ভেনিজুয়েলা সংকটের উৎস সন্ধান

  ফাইজুস সালেহীন ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

মাদুরো ও গুইদো।
মাদুরো ও গুইদো। ফাইল ছবি

স্বপ্নচারী বিপ্লবী সাইমন বলিভার ও হুগো শ্যাভেজের দেশ ভেনিজুয়েলা উত্তাল-উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে আবারও। নিজেকে দেশের অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ঘোষণা করেছেন নির্বাচিত জাতীয় সংসদের তরুণ নেতা জোয়ান গুয়াইদো।

ছত্রিশ বছর বয়সী এই নেতা ও তার সমর্থকরা বলছেন, কারাকাসে এখন কোনো নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট নেই। নিকোলাস মাদুরো বেআইনিভাবে ক্ষমতা দখল করে রেখেছেন, তিনি নির্বাচিত নন। গত ২০ মে নির্বাচনের নামে যা হয়েছে, তা প্রহসন ছাড়া আর কিছুই নয়। ওই নির্বাচনে প্রধান বিরোধী দলকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে দেয়া হয়নি। গত বছর প্রেসিডেন্ট মাদুরো এই মর্মে ডিক্রি জারি করেন যে, মেয়র নির্বাচনে যেসব দল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেনি তারা প্রেসিডেন্ট পদে নির্বাচন করতে পারবে না।

উল্লেখ্য, প্রধান বিরোধী দল মেয়র নির্বাচন বর্জন করেছিল। এ অবস্থায় কন্সটিটিউশনাল অ্যাসেম্বলি তথা পার্লামেন্টের মেজরিটি পার্টি ছাড়াই মে মাসে ভেনিজুয়েলার আগাম প্রেসিডেন্সিয়াল ইলেকশন হয়। সেই নির্বাচনে মাদুরো ৬৭ শতাংশেরও বেশি ভোট পেয়ে দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট পদে জয়লাভ করেন। একে তো একতরফা নির্বাচন, তদুপরি ভোটে ব্যাপক কারচুপির অভিযোগ ওঠে তখনই।

প্রতিবেশী ব্রাজিল, কলম্বিয়া, চিলি ও যুক্তরাষ্ট্র নিকোলাস মাদুরোকে নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট হিসেবে মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানায়। পক্ষান্তরে রাশিয়া, চীন, কিউবা, ইরান ও তুরস্কসহ রুশ-চীন বলয়ভুক্ত দেশগুলো মাদুরোকে স্বীকৃতি দিতে মোটেও বিলম্ব করেনি। দেশের ভেতরে বিরোধী দলগুলো প্রত্যাখ্যান করে নির্বাচনের ফল। তারা মাদুরোকে প্রেসিডেন্ট বলে মানে না। কাজেই ভেনিজুয়েলার শাসনতন্ত্রের ২৩৩ ও ৩৩৩ ধারা অনুযায়ী পার্লামেন্টের নেতা হিসেবে জোয়ান গুয়াইদো দেশের অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট। নিকোলাস মাদুরোর সঙ্গে রয়েছে ভেনিজুয়েলার সেনাবাহিনী।

ইলেকটোরাল কাউন্সিল যে মাদুরোর বশংবদ, সেটা প্রমাণিত। বিচার বিভাগও আছে মাদুরোর সঙ্গে। কারাকাসের সুপ্রিমকোর্ট গুয়াইদোর সম্পদ জব্দ করেছে। নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে বিদেশ ভ্রমণে। কিন্তু জনমত বিভক্ত। পরিস্থিতি যা দাঁড়িয়েছে তাতে দেখা যাচ্ছে, কারাকাস প্রশ্নে দেশের ভেতরে ও বাইরে বিভক্তি আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। ইউরোপীয় পার্লামেন্ট গুয়াইদোকে অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে।

একদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা, অন্যদিকে রাশিয়া এবং ভেনিজুয়েলার পুরনো মিত্র দেশগুলো। পরিস্থিতি দেখে মনে হয়, স্নায়ুযুদ্ধের সময়কার অবস্থার পুনরাবৃত্তি ঘটতে চলেছে কারাকাস প্রশ্নে। গৃহযুদ্ধ ও আঞ্চলিক সংঘাতের সূত্রপাত ঘটার আশঙ্কাও অমূলক নয়।

ভেনিজুয়েলা প্রশ্নে আজ যে বিশ্ববিভক্তি, তা মোটেও নতুন নয়। ক্যারিবিয়ান সমুদ্র উপকূলের মাথা উঁচু করা দুর্বিনীত এ দেশটি আলোচনায় এসেছে বারবার। আমেরিকা ও তার মিত্ররা দেশটিকে মুঠোর মধ্যে রাখার চেষ্টা করেছে বহুবার বহুভাবে; কিন্তু পারেনি। ঔপনিবেশিক শাসনাবসানের পর বছরের পর বছর দেশটি নিষ্পিষ্ট হয়েছে সামরিক শাসনের জাঁতাকলে। ষাটের দশকে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হলেও অভ্যুত্থান হয়েছে একাধিকবার।

