দুই কিংবদন্তির পরস্পরকে শ্রদ্ধার্ঘ্য

প্রকাশ : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  স্পোর্টস ডেস্ক

জয়ই হতো বিদায়ী ম্যাচে তার সেরা উপহার। অ্যালিস্টার কুক সেটা পেয়েছেনও। পরিপূর্ণ তৃপ্তির হাসি নিয়েই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে শেষ হয়েছে তার পথচলা। বিদায়মঞ্চে ইংল্যান্ডের সফলতম টেস্ট ব্যাটসম্যানকে দু’হাত ভরে দিয়েছেন ক্রিকেট-বিধাতা। শুরুর মতো শেষটাও সেঞ্চুরির আল্পনায় রাঙিয়ে পেয়েছেন ম্যাচসেরার স্বীকৃতি। ওভাল টেস্টে নিজের গৌরবময় বিদায়ের চিত্রনাট্য কুক লিখেছেন নিজের হাতেই।

আর তাতে তুলির শেষ আঁচড়টা দিয়েছেন পার্শ্বনায়ক জেমস অ্যান্ডারসন। মঙ্গলবার ম্যাচের শেষদিনের শেষ সেশনে ভারতের শেষ ব্যাটসম্যান মোহাম্মদ সামিকে বোল্ড করে ইংল্যান্ডকে ১১৮ রানের জয় এনে দেন অ্যান্ডারসন। পাঁচ ম্যাচের সিরিজ স্বাগতিকরা জিতেছে ৪-১ ব্যবধানে।

জয় দিয়ে কুকের বিদায় স্মরণীয় করে রাখার পাশাপাশি অ্যান্ডারসন নিজেও গড়েছেন দারুণ এক কীর্তি। অস্ট্রেরিয়ার গ্লেন ম্যাকগ্রাকে (৫৬৩) টপকে ৫৬৪ উইকেট নিয়ে অ্যান্ডারসন এখন টেস্ট ইতিহাসের সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি পেসার। প্রিয় বন্ধু কুকের বিদায়ী ম্যাচে কীর্তিটা গড়তে পেরে দারুণ আপ্লুত অ্যান্ডারসন।

গত পরশু ওভালে ম্যাচ শেষে শেষবারের মতো করতালির বৃষ্টিতে ভাসার সময় অ্যান্ডারসনকে পাশে টেনে নিয়ে দারুণ আবেগময় একটি মুহূর্তের জন্ম দেন কুক। একই ফ্রেমে ইংল্যান্ডের সফলতম টেস্ট ব্যাটসম্যান ও বোলার! ছবিটা বাঁধিয়ে রাখার মতোই। এরপর আলিঙ্গনে বেঁধে পরস্পরকে শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন করেন দুই কিংবদন্তি।

কুকের গলায় ইংল্যান্ডের সর্বকালের সেরা ব্যাটসম্যানের বরমাল্য তুলে দিলেন অ্যান্ডারসন। প্রতিদানে নিজে পেলেন আরও বড় স্বীকৃতি। কুকের চোখে অ্যান্ডারসনই ইংল্যান্ডের সর্বকালের সেরা ক্রিকেটার, ‘এমন একটা টেস্ট খেলে অবসর নিতে পারাটা সত্যিই ভাগ্যের ব্যাপার। শেষবেলায় জিমিকে দেখলাম ম্যাকগ্রাকে ছাড়িয়ে যেতে। এমন স্মরণীয় বিদায়ই চেয়েছিলাম। আমার সব সতীর্থের প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই বলছি, জিমির সঙ্গে খেলতে পারাটা আমাকে সবচেয়ে বেশি গর্বিত করেছে। আমার কাছে সে-ই ইংল্যান্ডের সর্বকালের সেরা ক্রিকেটার।’

কম যাননি অ্যান্ডারসনও, ‘কুক শুধু আমাদের সেরা ব্যাটসম্যান নয়, আমার প্রিয়তম সতীর্থও। এই বন্ধুত্ব আমৃত্যু অটুট থাকবে। সত্যি ওকে ভীষণ মিস করব। ম্যাকগ্রাকে ছাড়িয়ে যাওয়া উইকেটটা কুক মাঠে দাঁড়িয়ে দেখতে পেল বলে আরও বেশি ভালো লাগছে।’