ফরম্যাট বদলের সঙ্গে ভাগ্যবদল!

  স্পোর্টস ডেস্ক ০২ আগস্ট ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

বাংলাদেশ-ওয়েস্ট ইন্ডিজ

মুখোমুখি হওয়া ৫৫টি বৈধ বলেই আটটি ছক্কা ওয়েস্ট ইন্ডিজের। এর কোনোটি আছড়ে পড়েছে ছাদের ওপর, কোনোটি স্টেডিয়ামের বাইরে। যেখানে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা পুরো ২০ ওভার খেলে সাকুল্যে দুটি ছক্কা হাঁকিয়েছেন। এই চেনা বৈপীরত্যেই স্পষ্ট টি ২০ ক্রিকেটে দু’দল দুই মেরুর বাসিন্দা।

ওয়ানডের মোমেন্টাম কোনো কাজেই এলো না সাকিবদের। বৃষ্টিবিঘ্নিত ম্যাচে আন্দ্রে রাসেলের খুনে ছক্কাগুলোর মতোই যেন বাংলাদেশকে উড়িয়ে গ্যালারিতে আছড়ে ফেলল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। সেন্ট কিটসের ওয়ার্নার পার্কে প্রথম টি ২০তে ডাকওয়ার্থ-লুইস পদ্ধতিতে বাংলাদেশকে সাত উইকেটে হারিয়ে তিন ম্যাচের সিরিজে ১-০তে এগিয়ে গেছে ক্যারিবীয়রা।

বাংলাদেশ সময় বুধবার সকালে অনুষ্ঠিত ম্যাচে টস হেরে আগে ব্যাটিংয়ে নেমে নয় উইকেটে ১৪৩ রান তুলেছিল বাংলাদেশ। নিখাদ ব্যাটিং উইকেটেও আত্মঘাতী ব্যাটিংয়ে মুখ থুবড়ে পড়ে বাংলাদেশ। প্রথম ওভারেই দুই ওপেনারের অভাবনীয় ‘গোল্ডেন ডাক’। এরপর মাহমুদউল্লাহর ব্যাটে ১১তম ওভারে একশ ছুয়েও শেষ পর্যন্ত ধুঁকতে ধুঁকতে দেড়শ’র নিচে থমকে যাওয়া।

মামুলি এই পুঁজি নিয়ে টি ২০’র বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের পরাভূত করতে বোলিংয়ে দুর্দান্ত কিছু করে দেখাতে হতো বাংলাদেশকে। ইনিংস বিরতিতে বৃষ্টির হানায় কাজটা আরও কঠিন হয়ে যায়। বৃষ্টি থামার পর ডাকওয়ার্থ-লুইস নিয়মে উইন্ডিজের সামনে জয়ের লক্ষ্য দাঁড়ায় ১১ ওভারে ৯১ রান। শেষ পর্যন্ত ১১ বল হাতে রেখেই সাত উইকেটের অনায়াস জয় তুলে নেয় স্বাগতিকরা।

বিস্ফোরক সব ব্যাটসম্যানে ঠাসা উইন্ডিজের জন্য ৬৬ বলে ৯১ রানের সমীকরণটা ছিল সহজতমই। তবু শুরুতে আশা জাগিয়েছিলেন মোস্তাফিজুর রহমান। নিজের প্রথম এবং ইনিংসে দ্বিতীয় ওভারে কোনো রান না দিয়েই উইন্ডিজের দুই ওপেনার আন্দ্রে ফ্লেচার ও এভিন লুইসকে ফিরিয়ে দিয়েছিলেন এই বাঁ-হাতি পেসার। কিন্তু আন্দ্রে রাসেল ও মারলন স্যামুয়েলসের ৪২ রানের টর্নেডো জুটিতে দ্রুতই ঘুরে দাঁড়ায় উইন্ডিজ। মোস্তাফিজের পরের ওভারেই ১৮ রান তুলে নেন রাসেল। ঝড় তোলেন ম্যামুয়েলসও। ১৩ বলে ২৬ রান করে স্যামুয়েলসের বিদায়ের পর রোভম্যান পাওয়েলকে (৯ বলে ১৫*) নিয়ে বাকি পথটুকু পাড়ি দেন ম্যাচসেরা রাসেল। সমান তিনটি করে চার-ছক্কায় ২১ বলে তিনি করেন অপরাজিত ৩৫ রান।

বাংলাদেশের ইনিংসেও সর্বোচ্চ স্কোর ৩৫। সেটি এসেছে মাহমুদউল্লাহর ব্যাট থেকে। তিন চার ও দুই ছক্কায় সাজানো ২৭ বলের দারুণ সম্ভাবনাময় ইনিংসটিকে অবশ্য পূর্ণতা দিতে পারেননি মাহমুদউল্লাহ। ১৭তম ওভারে তিনি আউট না হলে দেড়শ’র নিচে থমকে যেত না বাংলাদেশ। শুরুটা ছিল আরও বিভীষিকাময়। অ্যাশলি নার্সের অফ-স্পিনে প্রথম ওভারেই আউট দুই ওপেনার।

ওয়ানডে সিরিজে যার ব্যাট কচুকাটা করেছে ক্যারিবীয়দের, সেই তামিম ইকবালের মাথায় যেন ভূত চেপেছিল কাল। ম্যাচের প্রথম বলেই বেরিয়ে এসে খেলতে গিয়ে স্টাম্পিংয়ের ফাঁদে পড়েন তামিম। তিনে নামা লিটন দাস শুরু করেছিলেন বাউন্ডারি মেরে। পরের বলে তার সিঙ্গেলে স্ট্রাইক পেলেন সৌম্য সরকার। মুখোমুখি হওয়া প্রথম বলেই বোল্ড সৌম্য। টি ২০ ক্রিকেটে এই প্রথম কোনো দলের দুই ওপেনারই ‘গোল্ডেন ডাক’ মারলেন! লিটন ও সাকিব আল হাসানের ব্যাটে সেই ধাক্কা যখন প্রায় সামলে উঠেছে বাংলাদেশ, তখনই ফের জোড়া ধাক্কা।

ষষ্ঠ ওভারে টানা দুই বলে লিটন (২১ বলে ২৪) ও সাকিবকে (১০ বলে ১৯) ফিরিয়ে দেন কিমো পল। সেখান থেকেই মাহমুদউল্লাহর দারুণ প্রতি-আক্রমণ। পঞ্চম উইকেটে মুমাফিকুর রাহিমকে (১১ বলে ১৫) নিয়ে মাত্র ২৪ বলে ৪৭ রান যোগ করেন মাহমুদউল্লাহ। কিন্তু এই জুটি ভাঙার পর খেই হারিয়ে ফেলে বাংলাদেশের ইনিংস। ক্যারিয়ারসেরা বোলিংয়ে ২৮ রানে চার উইকেট নিয়ে বাংলাদেশকে ১৪৩ রানে আটকে দেন ক্যারিবীয় পেসার কেসরিক উইলিয়ামস।

হতশ্রী ব্যাটিংয়ের পর গড়পড়তা বোলিংয়ে পরাজয়ের আলিঙ্গনে ধরা দেয় বাংলাদেশ। এই ম্যাচ দিয়েই শেষ হল সাকিবদের ৪০ দিনের ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফর। সিরিজের শেষ দুইটি টি ২০ হবে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায়। বাংলাদেশ সময় আগামী ৫ ও ৬ আগস্ট সকালে।

ঘটনাপ্রবাহ : বাংলাদেশ ট্যুর অব ওয়েস্ট ইন্ডিজ-২০১৮

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
×