নীতি দুর্নীতি অর্থনীতি

অর্থনীতির ইতিবাচক প্রবণতা নতুন বছরে ধরে রাখতে হবে

  ড. আর এম দেবনাথ ০৫ জানুয়ারি ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

মূল্যস্ফীতি

২০১৯ সালের শুরুটা ভালো। যে মূল্যস্ফীতি সাধারণ মানুষের শত্রু, অর্থনীতির শত্রু, তা এখন সর্বনিম্ন পর্যায়ে। ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে মূল্যস্ফীতির হার ছিল ৫ দশমিক ৩৫ শতাংশ। আজ থেকে বছর চারেক আগে এই হার ছিল ৭ দশমিক ৪ শতাংশ। মূল্যস্ফীতির নিম্নহারের সুবিধা দৃশ্যমান।

এখন পৌষ মাস। সবে ‘অগ্রহায়ণী ফসল’ অর্থাৎ আমন ধান উঠেছে। ঘরে ঘরে নতুন চালের ভাত। শাক-সবজি, মাছ-মাংস, ডিম-দুধ, ফলমূলের দাম সহনীয় পর্যায়ে। ভাতের অভাব নেই। এখন এই ভরা শীতে মানুষ খেয়ে-পরে আরামে আছে। এ সময়েই হয়েছে একাদশ সংসদ নির্বাচন।

২০১৯ সালের এই শুরুটা এমনিতেই হয়নি। ২০১৮ সালটি নির্বাচনের বছর থাকা সত্ত্বেও ছিল স্বস্তিদায়ক। প্রায় সব সূচকেই স্বস্তির চিহ্ন ছিল লক্ষণীয়। রেমিটেন্স ও রফতানি আমাদের অর্থনীতির ‘প্রাণভোমরা’। এ দুটোর সূচক ছিল ভালো। আমদানি-রফতানির গতিপ্রকৃতি ছিল আশাপ্রদ। রিজার্ভের পরিমাণ সন্তোষজনক। কৃষি উৎপাদন ছিল ভালো। শিল্পে বড় রকমের সমস্যা ছিল না।

এ প্রেক্ষাপটেই শুরু হয়েছে ২০১৯ সাল। দেখা যাচ্ছে রেমিটেন্সের পরিমাণ ২০১৮ সালে ছিল ১৫ দশমিক ৫৩ বিলিয়ন (শত কোটি) ডলার। এটা ভালো, খুবই ভালো খবর। ২০১৬, ২০১৭ সাল রেমিটেন্সের জন্য ভালো ছিল না। ওই দুই বছরের নিম্নমুখী প্রবণতা রোধ হয়ে ২০১৮ সালে রেমিটেন্সের পরিমাণ বেড়েছে প্রায় ১৫ শতাংশ।

বলা যায়, রেমিটেন্স এখন ২০১৫ সালের তুলনায় একটু বেশি হয়েছে। ডলারের বিপরীতে টাকার মূল্যমান ২০১৮ সালে কিছুটা হ্রাস পেয়েছে। এতে রেমিটেন্সের ওপর প্রভাব পড়েছে ইতিবাচক। রেমিটেন্সপ্রাপ্তরা অধিকতর ‘ক্যাশ’ পেয়েছে, যা অভ্যন্তরীণ সঞ্চয়ে ও ভোগে কাজে লাগবে।

আশা করা যায় ২০১৯ সালটি রেমিটেন্সের জন্য ভালোই যাবে। তবে এক্ষেত্রে সরকারকে দক্ষ জনশক্তি রফতানির ওপর নজর বেশি দিতে হবে। কারণ অদক্ষ জনশক্তি রফতানি করে রেমিটেন্স বৃদ্ধির প্রবণতা অব্যাহত রাখা একটু কঠিনই হবে।

অন্যদিকে অর্থনীতির আরেক স্তম্ভ রফতানির অবস্থা ২০১৮ সালে বেশ ভালো ছিল। জুলাই-নভেম্বর এই ৫ মাসে রফতানি বৃদ্ধি পেয়েছে ১৭ শতাংশ। ২০১৯ সালেও এ প্রবণতা অব্যাহত থাকার কারণ আছে। তবে এক্ষেত্রে টাকা-ডলারের মূল্যমানের দিকে নজর দিতে হবে। আমাদের টাকা ডলারের বিপরীতে যে হারে অবমূল্যায়িত হয়েছে, তার চেয়ে অধিক হারে অবমূল্যায়িত হয়েছে আমাদের প্রতিদ্বন্দ্বী মুদ্রাগুলোর।

চীন, ভারত, ভিয়েতনাম ইত্যাদি দেশ গার্মেন্টে আমাদের প্রতিযোগী। তাদের সঙ্গে আমাদের প্রতিযোগিতার সক্ষমতা বৃদ্ধির চেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে। এ কথা মনে রেখে ইতিমধ্যেই সরকার ২০১৯-২১ সালের রফতানি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণকালে গার্মেন্টের ওপর জোর কমিয়ে অন্যান্য টেক্সটাইল ও এক্সেসরিজ রফতানির ওপর জোর দিয়েছে। এতে ২০১৯ সালে রফতানি বৃদ্ধির প্রবণতা অব্যাহত থাকার কথা।

রফতানির বিপরীতে রয়েছে আমদানি। আমাদের আমদানি-রফতানির মধ্যে বিশাল ঘাটতি বিদ্যমান। ২০১৮ সালের প্রথমদিকে বলা যায় রাজনৈতিক কারণে আমদানি অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। অভিযোগ আছে পুঁজি পাচারেরও। নানা কারণে আমদানি অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ার ফলে বিরাট ঘাটতি দেখা দেয় বৈদেশিক বাণিজ্যে। এর প্রতিকূল প্রভাব পড়ে ‘ব্যালেন্স অব পেমেন্টে’ (বিওপি)। পাঁচ বছর বিওপি ছিল অনুকূলে।

কিন্তু ২০১৮ সালের প্রথমদিকেই তা প্রতিকূল অবস্থায় পড়ে। বিশাল ‘নেগেটিভ ব্যালেন্সে’র মধ্যে তা পড়ে। তবে ২০১৮ সালের শেষের দিকে আমদানির পরিমাণ কমে। শেষের দিকে ১৭ শতাংশ রফতানি বৃদ্ধির বিপরীতে আমদানি বাড়ে মাত্র ৯ শতাংশ। এতে কিছুটা স্বস্তি ফিরে আসে। ডলার স্থিতির ওপরও এর অনুকূল প্রভাব পড়ে।

খোলা বাজারে ডলারের সংকট ছিল বেশ অনেক দিন। হু হু করে ডলারের দাম বাড়তে থাকে। বাংলাদেশ ব্যাংক বাজারে ডলার বিক্রি করে ওই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা রোধ করে। ডলার রিজার্ভ পড়তির দিকে ছিল। বছরের শেষের দিকে আমাদের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আবার আগের জায়গায় ফিরে আসে। বছর শেষে রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ৩২ বিলিয়ন ডলারের উপরে, যা ৭-৮ মাস আমদানির জন্য যথেষ্ট।

বিওপিও বেশ কিছটা চাপমুক্ত হয়। এই প্রেক্ষাপটে ২০১৯ সালে যদি আমদানি বাণিজ্যকে নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রেখে উৎপাদনশীল আমদানিকে উৎসাহিত করা যায়, তাহলে বিওপি, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ, ডলারের মূল্য স্থিতিশীল থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। এক্ষেত্রে মূল্যস্ফীতিও উপকৃত হবে।

আরেকটি বিষয় আমাদের অর্থনীতিকে সাহায্য করবে। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়তির দিকে থাকায় ২০১৮ সালের প্রথমদিকে বেশ উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার জন্ম হয়। আশার কথা, বছরের শেষের দিকে তেলের মূল্য হ্রাস পায়। এতে ২০১৯ সালে অর্থনীতির ওপর চাপ কমবে। তেলের জন্য ভর্তুকির চাপ থাকবে কম। মূল্যস্ফীতির ওপর চাপ থাকবে কম। বস্তুত বর্তমান সরকার এ সুবিধা পাচ্ছে ১০ বছর যাবত। অথচ তেলের মূল্যের সুবিধা ১৯৭২-৭৫ সালে পাওয়া যায়নি।

২০১৮ সালে ব্যাংকিং খাত ছিল বহুল আলোচিত একটি বিষয়। অনিয়ম-দুর্নীতি ইত্যাদি ছিল একটি দিক। অন্যদিকে ছিল ঋণ সম্প্রসারণ, বিশেষ করে বেসরকারি খাতের ঋণ। এ খাতে ঋণ সম্প্রসারণের হার অস্বাভাবিক হারে বেড়ে যায়।

অভিযোগ, নির্বাচন সামনে রেখে অহেতুক আমদানি দেখিয়ে অনেক ব্যবসায়ী টাকা পাচার করে। এর ফলে আমদানির পরিমাণ বৃদ্ধি পায়। বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবাহ বাড়ে। এর ফলস্বরূপ ব্যাংকিং খাত পড়ে নজিরবিহীন তারল্য সংকটে। আমানতের পরিমাণ বাড়ে কম, অথচ ঋণের প্রবৃদ্ধি বেশি। এ তারল্য সংকটে পড়ে অনেক বেসরকারি ব্যাংক। তারা এ সংকট থেকে বেরোনোর জন্য সরকারের কাছ থেকে নানা সুবিধা আদায় করে নেয়।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক তার ক্যাশ রিজার্ভ রিকোয়ারমেন্ট (সিআরআর) হ্রাস করে ব্যাংকিং খাতের তারল্য সংকট রোধ করে। এদিকে সরকারি আমানত যাতে বেসরকারি ব্যাংকে বেশি বেশি যায় তার ব্যবস্থা করা হয়। এতে ২০১৮ সালের শেষের দিকে ব্যাংকিং খাতে কিছুটা স্থিতিশীলতা ফিরে আসে। বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবাহও কিছুটা হ্রাস পায়। এখন তা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের লক্ষ্যমাত্রারও নিচে।

সাড়ে ১৬ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবাহের পরিমাণ এখন মাত্র ১৪ শতাংশ। এর প্রধান কারণ ব্যাংকগুলোর পক্ষ থেকে ‘সংযত আচরণ’। দ্বিতীয় কারণ আমানত বৃদ্ধির পরিমাণ কম। এদিকটি ছাড়াও খেলাপি ঋণের সমস্যা বেড়েছে। এ ধরনের ঋণের পরিমাণ প্রায় ১১ শতাংশ এখন। এমনকি ‘পুনঃকাঠামোকৃত’ (রিস্ট্রাকচার্ড) ঋণের পরিমাণও বেড়েছে। এ ধরনের ঋণের ব্যালেন্স ২০১৫ সালের ১৪ হাজার ৫৭১ কোটি টাকার স্থলে এখন হয়েছে ১৭ হাজার ১০৩ কোটি টাকা।

এই সর্বশেষ পরিস্থিতির মধ্যেই শুরু হয়েছে ২০১৯ সাল। ব্যাংকের খাতের জন্য এ বছরটি হবে খুবই চ্যালেঞ্জিং। ঋণ নিয়ে, ব্যাংক ঋণ নিয়ে পৃথিবীজুড়েই সমস্যা চলছে। চীন, ভারত, তুরস্ক এবং ইউরোপীয় অনেক দেশেই ঋণের খেলাপি সমস্যা শুরু হয়েছে। আমরাও এর মধ্যে আছি। পুনঃতফসিলে হচ্ছে না, দেখা যাচ্ছে পুনঃগঠিত ঋণেও হচ্ছে না। খেলাপি ঋণের পরিমাণ বাড়ছেই।

প্রভিশনিংয়ে ব্যাংকের ঘাটতি হচ্ছে, মূলধন ঘাটতি হচ্ছে। বড় বড় কোম্পানির ‘ক্যাশ’ সংকট হচ্ছে। এসব দেউলিয়াত্বের প্রাথমিক লক্ষণ। উচ্চ সুদহার এর অন্যতম একটি কারণ। অবস্থা এমন পর্যায়ে যে, বাংলাদেশের বড় একটি গ্রুপ সরকারকে বলেছে তাদের ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করতে। অর্থমন্ত্রী বলেছেন ‘এমন গ্রুপ’ আরও আছে। ২০১৯ সালে নতুন অর্থমন্ত্রীর জন্য এটি একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দেবে।

এ বছর সরকারকে পুঁজি পাচারের বিষয়টিও বিবেচনায় আনতে হবে। এর সঙ্গে সম্পর্ক বিনিয়োগের। বেসরকারি বিনিয়োগ সেভাবে বাড়ছে না। অথচ সরকার একের পর এক সুযোগ-সুবিধা দিয়ে যাচ্ছে। অর্থনৈতিক জোনের বেশ কয়েকটা চালু হয়েছে এবং চালু হওয়ার পথে। এই সময়ে পুঁজি পাচার বন্ধ করে বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়াতে না পারলে সমস্যার অন্ত থাকবে না। ২০১৮-১৯ অর্থবছরের শেষ ছয় মাস পড়বে চলতি বছরে।

দেখা যাচ্ছে, সরকার রাজস্ব ঘাটতিতে পড়বে। ২০১৮-১৯ অর্থবছরের প্রথম ৫ মাসে রাজস্ব ঘাটতির পরিমাণ কাগজে দেখলাম ২৩ হাজার কোটি টাকা। এই বিরাট ঘাটতি কীভাবে পূরণ হবে, তা হবে সরকারের চিন্তার বিষয়। ২০১৮ সালে সরকার ব্যবসায়ীদের, বিশেষ করে গার্মেন্ট ব্যবসায়ীদের অনেক রেয়াত দিয়েছে। তার প্রতিদান যদি সরকার না পায়, তাহলে রাজস্বের বড় ঘাটতি দেখা দেবে।

এদিকে বিশ্ব অর্থনীতির অবস্থা বিশেষ ভালো নয়। চীন-আমেরিকার বাণিজ্য দ্বন্দ্ব বিশ্বকে বড় বিপদের মুখে ফেলে দিতে পারে। ২০১৮ সালে চীনের শেয়ার বাজার ২৫ শতাংশ মূল্য হারিয়েছে। চীনে ঋণ পরিস্থিতি ভালো নয়। তারা ঋণ নিয়ন্ত্রণ করছে। তাদের ২০১৮ সালের প্রবৃদ্ধির হার ১৯৯৯ সালের পর সর্বনিম্ন। ঘটনাক্রমে তারা আমদানি ও রফতানি বাজারের শীর্ষে। তাদের মুদ্রার মানও হ্রাস পেয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিও ২০১৯ সালে মন্দার শিকার হতে পারে। তুরস্কে বড় বড় কোম্পানিগুলো ‘দেউলিয়াত্বের’ কবলে পড়তে পারে। ভারতের বড় বড় ঋণগ্রহীতারা সমস্যার সৃষ্টি করছে। এ অবস্থায় সতর্ক থাকা দরকার আমাদের।

আশার কথা, আমাদের অর্থনীতি একটা স্থিতিশীল অবস্থায় আছে। অর্থনীতির মূল সূচকগুলোর অবস্থান ভালো। ২০১৮ সালের নির্বাচনে বর্তমান সরকারি নেতৃত্বের প্রতিও দেশবাসী পূর্ণ আস্থা জ্ঞাপন করেছে। অতএব বলা যায়, অর্থনৈতিক ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে। ২০১৮-১৯ অর্থবছরের বাজেটই হবে এর ভিত্তি ও কেন্দ্রবিন্দু।

অর্থনীতি, সমাজ ও রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সব রেকর্ড ভঙ্গ করে তিনিই হবেন চতুর্থবারের মতো বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। তাকে অগ্রিম উষ্ণ অভিনন্দন। তার নেতৃত্বে বাংলাদেশের অর্থনীতি নতুন উচ্চতায় মূল্যায়িত হোক এই কামনা করি। দারিদ্র্য ও বৈষম্যমুক্ত হোক বাংলাদেশ। শান্তি ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ হবে বাংলাদেশ, এই প্রত্যাশা রইল নতুন সরকারের কাছে।

ড. আর এম দেবনাথ : অর্থনীতি বিশ্লেষক; সাবেক শিক্ষক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

[email protected]

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×