েকটা ম্যাচে প্রথম দলে ছিলেন কিমিচ। টুর্নামেন্টের সেরা দলেও জায়গা করে নেন। বিশ্বকাপের যোগ্যতা অর্জন পর্বেও দলের বাকিদের থেকে অনেক বেশি অ্যাসিস্ট (৯) করেছেন কিমিচ। রাইট-ব্যাক, সেন্টার-ব্যাক, সেন্টার-মিডফিল্ড- গোটা ক্যারিয়ারে বহুবার জায়গা বদলে খেলেছেন কিমিচ।

প্রত্যেক জায়গাতেই মানিয়ে নিয়েছেন। তার স্কিল, কঠোর পরিশ্রম এবং মনোসংযোগই সাফল্যের মূল। মাথা উঁচু করে খেলেন বলে পেরিফেরাল ভিশন অসম্ভব ভালো। মাত্র ১০ দিনের ব্যবধানে জার্মানির হয়ে, বুন্দেসলিগায় এবং চ্যাম্পিয়ন্স লিগে নিজের প্রথম গোল করেছিলেন।

অধিনায়ক লামের হাতে বিশ্বকাপ উঠেছে। কিমিচের হাতে উঠবে কিনা, সময়ই বলবে। ওয়েবসাইট।

ঘটনাপ্রবাহ : বিশ্বকাপ ফুটবল ২০১৮

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter