জয়, কেন তুমি বারবার প্রবঞ্চনা কর

প্রকাশ : ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  স্পোর্টস রিপোর্টার

মিরপুর থেকে বাঙ্গালোর। কলম্বো থেকে দুবাই। কতদূর আর কতদূর। বাংলাদেশের স্বপ্নভাঙার চেনা ছবি হয়ে রইল ফাইনাল। হাতছোঁয়া দূরত্বে সোনালি রঙের ঝা চকচকে ট্রফি অধরাই রইল। দুবাইয়ে শুক্রবার রাতে আবারও স্বপ্নভঙ্গ। লিটন দাসের অনবদ্য শতকে স্বপ্নের সূচন।

কিন্তু বিধি বাম! মিডলঅর্ডার ধসে পড়ায় ২২২ রানে থামতে হয়। স্বল্প পুঁজি নিয়েও রুবেল-মোস্তাফিজের বোলিংয়ের বীরোচিত লড়াই। রোমাঞ্চকর রুদ্ধশ্বাস উত্তেজনার সমাপ্তি শেষ বলে। তিন উইকেটে হেরে আশাভঙ্গের হতাশায় স্বপ্নের সমাধি। প্রতিবন্ধকতা পায়ে ঠেলে বাংলাদেশ যেভাবে ফাইনালে উঠেছে তাতে গর্বিত অধিনায়ক মাশরাফি মুর্তজা। তবে রানার্সআপ হয়ে তৃপ্ত নন তিনি।

ফাইনাল শেষে মাশরাফি বলেন, ‘ছেলেরা যেভাবে খেলেছে গর্ব করাই যায়। সাকিব-তামিমের না থাকাটা ছিল বড় ধাক্কা। তাদের ছাড়াও ছেলেরা যেভাবে খেলেছে তাতে তাদের কৃতিত্ব দিতেই হবে। তবে আমাদের আরও অনেক কিছু শিখতে হবে। এ ধরনের টুর্নামেন্টে আমাদের এখনও লড়াই করতে হচ্ছে। আরেকটু ভালো খেললে আরও ভালো হতে পারত।’

শেষ ওভারে কেন মাহমুদউল্লাহ? মাশরাফি বলেন, ‘শেষ মুহূর্তে আমি সিদ্ধান্ত বদলাই বিপিএলে মাহমুদউল্লাহর ভালো বোলিংয়ের কথা ভেবে। বিপিএলে শেষ ওভারে দু’বার বোলিং করে দলকে জেতানোর অভিজ্ঞতা আছে তার। সেটাই আমার মাথায় কাজ করেছে। আমি শুধু ওকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, আত্মবিশ্বাস আছে? সে সাহস দেখানোর পর ওকে দায়িত্ব দিয়েছি। তাছাড়া সৌম্যর পেস কাজে লাগিয়ে হয়তো রান হয়ে যেত সহজেই। ভাবনা ছিল মাহমুদউল্লাহকে যদি মারতেও যায়, তবু আউট হওয়ার সম্ভাবনা থাকবে।’

মাহমুদউল্লাহ দারুণ বোলিং করেছেন। ম্যাচটা নিয়ে গেছেন শেষ বল পর্যন্ত। শেষ বলটা লেগ স্টাম্পে থাকায় লেগ-বাই থেকে জয়সূচক রান পেয়েছে ভারত। মাহমুদউল্লাহর শেষ বলের পরিকল্পনা নিয়ে মাশরাফি বলেন, ‘ফাইনালে সুপার ওভারের নিয়ম ছিল। শেষ বলে ডট বা আউট হলেই হত। রিয়াদ চেষ্টা করেছে। ইয়র্কারই করেছে। প্যাডে লেগে এক রান হয়ে গেছে। মাহমুদউল্লাহকে বলেছিলাম, ওরা মারতে যাক। মারলে উইকেট পড়ার সম্ভাবনা থাকবে। পাঁচ নম্বর বলটা যদি কানায় না লেগে উইকেটে থাকত, তাহলে অন্যরকম হতে পারত। আসলে এমন মুহূর্তে ভাগ্যের সহায়তা দরকার হয়। ছয় রান নিতে ছয় বল লেগেছে ভারতের। দারুণ বোলিং করেছে বলতেই হবে।’

এদিকে আম্পায়ারদের বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নিয়ে তুমুল সমালোচনা হচ্ছে। বাংলাদেশের ইনিংসের ৪১তম ওভারে লিটন আউট না হলে স্কোরটা আরও বড় হতেই পারত। আক্ষেপের মধ্যে আউটের বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নিয়ে বাংলাদেশ অধিনায়কের মুখ ফুটে বলার সুযোগ কম। রয়ে সয়ে মাশরাফি বললেন, ‘এটা আসলে বলা কঠিন। আমাদের কাছে একসময় মনে হচ্ছিল আউট না বা ওরকম আর কী। থার্ড আম্পায়ার ভালো বলতে পারবেন, কারণ সিদ্ধান্তটা তারই ছিল। এটা নিয়ে হয়তো পরে আরও আলোচনা হবে।’

স্পিনাররা সুবিধা না পাওয়ায় বাংলাদেশ পিছিয়ে গেছে বলে ধারণা মাশরাফির। এ নিয়ে ছয়টি টুর্নামেন্টের ফাইনালে হারল বাংলাদেশ। অধরা রইল ট্রফি। রয়ে গেল আক্ষেপ। বাড়ল অপেক্ষা।

কোহলিদের কুর্নিশ বাংলাদেশকে

‘বাংলাদেশকে ধন্যবাদ কঠিন লড়াই করার জন্য’

- বিরাট কোহলির টুইট

‘বাংলাদেশ এত কাছে তবু কত দূর। গুরুত্বপূর্ণ কয়েকজন খেলোয়াড় ছাড়াও এমন উজ্জীবিত লড়াই উপহার দেয়ার জন্য বাংলাদেশ দলকে টুপিখোলা অভিনন্দন’

- বীরেন্দর সেহওয়াগ

‘বাংলাদেশ দলকে কৃতিত্ব দিতেই হবে। তারা দুর্দান্ত ব্যাটিং করেছে। বিশেষ করে প্রথম ১০ ওভারে আমাদের রীতিমতো কোণঠাসা করে রেখেছিল’

- রোহিত শর্মা

‘ক্রিকেটে ব্যক্তিগত সাফল্যের বিকল্প নেই। অনেক খেলোয়াড়ই ব্যক্তিগত সাফল্যে উজ্জ্বল ছিলেন। যেমন শিখর ধাওয়ার, রোহিত শর্মা, মোস্তাফিজুর রহমান এবং আমার দৃষ্টিতে এশিয়া কাপের অধিনায়ক মাশরাফি মুর্তজা। মাশরাফির কাছে সাকিব আল হাসান ও তামিম ইকবাল ছিলেন না। তার কাছে ছিল অর্ধেক শক্তির দল। তিনি এই দলকে নিয়েই এগিয়ে গেছেন এবং ভারতের বিপক্ষে লড়াই করে দেখিয়েছেন’

- রমিজ রাজা