ভুল যদি হয় এত নিষ্ঠুর!

কাঠগড়ায় গোলরক্ষক সোহেল

প্রকাশ : ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  ওমর ফারুক রুবেল

ভুল যদি হয় এত নিষ্ঠুর, সেই ভুল তো কাঁদাবেই। গত পরশু বাংলাদেশের গোলরক্ষক শহিদুল আলম সোহেলের হাস্যকর ভুলে পিছিয়ে পড়ে স্বাগতিকরা। শেষ পর্যন্ত সেই ভুলের পথ ধরে পরাজয়ের ললাট লিখন। সাফ ফুটবল থেকে বিদায়। শনিবার থেকে নেপালের কাছে ২-০ গোলের হারের ক্ষত দগদগে হয়ে পোড়াচ্ছে বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমীদের।

অনেক আশা নিয়ে যারা এসেছিলেন খেলা দেখতে, হতাশার চাদর গায়ে তারা ফিরে গেছেন স্বপ্নভঙ্গের বেদনায় নীল হয়ে। আর সোহেল? কেঁদে বুক ভাসিয়েছেন। ভুল যদি হয় এত নির্মম, কান্নাই তখন একমাত্র সম্বল। কোনো অজুহাতের ওষুধে ব্যর্থতার ঘা শুকায় না। সোহেলের কান্না, বিলাপ ছুঁয়ে যায় সতীর্থদেরও। কী সান্ত্বনা দেবেন তারা শনিবাসরীয় রাতের খলনায়ককে!

ভিলেনই তো! অনুশোচনার যে আগুনে তিনি পুড়ছেন, তার ওষুধ কোনো ডাক্তার, কবিরাজের কাছে নেই। কেন এমন ভুল হল, কেন তার হাত বিশ্বাসঘাতকতা করল, তার উত্তর জানা নেই সোহেলেরও। বাংলাদেশের সেমিফাইনাল-স্বপ্নের সমাধির জন্য এই গোলপ্রহরী দায়ী করছেন নিজেকে। কিন্তু খেলাটা যে ফুটবল। তিনিই প্রথম গোলকিপার নন, যিনি এমন ভুল করেছেন।

বাংলাদেশ কোচ জেমি ডে তার পাশে আছেন। তিনিও বলেছেন, ‘ভুল সব গোলকিপারই করে।’ প্রশ্ন হল, এ হারের জন্য শুধু সোহেলকে কাঠগড়ায় দাঁড় করানো কী যুক্তিসঙ্গত? জাতীয় দলের দুই সাবেক গোলরক্ষক আমিনুল হক ও বিপ্লব ভট্টাচার্য উত্তরটা দিয়েছেন।

আমিনুল হক, জাতীয় দলের সাবেক গোলকিপার

সোহেল নয়, আমি দোষ দেব কোচ জেমি ডে ও ম্যানেজার সত্যজিৎ দাস রুপুদা’কে। জাকার্তা এশিয়ান গেমসে খুবই ভালো পারফর্ম করেছে আশরাফুল ইসলাম রানা। অনেক কঠিন ম্যাচ খেলেছে। অথচ এমন কী ঘটল যে, রানাকে খেলানো হল না সাফে। তার ওপর এশিয়ান গেমসসহ জাতীয় দলে দীর্ঘদিন ছিল না সোহেল। শ্রীলংকার বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচেও সোহেলের কারণে গোল হজম করেছে বাংলাদেশ। তারপরও কেন সোহেলকে নেয়া হল দলে, তার কোনো কারণ খুঁজে পাইনি।

আমার মনে হয়, এখানে রুপুদা’র ক্লাবপ্রীতি রয়েছে। তাই রানাকে বসিয়ে সোহেলকে খেলানো হয়েছে। জাতীয় সাফে দলের ওপর ক্লাবপ্রীতি চাপিয়ে দেয়া ঠিক নয়। জেমি ডে এশিয়ান গেমসে ভালো করেছেন। কিন্তু দল নির্বাচনে কেন দুর্বল হলেন, আমি তা বুঝি না। রানা এমন কী অন্যায় করেছে যে তাকে খেলানো হল না। ডিফেন্ডার নাসির উদ্দিন চৌধুরীকে কেন খেলানো হল না? সোহেল ভুল করতেই পারে। বাঁচা-মরার ম্যাচে কোচ ও ম্যানেজার কেন সোহেলকে নিলেন সেটা তাদের দোষ। ব্যক্তি বিশেষের চেয়ে দেশকে গুরুত্ব দেয়া উচিত।

বিপ্লব ভট্টাচার্য, জাতীয় দলের সাবেক গোলকিপার

জাকার্তা এশিয়ান গেমসে অসাধারণ খেলেছে বাংলাদেশ দল। তাদের ভালো খেলার কারণেই ফের স্টেডিয়ামমুখো হয়েছেন দর্শকরা। ভুটান ও পাকিস্তানের বিপক্ষেও দর্শক এসেছিলেন মাঠে। এমন হার ফের হয়তো দর্শকবিমুখ করবে। এ হার মেনে নেয়া যায় না। এমন ভুল শ্রীলংকা ম্যাচেও হয়েছে আমাদের। সোহেলের পজিশন জ্ঞান এবং আই কনট্যাক্ট কম। এগুলো ঠিক করতে হবে। আশরাফুল রানা ভালো অবস্থানে ছিল। তারপরও ইনজুরিতে থাকা সোহেলকে কেন খেলালেন কোচ ও ম্যানেজার, আমি বুঝি না। দুই থেকে তিন মাস যে জাতীয় দলে নেই, তাকে এভাবে বাঁচা-মরার ম্যাচে এনে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার কোনো মানে হয় না। এটা ঠিক হয়নি। খুবই দুঃখজনক ব্যাপার।