সাফ ফুটবল থেকে বিদায়

ক্ষুব্ধ সাবেক ফুটবলারদের দৃষ্টিতে দায়ী বাফুফে

প্রকাশ : ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  মোজাম্মেল হক চঞ্চল

নেপালের কাছে হেরে সাফ ফুটবল থেকে আবারও বিদায়। কাজী সালাউদ্দিনের আমলে এ নিয়ে টানা চারবার সাফ ফুটবলে দর্শক লাল-সবুজ। তারপরও নির্লজ্জের মতো চেয়ার আগলে আছেন বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) সভাপতি সালাউদ্দিন। বাংলাদেশের ফুটবল তলানিতে। ফুটবল অতল গহ্বরে। সাফ ফুটবল থেকে বাংলাদেশের লজ্জাজনক বিদায়ে সমালোচনার ঝড় উঠেছে সারা দেশে। বাফুফের অযোগ্য কর্তাদের ব্যর্থতা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছেন সাবেক তারকা ফুটবলাররা।

যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী সাবেক ফুটবলার শামসুল আলম মঞ্জু বলেন, ‘বাফুফের বর্তমান পরিচালনা পরিষদ একটি ভঙ্গুর পর্ষদে পরিণত হয়েছে। বাফুফেতে এখন ‘ওয়ানম্যান শো’ চলছে। ২০২২ সালে কাতার বিশ্বকাপে খেলার কথা বলে সালাউদ্দিন সমালোচিত হয়েছেন। এটা পাগলের প্রলাপ ছাড়া আর কিছুই ছিল না। সাফের সেমিফাইনালেই খেলতে পারে না বাংলাদেশ। আর সালাউদ্দিন খেলাবেন বিশ্বকাপে। এখন যারা বাফুফেতে রয়েছেন, তাদের বেশিরভাগই সাবেক ফুটবলার। কিন্তু তারা দায়িত্ব নেয়ার পর দেশের ফুটবল ধ্বংসের মুখে। তারা ক্ষমতা আঁকড়ে থাকতে চান। ফিফা, এএফসি ও স্পন্সরদের কাছ থেকে পাওয়া অর্থের কোনো হদিস নেই। এলিট স্পন্সর বাবদ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে টাকা নিলেও তা ফুটবল উন্নয়নে ব্যয় হয়নি। এটা দুর্নীতি নয়তো কী?’

আরেক সাবেক তারকা ফুটবলার গোলাম রব্বানী হেলাল বলেন, ‘বয়সভিত্তিক ফুটবল টুর্নামেন্টগুলো বন্ধ। শেরেবাংলা কাপ, জেএফএ কাপ, স্কুল ফুটবল, সোহরাওয়ার্দী কাপ, বয়সভিত্তিক ফুটবল- সব এখন ফাইলবন্দি। ফুটবল মাঠে নেই। ফুটবলকে পুঁজি করে সালাউদ্দিনরা দেশ-বিদেশ ঘুরে বেড়াচ্ছেন। কাতারে বিশ্বকাপ ফুটবলের ভেন্যু নির্ধারণী সভায় বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের কর্মকর্তারা লাখ লাখ ডলার ঘুষ নিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছিল। ভারত ও নরওয়ের দুটি পত্রিকায় এ ব্যাপারে ফলাও করে খবর প্রকাশ হয়েছে। তারপরও এসব কর্মকর্তার লজ্জা হয় না।’

জাতীয় দলের সাবেক গোলকিপার ওয়াহিদুজ্জামান পিন্টু বলেন, ‘এখন ফুটবল উন্নয়নের নামে যারা ক্ষমতায় আসীন হন, তারা ফুটবলের নয়, নিজেদের উন্নয়ন করেন। ফুটবল বেচে খাওয়া এই কর্তারা গদি আঁকড়ে ধরে আছেন বছরের পর বছর ধরে। তাদের দিয়ে ফুটবলের কোনো উন্নতি হয়েছে কী? শুধুই বারোটা বেজেছে।’

জাতীয় দলের আরেক সাবেক তারকা ফুটবলার হাসানুজ্জামান খান বাবলুর কথা, ‘ক্রমেই পেছাচ্ছে বাংলাদেশের ফুটবল। পরিবর্তন, দরকার বাফুফেতে। ফুটবলের ভিত নেই। বর্তমান কমিটির সময় ফুটবল স্থবির। প্রিমিয়ার ফুটবল লিগের নামে চলে তামাশা। পাতানো ম্যাচ আর রেফারির পক্ষপাতিত্বে দর্শকরা মাঠমুখো হন না। তার ওপর কর্তাদের একচোখা নীতি। ১০ বছরে তিনবার কোটি টাকার সুপার কাপ করে আবার ঝিমিয়ে পড়েছে। বঙ্গবন্ধু কাপের নামে নিুমানের দল এনে জাতির জনককে খাটো করেছে বাফুফে। শুধু তাই নয়, চ্যাম্পিয়ন ও রানার্সআপের প্রাইজমানি না দিয়ে আন্তর্জাতিক মহলেও দেশকে খাটো করেছে বাফুফে।’

জাতীয় দলের সাবেক তারকা ফুটবলার আশরাফ উদ্দিন আহমেদ চুন্নু বলেন, ‘প্রতি বছর যে বর্ষপঞ্জি ঘোষণা করে বাফুফে, তাতে স্কুল টুর্নামেন্ট ছাড়া বয়সভিত্তিক যত ফুটবল টুর্নামেন্ট আয়োজন, সবই থাকে অনূর্ধ্ব-১৪, ১৬, ১৯ ফুটবল প্রতিযোগিতা। জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপ থাকে, ক্লাবভিত্তিক ফেডারেশন কাপও নিয়মিত। কোচের ট্রেনিং কোর্স রেফারি বানানোর প্রক্রিয়া এএফসি, সিবি ইত্যাদি লাইসেন্স কোর্সও তাতে থাকে। ক্যালেন্ডার বানানোর জন্য বাফুফে মাসে ১০ লাখ টাকা বেতন-ভাতা দিয়ে বিদেশ থেকে টেকনিক্যাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজি কোচ পল স্মলিকে এনেছে। তিনি এতটা দক্ষ যে, প্রায়ই মাস-দিনের হিসাবও মনে রাখেননি। টেবিলে কাগজ-কলম নিয়ে বসে গড়গড় করে বানিয়ে দিয়েছেন বর্ষপঞ্জি। এটা যেন একটা অর্ডারি ব্যাপার, বানিয়ে দিলেই হয়। স্বাভাবিকভাবেই কাজের বেলায় শুভংকরের ফাঁকিটা হয়ে যায় বড় সত্য।’

আরেক সাবেক ফুটবলার কায়সার হামিদ বলেন, ‘টুর্নামেন্ট সামনে এলেই তড়িঘড়ি করে প্রস্তুতি আর পরীক্ষা এলেই কয়েকটা নোট জোগাড় করে পড়তে বসার মধ্যে কোনো ব্যবধান থাকে না। কোনো রকম চালিয়ে যাওয়া যায়, আসল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া যায় না। এটা কোনো পরিকল্পনা হল? প্রতি বছর বয়সভিত্তিক জাতীয় টুর্নামেন্টগুলো আয়োজনের পরিকল্পনা ঠিকই থাকে বাফুফের, তবে তা সাদা কাগজে কালির আঁচড়েই সীমাবদ্ধ।’