আশফাকবিহীন মালদ্বীপের সামনে শ্রীলংকা

প্রকাশ : ০৭ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  স্পোর্টস রিপোর্টার

ছোট দলের বড় তারকা ছিলেন মালদ্বীপের আলী আশফাক। দক্ষিণ এশিয়ার মেসি বলা হতো তাকে। আগের আসরগুলোতে তার কাছেই কুপোকাত হয়েছে প্রতিপক্ষ। এই আসরে নেই সাফে ২০ গোল করা আশফাক।

এটাই স্বস্তির কারণ হতে পারে শ্রীলংকার জন্য। আজ আশফাকবিহীন মালদ্বীপকে হারানোর প্রতিজ্ঞা নিয়েই মাঠে নামবে তারা। সুজুকি কাপ সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়তে চাইবে মালদ্বীপও।

ঘরোয়া ও আন্তর্জাতিক আসরে প্রতিপক্ষ রক্ষণে ভীতি ছড়াতেন আশফাক। মালদ্বীপে যিনি ‘ধাগানদে’ নামে পরিচিত। শৃঙ্খলাভঙ্গের দায়ে জাতীয় দল থেকে বাদ পড়েছেন তিনি। ২০০৯ ঢাকা সাফ ফুটবলসহ চারটি আসরে খেলেছেন।

আশফাকের বাদ পড়া প্রসঙ্গে মালদ্বীপের কোচ পিটার সেগার্ট বলেন, ‘আলী আশফাক অসাধারণ ফুটবলার। যে কোনো কোচ তাকে নিতে চাইবেন। কিন্তু আমার ছকে সে পড়েনি। তাই আমি তাকে দলে নিইনি। তার জায়গায় যে খেলবে, সেও দুর্দান্ত।’

শ্রীলংকার বিপক্ষে অতীত পরিসংখ্যা ঋদ্ধ মালদ্বীপের। ১৮ বারের সাক্ষাতে মালদ্বীপ সাতবার এবং শ্রীলংকা তিনবার জিতেছে। বাকি আট ম্যাচ ড্র হয়েছে। কিছু মিলও খুঁজে পাওয়া যায় দেশ দুটির মধ্যে।

১৯৯৫ সালের ফাইনালে ভারতকে ১-০ গোলে হারিয়ে প্রথম এবং শেষবার শিরোপা জিতেছিল স্বাগতিক শ্রীলংকা। অন্যদিকে ২০০৮ সালে একই ব্যবধানে ভারতকে হারিয়ে প্রথম শিরোপা জেতে যৌথ আয়োজক মালদ্বীপ।

হারলেই বিদায়, এমন সমীকরণে মাঠে নামছে শ্রীলংকা। ড্র করলেও সম্ভাবনা থাকবে তাদের। সেক্ষেত্রে ভারতের কাছে গ্রুপপর্বের শেষ ম্যাচে মালদ্বীপকে হারতে হবে। তখন শ্রীলংকা ও মালদ্বীপের পয়েন্ট হবে সমান এক। গোলগড়ে এগিয়ে থাকা দল চলে যাবে সেমিফাইনালে।

বি-গ্রুপ থেকে ভারত প্রথম ম্যাচে শ্রীলংকাকে হারানোয় এই সমীকরণ দাঁড়িয়েছে। তবে সমীকরণ নিয়ে ভাবতে রাজি নন লংকান কোচ পাকির আলী। তার কথায়, ‘আমাদের গ্রুপটা অনেক শক্তিশালী। ভারতের কাছে প্রথম ম্যাচে আমরা হেরেছি। মালদ্বীপের বিপক্ষে জিততেই হবে।’

তারুণ্যনির্ভর দল নিয়ে এবারের সাফে এসেছে মালদ্বীপ। দলটির অনেক সাফল্যের নায়ক, অভিজ্ঞ আলী আশফাককেও এবার দলে রাখেননি ক্রোয়েশিয়ান বংশোদ্ভূত জার্মান কোচ পিটার সেগার্ট।

তিনি বলেন, ‘এই টুর্নামেন্টে এগিয়ে ভারত। তবে তাদের আমি ফেভারিট বলব না। আমার কাছে সাত দলই ফেভারিট। আমাদের গ্রুপে শ্রীলংকা রয়েছে। গত ক’মাস ধরে শ্রীলংকার ফুটবল অনেক উন্নতি করেছে। প্রীতি ফুটবল ম্যাচে তারা স্বাগতিক বাংলাদেশকে হারিয়েছে। তাদের দলটাও তরুণ। লংকানদের বিপক্ষে ম্যাচটি কঠিন হবে।’

আশাবাদী কোচ পিটার, ‘মালদ্বীপ তারুণ্যনির্ভর দল। দলের ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল। আমি এখানে এসেছি সেরাটা মেলে ধরতে। ছেলেরা উজ্জীবিত। আমাদের প্রস্তুতিও ভালো। এখন মাঠে প্রমাণ করতে চাই।’