শতফুল ফুটতে দাও

এই দিন দিন নয় আরও দিন আছে

  ড. মাহবুব উল্লাহ্ ৩০ ডিসেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

শতফুল

আজ যখন লেখাটি লিখছি তখন চলছে ২৬ ডিসেম্বর। লেখাটি যেদিন দৈনিক যুগান্তরে বেরোবে সেই দিনটি হবে ৩০ ডিসেম্বর। অর্থাৎ জাতীয় সংসদের নির্বাচনের দিন। এই দিনটি আমাদের জাতীয় জীবনে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ইতিহাস নতুন বাঁকের দিকে প্রবাহিত হবে। এই দিনেই আমরা বুঝতে পারব আমাদের কিসমতে কী লেখা আছে।

বিভিন্ন আলামত দেখে কেউ কেউ বলছেন, এই দিনে একটি দল জয়লাভ করবে; কিন্তু দেশের মালিক জনগণ পরাজিত হবে। ব্যক্তিগতভাবে আমি এ ব্যাপারে কোনো ধরনের ভবিষ্যদ্বাণী, তা যত নিকটেই হোক না কেন করতে চাই না। আমি তো জনগণের জয়ই দেখতে চাই। তবে এই আশাবাদ নৈরাশ্যে পরিণত হবে না, এমন কিছু দাবি করতে পারি না। অনেক কারণেই দেশটি অসম্ভবের দেশে পরিণত হয়েছে। এখানে সবকিছুই সম্ভব, আবার সবকিছুই অসম্ভব।

আমি এটা ভালো করেই বুঝি এদেশের জনগণের বিরাট একটি অংশ রাজনীতির প্রতি বীতশ্রদ্ধ হয়ে পড়েছে। এর একটি বড় কারণ রাজনীতিবিদরা জনগণকে যেসব প্রতিশ্রুতি দেন, ক্ষমতায় গিয়ে তারা সেসব প্রতিশ্রুতির কথা বেমালুম ভুলে যান। এবারের নির্বাচনের সময় কাকতালীয়ভাবে দুটি বড় নির্বাচনী জোট একই সময়ে তাদের নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছে।

কিন্তু সমস্যা হল নির্বাচন যখন প্রায় সন্নিকটে, তখনই নির্বাচনী ইশতেহারগুলো প্রকাশ করা হয়। কোনো কোনো দল আবার এর চেয়েও অনেক পড়ে তাদের নির্বাচনী ইশতেহার প্রকাশ করেছে। সুতরাং জনগণের কাছে নির্বাচনী ইশতেহারের অন্তর্গত বিষয়গুলো ব্যাপকভাবে ব্যাখ্যা করার সুযোগ মেলেনি। জনগণের মধ্যে যারা খবরের কাগজ পড়েন, তারা খবরগুলো থেকে ইশতেহারের চুম্বক বিষয়গুলো সম্পর্কে জানতে পেরেছেন। লক্ষণীয় বিষয় হল, সব খবরের কাগজ একইভাবে ইশতেহারগুলোর চুম্বকাংশ প্রকাশ করেছে। ফলে পাঠক যার যার মতো করে ইশতেহার সম্পর্কে ধারণা করে নিয়েছে। এটা আমাদের রাজনীতির বড় ব্যর্থতা। নির্বাচনের মাঠে দলের মার্কা সম্পর্কে যত বেশি বা কম করেই হোক প্রচার করা হয়েছে, তার শতভাগের এক ভাগও এসব মার্কা কী কর্মসূচিকে প্রতিনিধিত্ব করে সে সম্পর্কে সাধারণ মানুষের কাছে তেমন কিছু তুলে ধরা হয়নি। বেশি-কমের কথা এ কারণেই উঠেছে যে, একটি দল সব ধরনের পদ্ধতি প্রয়োগ করে তাদের মার্কার পক্ষে প্রচার করেছে। অন্য দলটি নানা রকম ভয়ভীতি ও ত্রাসের মধ্যে থেকে তাদের মার্কার কথাও জনগণকে বলতে পারেনি। পারা না পারার কথা বাদ দিয়ে বলতে হয় দেশের জনগণ ভালো করেই জানেন কোন দুটি মার্কার মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে। তবে এ প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে নিষ্প্রভ করে দেয়ার জন্য হেন কোনো প্রয়াস নেই যার আশ্রয় নেয়া হয়নি।

২১ ডিসেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি গবেষণা কেন্দ্রে নির্বাচনী ইশতেহার নিয়ে একটি সেমিনার হয়েছিল। এই সেমিনারে যিনি বিষয়টির প্রধান উপস্থাপক ছিলেন তিনি নিজেই বলেছেন, জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ও বিএনপির ইশতেহার সম্পর্কে তাকে সংবাদপত্রের ওপরই নির্ভর করতে হয়েছে। উপস্থাপক দেশের একজন অন্যতম গবেষক ও চিন্তাবিদ। তার বিচার-বিশ্লেষণের ওপর আমার বেশ আস্থা আছে। কোনো বিশেষ দলের প্রতি পক্ষপাতিত্বের কারণে তিনি এমন কাজ করেননি। অবস্থাটা তো এমনই। এবারের নির্বাচনের অসমতল মাঠ নিয়ে অনেক কথা আছে। পাঠক এ সম্পর্কে যথেষ্ট ওয়াকিবহাল। সুতরাং এ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনায় যেতে চাই না।

তিনি খুব সঠিকভাবেই বলেছেন, আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন জোটের ইশতেহার প্রধানত উন্নয়নমুখী। অন্যদিকে বিএনপি ও তার মিত্রদের জোটের ইশতেহার প্রধানত গণতন্ত্র ও সুশাসনমুখী। কাজেই দুই পক্ষের ইশতেহারের মর্মবস্তু স্পষ্টভাবে দুটি ধারায় বিভক্ত। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে রাজনৈতিক বিতর্কের প্রধান প্রতিপাদ্য ছিল গণতন্ত্র আগে, না উন্নয়ন আগে? এই বিতর্ক সম্প্রসারিত করে এক পক্ষ বলতে চেয়েছে, গণতন্ত্র ছাড়া উন্নয়ন অসম্ভব। গণতন্ত্রহীন উন্নয়ন জনগণের অংশীদারিত্বকে অস্বীকার করে। অন্যদিকে যে দলটি উন্নয়নের সাফল্য সীমা ছাড়িয়ে প্রচার করেছে, তারা একইসঙ্গে গণতন্ত্রকে সংকুচিত করেছে। সুতরাং আমাদের দেশের সমস্যা Democratic Deficit, Good Governance Deficit এবং Development Deficit- এসবের আলোকেই বিচার-বিশ্লেষণ করতে হবে।

সেমিনারটির মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকারী বলতে চেয়েছেন, গত কয়েক দশকে উন্নয়নের দুটি মডেল দাঁড়িয়ে গেছে। এর একটি হল উন্নয়ন অন্বেষণও থাকবে, গণতন্ত্রও থাকবে। অপরটি হল, গণতন্ত্র থাকবে না, অথচ উন্নয়ন হবে। তবে এই দুটি পদ্ধতির মধ্যে অভিন্ন বিষয় হল সুশাসন। সিঙ্গাপুর, হংকং, তাইওয়ান ও দক্ষিণ কোরিয়াতে যে অভূতপূর্ব উন্নয়ন হয়েছে, সেটি হয়েছে অগণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে।

তবে এসব দেশে সুশাসন বজায় ছিল। দুর্নীতি, দুর্বৃত্তায়ন এবং আইনের ব্যত্যয় ঘটতে দেয়া হয়নি। ফলে এসব দেশের জনগণ যুগপৎ উন্নয়ন ও সুশাসন পেয়েছে। গণতন্ত্রহীনতা এসব দেশের মানুষ মেনে নিয়েছে সুশাসনের কল্যাণে। সুশাসন থাকার ফলে এসব দেশে উন্নয়ন গতি পেয়েছে। এসব দেশের উন্নয়নের পথরেখা বিশ্লেষণ করতে হলে অনেক কথাই বলতে হয়।

কিন্তু এই লেখার সীমাবদ্ধতার ফলে সেই আলোচনায় প্রবিষ্ট হওয়ার সুযোগ নেই। সুশাসন থাকার ফলে এসব দেশের জনগণ তাদের সরকারগুলোকে গ্রহণযোগ্য বলে বিবেচনা করেছে। Legitimacy একটি সরকারের টিকে থাকার জন্য একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। গণতান্ত্রিক অধিকার না থাকা সত্ত্বেও সুশাসনের ফলে সরকারকে জনগণ মেনে নিয়েছে, মেনে না নিলেও উন্নয়নের একটি পর্যায়ে উত্তরণের পর এসব দেশেও গণতন্ত্রের প্রয়োজনীয়তা অনুভূত হয়েছে এবং গণতন্ত্রও প্রাতিষ্ঠানিক রূপলাভ করেছে। নিয়মিত নির্বাচন অনুষ্ঠান, নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার পরিবর্তন এবং বাকস্বাধীনতা চর্চার অধিকার এসব দেশের জনগণ ভোগ করছে।

অবশ্য ব্যতিক্রম হিসেবে থেকে গেছে সিঙ্গাপুর। মালয়েশিয়াতেও গণতন্ত্রের চর্চা খুবই সীমিত ছিল। মালয়েশিয়াও প্রভূত অর্থনৈতিক উন্নতি করেছে। অতি সাম্প্রতিককালে মালয়েশিয়াতেও গণতন্ত্রের সুবাতাস বইতে শুরু করেছে। মালয়েশিয়াতে মাহাথির মোহাম্মদের দীর্ঘ শাসনকালে প্রভূত উন্নয়ন হয়েছে, তার আমলে গণতন্ত্রকে সযত্নে দূরে রাখা হয়েছিল। তার পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাকের সময়েও গণতন্ত্র প্রাধান্য বিস্তার করতে পারেনি। ৯২ বছর বয়সে মাহাথির মোহাম্মদ যখন আবার দেশের প্রধানমন্ত্রিত্বের দায়িত্ব পেলেন তখন তিনি গণতান্ত্রিক অধিকার ও মানবাধিকারের পক্ষে জোর গলায় কথা বলতে শুরু করলেন। এ যেন এক নতুন মাহাথির। বার্ধক্যের শেষ পর্যায়ে পৌঁছে তিনি নিজেকে নতুনভাবে আবিষ্কার করলেন। মালয়েশিয়ায় যে প্রভূত উন্নয়ন হয়েছে তা দুর্নীতিমুক্ত ছিল না। মালয়েশিয়ার অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় Rent Allocation-এর ব্যাপক ছড়াছড়ি ছিল। অর্থাৎ রাষ্ট্রীয় আনুকূল্য পেয়ে যারা ব্যবসা-বাণিজ্যসহ বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে তারা বেশ লাভবানও হয়েছে। অর্থনৈতিক সুবিধা যাকে আমরা Rent Allocation বলি, সেই সুবিধা তারাই পেয়েছে যারা যোগ্যতম এবং সবচেয়ে দক্ষ। ফলে উন্নয়নের গতি ত্বরান্বিত হয়েছে। সিঙ্গাপুরের কাহিনী একটু ভিন্ন। সেখানে সুশাসনের চরম পরাকাষ্ঠা প্রদর্শন করা হয়েছে। দেশটিও ধনী রাষ্ট্রের কাতারে দাঁড়িয়েছে। তবে গণতন্ত্র অধরা রয়ে গেছে। সেখানকার জনগণ আন্দোলন-ধর্মঘট করে না। এর কারণ কিছুটা লৌহকঠিন শাসনের নিগড়, কিছুটা সুশাসনের সুফল।

