সমতল মাঠ, ইশতেহার এবং জনগণের মালিকানা!

  ড. এম এল আর সরকার ২৭ ডিসেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

সমতল মাঠ, ইশতেহার এবং জনগণের মালিকানা!
সমতল মাঠ, ইশতেহার এবং জনগণের মালিকানা!

আর মাত্র কয়েকদিন পর সংসদ নির্বাচন। নির্বাচন ভালোভাবে হবে কিনা, নিরপেক্ষ হবে কিনা- এ নিয়েই দেশের সর্বত্র চলছে আলোচনা-সমালোচনা। সবকিছু মিলে মানুষ একটু হলেও আতঙ্কের মাঝে আছে। মনে শঙ্কা এই বুঝি দেশে একটা বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

নির্বাচন নিয়ে যাতে কোনো সংঘাত সৃষ্টি না হয় এটি সবার কাম্য। তবে ভুললে চলবে না যে, কিছু সুযোগসন্ধানী লোক কারণে-অকারণে সংঘাত তৈরির জন্য সদা প্রস্তু‘ত থাকে। সবার মতো আমিও আশাবাদী একটি ঝঞ্ঝাটমুক্ত নির্বাচন হবে। তবে এ নির্বাচন থেকে জনগণের ভাগ্যের কী ধরনের পরিবর্তন হবে সে ব্যাপারে আমি সন্দিহান।

সমতল মাঠ

নির্বাচনের জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড বা কারও কারও মতে সমতল মাঠ প্রয়োজন। বিরোধী জোট বলছে, মাঠ তৈরি হয়নি; অন্যদিকে ক্ষমতাসীন জোট বলছে, মাঠ ঠিক আছে। বিভেদ এমনই যে, একজন নির্বাচন কমিশনারও বলেছেন, লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি হয়নি। পক্ষান্তরে, প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেছেন, মাঠ তৈরি হয়েছে বলেই বিরোধী জোট তাদের প্রচারণা চলিয়ে যেতে পারছে। এ নিয়ে চলছে নানা অভিযোগ ও আলোচনা।

ধরুন সমতল মাঠ তৈরি হয়নি। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, এজন্য নির্বাচন কমিশনের ওপর কতটুক দোষারোপ করা যেতে পারে? ধরা যাক, প্রধান দুটি জোট ফুটবল খেলছে। খেলার মাঠটি হচ্ছে বাংলাদেশ; এখানে রংপুরের সমতল ভূমি এবং পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়ি এলাকা আছে। অনেক দেন-দরবারের পর শেষ পর্র্যন্ত জোট দুটি নিজেরাই এরকম একটি ভূমিতে খেলতে রাজি হয়েছে। আইন বা যে কোনো কারণেই হোক একদলের গোলপোস্ট হচ্ছে রংপুরে এবং অন্য দলের গোলপোস্ট হচ্ছে পার্বত্য চট্টগ্রামে। এই খেলা পরিচালনা করার দায়িত্ব পড়েছে নির্বাচন কমিশনের ওপর।

খেলা এখন শুরু। খেলতে নেমে যাদের গোলপোস্ট রংপুরে তারা বলছে এ অন্যায়। আমাদের প্রতিপক্ষ খুব সহজেই এখানে গোল করতে পারবে। কিন্তু আমাদের পক্ষে পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়ে গিয়ে গোল করা কষ্টকর। রেফারির কাছে তাদের দাবি মাঠ সমতল করে দিতে হবে। তাদের আরও অভিযোগ, প্রতিপক্ষ ফাউল করে আমাদের প্লেয়ারদের ফেলে দিচ্ছে এবং বহিরাগতরা আমাদের ভয় দেখাচ্ছে ও আমাদের প্রতিপক্ষের হয়ে গোল দেয়ার চেষ্টা করছে। এবার বলুন তো, এমতাবস্থায় রেফারি কী করতে পারে?

পত্র-পত্রিকায়, সভা-সমিতিতে এবং গোলটেবিলে এর অনেক সমাধান দেয়া হচ্ছে। আমি নিজেও ভাবছি অভিযোগের ভিত্তিতে অন্তত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কিছু সদস্যকে বদলি করা বা তাদের মাঠ থেকে উঠিয়ে নেয়া যেতে পারে। কিন্তু কথা হচ্ছে, কয়জনের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশন এভাবে ব্যবস্থা নেবে? কিসের ওপর ভিত্তি করে ব্যবস্থা নেবে? যারা অভিযোগ করছে, তারা যে ইচ্ছাকৃতভাবে অথবা পাহাড়ে উঠতে ক্লান্ত হয়ে নিজেরাই পড়ে যাচ্ছে না- এ সবের তদন্ত কে করবে? একবার ভেবে দেখুন তো নির্বাচনের এই বিশাল মাঠে নির্বাচন কমিশনের পক্ষে এত অভিযোগের সমাধান করা আদৌ কি খুব সহজ?

প্রকৃতপক্ষে এই সংক্ষিপ্ত সময়ে এবং নানারূপ সীমাবদ্ধতার মাঝে নির্বাচন কমিশনের পক্ষে সব দাবি-দাওয়ার সমাধান করা প্রায় অসম্ভব, কারণ প্রশাসনের যে স্তরগুলো নির্বাচনের সঙ্গে জড়িত তার সবগুলোর ওপর নির্বাচন কমিশনের পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ নেই। নির্বাচন কমিশনের এই অসহায়ত্বের বিষয়টি অভিযোগকারী পক্ষ ভালো করেই জানে। একবার ভেবে দেখুন তো, যদি নির্বাচন কমিশনের এত শক্তিই থাকত তাহলে কি গত নির্বাচনে বিরোধী জোটকে নির্বাচনকালীন সরকার বা তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার জন্য এত ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড করতে হতো? এই নির্বাচনের আগেও কি ড. কামাল হোসেনকে সরকারের সঙ্গে দুই দফা নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে আলোচনা করতে হতো?

প্রশ্ন হচ্ছে, সমাধান কোথায়? আসলে এর আশু সমাধান আমাদের হাতে নেই। বিভিন্ন স্থান থেকে নির্বাচনী সহিংসতার খবর পাওয়া যাচ্ছে। তবে সেনাবাহিনী মাঠে নামায় আশা করা যায় সামনের দিনগুলোতে নির্বাচনী পরিবেশ ভালো হবে। আমার বিশ্বাস সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে নির্বাচন কমিশন অবশ্যই ব্যবস্থা নেবে। তাছাড়া এ কথা যেন আমরা ভুলে না যাই যে, ভোট গোপনীয়। নির্বাচনে যে যত অন্যের ওপর জুলুম করবে এবং বিনা কারণে কান্নাকাটি করবে তাদের ভোট তত কমবে। দুই জোটকে বলছি, অনুগ্রহপূর্বক জনগণের ওপর আস্থা রাখুন এবং নির্বাচন কমিশনকে দোষারোপ না করে বরং সহায়তা করুন। এতে ভোট বাড়বে বৈ কমবে না।

ইশতেহার

দুই জোটই অত্যন্ত চাকচিক্যময় ইশতেহার দিয়েছে। এ যেন কে বেশি দিতে পারে তারই একটি প্রতিযোগিতা। কিন্তু কিভাবে দেবে এবং কেন ভোটের আগে দিতে চাচ্ছে তার কোনো ব্যাখা নেই। ইশতেহার যত সুন্দরই হোক না কেন, এটি নিয়ে উচ্ছ্বসিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। ভোটের বাজারে দুই জোট তাদের কথার প্রতিশ্রুতি বিক্রি করে ক্ষমতার মসনদে বসতে চায়। কথা বিক্রি করতে অসুবিধা কোথায়! যে যা চায়, দিতে আসুবিধা কী! ইশতেহারে প্রতিশ্র“ত এত সুযোগ-সুবিধা দেখে মনে হচ্ছে যেন বাজারে দুই ফেরিওয়ালা সপ্তধাতুর তাবিজ বিক্রি করছে। তারা চিৎকার করে বলছে এই তাবিজ কিনলে কী কী উপকার হবে। দু’জনই বলছে, অতীতে আপনারা তাবিজ কিনে ঠকেছেন। এবার এই নতুন তাবিজ নিয়ে যান। এই তাবিজেই আছে আপনাদের সব সমস্যার সমাধান। এ তাবিজ ফ্রি!

দেখুন ইশতেহারে একজোট এখন বলছে, অতীতের ভুল ক্ষমা করে দিন। এবার ভোট দিলে দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স দেখাব। হ্যাঁ, এই জোট অনেক কাজ করেছে। তাই কিছু ভুল হতেই পারে। ক্ষমা চাইলে তাই আমাদের ক্ষমা করে দেয়াই সমীচীন। কিন্তু কথা হচ্ছে, সচেতন মানুষ কিভাবে এ কথা বিশ্বাস করে এই নতুন তাবিজ কিনবে, যখন তারা দেখছেন এই তাবিজ তৈরি হয়েছে মাদক ব্যবসায় অভিযুক্তের স্ত্রী, শেয়ারবাজার কেলেঙ্কারির হোতা, নৈরাজ্য সৃষ্টিকারী পরিবহন নেতা, ব্যাংক ধ্বংসকারীর ভাই এবং অমুকের ছেলে/মেয়েদের দ্বারা। তাবিজ তৈরিতেই যে সমস্যা!

এই ভেজাল তাবিজ কিভাবে কাজ করবে? আওয়ামী লীগের সমর্থকরা অনেকটা দুঃখ করেই জানতে চান, কেন এই লোকগুলোকে নমিনেশন দেয়া হল? দলে কি সত্যিই লোকের এত অভাব? এদের বাদ দিলে আওয়ামী লীগের সমর্থকদের কি এতটাই বিব্রত হতে হতো? এদের ছাড়া আওয়ামী লীগের ভোট কি খুব কমত?

অন্যদিকে অপর জোটের নতুন মুখপাত্র দিয়েছেন লম্বা এক ফিরিস্তি। প্রথমদিকে অনেকেই মনে করেছিল, এই নতুন ফেরিওয়ালা হয়তো সত্যিই দেশের জন্য কিছু একটা করবেন বা করতে পারবেন। কিন্তু তার জোটের তাবিজ তৈরির (মনোনয়ন দেয়ার) সময়ই বোঝা গেল কিভাবে তাবিজ তৈরি হচ্ছে বা তাবিজে ভেজাল দেয়া হচ্ছে কিনা তা দেখাশোনার দায়িত্ব তার নেই।

জনাবের দায়িত্ব শুধু না জেনেই তাবিজের গুণাগুণ বর্ণনা করা, বিক্রি করা এবং মাঝে মাঝে দেশে-বিদেশে নালিশ করা যে তাকে তাবিজ বিক্রি করতে দেয়া হচ্ছে না। এই জোটের তাবিজ তৈরি হয়েছে সেই আগের কায়দায়। মূলে আছেন বিদেশে বসবাসকারী এক নেতা। ফলে জায়গা পেয়েছে সেই একই লোকগুলো, যাদের কাছ থেকে অতীতে দেশবাসী বিদ্যুতের বদলে পেয়েছে খাম্বা, সারের বদলে খেয়েছে পুলিশের গুলি এবং দেখেছে বাংলা ভাইয়ের মতো লোকের উত্থান। নতুন মুখপাত্র এ অবস্থা দেখে বাধ্য হয়ে বলেছেন, পিঠা ভাগাভাগি করতে গেলেও এরকম হয়। জনাবের নিকট প্রশ্ন, সামান্য নমিনেশন নিয়েই পিঠা ভাগাভাগি করলেন, তাহলে বলুন তো ক্ষমতা পেলে ক্ষমতার সোনার খনি ভাগাভাগি করতে আপনারা কী করবেন? আর সেই ভাগাভাগিতে আপনার অবস্থান কী হবে?

জনগণের মালিকানা

জনগণ রাষ্ট্রের মালিক। তাদের দেশের মালিকানা এবং ভোটের অধিকার ফিরিয়ে দিতে হবে। আমরা ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি মার্কা নির্বাচন চাই না। জনগণের সরলতার সুযোগ নিয়ে সরকার ভাঁওতাবাজি করছে- এ কথাগুলো বলে কামাল সাহেব ভোট চাচ্ছেন। জনাব, আপনার মতে গত নির্বাচনের আগে দেশের মালিকের ভোটের অধিকার ছিল। আমার প্রশ্ন হচ্ছে, বলুন তো সেই সময় জনগণের আসলে কতটুকু অধিকার ছিল? সংবিধানে অনেক ভালো ভালো কথাই লেখা আছে। কিন্তু রূঢ় বাস্তবতা হচ্ছে, এ দেশের মালিক জনগণ নন। জনগণের অধিকার হচ্ছে শুধু ভোট দিয়ে সেবক নয়, শাসক নির্বাচিত করা। এরপর জনগণের মালিকানা শেষ! অতঃপর জনগণের কাজ হচ্ছে কর প্রদান করা, তাদের নির্বাচিত শাসক ও শাসকের সাগরেদদের হুকুম তামিল করা এবং নির্যাতন সহ্য করা।

আপনি এমন একটি ঘটনা বলতে পারেন, যেখানে রাষ্ট্রের মালিক একজন সাধারণ কৃষক বা শ্রমিক ভোটের পর এমপি বা মন্ত্রী বা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিনা বাধায় দেখা করতে পেরেছে? এমনকি রাষ্ট্রের কর্মচারী ইউএনও বা ডিসি বা কমিশনার বা সচিব- এদের অফিসে সাধারণ কৃষককে সাদরে ঢুকতে দেয়া হয়েছে? রাষ্ট্রের এই শ্রেণীর মালিকরা আপনার অফিসেও ঢুকতে পারবে কিনা তাতেও আমার যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে।

