শতফুল ফুটতে দাও

উত্তর-পুঁজিবাদের দুনিয়া

  ড. মাহবুব উল্লাহ্ ০৬ জানুয়ারি ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

দুনিয়া

পল ম্যাসন। পেশায় মূলত একজন সাংবাদিক। তার সাংবাদিকতা বিচিত্রমুখী। কলাম লেখেন, ব্রডকাস্টার হিসেবেও কাজ করেন এবং চলচ্চিত্রও নির্মাণ করেন। তিনি ছিলেন চ্যানেল ফোর নিউজের অর্থনীতি বিষয়ক সম্পাদক। বেশকিছু বইয়ের লেখক হিসেবে তিনি সাড়া জাগিয়েছেন। তার লেখা সর্বশেষ গ্রন্থটি হল ‘Post Capitalism : A Guide to Our Future’.

এ বইটি এলেন লেইন ২০১৫ সালে সর্বপ্রথম প্রকাশ করে। তার মতে পুঁজিবাদ নিছক একটি অর্থনৈতিক কাঠামো নয়। অথবা সূত্রায়িত একটি ব্যবস্থাও নয় এবং কিছু প্রতিষ্ঠানের সমাহারও নয়। এটা একটি সম্পূর্ণ ব্যবস্থা। যেসব সামাজিক, অর্থনৈতিক, জনমিতিক, সাংস্কৃতিক এবং আদর্শিক ব্যবস্থা একটি উন্নত সমাজকে কার্যকর রাখে, বাজার ব্যবস্থা এবং ব্যক্তিমালিকানার ভিত্তিতে সেসবের সবকিছু নিয়েই দাঁড়িয়ে থাকে পুঁজিবাদ।

এর মধ্যে রয়েছে কোম্পানি, বাজার এবং রাষ্ট্র। পুঁজিবাদে আরও রয়েছে অপরাধ চক্র, গোপন ক্ষমতার নেটওয়ার্ক, লাগোসের বস্তি এলাকার আধ্যাত্মবাদী প্রচারক, ওয়াল স্ট্রিটের দস্যুরূপী বিশ্লেষক ইত্যাদি। বাংলাদেশে যে বহুতল গার্মেন্ট ফ্যাক্টরি ধসে পড়ে বহু নিরীহ শ্রমিকের মৃত্যু ঘটিয়েছিল অথবা নিখোঁজ হয়ে গিয়েছিল, তার মধ্যেও রয়েছে পুঁজিবাদ। লন্ডনের প্রাইমার্ক বিপণিবিতানের জন্য পরিধেয় বস্ত্র সরবরাহ করত। এ দোকানে সস্তায় পরিধেয় বস্ত্র পাওয়া যায় বলে ক্রেতারা হুমড়ি খেয়ে পড়ত।

পুঁজিবাদকে একটি পরিপূর্ণ ব্যবস্থা হিসেবে দেখলে আমরা কতগুলো মৌলিক বৈশিষ্ট্য দেখতে পাব। পুঁজিবাদ এক ধরনের প্রাণকণার মতো। এর রয়েছে একটি জীবনচক্র। যার শুরু আছে, মধ্য অবস্থা আছে এবং আছে শেষ পরিণতি। এটা একটি জটিল ব্যবস্থা। এ ব্যবস্থার ওপর ব্যক্তি, সরকার, এমনকি পরাশক্তিরও নিয়ন্ত্রণ নেই। এ ব্যবস্থা থেকে এমন সব ফলাফল বেরিয়ে আসে যা মানুষের ইচ্ছার বিপরীতে অবস্থান নেয়।

যদিও আমরা জানি মানুষ যৌক্তিক আচরণ করে। পুঁজিবাদ এমন একটি প্রাণকণা যা নিয়ত শিক্ষা গ্রহণ করে। পরিবর্তিত অবস্থার সঙ্গে খাপ খাইয়ে চলে। এ পরিবর্তন নিছক ক্ষুদ্র পরিবর্তন নাও হতে পারে। এ ব্যবস্থা যখন বিশাল বাঁকের দিকে মোড় নেয় তখন এটিরও একটি রূপান্তর ঘটে এবং বিপদ হিসাব করে নিজের সংখ্যা বৃদ্ধি করে। বিশেষ করে এ ব্যবস্থাটি যখন বিপদের সম্মুখীন হয়।

ফলে এমন সব প্যাটার্ন ও কাঠামোর উদ্ভব ঘটায় যা পূর্ব প্রজন্মের কাছে পরিচিত ছিল না। পুঁজিবাদী ব্যবস্থার টিকে থাকার সহজাত প্রবৃত্তির উৎস হল, প্রয়োজনে প্রযুক্তির পরিবর্তন ঘটানো। তথ্যপ্রযুক্তির কথা বাদ দিয়ে আমরা যদি অন্য সব প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের কথা ভাবি, তাহলে দেখতে পাব খাদ্য উৎপাদন, জন্মনিয়ন্ত্রণ অথবা বৈশ্বিক স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে গত ২৫ বছরে সম্ভবত মানুষের কর্মক্ষমতায় সবচেয়ে শক্তিশালী জোয়ারটি এসেছে। কিন্তু যেসব প্রযুক্তি সৃষ্টি করা হচ্ছে সেগুলো পুঁজিবাদের সঙ্গে খাপ খায় না।

বর্তমান অবস্থাতে তো নয়ই, এমনকি অন্য কোনো রূপেও খাপ খায় না। পুঁজিবাদ যখন উদ্ভাবিত প্রযুক্তির সঙ্গে খাপ খায় না, তখনই প্রয়োজন হয় উত্তর পুঁজিবাদের। যেই মুহূর্তে প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের সুযোগ গ্রহণের জন্য আচরণ ও সংগঠনের পরিবর্তন আসে তখনই উত্তর পুঁজিবাদের ধারণা বাস্তব রূপ লাভ করে। পুঁজিবাদ একটি জটিল এবং খাপ খাওয়াতে সক্ষম একটি ব্যবস্থা। কিন্তু বর্তমান বিশ্ব পুঁজিবাদের পক্ষে প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাওয়ানোর সক্ষমতা হারিয়ে যাচ্ছে বললেই চলে। এ চিন্তার সঙ্গে মূল ধারার অর্থনীতি শাস্ত্রের দূরত্ব বহু যোজন। এ ব্যবস্থায় যখন চাঙা ভাব চলছিল তখন অর্থনীতিবিদরা ভাবতে শুরু করেছিলেন ১৯৮৯-তে বার্লিন ওয়ালের পতনের পর যে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে সেটি হবে চিরস্থায়ী। এ পরিস্থিতি মানবিক যুক্তিবাদিতার সবচেয়ে সঠিক বহিঃপ্রকাশ। যতই সমস্যার সৃষ্টি হোক না কেন, রাজনীতিবিদ এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিচালকমণ্ডলী, রাজস্ব ও আর্থিক পলিসির সু-সমন্বয় ঘটিয়ে সমস্যার সমাধান করতে সক্ষম হবে।

যখন দেখা গেল নতুন প্রযুক্তি এবং পুরনো ধাঁচের সমাজ অসঙ্গতিপূর্ণ তখন অর্থনীতিবিদরা ধরে নিলেন প্রযুক্তিকে কেন্দ্র করে সমাজ নতুন ধাঁচ গ্রহণ করবে। এ আশাবাদ যুক্তিপূর্ণ ছিল এই কারণে, অতীতেও এটা সম্ভব হয়েছে। কিন্তু বর্তমানে সমাজের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেয়ার প্রক্রিয়াটি ব্যর্থ হয়ে গেছে।

তথ্য অতীতের প্রযুক্তিগুলোর তুলনায় সম্পূর্ণ ভিন্ন। বর্তমান বিশ্বে যে তথ্যপ্রযুক্তি এসেছে, তার ফলে স্বতঃস্ফূর্তভাবে বাজার ম্রিয়মাণ হয়ে পড়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে, মালিকানা ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে এবং কাজ ও মজুরির সঙ্গে সম্পর্কও ভেঙে পড়েছে। এটাই হল বর্তমান যুগের সংকটের পটভূমি, যার মধ্য দিয়ে আমরা এগিয়ে চলেছি।

বিগত শতাব্দীসমূহে বামপন্থীরা বুঝতে পারেনি পুঁজিবাদের পরিসমাপ্তি কেমন রূপ পরিগ্রহ করবে। পুরনো বামপন্থীরা লক্ষ্য স্থির করেছিল, শক্তিপ্রয়োগ করেই বাজার ব্যবস্থাকে ধ্বংস করা সম্ভব হবে। এ শক্তি শ্রমিক শ্রেণী প্রয়োগ করবে হয় ব্যালটের মাধ্যমে, না হয়তো ব্যারিকেডের মাধ্যমে। রাষ্ট্র ব্যবস্থাকে দখল করেই এ লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব। সুযোগ হিসেবে আসবে প্রতিনিয়ত ঘটতে থাকা অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় ধস। গত ২৫ বছরে বামপন্থীদের এ প্রকল্প অকার্যকর হয়ে গেছে। বাজারের শক্তি পরিকল্পনাকে অকার্যকর করে দিয়েছে। ব্যক্তিতান্ত্রিকতা, যৌথতান্ত্রিকতা সংহতির স্থান দখল করেছে। বিশ্বজুড়ে বিশাল শ্রমশক্তির বিকাশ ঘটেছে। দেখতে অনেকটা সর্বহারা শ্রেণীর মতো। কিন্তু চিন্তায় ও কর্মে তারা তা নয়।

যদি কোনো মানুষ এ রকম পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে বেঁচে থাকে এবং পুঁজিবাদকে ঘৃণা করে, তাহলে এটা তার পক্ষে বিশাল আঘাত পাওয়ার শামিল। কিন্তু এ প্রক্রিয়াতেই প্রযুক্তি একটি নির্গমনের পথ সৃষ্টি করেছে। এর ফলে পুরনো বামপন্থীরা এবং অন্য যেসব শক্তি এর দ্বারা প্রভাবিত হয়েছে তাদের এটাকে মেনে নিতে হবে অথবা কোনো একসময় তাদের মৃত্যু ঘটবে।

দেখা যাচ্ছে পুঁজিবাদকে শক্তি প্রয়োগের মিছিল দিয়ে উচ্ছেদ করা যাবে না। এর উচ্ছেদের জন্য আরও গতিশীল কিছু প্রয়োজন হবে, যা ইতিমধ্যেই অবস্থান করছে। পুরনো ব্যবস্থায় এ রকম কিছু দেখা যায়নি। কিন্তু এখন একে ভেঙে ফেলার জন্য এবং অর্থনীতিকে নতুন রূপ দেয়ার জন্য নতুন মূল্যবোধ, আচরণ এবং পরিমিতিবোধ প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে। ৫০০ বছর আগের সামন্তবাদের মতো পুঁজিবাদের মৃত্যুও ত্বরান্বিত হবে বাইরের অভিঘাত এবং নতুন ধরনের মানবজাতির উদ্ভবের ফলে। প্রক্রিয়াটা শুরু হয়ে গেছে।

উত্তর পুঁজিবাদ সম্ভব হবে নতুন প্রযুক্তির ৩ ধরনের প্রভাবের ফলে। ব্যাপারটি আমরা গত ২৫ বছর ধরে লক্ষ করছি। প্রথমত, তথ্যপ্রযুক্তি কাজ করার প্রয়োজনীয়তা হ্রাস করেছে, কাজ ও কর্মহীন সময়ের মধ্যে পার্থক্য অস্পষ্ট করে ফেলেছে এবং কাজ ও মজুরির মধ্যকার সম্পর্ক শিথিল করে ফেলেছে। দ্বিতীয়ত, তথ্য-পণ্যসমূহ সঠিক দাম নির্ধারণে বাজারের সক্ষমতাকে ক্রমেই ক্ষয় করে ফেলছে। বাজার কেন আছে? বাজারের অস্তিত্ব নির্ভর করে দুষ্প্রাপ্যতার কারণে। অথচ তথ্য এখন অঢেল।

পুঁজিবাদী বাজার ব্যবস্থা টিকে থাকার চেষ্টা করে একচেটিয়া অবস্থা সৃষ্টি করার মাধ্যমে। গত দু’শ বছরে একচেটিয়াত্বের দাপট এমনভাবে লক্ষ করা যায়নি। কিন্তু সেই দাপটও টিকে থাকতে পারছে না। তৃতীয়ত, আমরা লক্ষ করছি স্বতঃস্ফূর্তভাবে মিলেঝুলে উৎপাদন করার ব্যবস্থা বিকশিত হচ্ছে। এমন সব পণ্য, সেবা এবং সংস্থার জন্ম হচ্ছে যা বাজারের নির্দেশনা এবং ব্যবস্থাপনার পদ সোপান মেনে চলে না। বিশ্বের সবচেয়ে বৃহৎ তথ্যপণ্য যাকে আমরা উইকিপিডিয়া হিসেবে জানি- এটি গড়ে উঠেছে ২৭ হাজার স্বেচ্ছাসেবকের কাজের ফলে।

এরা বিনিময়ে কিছুই নেয় না। ফলত এনসাইক্লোপেডিয়ার ব্যবসা মার খাচ্ছে এবং বিজ্ঞাপন ব্যবসায় বার্ষিক ৩ বিলিয়ন ডলারের রাজস্ব কমে গেছে। আমাদের অজান্তে বাজারব্যবস্থার ফাঁক-ফোকর গলে এমন এক অর্থনৈতিক জীবনব্যবস্থা শুরু হয়েছে যা সম্পূর্ণ ভিন্ন তালে চলছে। সমান্তরাল মুদ্রা, টাইম ব্যাংক, সমবায় এবং স্ব-ব্যবস্থিত চৌহদ্দি বেড়েই চলেছে। অর্থনীতিশাস্ত্র নিয়ে যারা কাজ করেন তারা এ ব্যাপারটির ওপর খুব একটা নজর দিচ্ছেন না।

২০০৮-এ যে অর্থনৈতিক সংকটের সূচনা হয়েছিল তার ফলে পুরনো কাঠামো ভেঙে পড়ছে এবং তারই ফলে আমরা নতুন নতুন বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন বিষয়াদি লক্ষ করছি। এখন নতুন ধরনের মালিকানা ব্যবস্থা গড়ে উঠছে। ঋণ নেয়ার নতুন রূপ দেখা যাচ্ছে এবং নতুন ধরনের আইনি চুক্তির উদ্ভব ঘটছে। সব মিলিয়ে এমন এক ব্যবসার উপরিকাঠামো গড়ে উঠছে, যার নাম দেয়া হয়েছে ভাগ করে নেয়ার অর্থনীতি। অর্থনীতিশাস্ত্রে অভিন্ন সম্পদ, বন্ধুরা একত্র হয়ে উৎপাদন করার ধারণা প্রচলিত ছিল। কিন্তু গত ২৫ বছরে এগুলোর বিশাল ব্যাপ্তি ঘটেছে। এর পরিণতি কী হবে তা নিয়ে ভাবার প্রয়োজনীয়তা খুব সামান্য সংখ্যক লোকই প্রয়োজন মনে করছে। আরও বড় কথা হল পুঁজিবাদী ব্যবস্থার ওপর এগুলোর অভিঘাত কী হবে?

তবে এ থেকে মুক্তি পাওয়ার একটি পথ আছে; যেমন ব্যাস্টিক ক্ষেত্রে এসব প্রকল্পকে সেবা যত্ন করা, অধিকভাবে প্রসার ঘটানো, এবং সর্বোপরি আজকের দিনের সরকার যেসব কাজ করছে তাতে বিশাল পরিবর্তন আনা। এজন্য প্রয়োজন প্রযুক্তি সম্পর্কে আমাদের ভাবনায় পরিবর্তন। আরও প্রয়োজন মালিকানাব্যবস্থা এবং শ্রম সম্পর্কে আমাদের ধারণায় পরিবর্তন। যখন আমরা নতুন ব্যবস্থার উপকরণগুলো তৈরি করতে সক্ষম হব, কেবল তখনই আমরা আমাদের নিজেদেরকে এবং অন্যদেরকে বলতে পারব : এটা শুধু একটি বেঁচে থাকার পদ্ধতি নয়, এটা হল নব্য উদারনৈতিক বিশ্বে ছিদ্র তৈরি করার পথ, যার মধ্য দিয়ে আমরা বেরিয়ে আসতে পারব। নতুনভাবে বেঁচে থাকার একটি প্রক্রিয়ার সূচনা হবে। এটাই হল উত্তর-পুঁজিবাদের বিশ্বব্যবস্থা। এ ব্যবস্থায় সব ধরনের ভীতি উদ্রেককারী শাসনব্যবস্থা অকেজো হয়ে যাবে। তাই নয় কি? বাংলাদেশও এর বাইরে নয়। কেমন করে এবং কিভাবে সেই বিশ্লেষণের জন্য পাঠককে একটু অপেক্ষা করতে হবে।

ড. মাহবুব উল্লাহ্ : অধ্যাপক ও অর্থনীতিবিদ

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×