ঊষার আলোয় আলোকিত ভারত

প্রকাশ : ৩১ আগস্ট ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  স্পোর্টস ডেস্ক,

স্প্রিন্টার দ্যুতি চাঁদকে স্টেপ দেখিয়ে দিচ্ছেন। কীভাবে দৌড়ালে পদক জেতা সম্ভব। হিমা দাস, সুধা সিংকে টিপস দিচ্ছেন পিটি ঊষা। একসময়ের দক্ষিণ এশিয়ার সেরা মহিলা অ্যাথলেট। এশিয়ান গেমস ও এশিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে একাধিক পদক জিতেছেন এই ভারতীয় প্রমীলা অ্যাথলেট।

ভারতীয় অ্যাথলেটিক্স দলের কোচিং স্টাফদের অন্যতম তিনি। এশিয়ান গেমস অ্যাথলেটিক্সে ভারতের পাঁচটি স্বর্ণ ও নয়টি রুপা জেতার পেছনে তার অবদানও রয়েছে। দীর্ঘমেয়াদি প্রস্তুতি এবং অনুশীলনেই ভারতের এ সাফল্য বলে মনে করেন পিটি ঊষা। তার কথায়, ‘অ্যাথলেটিক্স এমন একটি খেলা, যেখানে দীর্ঘমেয়াদি শ্রমের বিকল্প নেই।’

পুরো নাম পিলাভুলাকান্দি তেকেপারাম্বালি ঊষা। সংক্ষেপে পিটি ঊষা। এশিয়ান গেমস, এশিয়ান অ্যাথলেটিক্স ও বিশ্ব অ্যাথলেটিক চ্যাম্পিয়নশিপে ২০টিরও বেশি পদক জিতেছেন।

ঊষা ছিলেন মূলত স্প্রিন্টার। কিন্তু ক্যারিয়ারের সেরা সময় কাটিয়েছেন হার্ডলসেও। ১৯৮৪ লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিকে ব্রোঞ্জ জেতা হয়নি। ফটো ফিনিশিংয়ে পদক হারিয়েছিলেন তিনি। সেই আক্ষেপ এখনও পোড়ায় তাকে।

ঊষার কথায়, ‘সেই দিনটির কথা আজও ভুলতে পারিনি। আজও আমাকে কাঁদায়। মাইক্রো সেকেন্ডের ব্যবধানে হেরে গিয়েছিলাম আমি, যা আজও আমার কাছে দুঃসহ স্মৃতি।’

লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিক থেকে জাকার্তা এশিয়ান গেমস। ৩৪ বছর পর যেন নিজেকে আবিষ্কার করলেন। ১০০ মিটার স্প্রিন্টে দ্যুতি চাঁদ (১১.৩২) ফটো ফিনিশিংয়ে হেরেছেন বাহরাইনের ওদিদুয়েংয়ের (১১.৩০) কাছে।

’৮৪-র স্মৃতি হাতড়ে পিটি বলেন, ‘দ্যুতি যখন ফটো ফিনিশিংয়ে এশিয়ার দ্রুততম মানবী হতে পারল না, ওই মুহূর্তে আমার নিজের কথা বারবার মনে হচ্ছিল। ’৮৪ সালে আমিও অলিম্পিকে ফটো ফিনিশিংয়ে ব্রোঞ্জ জিততে পারিনি।’ তিনি যোগ করেন, ‘এই দুঃখ শুধু একজন ক্রীড়াবিদই বুঝবেন। আমার পদক না পাওয়া আর ওর এশিয়ার দ্রুততম মানবী না হওয়া যেন একই সূত্রে গাঁথা।’

আসামের দ্যুতি চাঁদ ১০০ মিটার স্প্রিন্টে রুপা জিতেছেন। ১৯৮২ দিল্লি এশিয়াডে ভারতের হয়ে কৃতিত্ব গড়েছিলেন তিনি। এই এশিয়াডে ভারতের নারী স্প্রিন্টাররা যথেষ্ট ভালো করেছেন। দ্যুতি ১০০ মিটারে রুপা, ত্রিপুরার হীমা দাস ৪০০ মিটারে রুপা এবং স্টেপলেচেজে রুপা জেতেন সুধা সিং।

গৌহাটি এসএ গেমসে আধিপত্য ছিল শ্রীলংকার। তাদের হটিয়ে এবার এশিয়ান গেমসে জয়জয়কার ভারতীয় অ্যাথলেটদের। কীভাবে সম্ভব হল? পিটি ঊষার উত্তর, ‘ফেডারেশন’ ও সরকার অ্যাথলেটিক্সকে গুরুত্ব দিয়েছে। ভারতের কেন্দ্রীয় ও অনেক রাজ্য সরকার অ্যাথলেটিক্সে অনুদান বাড়িয়েছে। অ্যাথলেটিক্সের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে দেশের সুনাম বৃদ্ধি করা যায়।’

অ্যাথলেটদের আর্থিক সুযোগ-সুবিধার পাশাপাশি টেকনিক্যাল সুবিধা বাড়ানো হয়েছে বলে জানান তিনি। বাংলাদেশের অ্যাথলেটরা বিদেশি কোচ দূরে থাক দেশি কোচের অধীনেই নিরবচ্ছিন্ন অনুশীলন করতে পারেন না। পিটি ঊষার সমসাময়িক স্প্রিন্টার বাংলাদেশের রাজিয়া সুলতানা অনু। এবার গেমস ভিলেজে দু’জন কিছুটা সময় কাটিয়েছেন একসঙ্গে।

অনুর আফসোস, ‘ঊষা বলছিল, তোমরা দক্ষিণ এশিয়ায় ছেলেদের স্প্রিন্টে স্বর্ণ জিততে আগে। এখন পারো না কেন? এশিয়াডে মাত্র দু’জন অ্যাথলেট তোমাদের? নিজের কাছেই খারাপ লেগেছে অ্যাথলেটিক্সে আমাদের দুরবস্থার চিত্র অন্যে দেখিয়ে দেয়ায়। সুমি এশিয়াডে আসার আগে আমি ওকে মাত্র দু’মাস অনুশীলন করাতে পেরেছি। যেখানে ভারতের প্রশিক্ষণ চলে কমপক্ষে দু’বছর।’