সাফ ফুটবলের সাতকাহন

  মোজাম্মেল হক চঞ্চল ০৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

সাফ,

আজ ঢাকায় শুরু হচ্ছে সাফ ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপ। দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবল-শ্রেষ্ঠত্বের লড়াই। এ লড়াই থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করে নিয়েছে আফগানিস্তান। দুই গ্রুপে লড়বে সাতটি দেশ। এ-গ্রুপে নেপাল, পাকিস্তান, ভুটান ও স্বাগতিক বাংলাদেশ। বি-গ্রুপে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ভারত, পাকিস্তান ও মালদ্বীপ। প্রথমদিন নেপাল ও পাকিস্তান এবং বাংলাদেশ ও ভুটান মুখোমুখি হবে।

ভারত, মালদ্বীপ ও নেপাল আসরের ফেভারিটি। আন্ডারডগ হিসেবে মাঠে নামবে বাংলাদেশ। শ্রীলংকা ও ভুটানের চোখেও শিরোপাস্বপ্ন। ২০০৩ ও ২০০৯-এর পর তৃতীয়বারের মতো ঢাকায় অনুষ্ঠিত হচ্ছে সাফ ফুটবল। বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে টুর্নামেন্ট। সার্কভুক্ত দেশগুলোর প্রায় দেড়শ’ কোটি মানুষের চোখ থাকবে ঢাকার দিকে। সাফের এটা দশম আসর। সব দল এখন ঢাকায়।

১৯৯৭ সালে নেপালের কাঠমান্ডুতে যে টুর্নামেন্ট শুরু হয়, প্রায় দুই যুগ পর তার দশম সংস্করণ হচ্ছে ঢাকায়। ‘সাউথ এশিয়ান অ্যাসোসিয়েশন অব রিজিওনাল কো-অপারেশনের’ তত্ত্বাবধানে দক্ষিণ এশিয়ার পাঁচটি দেশ নিয়ে সার্ক গোল্ডকাপ নামে দুটি টুর্নামেন্ট হলেও ১৯৯৭ সালে ‘সাউথ এশিয়ান ফুটবল ফেডারেশনের (সাফ)’ তত্ত্বাবধানে প্রথম সাফ ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপ মাঠে গড়ায়। দক্ষিণ এশিয়ার

সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ এ প্রতিযোগিতার প্রথম আসরে মালদ্বীপকে হারিয়ে ভারত চ্যাম্পিয়ন হয়। নেপালের কাঠমান্ডুতে টুর্নামেন্টের প্রথম আসরে ভুটান বাদে ছয়টি দেশ অংশ নেয়। টুর্নামেন্টে পাকিস্তান তৃতীয় এবং শ্রীলংকা চতুর্থ হয়। টুর্নামেন্টে ১০টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়। গোল হয়েছিল ২৯টি। ছয় গোল করে সর্বোচ্চ গোলদাতা হন ভারতের ফরোয়ার্ড বিজয়ন।

১৯৯৯ সালে দ্বিতীয় আসরের স্বাগতিক ছিল ভারত। ছয়টি দেশ (ভারত, বাংলাদেশ, শ্রীলংকা, মালদ্বীপ, নেপাল ও পাকিস্তান) নিয়ে শুরু হয় এ প্রতিযোগিতা।

ফিফার সদস্য পদ না পাওয়ায় সেবারও অংশ নিতে পারেনি ভুটান। ফাইনালে ভারত ২-০ গোলে বাংলাদেশকে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো সাফের শিরোপা জেতে। টুর্নামেন্টে খেলা হয় ১০টি। গোল ২৬টি। তিনটি করে গোল করে সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়েছেন যৌথভাবে বাংলাদেশের মিজানুর রহমান ডন, নেপালের নরেশ জোশি, ভারতের অধিনায়ক বাইচুং ভুটিয়া এবং মালদ্বীপের মোহাম্মদ বিলধন। মালদ্বীপ ২-০ গোলে নেপালকে হারিয়ে তৃতীয় হয়।

২০০৩ সালে ঢাকায় বসে সাফের তৃতীয় আসর। এবার আগের ছয়টি দেশের সঙ্গে ভুটান ও আফগানিস্তান যোগ দেয়। ভারতের জয়রথ থেমে যায়। ফাইনালে বাংলাদেশ টাইব্রেকারে মালদ্বীপকে হারিয়ে প্রথমবারের মতো শিরোপা জেতে। ওই আসরে ১৬টি ম্যাচ এবং গোল হয় ৩৯টি। পাকিস্তানের সরফরাজ রসুল চারটি গোল করে সর্বোচ্চ গোলদাতা হন।

২০০৫ সালে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের চতুর্থ আসরের আয়োজক ছিল পাকিস্তান। টুর্নামেন্টের ফাইনাল ছিল যেন ১৯৯৯ সালের কার্বনকপি। ভারত ২-০ গোলে বাংলাদেশকে হারিয়ে তৃতীয়বারের মতো সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা ঘরে তোলে। সেবার তৃতীয় স্থান নির্ধারণী কোনো ম্যাচ ছিল না। টুর্নামেন্টে ১৫টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়। গোল হয় ৩৯টি। মালদ্বীপের ইব্রাহিম ফাজিল, আলী আশফাক ও আহমেদ তারিক প্রত্যেকে তিনটি করে গোল করে সর্বোচ্চ গোলদাতা হন।

২০০৮ সালে শ্রীলংকা ও মালদ্বীপ যৌথভাবে সাফের পঞ্চম আসরের আয়োজন করে। যৌথ আয়োজক হিসেবে এ-গ্রুপের খেলা হয় মালদ্বীপের রাজধানী মালেতে। বি-গ্রুপের খেলাগুলো শ্রীলংকার রাজধানী কলম্বোয় অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিযোগিতায় চমক সৃষ্টি করে ভুটান সেমিফাইনাল খেলেছিল। কলম্বোর সুগাথাদাস স্টেডিয়ামে ফাইনালে মুক্তার নাসেরের একমাত্র গোলে ভারতকে হারিয়ে প্রথমবারের মতো শিরোপা জেতে মালদ্বীপ। ১৫টি ম্যাচে গোল হয় ৪৩টি। চারটি গোল করে সর্বোচ্চ গোলদাতা আফগানিস্তানের এইচএ হাবিব। সেরা খেলোয়াড় হন মালদ্বীপের আলী আশফাক।

পরের বছর বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন হয় ভারত। রানার্সআপ মালদ্বীপ। ২০১১ সালে দিল্লিতে অনুষ্ঠিত প্রতিযোগিতায় ভারত চ্যাম্পিয়ন ও আফগানিস্তান রানার্সআপ হয়। দু’বছর পর নেপালে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে ভারতকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয় আফগানিস্তান। ২০১৫ সালে ভারতে অনুষ্ঠিত সর্বশেষ সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে প্রতিশোধ নেয় ভারত। ফাইনালে আফগানিস্তানকে হারিয়ে ফের সাফের শিরোপা উদ্ধার করে তেরঙ্গা দেশটি।

ঘটনাপ্রবাহ : সাফ ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপ-২০১৮

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
×