তুরুপের তাস হতে পারেন দিবালাও

  স্পোর্টস ডেস্ক ০৪ জুন ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

তুরুপের তাস হতে পারেন দিবালাও
আর্জেন্টাইন স্ট্রাইকার দিবালা

বাঁ পায়ের স্কিল, মুভমেন্ট এবং সঠিক সময়ে সঠিক জায়গায় পৌঁছে যাওয়ার দক্ষতা দেখে অনেকেই তাকে তুলনা করেন বিশ্বের অন্যতম সেরা ফুটবলারের সঙ্গে। কিন্তু ছায়া কেটে কীভাবে বেরিয়ে আসতে হয়, সেটা তিনি ভালোই জানেন।

তাই পাশে লিওনেল মেসির মতো সতীর্থ থাকা সত্ত্বেও পাওলো দিবালা আজ বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সেরা উঠতি তারকার নাম। এবারের বিশ্বকাপে তিনিও হতে পারেন আর্জেন্টিনার তুরুপের তাস।

শুরুর একাদশে জায়গা অনিশ্চিত জেনেও রাশিয়ায় ঝড় তোলার জন্য নিজেকে প্রস্তুত করছেন দিবালা। আর্জেন্টিনার কর্দোবার লাগুনা লারগায় জন্ম দিবালার। ফুটবল খেলাটা বোধহয় জন্মের আগে থেকেও তার কপালে লেখা ছিল।

দিবালার বাবা অ্যাডোলফ প্রচণ্ড ধার্মিক ছিলেন। তিনি স্বপ্নে নাকি দেখেছিলেন, তার এক সন্তান একদিন অনেক বড় ফুটবলার হবেন। দিবালা একটু বড় হওয়ার পর তিনি বুঝতে পারেন, তার স্বপ্ন সত্যি হতে চলেছে। ছোট ছেলেকে ফুটবলার বানানোর জন্য উঠেপড়ে লাগেন তিনি। মধ্যবিত্ত পরিবার। ফলে স্বপ্ন সফল হওয়ার পথে অনেক বাধা এসেছে।

এমনও হয়েছে, নিজের শেষ সম্বলটুকু খরচ করে তেল কিনে ছেলেকে অনুশীলনে পৌঁছে দিয়েছেন। কিন্তু এত করেও ছেলের সাফল্য দেখে যাওয়ার সৌভাগ্য হয়নি অ্যাডোলফের।

দিবালার যখন ১৫ বছর বয়স, তখন তিনি ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। দিবালা আদতে তিন দেশের নাগরিক। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় তার দাদা প্রাণভয়ে পোল্যান্ড ছেড়ে আশ্রয় নেন আর্জেন্টিনায়। সেখানেই স্থায়ীভাবে থেকে যান। ফলে পোল্যান্ডের নাগরিকত্ব রয়েছে দিবালার। আবার মায়ের দিক থেকে তিনি খেলতে পারতেন ইতালির হয়েও।

মা অ্যালিসিয়া ইতালির নাগরিক। কিন্তু যে দেশে বেড়ে উঠেছেন, সেই দেশের হয়েই দিবালা খেলার সিদ্ধান্ত নেন। অনেকটা লিওনেল মেসির মতোই। স্থানীয় ক্লাব অ্যাটলেটিকো সেন্ট্রাল কর্দোবায় ফুটবল ক্যারিয়ার থেকে ফুটবলজীবন শুরু দিবালার।

আর্জেন্টিনার দ্বিতীয় বিভাগে খেলতে নেমেই মাতিয়ে দেন তিনি। মারিও কেম্পেসকে টপকে সর্বকনিষ্ঠ গোলদাতা হয়ে গেলেন। প্রথম মৌসুমে ৪০ ম্যাচে ১৭ গোল করেছিলেন।

ওই বয়সেই তার দুর্ধর্ষ পারফরম্যান্স এবং ড্রিবলিং করার ঐশ্বরিক ক্ষমতা ইউরোপের ক্লাবগুলোর নজরে আসে। দিবালা শেষ পর্যন্ত যান ইতালির ক্লাব পালেরমোতে। এডিনসন কাভানি, হাভিয়ের পাস্তোরের মতো অনেক আমেরিকান তারকাই উঠে এসেছেন পালেরমো থেকে। তবে পালেরমোতে প্রথম মৌসুম একেবারেই ভালো কাটেনি।

মালিক মরিজিও জামপারিনির খেয়ালখুশি মতো কোচ পরিবর্তন করা প্রভাব ফেলে দিবালার খেলাতেও। তবে পরের মৌসুমে নতুন কোচ গিউসেপ্পে ইয়াচিনি নিয়মিত খেলর সুযোগ করে দেন দিবালাকে, যা কাজে লাগান তরুণ আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড। তৃতীয় মৌসুমে আরও জ্বলে ওঠেন। সেবার তার পাশে

ছিলেন ফ্রাঙ্কো ভাজকুয়েজ। ৩-৫-২ ছকে সামনে ভাজকুয়েজের সঙ্গে জুটি বেঁধে সেবার ১৩টি গোল করেন দিবালা, সঙ্গে ১০ অ্যাসিস্ট। তার দুর্ধর্ষ ফর্ম দেখে আর্জেন্টাইন মিডিয়া তাকে ডাকতে শুরু করে ‘লা জোয়া’ (দ্য জুয়েল) বলে। ওয়েবসাইট।

ঘটনাপ্রবাহ : বিশ্বকাপ ফুটবল ২০১৮

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter