ঝুম বৃষ্টির দুপুরে বুঁদ ফুটবল রোমাঞ্চে
jugantor
ঝুম বৃষ্টির দুপুরে বুঁদ ফুটবল রোমাঞ্চে
আত্মবিশ্বাসী ক্রিস্টিয়ান কারেম্বুর কথা

  পারভেজ আলম চৌধুরী  

১০ জুন ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বৃষ্টি শুধু পানির ফোঁটা নয়, ধরিত্রীর প্রতি আকাশের ভালোবাসাও। কখনোই ওদের মিল হওয়ার নয়, তবুও আকাশ এভাবেই সিক্ত করে ভূমিকে। বৃষ্টির স্পর্শ যেন মাটির প্রতি আকাশের মমতা।

বহু আগে পড়া কোনো এক বৃষ্টিভেজা দিনে একটি ইংরেজি কবিতার প্রথম কটা লাইন কাল মনে পড়ে গেল। বৃহস্পতিবারের সকাল ঝুম বৃষ্টি স্বাগত জানাল এই নগরীকে। একটি পাঁচতারা হোটেলের শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ঘরে বৃষ্টির ছোঁয়া পাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। তবু ১৮ ক্যারেটের ছয় কেজির কিছু বেশি ওজনের ঘূর্ণায়মান সোনালি ট্রফি দেখতে দেখতে দুপুরে কবিতার ওই লাইনটাই বেশি মনে পড়ল-কখনোই ওদের মিল হওয়ার নয়, তবু আকাশ এভাবেই সিক্ত করে ভূমিকে।

মিল হওয়ার নয় স্বপ্নের সঙ্গে বাস্তবের। তবু আবেগ চায় ভাষা। নয় বছর পর ফিফা বিশ্বকাপ ট্রফি-বরণ অলীক কল্পনার সুরভি ছড়িয়ে দেয়। সম্ভব নয়, তবু স্বপ্ন দেখায়। এই প্রজন্মের প্রযুক্তিপ্রেমী তরুণ-তরুণীরা অবশ্য অত কিছু ভাবতে নারাজ। তারা প্রীত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটা জুতসই ছবি পোস্ট করার মওকা পেয়ে। ফুটবল নিয়ে তাদের আগ্রহ সামান্য।

তবে ছোট্ট জায়েদ বাবার সঙ্গে বিশ্বকাপ ট্রফি দেখতে এসেছে ফুটবলের মায়াবী টানেই। তার পৃথিবীতে সবে ভোর হয়েছে। সে জার্মানির সমর্থক। তার বড় ভাই আর্জেন্টিনার। দুজনেরই গাঢ় বিশ্বাস, এবার বিশ্বকাপ জিতবে তাদের প্রিয় দল।

আর ক্রিস্টিয়ান কারেম্বু? যিনি ট্রফি নিয়ে বিশ্ব পরিভ্রমণে বেরিয়েছেন ফিফার প্রতিনিধি হয়ে। ১৯৯৮ বিশ্বকাপজয়ী ফ্রান্সের এই ফুটবলারের কাছে প্রশ্ন ছিল, ২০১৮ বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়ন আপনার দেশ কি পারবে কাতারে ট্রফিটা ধরে রাখতে? সাবেক মিডফিল্ডার কারেম্বু উত্তরটা দিলেন একটু ঘুরিয়ে, ‘ফ্রান্স এবারও ফাইনালে খেলবে।’ আপনি কি নিশ্চিত? কারেম্বু আত্মবিশ্বাসী, অবশ্যই।

এই এক জায়গায় ছোট্ট জায়েদের সঙ্গে ৫১ বছরের কারেম্বুর মিল। জায়েদ মনে করে, চ্যাম্পিয়ন হবে জার্মানি। কারেম্বুর বিশ্বাস, ফ্রান্স। ভক্ত-সমর্থকদের এই প্রত্যাশা-প্রত্যয় আছে বলেই ফুটবল এত মোহনীয়, মাদকতাময়।

ফিরে আসার সময় টিপটিপ বৃষ্টির মধ্যে মনে পড়ল, তেমন কোনো সাবেক তারকা ফুটবলারকে দেখা গেল না ট্রফি-দর্শন করতে। স্বপ্নটা উসকে দিতে বাফুফে পারত বয়সভিত্তিক দলের ছেলেমেয়েদের এনে ট্রফিটা দেখাতে। আগের দিন বাফুফে সভাপতি কাজী সালাউদ্দিনের মন্তব্য অন্তঃসারশূন্য মনে হলো, ‘আমরা তো আর ফুটবল খেলে দিতে পারি না। খেলবে ফুটবলাররা। এই ট্রফি তাদের উজ্জীবিত করবে।’

ট্রফি-দর্শন শেষে প্রশ্নটা উঁকি দিল, বাংলাদেশ কি কখনো বিশ্বকাপে খেলবে? প্রশ্নটা মনকে করলাম। মন বলে দিল, সরি বস!

ঝুম বৃষ্টির দুপুরে বুঁদ ফুটবল রোমাঞ্চে

আত্মবিশ্বাসী ক্রিস্টিয়ান কারেম্বুর কথা
 পারভেজ আলম চৌধুরী 
১০ জুন ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বৃষ্টি শুধু পানির ফোঁটা নয়, ধরিত্রীর প্রতি আকাশের ভালোবাসাও। কখনোই ওদের মিল হওয়ার নয়, তবুও আকাশ এভাবেই সিক্ত করে ভূমিকে। বৃষ্টির স্পর্শ যেন মাটির প্রতি আকাশের মমতা।

বহু আগে পড়া কোনো এক বৃষ্টিভেজা দিনে একটি ইংরেজি কবিতার প্রথম কটা লাইন কাল মনে পড়ে গেল। বৃহস্পতিবারের সকাল ঝুম বৃষ্টি স্বাগত জানাল এই নগরীকে। একটি পাঁচতারা হোটেলের শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ঘরে বৃষ্টির ছোঁয়া পাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। তবু ১৮ ক্যারেটের ছয় কেজির কিছু বেশি ওজনের ঘূর্ণায়মান সোনালি ট্রফি দেখতে দেখতে দুপুরে কবিতার ওই লাইনটাই বেশি মনে পড়ল-কখনোই ওদের মিল হওয়ার নয়, তবু আকাশ এভাবেই সিক্ত করে ভূমিকে।

মিল হওয়ার নয় স্বপ্নের সঙ্গে বাস্তবের। তবু আবেগ চায় ভাষা। নয় বছর পর ফিফা বিশ্বকাপ ট্রফি-বরণ অলীক কল্পনার সুরভি ছড়িয়ে দেয়। সম্ভব নয়, তবু স্বপ্ন দেখায়। এই প্রজন্মের প্রযুক্তিপ্রেমী তরুণ-তরুণীরা অবশ্য অত কিছু ভাবতে নারাজ। তারা প্রীত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটা জুতসই ছবি পোস্ট করার মওকা পেয়ে। ফুটবল নিয়ে তাদের আগ্রহ সামান্য।

তবে ছোট্ট জায়েদ বাবার সঙ্গে বিশ্বকাপ ট্রফি দেখতে এসেছে ফুটবলের মায়াবী টানেই। তার পৃথিবীতে সবে ভোর হয়েছে। সে জার্মানির সমর্থক। তার বড় ভাই আর্জেন্টিনার। দুজনেরই গাঢ় বিশ্বাস, এবার বিশ্বকাপ জিতবে তাদের প্রিয় দল।

আর ক্রিস্টিয়ান কারেম্বু? যিনি ট্রফি নিয়ে বিশ্ব পরিভ্রমণে বেরিয়েছেন ফিফার প্রতিনিধি হয়ে। ১৯৯৮ বিশ্বকাপজয়ী ফ্রান্সের এই ফুটবলারের কাছে প্রশ্ন ছিল, ২০১৮ বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়ন আপনার দেশ কি পারবে কাতারে ট্রফিটা ধরে রাখতে? সাবেক মিডফিল্ডার কারেম্বু উত্তরটা দিলেন একটু ঘুরিয়ে, ‘ফ্রান্স এবারও ফাইনালে খেলবে।’ আপনি কি নিশ্চিত? কারেম্বু আত্মবিশ্বাসী, অবশ্যই।

এই এক জায়গায় ছোট্ট জায়েদের সঙ্গে ৫১ বছরের কারেম্বুর মিল। জায়েদ মনে করে, চ্যাম্পিয়ন হবে জার্মানি। কারেম্বুর বিশ্বাস, ফ্রান্স। ভক্ত-সমর্থকদের এই প্রত্যাশা-প্রত্যয় আছে বলেই ফুটবল এত মোহনীয়, মাদকতাময়।

ফিরে আসার সময় টিপটিপ বৃষ্টির মধ্যে মনে পড়ল, তেমন কোনো সাবেক তারকা ফুটবলারকে দেখা গেল না ট্রফি-দর্শন করতে। স্বপ্নটা উসকে দিতে বাফুফে পারত বয়সভিত্তিক দলের ছেলেমেয়েদের এনে ট্রফিটা দেখাতে। আগের দিন বাফুফে সভাপতি কাজী সালাউদ্দিনের মন্তব্য অন্তঃসারশূন্য মনে হলো, ‘আমরা তো আর ফুটবল খেলে দিতে পারি না। খেলবে ফুটবলাররা। এই ট্রফি তাদের উজ্জীবিত করবে।’

ট্রফি-দর্শন শেষে প্রশ্নটা উঁকি দিল, বাংলাদেশ কি কখনো বিশ্বকাপে খেলবে? প্রশ্নটা মনকে করলাম। মন বলে দিল, সরি বস!

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

ঘটনাপ্রবাহ : ফুটবল বিশ্বকাপ ২০২২