প্রথম হার মোহামেডানের আবাহনীর প্রতিশোধ

প্রকাশ : ০৫ জুন ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  স্পোর্টস রিপোর্টার

পুনরাবৃত্তি নয়, প্রতিশোধ। প্রিমিয়ার হকি সুপার লিগে সোমবারের আবাহনী-মোহামেডান ম্যাচকে এর চেয়ে ভালোভাবে আর সংজ্ঞায়িত করা যায় না। লিগের প্রথম পর্বে মোহামেডান ২-১ গোলে হারিয়েছিল আবাহনীকে। কাল আবাহনী ৩-২ গোলে জিতে সেই হারের প্রতিশোধ নিল।

মওলানা ভাসানী হকি স্টেডিয়ামে দিনের প্রথম ম্যাচে মেরিনার্স ইয়াং ৯-১ গোলে উড়িয়ে দেয় অ্যাজাক্সকে। হাসান যুবায়ের নিলয় হ্যাটট্রিক করেন। ১৪ ম্যাচে ৩৬ পয়েন্ট আবাহনীর। তাদের চেয়ে এক ম্যাচ কম খেলা মোহামেডান ও মেরিনার্সের পয়েন্টও সমান ৩৬।

ম্যাচের শুরুতেই এগিয়ে যায় আবাহনী। কৃষ্ণ কুমার থেকে পাওয়া বল রোমান সরকার আড়াআড়ি বাড়ান তাজউদ্দিন আহমেদকে। আলতো টোকায় দলকে এগিয়ে দেন মালয়েশিয়ার ফরোয়ার্ড। নবম মিনিটে সমতায় ফেরে মোহামেডান। ডান দিক দিয়ে আক্রমণে ওঠা গুরজিন্দর সিং দারুণ এক রিভার্স হিটে আবু সাইদ নিপ্পনকে পরাস্ত করেন।

২০ মিনিটে আবারও এগিয়ে যায় আবাহনী। আশরাফুল ইসলামের ড্রাগ ফ্লিক ফিরে আসার পর রোমান সরকারের রিভার্স হিট ঠিকানা খুঁজে পায়। দুটি পেনাল্টি কর্নারের সুযোগ নষ্ট করার পর ৩৮ মিনিটে পেনাল্টি কর্নার থেকেই সমতায় ফেরে মোহামেডান। শামসের সিংয়ের পুশ সার্কেল থেকে অনেক দূরে ইমরান হাসান পিন্টু স্টপ করে বাড়ান গুরজিন্দরকে। জোরালো রিভার্স হিটে লক্ষ্যভেদ করেন ভারতের এই ফরোয়ার্ড।

৬১ মিনিটে আরশাদ হোসেনের বাড়ানো বল রিভার্স হিটে আবাহনীকে এগিয়ে দেন রোমান। শেষদিকে পেনাল্টি কর্নার থেকে অরবিন্দর সিং লক্ষ্যভেদে ব্যর্থ হলে টানা ১২ ম্যাচ জয়ের পর প্রথম হেরে টার্ফ ছাড়ে মোহামেডান। আবাহনীর কোচ মাহবুব হারুন ম্যাচ শেষে বলেন, ‘সুপার ফাইভের সবগুলো ম্যাচ আমরা জিততে চেয়েছি। খেলোয়াড়দের বুঝিয়েছি তোমরা মোহামেডানকে হারাতে পারো।’

মোহামেডানের কোচ মওদুদুর রহমান শুভর প্রতিক্রিয়া, ‘আমরা ভালো খেলতে পারিনি। পরের দুই ম্যাচ জিতে আমরা চ্যাম্পিয়ন হতে চাই।’

নিলয়ের হ্যাটট্রিকে অ্যাজাক্সকে উড়িয়ে দিল মেরিনার্স প্রিমিয়ার ডিভিশন হকির সুপার ফাইভে জয়ের ধারায় আছে মেরিনার ইয়াংস। হাসান যুবায়ের নিলয়ের হ্যাটট্রিকে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে অ্যাজাক্স এসসিকে ৯-১ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে শিরোপাধারীরা। লিগের প্রথম পর্বে অ্যাজাক্সকে ৬-০ গোলে হারানো মেরিনার্সের ১৩ ম্যাচে পয়েন্ট ৩৬।

মওলানা ভাসানী জাতীয় হকি স্টেডিয়ামে সোমবার ম্যাচের চতুর্থ মিনিটে মহসিন আহমেদের ফিল্ড গোলে এগিয়ে যাওয়ার দু’মিনিট পর ব্যবধান দ্বিগুণ করে নেয় মেরিনার্স। একক প্রচেষ্টায় দ্বিতীয় ফিল্ড গোলটি করেন নিলয়। আরও তিন গোল হজম করে প্রথমার্ধেই কোণঠাসা হয়ে পড়ে অ্যাজাক্স। নবম মিনিটে মইনুল ইসলাম কৌশিক জটলার মধ্যে থেকে নিখুঁত হিটে লক্ষ্যভেদ করেন।

২৪ মিনিটে পরমপ্রিত সিংয়ের ফিল্ড গোলে স্কোরলাইন ৪-০ হয়। ২৬ মিনিটে দুই-তিন ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে পুস্কর ক্ষীসা মিমো জোরালো হিটে ব্যবধান আরও বাড়ান। দ্বিতীয়ার্ধেও আক্রমণের ধার ধরে রাখে মেরিনার্স। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে নিলয়ের ফিল্ড গোলে বড় জয়ের পথে ছুটতে থাকে দলটি।

৬১ মিনিটে পেনাল্টি কর্নার থেকে হৃদয় আনাস অ্যাজাক্সকে একমাত্র গোল এনে দেন। হৃদয়ের গোলের পর আরও তিনবার লক্ষ্যভেদ করে মেরিনার্স। ৬৩ মিনিটে নিলয়ের বাড়ানো বল ঠিকানায় পৌঁছে দেন নাইম উদ্দিন। চার মিনিট পর ফিল্ড গোলে হ্যাটট্রিক পূরণ করেন নিলয়। ম্যাচজুড়ে পাঁচটি পেনাল্টি কর্নারের সুযোগ নষ্ট করা মেরিনার্স শেষ দিকে আজিজুল ইসলামের ফিল্ড গোলে বড় জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে।