তরুণরা অধারাবাহিক

বাংলাদেশ দল কি সিনিয়রনির্ভর

এবারের উইন্ডিজ সফর পুরনো একটি প্রশ্নই নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে- বাংলাদেশ কী সিনিয়র-নির্ভর দলে পরিণত হয়েছে?

  ক্রিকইনফো ০৮ আগস্ট ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

বাংলাদেশ,

দুই টেস্টের সিরিজে ধবলধোলাই হওয়ার পর সমান ২-১ ব্যবধানে ওয়ানডে ও টি ২০ সিরিজ জয়। মোটা দাগে বাংলাদেশ দলের এবারের ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও যুক্তরাষ্ট্র সফরটাকে সফলই বলতে হবে। তবে মুদ্রার উল্টো পিঠের ছবিটা খুব একটা আশাজাগানিয়া নয়। একটি সুস্থির ব্যাটিং অর্ডারের জন্য অন্তত আটটি ধাঁধার উত্তর মেলাতে হবে বাংলাদেশকে।

এবারের উইন্ডিজ সফর পুরনো একটি প্রশ্নই নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে- বাংলাদেশ কী সিনিয়র-নির্ভর দলে পরিণত হয়েছে? বিশেষ করে ব্যাটিংয়ে। এবারের সফরে তিন ফরম্যাট মিলিয়ে দলের মোট রানের ৭১ শতাংশই এসেছে চার সিনিয়র ব্যাটসম্যান তামিম ইকবাল, সাকিব আল হাসান, মুশফিকুর রহিম ও মাহমুদউল্লাহর ব্যাট থেকে।

দলের দুই সেঞ্চুরির দুটিই তামিমের। এছাড়া ১০ ফিফটির আটটিই চার সিনিয়রের। বিপরীতে দলের সবচেয়ে সম্ভাবনায় আট তরুণ ব্যাটসম্যানের সম্মিলিত অবদান ২৯ ইনিংসে ৩৬৯ রান। লিটন দাস, এনামুল হক, সৌম্য সরকার, সাব্বির রহমান, মোসাদ্দেক হোসেন, মুমিনুল হক, আরিফুল হক ও নুরুল হাসান মিলে তিন ফরম্যাটে করেছেন মোটে দুটি ফিফটি।

তরুণদের এমন অধারাবাহিকতা ও পড়তি ফর্ম দলের জন্য সবচেয়ে বড় সমস্যা হয়ে উঠেছে। প্রশ্ন হল তরুণরা কেন ধারাবাহিক হতে পারছেন না? এর উত্তর খুঁজতে বাংলাদেশের ঘরোয়া ক্রিকেটের তিন শীর্ষস্থানীয় কোচ মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন, খালেদ মাসুদ ও নাজমুল আবেদিনের মুখোমুখি হয়েছিল ক্রিকেটের জনপ্রিয় ওয়েবসাইট ক্রিকইনফো।

তরুণ ব্যাটসম্যানদের সঙ্গে দীর্ঘদিন কাজ করার অভিজ্ঞতা থেকে তিন কোচের অভিমত, শুধু প্রতিভা ও সম্ভাবনা দিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বেশি দূর যাওয়া সম্ভব নয়। সৌম্য, সাব্বিরদের নিজেদের হারিয়ে খোঁজার পেছনে কৌশলগত ও মনস্তাত্ত্বিক সমস্যার পাশাপাশি পরিকল্পনা ও জীবন দর্শনেও ত্র“টি দেখছেন তিন কোচ।

আট তরুণ ব্যাটসম্যানের মধ্যে উইন্ডিজ সফরে সর্বোচ্চ ১৫৮ রান করেছেন লিটন। শেষ টি ২০তে ৬১ রানের বিস্ফোরক ইনিংসটি ছাড়াও আরও তিন ইনিংস ভালো শুরু করেছিলেন এই টপঅর্ডার ব্যাটসম্যান। কিন্তু বলের লাইনে না গিয়ে আত্মঘাতী শট খেলে প্রতিবারই সম্ভাবনার অপমৃত্যু ঘটান।

এ জন্য লিটনের মানসিকতাকেই দায়ী করলেন বিসিবি ও বিকেএসপির কোচ নাজমুল আবেদিন, ‘লিটন দেখিয়েছে যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে খেলতে পারে সে। কিন্তু নিজের ভুলেই সে বারবার একইভাবে আউট হয়। তার টেকনিকে কোনো সমস্যা নেই। সমস্যা দৃষ্টিভঙ্গিতে। তার চিন্তাধারাটা আমার জানা নেই। কিন্তু লক্ষ্যটা বড় না হলে এবং সে অনুযায়ী পরিকল্পনা না সাজালে আপনি নিজের বা দলের জন্য বড় কিছু করতে পারবেন না।’

ওয়ানডে সিরিজে লিটনের জায়গায় ওপেনিংয়ে তামিমের সঙ্গী হিসেবে এনামুল হকের ওপর আস্থা রেখেছিল টিম ম্যানেজমেন্ট। কিন্তু আক্রমণ ও রক্ষণের গোলকধাঁধায় পথ হারিয়ে তিন ম্যাচেই কার্যত ব্যর্থ এনামুল। ঘরোয়া ক্রিকেটে তার কোচ সালাহউদ্দিন এ জন্য সঠিক পরিকল্পনার অভাবকে দায়ী করলেন, ‘তিন ইনিংসে সে ভিন্ন তিনটি পরিকল্পনা নিয়ে নেমেছিল। তার ব্যাটিংয়ে নির্দিষ্ট কোনো ধরন নেই। এক ম্যাচে অতি আক্রমণাত্মক তো পরের ম্যাচে অতি রক্ষণাত্মক। এটা হয় যখন কোনো ব্যাটসম্যান সিঙ্গেল নিতে পারে না। সেটা ইচ্ছাকৃত হোক বা সামর্থ্যরে অভাবে। এনামুলের উচিত একটি সঠিক ব্যাটিং পরিকল্পনায় স্থির থাকা।’

টি ২০ সিরিজে ঠিক এনামুলের মতোই ডাহা ফেল করেছেন সৌম্য। তিন ম্যাচে তার ব্যাট থেকে এসেছে মোটে ১৯ রান। শেষ ১১ ইনিংসে সৌম্যর ব্যাটিং গড় ৭.৯১। বারবার সুযোগ পেয়েও ব্যর্থতার বৃত্তে ঘুরপাক খাওয়ার জন্য সৌম্যর টেকনিকেই সমস্যা দেখছেন সালাহউদ্দিন, ‘সৌম্যর কিছু কৌশলগত সমস্যা আছে। এ নিয়ে অনেক আগেই তার কাজ শুরু করা উচিত ছিল। অফ-স্পিনে সমস্যা আছে তার। এছাড়া মিড-অন ও মিডউইকেটে সব শট খেলার প্রবণতা আছে। যখন সে একটি ফিফটি পায়, আমরা বলি সৌম্য ফর্মে ফিরেছে। কিন্তু আমার চোখে, সে শুধু তখনই ফিরবে যখন সে তার শক্তি ও সামর্থ্য অনুযায়ী খেলতে পারবে।’

সাব্বিরের গল্পটাও অভিন্ন। ওয়ানডে সিরিজে তিন ম্যাচে ২৭ রান করার পর টি ২০তে একাদশে জায়গা হারান। গত এক বছর ধরে এভাবে নিজেকে হারিয়ে খুঁজলেও বিতর্কের সঙ্গ ছাড়েননি সাব্বির। বারবার ভুল কারণে খবরের শিরোনাম হয়েও বোধোদয় হচ্ছে না তার।

সাব্বিরের মতো দলের তরুণ সদস্যদের অনেকেরই ক্রিকেটের প্রতি আত্মনিবেদনে ঘাটতি দেখছেন ঘরোয়া ক্রিকেটের সফল কোচ ও জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক খালেদ মাসুদ, ‘দলের সব সিনিয়র ক্রিকেটারই নিজেদের পারফরম্যান্সের প্রতি অবিশ্বাস্য মনোযোগী। তামিম, মুশফিকুর, মাশরাফি বা মাহমুদউল্লাহকে দেখুন। অনুশীলনে তারাই সবার আগে আসে। নেট বা জিম থেকে তাদের সরানো যায় না। কিন্তু তরুণ ক্রিকেটারদের নিয়ে আমি এমনটা বলতে পারছি না। আরেকটা বড় সমস্যা হয়ে উঠেছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আসক্তি। কেন তারা সবসময় ফেসবুকে পড়ে থাকবে? এ থেকে অবশ্যই বেরিয়ে আসতে হবে।’

ঘটনাপ্রবাহ : বাংলাদেশ ট্যুর অব ওয়েস্ট ইন্ডিজ-২০১৮

 

 

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
.