তারুণ্যের সুরভি ফরাসি ফুটবলে

  স্পোর্টস ডেস্ক ১৭ জুলাই ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ফ্রান্স

গেল ছয় বিশ্বকাপে তিনবার ফাইনালে খেলে দু’বার জিতল ফ্রান্স। রোববার রাতে রাশিয়ায় দ্বিতীয়বার। প্রতিভার পরিচর্যা হয় যে দেশে তাদের পক্ষেই তো এমন কীর্তি গড়া সম্ভব। অথচ ফ্রান্সের সব ফুটবলার ফ্রান্সের নন।

এই যে ১৯ বছরের সেনসেশন কিলিয়ান এমবাপ্পে রাশিয়ায় সব আলো কেড়ে নিলেন, তার মা-বাবা ক্যামেরুন ও আলজেরিয়ার। এমবাপ্পে অবশ্য শিকড়ের সন্ধানে বের হতে অনিচ্ছুক। তার কাছে ফ্রান্সই আদি ও অকৃত্রিম। শুরু ও শেষ। ফ্রান্স তাকে সব দিয়েছে। তিনি ফ্রান্সকে সব দিতে চান। তা না হলে মাত্র ছয় বছর বয়সে কী করে বলেছিলেন, একদিন আমি জাতীয় দলে খেলব।

ফ্রান্সকে বিশ্বকাপ ট্রফি এনে দেব। ১৩ বছর পর প্রতিজ্ঞা পূরণ করলেন এমবাপ্পে। দিদিয়ের দেশম এমন একটা দল নিয়ে রাশিয়ায় এসেছিলেন, যে দলে শিকড় থেকে উপড়ে পড়া এমবাপ্পের মতো আরও অনেকে ছিলেন। কিন্তু নিজেদের জন্মভূমি তাদের স্মৃতি থেকে মুছে গেছে।

ফ্রান্সই তাদের মাতৃভূমি। আঁতোয়া গ্রিজমান রেগেমেগে তাই প্রাক-ফাইনাল সংবাদ সম্মেলনে বলেছিলেন, ‘আমরা ফরাসি। আমাদের গর্বিত হওয়া উচিত। ফ্রান্সের জীবন সুন্দর। আমরা ভলো খাবার খাই। আমাদের দেশটা সুন্দর। জাতীয় দল সুন্দর।’ তাই বলে বিশ্বকাপ জিতেই যে ফ্রান্স সবকিছু জিতে গেছে, তা নয়।

আত্মবিশ্বাসে এখন ভরপুর তারা, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি আসন্ন, এমনটি ভাববারও কোনো কারণ নেই। এই জয়ে সামাজিক বৈষম্য হঠাৎ দূর হয়ে যাবে, এতটা আশা করাও বাতুলতা। ফ্রান্স যখন প্রথম ’৯৮ বিশ্বকাপ জেতে, তখন বলা হয়েছিল, একটি নতুন বহুমাত্রিক বর্ণের জাতির অভ্যুদয় হল। এবার তেমনটি বলা হচ্ছে না। বিশ্বকাপ জয়ে ফরাসি ফুটবল আরও ঋদ্ধ হবে, সেই বার্তাও নেই।

এটা ঠিক যে, নতুন প্রজন্মের খেলোয়াড়রা উঠে এসেছে, তরুণ তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পের মতো। কিন্তু এও ঠিক যে, এই বিশ্বকাপে যে ৩২টি দল নিজেদের সর্বস্ব নিংড়ে দিয়েছে, তাদের মধ্যে অন্তত আধা ডজন দলের যে কোনো একটি দলের ভাগ্যেও শিরোপা জুটতে পারত। দিন শেষে জয়ের স্পর্শ পেতে খানিকটা ভাগ্য এবং সময়ের সহায়তাও লাগে। আর প্রয়োজন হয় গোল করা, গোল হজম করা নয়। ফ্রান্স রোববার রাতে দুটোই পেয়েছে। চার গোল করে মাত্র দুটি গোল হজম করেছে। এ জন্যই তারা জয়ী।

প্যারিস এমনিতে সারা রাত নির্ঘুম কাটায়। গত পরশু রাতে আইফেল টাওয়ারের শহরের পানশালাগুলো থেকে বেরিয়ে লোকজন রাজপথে তাদের বিশ্বকাপ জয় উদযাপনে মগ্ন হয়। আবেগ, আত্মবিশ্বাস, ঐক্য ও ফুটবলীয় গৌরব তখন ফরাসিদের শিরা-উপশিরায় রক্তের মতো প্রবাহিত হচ্ছে।

সিঁকি শতাব্দী ধরে ফ্রান্সের আত্মবিশ্বাস ক্রমশ তলানির দিকে যাচ্ছিল। গেল বছর জাতীয় নির্বাচনে ইমানুয়েল ম্যাক্রো প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর পালাবদলের সূচনা হয়। তাই বলে ফ্রান্সের বিশ্বকাপ জয়ে একা ম্যাক্রোর কৃতিত্ব খুঁজতে যাওয়াটা বোকামি হবে। তার বৈশ্বিক জনপ্রিয়তা উত্তুঙ্গ নয়। তিনি তরুণ। তারুণ্যের শক্তি দিয়ে সমাজে পরিবর্তন আনতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।

বর্তমান প্রজন্মের যা ভালো লেগেছে। ফ্রান্সের বিশ্বকাপজয়ী দলটাও তরুণ। তারুণ্যের জোরে দেশম দেশকে অধরা সোনার হরিণ এনে দিয়েছেন। অন্যের দুর্ভাগ্যে পাওয়া জয় সব সময় সুখানুভূতি দেয়। ফ্রান্সে এখন বাড়ির জানালায় ত্রিরঙা পতাকা উড়ছে। ফুটবলে ফ্রান্স খুঁজে পেয়েছে নিজেদের সুখের ঠিকানা। সুখের সহযাত্রী ফরাসিরা আপাতত বুঁদ ফুটবলের সুরভিতে।

ঘটনাপ্রবাহ : বিশ্বকাপ ফুটবল ২০১৮

 

 

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter