খেলতে নামলে বুক কাঁপে ফুটবলারদের

এশিয়ান গেমসে স্বপ্ন ও সম্ভাবনা

  ওমর ফারুক রুবেল ১২ আগস্ট ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

জামাল,

আসন্ন এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের সম্ভাবনা নিয়ে ধারাবাহিক প্রতিবেদনের দ্বাদশ কিস্তিতে আজ থাকছে ফুটবল।

একসময় ফিফা র‌্যাংকিংয়ে ১১৬ নম্বরে ছিল ক্রোয়েশিয়া। ২০১৮ সালে তারা বিশ্বকাপের রানার্সআপ দল। ওই সময় ক্রোয়েশিয়ার চেয়ে মাত্র তিন ধাপ পিছিয়ে র‌্যাংকিংয়ে ১১৯ নম্বরে ছিল বাংলাদেশ। ক্রোয়েশিয়া ও বাংলাদেশের পারফরম্যান্সে এখন বিরাট ফারাক। ফিফা র‌্যাংকিংয়ে বাংলাদেশের অবস্থান ১৯৪তম স্থানে।

দেশের ফুটবলের আমেজ এখন মৃয়মান। মাঠে অনুষ্ঠিত হয় দর্শকহীন ম্যাচ। সাঁঝের বেলার মতো অবস্থা দেশের ফুটবলেরও। ২০১৬ সালে ভুটানের কাছে হারের পর প্রায় দু’বছর আন্তর্জাতিক কোনো ম্যাচ খেলতে পারেনি বাংলাদেশ। প্রিমিয়ার ফুটবল লিগ, ফেডারেশন কাপ ও স্বাধীনতা কাপ নিয়মিত হলেও অন্য টুর্নামেন্টগুলো এখন অতীত। বলা যায় হিমাগারেই।

অন্যদের সঙ্গে পাল্লা দেয়ার অবস্থা আগেই হারিয়ে ফেলেছে বাংলাদেশ। বড় দল দূরে থাক, দক্ষিণ এশিয়ার যে কোনো দলের বিপক্ষে খেলতেই যেন বুক কাঁপে ফুটবলারদের। জয় তো বহুদূর। ১৯৭৮ সালে ব্যাংকক এশিয়ান গেমসে ফুটবলে প্রথম অংশগ্রহণ। এর মধ্যে ১৯৯৪ ও ১৯৯৮ ছাড়া ফুটবলে নিয়মিতই অংশ নিয়ে আসছে বাংলাদেশ।

এশিয়ান গেমস ফুটবলে এ পর্যন্ত ২৩ ম্যাচ খেলে মাত্র তিনটিতে জিতেছে লাল-সবুজের বাহিনী। বাকি ২০ ম্যাচ হেরেছে। সর্বশেষ জয়টি এসেছে গত ইনচন এশিয়ান গেমসে আফগানিস্তানের বিপক্ষে ১-০ গোলে। এবারও ইংল্যান্ডের অনভিজ্ঞ কোচ জেমি ডে’র তত্ত্বাবধানে ২৪ সদস্যের ফুটবল দল খেলতে গেছে ইন্দোনেশিয়ায়। অন্যবারের মতো এবারও কী ফল হবে তা অনুমেয়ই।

এশিয়ান গেমসে যাওয়ার আগে প্রস্তুতির কোনো ঘাটতি অবশ্য ছিল না জামাল ভূঁইয়াদের। দু’বার কাতার ও শেষবার দক্ষিণ কোরিয়ায় কন্ডিশনিং ক্যাম্প করেছেন ফুটবলাররা। প্রায় গোটাদশেক প্রীতি ম্যাচও খেলেছে তারা। দক্ষিণ কোরিয়ায় গুয়াংজু এফসির কাছে হারলেও দুটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে জিতে ফুরফুরে মেজাজে দেখা গেছে খেলোয়াড়, কোচ ও কর্মকর্তাদের।

বিশ্ববিদ্যালয় দলের বিপক্ষে জিতেই যেন তৃপ্তির ঢেঁকুর তুলছেন তারা। এশিয়াডে অনূর্ধ্ব-২৩ দল খেললেও তিনজন সিনিয়র খেলতে পারবেন। বাংলাদেশের দলে তিন সিনিয়র হলেন- মিডফিল্ডার জামাল ভূঁইয়া, গোলকিপার আশরাফুল ইসলাম রানা ও ডিফেন্ডার তপু বর্মণ। যারা অভিজ্ঞতার নিরিখে দলকে পরিচালনা করবেন মাঠে। ভয়ের কারণ হচ্ছে গ্রুপপর্বে বাংলাদেশের তিন প্রতিপক্ষ থাইল্যান্ড, উজবেকিস্তান ও কাতার। এই দলগুলোর বিপক্ষে জয় দূরে থাক, প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলতে পারবে কিনা বাংলাদেশ, তা নিয়েই রয়েছে প্রশ্ন।

কোরিয়া যাওয়ার আগে একটি জয়ের প্রত্যাশা করে গিয়েছিলেন ব্রিটিশ কোচ জেমি ডে। তিনি বলেছিলেন, ‘সাফের আগে এশিয়ান গেমসে একটি জয় আমাদের অনেক উদ্দীপ্ত করতে পারে। আমরা অবশ্যই জয়ের চেষ্টা করব। প্রতিপক্ষ শক্তিশালী হলেও আমরা ভালো প্রস্তুতি ও অভিজ্ঞতা দিয়ে জয়ের জন্য লড়ব।’

পাকানসারি ও প্যাট্রিয়ট চন্দ্রবাঘা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে ফুটবল খেলা।

এশিয়াডের ফুটবলাররা হলেন- আশরাফুল ইসলাম রানা, আনিসুর রহমান, বিশ্বনাথ ঘোষ, ফজলে রাব্বি, জাফর ইকবাল, জামাল ভূঁইয়া, মাহবুবুর রহমান সুফিল, তপু বর্মণ, মাহফুজ হাসান প্রিতম, মনজুরুর রহমান, মাসুক মিয়া জনি, আবদুল্লাহ, সুশান্ত ত্রিপুরা, টুটুল হোসেন বাদশা, সাদ উদ্দিন, রহমত মিয়া, মতিন মিয়া, রবিউল হাসান, বিপলু আহমেদ ও আতিকুর রহমান ফাহাদ।

এশিয়াড ফুটবলে বাংলাদেশের

ম্যাচগুলো

১৪ আগস্ট : উজবেকিস্তান

১৬ আগস্ট : থাইল্যান্ড

১৯ আগস্ট : কাতার

ঘটনাপ্রবাহ : এশিয়ান গেমস-২০১৮

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter