তিতের মিষ্টি স্বপ্ন

  যুগান্তর ডেস্ক    ০৭ জুন ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

তিতে,

রাশিয়া বিশ্বকাপের জন্য ব্রাজিলের কোচ নির্বাচন প্রক্রিয়া এমনই রোমহর্ষক আর নাটকীয়তায় ভরা ছিল যে, সেটাই একটা রুদ্ধশ্বাস ফুটবল ম্যাচের মতো। ঘটনার শুরু ৯ জুলাই, ২০১৪তে। নিজেদের দেশে বিশ্বকাপে জার্মানির কাছে ৭-১ গোলে বিধ্বস্ত হওয়ার পরও ব্রাজিল ফুটবল সম্ভবত পরিবর্তনের পথ ধরতে চায়নি। তাই সবাইকে অবাক করে দুঙ্গাকেই তারা কোচের পদে রেখে দেয়।

ব্রাজিল ফুটবল কর্তারা অতিরিক্ত আস্থা রেখেছিলেন দুঙ্গার ওপর। কোনোদিনই সম্মানীয় ফুটবল মস্তিষ্ক ছিলেন না তিনি। সাংঘাতিক কোনো বিপ্লব তিনি যে আনবেন না, জানাই ছিল। তবু ব্রাজিলের কর্তারা দুঙ্গার আড়ালেই বাঁচতে চেয়েছিলেন। এত বড় জাতীয় বিপর্যয়ের পরও তাই তারা পরিবর্তন আনতে চাননি।

২০১৪-র সেই অভিশপ্ত রাতের পর দু’বছর কেটে গেল। ২০১৮ বিশ্বকাপের যোগ্যতা অর্জন পর্বের এক-তৃতীয়াংশ ম্যাচ হয়ে যাওয়ার পরও ছয় নম্বরে ব্রাজিল। ফের আতঙ্কের পরিবেশ ফুটবলের দেশে। এবার কি তাহলে বিশ্বকাপে যোগ্যতা অর্জন না করার লজ্জাও অপেক্ষা করছে? দুঙ্গা প্রবল চাপে। রিও অলিম্পিকের দিকে তাকিয়ে রয়েছেন কোচ। নিজেদের দেশে অলিম্পিক সোনার পদক এনে দিতে পারলে জনতা নিশ্চয়ই সবকিছু ভুলে যাবে।

অলিম্পিকের আগে কোপা আমেরিকা। এই প্রতিযোগিতার শতবর্ষ উদযাপন উপলক্ষে সেই ইভেন্ট হল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে। দুঙ্গার ব্রাজিল ড্র করল ইকুয়েডরের সঙ্গে। এরপর পেরুর কাছে হেরে গ্রুপপর্বেই বিদায়। এরপর আর দুঙ্গাকে রক্ষা করা সম্ভব ছিল না ব্রাজিল ফুটবল কর্তাদের।

দুঙ্গাকে সরিয়ে করন্থিয়ান্সের কোচ তিতেকে তারা নতুন কোচ করে আনলেন। পণ্ডিতরা বলতে শুরু করেছেন, তিতে আমূল পাল্টে দিয়েছে ব্রাজিল দল। রাশিয়ায় নেইমাররা যে যাচ্ছেন অন্যতম ফেভারিট, তার কারণ তিতে।

দায়িত্ব নিয়েই কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিলেন তিনি। চীন থেকে ডেকে আনলেন পাউলিনহোকে। সে সময় এ নিয়ে বিতর্ক হলেও দারুণ সাফল্য পেলেন পাউলিনহো। এরপর সেন্টার ফরোয়ার্ডের জায়গায় গ্যাব্রিয়েল জেসুসকে এনে ফাটকা খেললেন তিতে। সেটাও সুপারহিট।

এছাড়া দুঙ্গার ব্রাজিল দলটাই ধরে রাখলেন তিনি। কিন্তু তফাত হচ্ছে, একটা দল হেরে হেরে বিধ্বস্ত হয়ে পড়েছিল। অন্যটি জয়ের ধ্বজা উড়িয়ে পুরনো ব্রাজিল ফেরানোর স্বপ্ন দেখাচ্ছে। ফুটবল দুনিয়ায় এখন সবচেয়ে চর্চিত গবেষণা হচ্ছে, কী করে নতুন কোচের আগমন জাদুর মতো সব কিছু পাল্টে দিল?

তিতের ঘনিষ্ঠরা বলছেন, ব্রাজিলের নতুন গুরুর সবচেয়ে বড় গুণ হচ্ছে, শেখার খিদে। ব্রাজিলের ব্যর্থতাকে গ্রহণ করে নিয়ে তিনি ময়নাতদন্ত করেছেন, তারপর ভুলগুলো শুধরে নিয়ে এগিয়ে যেতে চেয়েছেন। সেই কারণেই তিনি সফল হচ্ছেন।

‘আমরা ব্রাজিল, ফুটবলের শাসক’- মিথ্যে অহং দেখিয়ে এই পুরনো স্লোগান ধরে রাখেননি তিনি। বরং মাথায় রেখেছেন এই তথ্য যে, বদলে যাওয়া ফুটবল পৃথিবীতে সিস্টেমই জেতায়, শুধু ব্যক্তিগত নৈপুণ্যে আজ আর বিশ্বকাপ জয় সম্ভব নয়। তিতে কখনও ইউরোপে ফুটবল কোচের দায়িত্ব সামলাননি। কিন্তু ইউরোপে তিনি অনেকদিন ছিলেন শুধু শেখার জন্য যে, সেখানকার দলগুলো কীভাবে ফুটবল খেলে। ইউরোপের দলগুলোর সঙ্গে লাতিন আমেরিকার দলগুলোর প্রধান তফাত হচ্ছে সংগঠিত ফুটবলের।

কীভাবে জমাট রাখতে হয় রক্ষণ ও আক্রমণ, সেটা ইউরোপের দলগুলোর থেকে শেখার মতোই ব্যাপার। তিতে ইউরোপে গিয়ে সেটাই শিখেছেন। সেই শিক্ষার দৌলতেই করিন্থিয়ান্সের কোচ হিসেবে তিনি ব্রাজিলে লিগ খেতাব জেতেন। দক্ষিণ আমেরিকার সেরার শিরোপা জেতেন। ক্লাব ওয়ার্ল্ড কাপের ফাইনালে হারান চেলসিকে।

এখানেই থেমে থাকেননি তিতে। ফুটবলে জ্ঞান লাভের লক্ষ্য নিয়ে ইউরোপের নেশা ছাড়েননি তিনি। কীভাবে কোনো একটা জায়গায় হঠাৎ করে ফুটবলারের সংখ্যা বাড়িয়ে দিয়ে প্রতিপক্ষের নাভিশ্বাস তুলতে হয়, সেই শিক্ষাও ইউরোপের মাঠে মাঠে ঘুরে অর্জন করেছেন বর্তমান ব্রাজিল কোচ। তিতের সেই শেখার খিদেই এবারের বিশ্বকাপে সেরা অস্ত্র হয়ে উঠতে পারে নেইমারদের জন্য। ওয়েবসাইট।

ঘটনাপ্রবাহ : বিশ্বকাপ ফুটবল ২০১৮

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter