ওয়ানডে সিরিজ

তামিমের রানপ্রসবা সিরিজের নেপথ্যে

  স্পোর্টস ডেস্ক ৩০ জুলাই ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

তামিম,

দীর্ঘ নয় বছরের খরা ঘুচল। অবসান হল অপেক্ষার। দেশের বাইরে ওয়ানডে সিরিজ জিতল বাংলাদেশ। অনেক বৃষ্টির পর একমুঠো রোদ্দুরের মতো ১৮ রানের জয়ে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ নিজেদের করে নিলেন মাশরাফি মুর্তজারা।

২০০৯ সালের পর বিদেশে প্রথম ওয়ানডে সিরিজ জিতল বাংলাদেশ। ভীষণ প্রয়োজন ছিল এই জয়ের। বিশেষ করে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে যাচ্ছেতাইভাবে হেরে যাওয়ার পর ঘুরে দাঁড়ানোটা খুব জরুরি ছিল। কী আশ্চর্য, মাশরাফির নেতৃত্বগুণের জাদুরকাঠির স্পর্শে এলো আরাধ্য সেই জয়।

সেন্ট কিটসে তামিম ইকবাল (১০৩), মাহমুদউল্লাহর (৬৭) ব্যাটে এবং মাশরাফির বোলিংয়ে (২/৬৩) তৃতীয় ও শেষ ওডিআই এবং সিরিজ জয়। ব্যাটেও মাশরাফি অবদান রেখেছেন ২৫ বলে ৩৬ রান করে। বল হাতে রুবেল হোসেন বিপজ্জনক হয়ে ওঠা ক্রিস গেইলকে (৭৩) ফিরিয়েছেন।

সামনে থেকে নেতৃত্ব দেয়া যাকে বলে, মাশরাফি এই কাজটা সব সময় করেন সুনিপুণভাবে। সেটা ঘরোয়া ক্রিকেট হোক কিংবা আন্তর্জাতিক।

সেন্ট কিটসে নিজের যোগ্যতার আরেকবার প্রমাণ দিয়ে বাংলাদেশ ওয়ানডে অধিনায়ক বলেছেন, ‘ক্রিকেট একটি মনস্তাত্ত্বিক খেলা। প্রথম ওডিআই থেকে ছেলেরা নিজেদের মেলে ধরেছে। দ্বিতীয় ওয়ানডেতে হারলেও ম্যাচের অধিকাংশ সময় আমরা ভালো খেলেছি। সিনিয়ররা ভালো খেলেছে এই সিরিজে। এখন জুনিয়রদেরও এগিয়ে আসতে হবে। তিন ম্যাচেই বোলাররা ভালো করেছে। এখন টি ২০ সিরিজ আমাদের শুরু করতে হবে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে। ওয়েস্ট ইন্ডিজ খুবই ভালো টি ২০ দল।’

বাংলাদেশের সিরিজ জয়ের নায়ক তামিম ইকবাল সঙ্গত কারণেই ম্যাচ ও সিরিজসেরা। সাফল্যের সূত্র সম্পর্কে তার ব্যাখ্যা, ‘টেস্ট সিরিজটা আমাদের মোটেও ভালো যায়নি। তাই আমরা অনুশীলনে প্রচুর ঘাম ঝরিয়েছি। আর এটা তো সবাই জানেন যে, ওয়ানডে ফরম্যাটে আমরা সাবলীল।’

তিন ম্যাচে ২৮৭ রান করা এই ড্যাশিং বাংলাদেশি বাঁ-হাতি ওপেনার সিরিজে নিজের সুজলা-সুফলা ব্যাটিংয়ের কারণ জানান। তামিমের কথায়, ‘আমি যা চেয়েছি সেটি হল, যতক্ষণ সম্ভব ব্যাট করে যাওয়া। দল আমার কাছে এটাই চেয়েছে। আমি দলের চাওয়া পূরণ করতে পেরেছি। এটাই আমার সফলতা।’

তামিম যোগ করেন, ‘সত্যি বলতে কী, ওয়েস্ট ইন্ডিজে আপনি কখনই সহজে ব্যাটিং করতে পারবেন না। আপনাকে এখানে ধৈর্যশীল হতে হবে। ধৈর্যই সাফল্যের চাবিকাঠি। এই সাফল্যসূত্র অনুসরণ করেই আমি বড় রান পেয়েছি।’

তামিমের জন্য সত্যিই সিরিজটা রানপ্রসবা হয়ে থাকল। দুটি শতক ও একটি ফিফটি তার ঝুলিতে। প্রথম ওডিআইতে অপরাজিত ১৩০ রান করার পর দ্বিতীয়টিতে ফিফটি (৫৪)। তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডেতে ১০৩। এটি তার এগারোতম ওডিআই শতক। এই ১১ সেঞ্চুরির আটটিতেই জিতেছে বাংলাদেশ। তিন ম্যাচের টি ২০ সিরিজেও তার ব্যাট এভাবে হাসবে, এই কামনা বাংলাদেশের ক্রিকেট অনুরাগীদের।

স্কোর কার্ড

বাংলাদেশ

রান বল ৪ ৬

তামিম ক পাওয়েল ব বিশু ১০৩ ১২৪ ৭ ২

এনামুল ক পাওয়েল ব হোল্ডার ১০ ৩১ ১ ০

সাকিব ক পল ব নার্স ৩৭ ৪৪ ৩ ০

মুশফিক ব নার্স ১২ ১৪ ০ ১

মাহমুদউল্লাহ নটআউট ৬৭ ৪৯ ৫ ৩

মাশরাফি ক গেইল ব হোল্ডার ৩৬ ২৫ ৪ ১

সাব্বির ক লুইস ব কটরেল ১২ ৯ ২ ০

মোসাদ্দেক নটআউট ১১ ৫ ১ ০

অতিরিক্ত ১৩

মোট (৬ উইকেটে, ৫০ ওভারে) ৩০১

উইকেট পতন : ১/৩৫, ২/১১৬, ৩/১৫২, ৪/২০০, ৫/২৫৩, ৬/২৭৯।

বোলিং : কটরেল ৯-০-৫৯-১, হোল্ডার ১০-০-৫৫-২, বিশু ১০-১-৪২-১, পল ৯-০-৭৭-০, নার্স ১০-১-৫৩-২, গেইল ২-০-১৪-০।

ওয়েস্ট ইন্ডিজ

রান বল ৪ ৬

গেইল ক মিরাজ ব রুবেল ৭৩ ৬৬ ৬ ৫

লুইস ক মুশফিক ব মাশরাফি ১৩ ৩৩ ১ ০

হোপ ক সাকিব ব মাশরাফি ৬৪ ৯৪ ৫ ০

হেটমায়ার ব মিরাজ ৩০ ৪২ ২ ০

কিয়েরন পাওয়েল রানআউট ৪ ৭ ০ ০

রোভম্যান নটআউট ৭৪ ৪১ ৫ ৪

হোল্ডার ক রুবেল ব মোস্তাফিজ ৯ ১০ ০ ০

নার্স নটআউট ৫ ৭ ০ ০

অতিরিক্ত ১১

মোট (৬ উইকেটে, ৫০ ওভারে) ২৮৩

উইকেট পতন : ১/৫৩, ২/১০৫, ৩/১৭২, ৪/১৭৯, ৫/২২৪, ৬/২৬২।

বোলিং : মাশরাফি ১০-০-৬৩-২, মেহেদী হাসান মিরাজ ১০-০-৪৫-১, মোস্তাফিজ ১০-০-৬৩-১, মোসাদ্দেক ১-০-১০-০, মাহমুদউল্লাহ ২-০-২০-০, রুবেল ৭-০-৩৪-১, সাকিব ১০-০-৪৫-০।

ফল : বাংলাদেশ ১৮ রানে জয়ী।

সিরিজ : তিন ম্যাচের সিরিজ বাংলাদেশ ২-১-এ জয়ী।

ম্যান অব দ্য ম্যাচ ও ম্যান অব দ্য সিরিজ : তামিম ইকবাল (বাংলাদেশ)।

ঘটনাপ্রবাহ : বাংলাদেশ ট্যুর অব ওয়েস্ট ইন্ডিজ-২০১৮

 

 

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter