শিরোপাস্বপ্ন দেখাচ্ছেন না জেমি ডে

প্রকাশ : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  স্পোর্টস রিপোর্টার

এশিয়ান গেমসে প্রথমবারের মতো নকআউট পর্বে খেলার তৃপ্তি নিয়ে ফিরেছে অনূর্ধ্ব-২৩ জাতীয় ফুটবল দল। এবার ঘরের আঙিনায় সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে কঠিন পরীক্ষা দিতে হবে বাংলাদেশকে। সাফ এমন একটি টুর্নামেন্ট, যেখানে দেড় দশক ধরে বাংলাদেশ শিরোপাশূন্য।

খেলাটা নিজেদের মাঠে বলে গরজ বেশি। কিন্তু প্রত্যাশার বেলুন খুব বেশি ফোলাতে পারছেন না বাংলাদেশ দলের ব্রিটিশ কোচ জেমি ডে। টুর্নামেন্ট শুরুর দু’দিন আগে তার কথা, ‘আমরা এই টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন হতে পারিনি ১৫ বছর ধরে। ছেলেদের তাই বলেছি, যতটা সম্ভব ভালো করার জন্য নিজেদের সেরাটা দাও।’

তিনি বলে যান, ‘টুর্নামেন্টের অন্য দলগুলো র‌্যাংকিংয়ে আমাদের চেয়ে ভালো অবস্থানে। এই বাস্তবতা মেনে নিয়েই আমাদের প্রত্যাশা করতে হবে।’

আগামীকাল বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের প্রথমদিনই মাঠে নামছে বাংলাদেশ। প্রতিপক্ষ ভুটান। সাফের একমাত্র প্রস্তুতি ম্যাচে নীলফামারীতে শ্রীলংকার কাছে ১-০ গোলে হেরেছে বাংলাদেশ। তাই টুর্নামেন্টে স্বাগতিকদের সাফল্য পাওয়ার ব্যাপারে ফুটবলবোদ্ধারা সন্দিহান।

জেমি ডে ব্যাখ্যা করেন, ‘তারুণ্যনির্ভর আমাদের দল। জেতার প্রবল ইচ্ছা ও সামর্থ্য দুই-ই আছে ছেলেদের। সমস্যা হল স্কোরিং দুর্বলতা নিয়ে। রাতারাতি এই সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়।’

কোচ বিশদ ব্যাখ্যা দেন, ‘এই সমস্যার কারণ, ঘরোয়া ফুটবলে ক্লাবগুলো ফরোয়ার্ড পজিশনে অতিমাত্রায় নির্ভরশীল বিদেশি খেলোয়াড়দের ওপর। এই পজিশনে কয়েকজন তরুণ খেলোয়াড়ের প্রস্তুতি যথেষ্ট ভালো হয়েছে। আশা করি, তারা গোলের সুযোগ কাজে লাগাবে।’

আগের দিন কোচ ২০ সদস্যের দল চূড়ান্ত করেন। প্রাথমিক দল থেকে বাদ পড়েন ১০ জন। এ নিয়ে বির্তক আছে। তিন মাসের অনুশীলন শেষে সেরা খেলোয়াড়দের নিয়ে দল গড়েছেন, এমনটি দাবি জেমি ডের।

গত ১০ বছরে গ্রুপপর্ব টপকে সেমিফাইনালে খেলতে পারেনি বাংলাদেশ। সর্বশেষ তিন আসরে নয় ম্যাচ খেলে জিতেছে মাত্র একটি, ২০১৫ সাফে ৩-০ ভুটানের বিপক্ষে। সাত গোল দিয়ে খেয়েছে ১৬ গোল। এবার ঘুরে দাঁড়াতে চায় বাংলাদেশ।

কাল বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে সকালে চূড়ান্ত দল নিয়ে প্রথম অনুশীলন করেন কোচ। সাফে নিজেদের চূড়ান্ত স্কোয়াড নিয়ে ওঠা বির্তকের জবাব দিয়েছেন জেমি ডে অনুশীলনের ফাঁকে। তার মতে, সেরা খেলোয়াড়রাই চূড়ান্ত দলে জায়গা পেয়েছে, ‘এশিয়াডে যারা ভালো করেছে, তাদেরই স্কোয়াডে রাখা হয়েছে। তাদের সঙ্গে কিছু অভিজ্ঞ খেলোয়াড়ও নেয়া হয়েছে।’

জাফর ইকবাল, মতিন ও রহমত মিয়াদের বাদ পড়া নিয়ে কোচ বলেন, ‘সবাইকে তো দলে নেয়া যাবে না। সবাই পরিশ্রম করেছে। কিন্তু চূড়ান্ত স্কোয়াড গড়তে হলে কেউ না কেউ বাদ পড়বে। আমি মনে করি, যাদের নেয়া হয়েছে তারা সবাই যোগ্য। সাফের পরই বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ। সেখানে অন্যদের আবারও দলে ঢোকার সুযোগ রয়েছে। সোহেলকে নেয়া হয়েছে অভিজ্ঞতার কথা বিবেচনা করে।’