আপনার নিশ্চয়ই মনে থাকার কথা, অনেক দিন আগেই বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, ‘প্রচলিত গণতন্ত্রের বদৌলতে সমাজের মাত্র ৫ শতাংশ লোকের বা প্রভাবশালী ধনিকশ্রেণীর স্বৈরাচারী শাসন ও বল্গাহীন শোষণ কার্য পরিচালনার পথই প্রশস্ত হচ্ছে। সবরকম দুর্নীতি, শোষণ, অবিচার, অত্যাচার ও প্রতারণায় সমাজের সর্ববৃহত্তম অজ্ঞ দুর্বল মেহনতী কৃষক-শ্রমিক বঞ্চিত হচ্ছে।’ আজ এতদিন পরও বঙ্গবন্ধুর কথার কোনো ব্যতিক্রম ঘটেনি। সেই একই কায়দায় চলছে শোষণ ও শাসন। দেশ ও জনগণ জিম্মি হয়ে পড়েছে দুটি পরিবার ও কিছু প্রথমসারির নেতা, স্বাধীনতাবিরোধী, স্থানীয় নেতা বা ক্যাডার, উচ্চশ্রেণীর আমলা এবং দলীয় ব্যবসায়ীদের কাছে।

ড. কামাল সাহেব আপনার ‘রাষ্ট্রের মালিকানা জনগণের হাতে ফিরিয়ে দেয়ার ইশতেহারে’ কিংবা বিএনপি অথবা আওয়ামী লীগের ইশতেহারে দেখুন তো কৃষক ও দিন-মজুরদের (সংখ্যার ভিত্তিতে যারা মূলত দেশের মালিক) জন্য কী বলা আছে। কৃষক কী দুর্দশায় আছে তা কি আপনি জানেন? দিনমজুরের বেদনা কি আপনি বুঝতে পারেন? শুধু মুখে রাষ্ট্রের মালিকানা জনগণের হাতে ফিরিয়ে দেয়ার কথা বলে সরল এই মানুষদের কাছ থেকে ভোট নিলে এর চেয়ে বড় প্রতারণা আর কী হতে পারে?

অনেকে ভেবেছিল আপনি দেশকে একটি ঐক্যের বন্ধনে নিয়ে আসবেন। সংবিধান সংশোধনসাপেক্ষে একটি নতুন ব্যবস্থা প্রবর্তনের ডাক দেবেন। যেখানে আর কিছু না হোক, সরকার ও বিরোধী দলের মাঝে ক্ষমতার একটি ভারসাম্যের মাধ্যমে হানাহানির রাজনীতি বন্ধ হবে। ৩০০ আসনের মধ্যে ১৫১টি পেয়ে নিরঙ্কুশ ক্ষমতার অধিকারী হওয়ার পথ রহিত হবে। কিন্তু সে পথে আপনি যাননি! নিজের ক্রোধ ও হতাশা থেকে আপনি মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষশক্তির পাশে যেভাবে অবস্থান নিয়েছেন, তা আপনার অতীত রাজনীতির সঙ্গে যায় না। এ কাজটি আর যেই করুক তাতে দুঃখ নেই, কিন্তু এই বয়সে আপনার না করাই শ্রেয়।

সত্য-মিথ্যা যা কিছু আছে তা আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টি ও জামায়াতের নেতারাই বলুক। জনগণ যদি মনে করে তারা আওয়ামী লীগ জোটকে ভোট দেবে, তা-ই দিক। তারা যদি মনে করে, বিএনপি জোটকে ভোট দেবে, তা-ই দিক। এ দুই জোট হচ্ছে মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ। তাহলে কেন আগ বাড়িয়ে আপনি একপক্ষের হয়ে জনগণকে ধোঁকা দিচ্ছেন এবং কারণে-অকারণে হুমকি দিচ্ছেন?

জনগণকে সিদ্ধান্ত নিতে দিন। সিদ্ধান্ত নিতে জনগণ ভুল কমই করে। জনগণের ওপর আস্থা রাখুন। এবার জনগণ অনেক আশা নিয়েই হয়তো ভোট দেবে। এই ভোটে যেই জিতুক, ভোটের পর যদি আবারও একইভাবে তাদের শাসন ও শোষণ শুরু হয় তবে জনগণই তার বিচার করবে। মনে রাখবেন জনগণ একটি সুপ্ত শক্তি। অবহেলা, বঞ্চনা, শোষণ-শাসন ও নির্যাতন সহ্য করতে করতে একদিন তারা জেগে উঠবেই। এই শক্তিকে যে অবহেলা করেছে বা করবে, তার পরাজয় একদিন হবেই। আপনি যে কাজটি এই নির্বাচনের সময় করতে পারলেন না, তা জনগণ একদিন নিজেরাই করবে। আশা করি সৃষ্টিকর্তা আপনাকে দীর্ঘজীবী করবেন সেই সময়টি দেখার জন্য।

ড. এম এল আর সরকার : প্রফেসর, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

[email protected]

ঘটনাপ্রবাহ : একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন

আরও
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×