অলিম্পিকে সোনাজয়ী দুই শাটলারের গল্প

প্রকাশ : ২৬ আগস্ট ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  যুগান্তর ডেস্ক   

তাদের পরিচয় কোর্টে। একই আসরে অলিম্পিক গেমসে দু’জনই স্বর্ণ জেতেন। শেষে পরিণয়ে সেই ভালোবাসাকে পূর্ণতা দেন ইন্দোনেশিয়ার সুসি সুশান্তি ও অ্যালান বুদিকিস। জীবনের কোর্টে জুটি বাঁধার অনেক দিন পেরিয়ে গেলেও ব্যাডমিন্টনের কোর্ট ছাড়তে পারেননি তারা। পরিবার সামলানোর পাশাপাশি সুসি এবার স্বাগতিক জাতীয় ব্যাডমিন্টন দলের দলনেতা। সেই সঙ্গে জাকার্তা-পালেম্বাং এশিয়ান গেমসের মশাল প্রজ্ব¡লকও।

এশিয়ান ব্যাডমিন্টনে ইন্দোনেশিয়াই সেরা। তবে ঘরের কোর্টে খেলা বলে একটু বেশিই চিন্তিত ইন্দোনেশিয়া ব্যাডমিন্টন ফেডারেশন। তাই তো এবারের এশিয়াডে শাটলারদের দায়িত্বটা তুলে দেয়া হয়েছে ১৯৯২ বার্সেলোনা অলিম্পিকে সোনাজয়ী সুসির কাঁধে। শনিবার কোর্টে মিলল সুসির দেখা। সঙ্গে তার জীবনসঙ্গী অ্যালান বুদিকিসও। একই অলিম্পিকে পুরুষ এককে স্বর্ণ জিতেছিলেন যিনি। কোর্ট ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের চোখ ভিআইপি গ্যালারিতে।

অনেকের মাঝেও সুসি সুশান্তি ও অ্যালান বুদিকিসকে খুঁজে পেতে সমস্যা হয় না। দু’জনই বেশ পরিপাটি পোশাকে। অ্যালান একটু খোশ মেজাজে থাকলেও সুশান্তির চোখ সব সময় কোর্টের দিকে। ভলেন্টিয়ারের মাধ্যমে অনুরোধ পাঠাতেই সাড়া দিলেন। শাটলারদের সঙ্গে মিটিং করার পথে মিক্সড জোনের পাশে কয়েক মিনিট সময়ও দিলেন সুসি ও অ্যালান।

ইন্দোনেশিয়ার ক্রীড়া ইতিহাসে বিশেষ স্থান তার। অ্যালানের আগেই প্রথম ইন্দোনেশিয়ান অলিম্পিক স্বর্ণজয়ী সুসি। এত বড় ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব, অথচ আচরণে খুবই বিনয়ী। ১৯৯২ অলিম্পিকে স্বর্ণজয়ের স্মৃতিকে এভাবেই রোমন্থন করলেন সুসি, ‘অলিম্পিকে স্বর্ণজয় সব ক্রীড়াবিদেরই আরাধ্য। এই অনুভূতি চিরকালীন, চিরজাগ্রত, যা কখনই মুছে যায় না।’

সোনা জয়ের পরদিনই দ্বিতীয়বারের মতো খুশির খবরটি দেন অ্যালান। পরে দু’জন বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। প্রথমে কে কাকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছিলেন? হাসিমুখে সুশান্তির জবাব, ‘আমরা দু’জনই দু’জনকে প্রস্তাব দিয়েছিলাম।’

সুশান্তি ব্যাডমিন্টনের সঙ্গে এখনও সরাসরি সম্পৃক্ত থাকলেও তার স্বামী অ্যালান ব্যবসা নিয়ে ব্যস্ত। এই স্বর্ণ দম্পতির এক পুত্রসন্তান রয়েছে। শাটলারদের রক্ত ধমনীতে থাকলেও ছেলের ওপর ব্যাডমিন্টন চাপিয়ে দিতে চান না সুশান্তি। তার কথায়, ‘আমরা ভালোবেসে এই খেলায় এসেছি। ওর যেটা পছন্দ সেটা খেলবে। আমরা ছেলেকে ওর পছন্দের ব্যাপারে পূর্ণ স্বাধীনতা ও সমর্থন দেব।’

৫৬ বছর পর ইন্দোনেশিয়ায় আয়োজিত এশিয়ান গেমসে মশাল জ্বালানোর অনুভূতি নিয়ে সুসির কথা, ‘এটা অনেক সম্মানের ও বিশেষ অনুভূতির।’