সিঙ্গাপুর যখন মালয়েশিয়া থেকে পৃথক হয়ে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করল ১৯৬৫ সালে, তখন অনেকেই মনে করেছিলেন আঁতুড় ঘরেই এই শিশু রাষ্ট্রটির মৃত্যু ঘটবে। সিঙ্গাপুর ছিল ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের বাণিজ্যিক স্থাপনা। এখন এই নগর রাষ্ট্রটিতে রয়েছে পৃথিবীর সেরা এয়ারলাইন, শ্রেষ্ঠ বিমানবন্দর এবং অত্যন্ত ব্যস্ত বাণিজ্যিক বন্দর। পৃথক আয়ের দিক থেকে সিঙ্গাপুরের মাথাপিছু আয় বিশ্বের চতুর্থ স্থানে রয়েছে। কী করে সিঙ্গাপুর এই ঈর্ষণীয় অবস্থানে এলো? হেনরি কিসিঞ্জারের ভাষায় ‘লি কুয়ান ইউ ভিন্নভাবে চিন্তা করেছিলেন। প্রতিটি বড় সাফল্যই অর্জনের আগে থাকে একটি স্বপ্নের আকারে। তার ভিশন ছিল এমন একটি রাষ্ট্রের, যা শুধু টিকে থাকবে না, বরং প্রাধান্য অর্জন করবে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনের মাধ্যমে। উন্নততর বুদ্ধিমত্তা, শৃঙ্খলা এবং আবিষ্ক্রিয়া হবে সম্পদের বিকল্প। লি কুয়ান ইউ তার সহযোদ্ধাদের এমন একটি দায়িত্বের ডাক দিলেন, যা তারা আগে কখনও ভাবেনি; প্রথমত, নগরটিকে পরিচ্ছন্ন করে তোলা এবং তারপর এটিকে প্রতিবেশীদের বিরুদ্ধতাকে অতিক্রম করা এবং তাদের নিজেদের মধ্যে যে জাতিগত বিভেদ রয়েছে তা উন্নতর কর্মক্ষমতার দ্বারা অতিক্রম করা। আজকের সিঙ্গাপুর তারই নিদর্শন।’

এ পর্যায়ে প্রশ্ন দাঁড়ায়, বাংলাদেশকে আমরা কোন পথে নিয়ে যাব? বাস্তব অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায় কি বাংলাদেশের পক্ষে গণতন্ত্র পরিহার করে চলা সম্ভব? ব্রিটিশ শাসন আমলে ১৯৩৭ সাল থেকে দেশটি প্রতিনিধিত্বশীল গণতন্ত্রের স্বাদ গ্রহণ করে চলছে। এমন একটি দেশে গণতন্ত্র থাকবে না, মৌলিক অধিকারগুলো থাকবে না এবং রাষ্ট্রের ওপর জনগণের মালিকানা থাকবে না, এমন কথা কি ভাবা যায়? এই রাষ্ট্রের গোড়াপত্তনের সময় অঙ্গীকার করা হয়েছিল সাম্য, ন্যায়বিচার ও মানবিক মর্যাদার। সর্বোপরি প্রথম সংবিধানে স্পষ্ট করে বলা হয়েছিল, জনগণই হবে রাষ্ট্রের মালিক। এই মালিকানা অপহৃত হতে দেখে শিশু-কিশোররা আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়ে দাবি তুলেছিল ‘রাষ্ট্রকে মেরামত করতে হবে’। তারাও স্বৈরশাসনের আক্রমণ থেকে রেহাই পায়নি। এমন একটি দেশে প্রতিনিধিত্বশীল গণতন্ত্রকে যথেচ্ছ বিবর্ণ করে ফেলা হবে, এমনটি প্রথমে সম্ভব হলেও আখেরে সম্ভব হবে না। সিঙ্গাপুরে যেভাবে সুশাসন নিশ্চিত করে একটি দুর্নীতিমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হয়েছিল, ঠিক একইভাবে বাংলাদেশে সুশাসনের বিনিময়ে মানুষ গণতন্ত্র সংকুচিত হতে দেখলেও আপত্তি করত না। বাংলাদেশের মানুষের অস্থিমজ্জায় রয়েছে গণতন্ত্র। এ দেশের গণতন্ত্রকে পরিহার করা কোনোক্রমেই সম্ভব নয়। এ ধরনের চিন্তা করাও বাস্তবতাবর্জিত, অসম্ভব ও অলীক কল্পনা।

বাংলাদেশে পদে পদে সুশাসনের অভাব। এ দেশে আইনের শাসন নেই। ন্যায়ের শাসন তো দূরের কথা। কর্কট ব্যাধির মতো দুর্নীতি এর সর্বাঙ্গে ছড়িয়ে পড়েছে। চিকিৎসাবিদ্যা থেকে আমরা জানি কর্কটব্যাধি সর্ব অঙ্গে ছড়িয়ে পড়লে রোগীকে বাঁচানো সম্ভব নয়। স্বজনপ্রীতি, দলীয় অনুগতদের প্রতি প্রীতি, বিদেশে অর্থ পাচার, ব্যক্তি খাতে বিনিয়োগের অনুপস্থিতি, উন্নয়ন প্রকল্পের নামে অর্থ লুণ্ঠন, কিছু দৃশ্যমান অবকাঠামো উন্নয়নকে হঠাৎ আলোর ঝলকানিতে পরিণত করেছে। এর টেকসই হওয়ার কোনো সম্ভাবনাই দেখা যাচ্ছে না। এরকম অবস্থায় মড়ার উপর খাঁড়ার ঘায়ের মতো জনগণকে যদি নানাবিধ অপকৌশলে তাদের প্রতিনিধি নির্বাচনে বাধা দেয়া হয় এবং প্রায় একনায়কতান্ত্রিক শাসন প্রতিষ্ঠার স্বপ্নে কোনো গোষ্ঠী যদি বিভোর হয়, তা আর যাই হোক টিকে থাকতে পারবে না। জনগণ সুশাসনও পেল না, গণতন্ত্রও পেল না- দ্বিমুখী বঞ্চনার মধ্যে জনগণ পড়ে গেলে দেশটার পরিণতি কী হবে তা ভাবতেও আতঙ্কিত হতে হয়। আশা করি এ দেশের ভাগ্যবিধাতাদের সুমতি হবে। শেষ বিচারে আমরা এমন একটি দেশ চাই যে দেশের ভাগ্যবিধাতা হবে দেশেরই জনগণ। দারিদ্র্য, বেকারত্ব, অনগ্রসরতা এবং সবরকমের সামাজিক ব্যাধিমুক্ত একটি দেশ গড়ে তোলার সুযোগ জনগণের সুবিবেচনার কাছেই ছেড়ে দেয়া উচিত। কারও উচ্চাকাঙ্ক্ষার কাছে জনগণের মহৎ আকাঙ্ক্ষাগুলো বিসর্জন দেয়া কাম্য হতে পারে না। সন্ন্যাসী বিদ্রোহ, পাগল বিদ্রোহ, ফরায়েজি আন্দোলন, নানকার বিদ্রোহ, টংকো আন্দোলন, তেভাগা আন্দোলন, ভাষা আন্দোলন, ১৯৫৪-এর নির্বাচন, ’৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান এবং সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের ঐতিহ্যের যে দেশ গর্ব করতে পারে, সে দেশে জনগণের গর্বকে চূর্ণ করে দেয়ার দাম্ভিকতা একদিন না একদিন নিষ্ফল বলে প্রমাণিত হবে। ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস ও প্লাবনের এই দেশে প্রকৃতি যেমন রুদ্র রূপ ধারণ করে, তেমনিভাবে এ দেশের জনগণও সময়ে সময়ে রুদ্র রূপ ধারণ করতে পারে এ কথা করোরই ভুলে যাওয়া উচিত নয়।

ড. মাহবুব উল্লাহ : অধ্যাপক ও অর্থনীতিবিদ

ঘটনাপ্রবাহ : একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন

আরও
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×