কিছুমিছু

আমরা সবাই ফাউলিবাজ নায়ক মোদের কেরানিরাজ

  মোকাম্মেল হোসেন ২১ জানুয়ারি ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

কিছুমিছু

ছোট ভায়রা ইস্রাফিলকে ঘটক ধরেছিল মকবুল; কাজ হয়নি। পাষাণহৃদয় শ্বশুর আব্বা টাকা দিতে রাজি হননি। অনেকদিন ধরেই পারতপক্ষে শ্বশুরের সামনে যাচ্ছে না মকবুল। আজ মনে হচ্ছে যেতেই হবে। টাকার প্রয়োজন বড় প্রয়োজন। এই প্রয়োজনের কোনো মাফ নাই।

মানুষ টাকার জন্য কী না করে! দরকার হলে সেও শ্বশুরের পায়ে হুমড়ি খেয়ে পড়বে। তবে একটা বিষয় মকবুল কিছুতেই বুঝতে পারছে না, ইস্রাফিল পুরো বিষয়টা খোলাসা করে শ্বশুর আব্বার সামনে উপস্থাপনের পরও তিনি কেন এরকম ঠ্যাঁটামি করছেন! শ্বশুর আব্বার উদ্দেশে মনে মনে মকবুল বলে-

: আরে বেক্কলের পোলা বেক্কল; আমি টাকা চাইতেছি কী ধানের চিটার মতো পূবাইল্যা বাতাসে উড়াইয়া দেওয়ার জন্য? এইটা হইল একটা বিনিয়োগ। বিনিয়োগ মানে টাকার পেট থেইকা টাকা বাইর করা। এই সহজ বিষয়টা তো ক্লাস ওয়ানের পোলাপানও বুঝবে; অথচ আপনে লুর-লুইড়া বুড়া হইয়াও কেন বুঝতেছেন না, এইটা আমার মাথায় কিছুতেই ঢুকতেছে না!

মকবুল ঠিক করে রেখেছে, বিনিয়োগ শেষে যখন হাতে হাতে এর ফল পাওয়া যাবে, তখন কড়কড়া এক হাজার টাকার নোটের দুটি তোড়া ও পাঁচশ’ টাকার নোটের একটি তোড়া শ্বশুর আব্বার সামনে রেখে বলবে-

: আব্বা! আল্লাহর রহমতে টাকা-পয়সার অভাব দূর হইছে। এই নেন আপনের দুই লাখ টাকা। গুননের প্রয়োজন নাই, স্বয়ং ব্যাংকের বান্ডেল করা জিনিস। আর সঙ্গে পাঁচশ’ টাকার যে বান্ডেলটা দেখতেছেন, ওইখানে পুরা পঞ্চাশ হাজার আছে। শেষবারের মতো বিশ্বাস স্থাপন কইরা পুঁজি সরবরাহের মাধ্যমে আপনে আমার প্রতি যে দয়া দেখাইছেন, এইটা হইল তার যৎসামান্য পুরস্কার...

পাঁজরে গুতা খেয়ে সম্বিত ফিরল মকবুলের। মকবুলের স্ত্রী লাইলি বেগম ফিসফিস করে বলল-

: তুমি না আব্বার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে চাইছিলা? এখন যাও, আব্বা ঘরেই আছেন।

মকবুল প্রবলবেগে মাথা নেড়ে বলল-

: না-না; এখন না।

মকবুলের প্রতিক্রিয়া দেখে লাইলি বেগম খুবই অবাক হল। বলল-

: কেন! সমস্যা কী?

: প্রচুর সমস্যা। দুপুরকাল হইল খরখইরা টাইম। এই সময় মানুষের মন-মেজাজ হট থাকে। খরখইরা টাইমে আবদার লইয়া আব্বার সামনে না যাওয়াই উত্তম।

: তোমার এয়ারকন্ডিশন-টাইম কখন হবে?

: বাদ মাগরিব। দিনের শেষে সূর্য অস্ত যাইতে দেইখা বুড়া মাইনষ্যের মন উদাসীন হইয়া উঠে। দয়াল দিন যে গেল, সন্ধ্যা হইল; পার করো আমারে- মনের মধ্যে এই ধরনের একটা ভাব জাগ্রত হওয়ার পর দুনিয়ারি তাদের কাছে পলিথিনের ঠোঙ্গার চাইতেও কম মূল্যবান বস্তু মনে হয়। ঠিক এইরকম একটা মোমেন্টে টুপ কইরা বড়শি ফেলতে হবে।

মকবুল তক্কে তক্কে ছিল। শ্বশুর আব্বা মাগরিবের নামাজ পড়ে মসজিদ থেকে ফেরার কিছুক্ষণ বাদে তার সামনে গিয়ে সালাম দিল। একাব্বর মুন্সি সালামের জবাব না দিয়ে ধীরেসুস্থে চা-পান পর্ব শেষ করলেন। এরপর পান মুখে দিতে দিতে ভ্রু কুঁচকে মকবুলের উদ্দেশে বললেন-

: কিছু বলবা?

: জি আব্বা।

: কী বিষয়?

সম্পর্কের ফ্যাকড়া কঠিন ফ্যাকড়া। সম্পর্কে শ্বশুর না হলে বুড়া মিয়াকে ধরে এই মুহূর্তে একটা আছাড় দেয়া যেত। এটা কী ধরনের আচরণ? মকবুল কি তার কাছে অচিন দেশের রাজকন্যার গল্প বলতে এসেছে? মকবুলের বক্তব্যের বিষয়বস্তু কী- সেটা তো ইস্রাফিল গতকালই ক্লিয়ার করে দিয়েছে। নাকি করেনি? দ্বিধায় পড়ে গেল মকবুল। ইস্রাফিল কি শ্বশুর আব্বার কাছে তার দরখাস্ত পেশ না করেই বলে দিয়েছে- নো মানি! এটা কী করে সম্ভব? এতবড় বাটপারি ইস্রাফিলের করার কথা নয়। দ্বিধার ভেলায় ভাসতে ভাসতে মকবুল মিনমিন স্বরে বলল-

: ইস্রাফিল আপনেরে কিছু বলে নাই আব্বা!

একাব্বর মুন্সি জিহ্বার আগায় চুন লাগালেন। কৌটা থেকে এক চিমটি জর্দা নিয়ে মুখে পুরলেন। এরপর মাথার টুপি হাতে নিয়ে দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বললেন-

: বলছে।

মকবুল এতক্ষণ নিঃশ্বাস বন্ধ করে অপেক্ষা করছিল। শ্বশুর আব্বার কথা শুনে মুখ দিয়ে দম ছেড়ে মনে মনে বলল-

: বইলা থাকলে বিলম্ব করতেছেন কীজন্য? ডিমান্ড মোতাবেক টাকাগুলা এখন জামাইয়ের হাতে তুইলা দেন। মানুষ মেয়ের জামাইরে জিন্দাপীর মনে করে। পীর তো দূরস্থান- আপনেরা আমারে পীরের খাদেমও মনে করতেছেন না, এইটা ঠিক না।

শ্বশুর আব্বার কাশির শব্দে মকবুলের মনো-সংলাপের ইতি ঘটল। কাশাকাশি শেষে একাব্বর মুন্সি গম্ভীর কণ্ঠে বললেন-

: পারুলের বাপ, তোমারে একটা প্রশ্ন সোজাসুজি জিজ্ঞাসা করতেছি; তুমি এর উত্তরটাও সোজাসুজি দিবা।

: জি আব্বা, বলেন।

পানের পিক পেটে চালান করে দিয়ে একাব্বর মুন্সি বললেন-

: তোমারে কি আমি ঘরজামাই রাখছি?

মকবুল কোনো কথা না বলে মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে রইল। একাব্বর মুন্সি পুনরায় বললেন-

: আইজ সাত-আট বছর যাবত আমাকে তোমার পরিবারের ভরণ-পোষণ করতে হইতেছে। তুমিই কও, এই দায়িত্ব আমি কীজন্য পালন করব? আমি মেয়ের বাপ, এই জন্য ঠেইক্যা গেছি; তাই না?

মকবুল কিছু বলার জন্য ঠোঁট ফাঁক করতেই একাব্বর মুন্সি হাতের ইশারায় তাকে থামিয়ে দিলেন। গম্ভীর গলায় বললেন-

: বড় মেয়েটা আমার খুবই আদরের। আমি তারে তোমার হাতে তুইলা দিছিলাম এইজন্য যে, তুমি ছেলে হিসেবে ভালো। তোমার বংশ-মর্যাদা আছে; চাকরি আছে। লাইলির বিয়ার পর আমি ভাবলাম, অতি চমৎকার একটা সমন্ধ হইছে। অথচ তুমি কী করলা- এক বছরও পার হইতে দিলা না; আমার লেজে আগুন দেওয়ার জন্য এনজিওর চাকরি ছাইড়া দিয়া আইসা ঘোষণা দিলা, গেরামে ইশকুল প্রতিষ্ঠা করবা। জ্ঞানের আলো বিতরণ করবা। জাতিরে জ্ঞানের আলো বিতরণ করতে যাইয়া আইজ তোমার নিজের ঘর, নিজের পরিবার অন্ধকারে তলাইয়া যাইতেছে। খুবই চমৎকার!

অন্ধকারের বিপরীত শব্দ কী- এটা বের করতে মকবুলের এক সেকেন্ডও লাগল না। সে শ্বশুর আব্বার কথার সূত্র ধরে বলল-

: আলোর নিশানা পাওয়া গেছে আব্বা। আমি ঢাকায় গেছিলাম। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ডিজি অফিসের এক কেরানির সঙ্গে কথাবার্তা পাকা হইয়া গেছে। দুই লাখ টাকা দিলে এক কলমের খোঁচায় তিনি আমার কাগজপত্র সব ঠিক কইরা দিবেন।

মকবুলের কথা শুনে একাব্বর মুন্সি শ্লেষ মাখানো কণ্ঠে বললেন-

: তাই নাকি! কেরানিগিরির চাকরিতে কলমের এক খোঁচায় যদি দুই লাখ টাকা উপার্জন করা যায়, তাইলে তুমি কার বুদ্ধিতে মাস্টারির খাতায় নাম লেখাইছিলা? কেরানির চাকরি লইলেই পারতা।

শ্বশুর আব্বার কথা শুনে এত কষ্টের মধ্যেও হাসি পেল মকবুলের। হাসি গোপন করে মকবুল বলল-

: এখন আর এইসব ভাইবা লাভ কী আব্বা! সরকারি চাকরির বয়স থাকলে আপনের কথা বাস্তবায়নের একটা পদক্ষেপ নেওয়া যাইত; এখন আর সেই সুযোগ নাই। কাজেই যেইটা ধরছি, সেইটা লইয়াই থাকতে হবে।

: থাইকা তো কুনু লাভ হইতেছে না।

: এইবার ইনশাআল্লাহ লাভের মুখ দেখব আব্বা। আপনে মনটা একটু নরম করেন। কেরানিসাব আমারে বলছেন, টাকাগুলা তার হাতে দেওয়ার এক সপ্তাহের মধ্যে গেজেট প্রকাশ হবে। গেজেটে নাম উঠলেই কেল্লাফতে। আট বছরের বকেয়া বেতনসহ সব পাওনা-দাওনা কম্পিউটারের এক বোতামের চাপে আমার ব্যাংক একাউন্টে ঢুইকা যাবে।

সংসারে এমন অনেক বাবা আছেন, যারা মেয়ের সুখের জন্য পুরো পৃথিবী তার সামনে তুলে আনতে প্রস্তুত। একাব্বর মুন্সি হচ্ছেন এ ধরনের একজন মানুষ। তিনি মকবুলের চাহিদা অনুযায়ী দু’লাখ টাকা তার হাতে তুলে দিলেন। টাকা পেয়ে দেরি করল না মকবুল; পরদিনই বোরোরচর থেকে রাজধানীতে চলে এলো। ডিজি অফিসের কেরানির নাম সুন্দর আলী। টাকাগুলো সুন্দর আলীর হাতে তুলে দেয়ার পর সে জিহ্বায় কামড় দিয়ে বলল-

: আপনে আসছেন, ভালো কথা। কিন্তু এর মধ্যে একটা ঘটনা ঘইট্যা গেছে। বিরাট ঘটনা।

: বুঝলাম না!

: রেট তো ডাবল হইয়া গেছে।

: মানে!

: আরে এইজন্যই তো বলতেছি বিরাট ঘটনা। আপনে ঘটনার বিষয়-বৃত্তান্ত কিছু শুনেন নাই?

: না তো!

: বলেন কী! দেশ-বিদেশের প্রচুর মানুষ এই সংবাদ জানে; অথচ আপনে জানেন না? হুম! বুঝতে পারছি, মাস্টারিই আপনের উপযুক্ত লাইন।

সুন্দর আলীর কথাবার্তার মাথামুণ্ডু কিছুই বোঝা যাচ্ছে না। মকবুল অধীর হয়ে বলল-

: লাইন-বেলাইনের হিসাব পরে হবে। এখন দয়া কইরা আপনের বক্তব্য পরিষ্কার করেন।

: আপনেরে যেদিন রেট দিলাম, তার পরদিনই আল্লাহর কী কাম, ডিজি-হেলথ অফিসে একজন রাজকেরানির সন্ধান পাওয়া গেল। তার বস্তা-বস্তা টাকা, নতুন নতুন মডেলের গাড়ি, নানা ব্যবসা-বাণিজ্য, দেশে-বিদেশে একাধিক প্লট, ফ্ল্যাট, বাড়ি, জমি...

এ সময় পাশ থেকে সুন্দর আলীর সহকর্মী বলে উঠল-

: শুধু চাঁদ আর মঙ্গলগ্রহে বুকিং দেওয়া বাকি। তবে আমরা আশা করতেছি, টাইমমতো ওইখানেও তিনি প্লট-ফ্ল্যাট আর জমির বুকিং দিয়া দিবেন।

মকবুলের মাথায় আসলেই কিছু ঢুকছে না। সে আগের মতোই অধীর হয়ে বলে উঠল-

: শুনেন...

মকবুলকে থামিয়ে দিয়ে সুন্দর আলী বলল-

: আমরা কী শুনব; শুনবেন তো মিয়া আপনে! শুনেন, আমরা ছোটখাট ফাউলিবাজ। কিন্তু ডিজি-হেলথ অফিসের মাননীয় রাজকেরানির চলন-বলন-রাখন আর খাওনের স্টাইল সম্পর্কে জানার পর তারে আমরা নায়ক মানছি। আর এই নায়কের সম্মানে, তার ইজ্জত রক্ষার্থে আমরা কেরানিকূল আগে যেখানে এক টাকা ফাউলিফাই খাইতাম, এখন সেইখানে দুই টাকা কইরা খাইতেছি। এর মানে কী দাঁড়াইল, জানেন? মানে হইল- আপনের যে কাজটা আগে দুই লাখ টাকায় সমাধা হইত, এখন তার রেজাল্ট পাইতে গেলে চার লাখ লাগবে। আমি আপনের দুই লাখ টাকা রাইখা একটা রিসিভ স্লিপ দিয়া দিতেছি; বাকি দুই লাখ আনলেই আপনে কাজ কমপ্লিট পাবেন।

মকবুলের হাতে একটা চোতা ধরিয়ে দেয়া হল। এই চোতা নিয়ে কী হবে, মকবুল ভেবে পাচ্ছে না। শ্বশুর আব্বার সামনে গিয়ে আরও দুই লাখ কেন, দুই টাকা চাওয়াও তার পক্ষে সম্ভব নয়। বাস ভাড়া বাদে পকেটে সামান্য টাকাই অবশিষ্ট ছিল। মকবুল একটা কিছু মুখে দেয়ার জন্য নিচের ক্যান্টিনে চলে এলো। ক্যান্টিনের ক্যাশ কাউন্টারে একজন বৃদ্ধ বসা। তিনি মকবুলের চেহারা দেখে আঁতকে উঠে বললেন-

: আপনের কি শরীর খারাপ!

: না।

: কিন্তু চেহারা এমন ফ্যাকাশে দেখাইতেছে কেন! মনে হইতেছে, এখনই মাথা ঘুইরা পইড়া যাবেন।

বৃদ্ধ মকবুলকে জোর করে ক্যাশ কাউন্টারের সামনের টুলে বসিয়ে ফলের জুস, কলা ও কেক খেতে দিলেন। এসব খেয়ে একটু সুস্থির হওয়ার পর বৃদ্ধ ঘটনা জানতে চাইলে মকবুল কিছুক্ষণ থুম ধরে থেকে বলল-

: দুঃখের কথা আর কী বলব! চাকরি-বাকরি ছাইড়া গ্রামের আরও তিন যুবকের সঙ্গে মিইল্যা একটা রেজিস্টার্ড প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপন করছিলাম। পরে যখন এইসব বিদ্যালয় সরকারিকরণ করা হইল- দেখলাম, চারজনের মধ্যে দুইজনের নাম সরকারি খাতায় উঠছে; বাকি দুইজন অর্থাৎ আমি ও আরেকজনের নাম বাদ পড়ছে। অফিসে দৌড়ঝাপ শুরু করলাম। আইজ এই কাগজ চায়, পরেরদিন অন্য কাগজ চায়। একদিন জমির দলিল দেখতে চায়, আরেকদিন নামজারির কাগজ দেখতে চায়; নানা কিসিমের টালবাহানা। শেষে বুঝলাম, আসলে এইসব হইল টাকা খাওয়ার ফন্দি-ফিকির। শেষে নিজে থেইকা যখন টাকা-পয়সার কথা বললাম, তখন বলল- সরকারি গেজেটে নাম উঠাইতে গেলে দুই লাখ টাকা খরচ করতে হবে। অনেক হুজ্জত-হাঙ্গামা কইরা দুই লাখ টাকা জোগাড় কইরা আনছি; অথচ এখন বলতেছে চার লাখ লাগবে।

মকবুলের কথা শুনে বৃদ্ধের কপালে ভাঁজ পড়ল। তিনি জানতে চাইলেন-

: চার লাখ লাগবে কেন!

: সম্প্রতি ডিজি-হেলথ অফিসে একজন রাজকেরানির সংবাদ উদঘাটন হইছে। সেই রাজকেরানির সম্মানে এই অফিসের কেরানিসাব ঘুষ খাওয়ার রেট ডাবল কইরা ফেলছেন।

বৃদ্ধ মাথা নেড়ে বললেন-

: সংবাদটা আমিও পত্রিকায় পড়ছি। আগে আমরা শুনতাম, মাছিমারা কেরানি। দেশ স্বাধীনের পর মাছিমারা কেরানি আর মাছিমারা কেরানি রইল না; তারা বাঘ-হাতি-সিংহ মারতে শুরু করল। আর শুধু কেরানিদের দোষ দিয়া কী হবে! একটা পরিবারে যদি বাপ-চাচা সবাই ডাকাত হয়, তবে সেই পরিবারের একজন ছেলে আলেম ও মোমিন হবে- এইটা আশা করা বৃথা। প্রজাতন্ত্রের রাজা-বাদশারাই যেখানে নানা ধরনের দুর্নীতি-অপকীর্তির সঙ্গে যুক্ত; সেখানে পাইক-পেয়াদা, নায়েব-গোমস্তারা তো লাইনচ্যুত হবেই!

মোকাম্মেল হোসেন : সাংবাদিক

[email protected]

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×