১৯৯৯ সালে হুগো শ্যাভেজ ক্ষমতাসীন হওয়ার পর থেকে লাতিন আমেরিকার অপেক্ষাকৃত ছোট এ দেশটির কণ্ঠস্বর এতটাই উচ্চগ্রামে পৌঁছায় যে তা আমেরিকাসহ গোটা পশ্চিমা বিশ্বের মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। দেশের অফিসিয়াল নামটিও বদলে রাখা হয় ‘বলিভেরিয়ান রিপাবলিক অফ ভেনিজুয়েলা।’ আগে নাম ছিল রিপাবলিক অব ভেনিজুয়েলা। দেশের নামের সঙ্গে বলিভেরিয়ান যুক্ত করে নেয়ার মধ্যে নিহিত রয়েছে গোটা লাতিন আমেরিকাকে ঐক্যবদ্ধ করার গগনস্পর্শী স্বপ্ন।

বলিভেরিয়ান নামটি এসেছে বিপ্লবী সাইমন বলিভারের নাম থেকে। বলিভেরিয়ান মানে সাইমন বলিভারের মতবাদের অনুসারী। হুগো শ্যাভেজকে বলা যায় সাইমন বলিভারের মানসপুত্র। গোটা লাতিন আমেরিকার প্রবাদপুরুষ সাইমন বলিভার। লাতিন আমেরিকার মানুষের চরম দুঃখ ও দুর্ভোগের সময় গণমানুষের মুক্তি ও স্বাধীনতার ডাক দিয়েছিলেন সৈনিক ও রাজনীতিক সাইমন বলিভার।

১৮২১ সালে তার নেতৃত্বে ঔপনিবেশিক শাসন থেকে মুক্তিলাভ করে ভেনিজুয়েলা, কলম্বিয়া, পেরু, বলিভিয়া ও গ্রানাডাসহ দক্ষিণ আমেরিকার অনেক দেশ। তিনিই গঠন করেন গ্র্যান কলম্বিয়া। এরও একটা তাৎপর্য রয়েছে। গ্র্যান শব্দের অর্থ দাদিমা। ঐতিহ্যের রূপক হিসেবে সম্ভবত গ্র্যান শব্দটি চয়ন করা হয়েছিল। ভেনিজুয়েলা, পেরু, গ্রানাডা ও কলম্বিয়ার সমন্বয়ে গঠিত হয়েছিল এ ফেডারেশন।

ইউনিয়ন অব ইনডিপেনডেন্ট ল্যাটিন আমেরিকান স্টেটস গঠনের মধ্য দিয়ে এক বৃহৎ কনফেডারেশনের স্বপ্ন ছিল বলিভারের। কিন্তু সম্ভব হয়নি অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব-সংঘাতের কারণে। ভেঙে যায় স্টেটস অব গ্র্যান কলম্বিয়াও। ভেনিজুয়েলা ও কলম্বিয়া তো এখন পরস্পর জানি দুশমন। কিন্তু সাইমন বলিভার যেন মৃত্যুহীন। তাকে নিয়ে নির্মিত হয়েছে একাধিক চলচ্চিত্র। নোবেলজয়ী ঔপন্যাসিক গার্সিয়া মার্কেজ তার জীবনের শেষ দিনগুলোর ওপর আলোকপাত করে লিখেছেন ‘বলিভার লিবারিয়া’ উপন্যাস।

সাইমন বলিভারের স্বপ্ন ও সংগ্রাম ব্যর্থতায় পর্যবসিত হওয়ার পর বিংশ শতাব্দীর প্রায় পুরোটাজুড়েই প্রসারিত হয়েছে লাতিন আমেরিকার দুর্ভাগ্য। ঔপনিবেশিক শাসন-পরবর্তী যন্ত্রণা, কলোনিয়াল মাইন্ডসেটের উদগার, প্রথম ও দ্বিতীয় মহাসমরের অনিবার্য অভিঘাত, দুই পরাশক্তির করতলগত বলয় সৃষ্টির প্রতিযোগিতা, নানা গোত্রের মধ্যকার বিরোধ, থেমে থেমে সামরিক স্বৈরাচারের উত্থান ও আস্ফালন ছিন্নভিন্ন করে দেয় গোটা লাতিন আমেরিকাকে।

ফলে এ অঞ্চলের বিক্ষিপ্ত-বিচ্ছিন্ন মুক্তির সংগ্রাম সর্বব্যাপী হয়ে উঠতে পারেনি। বিপ্লবী ফিদেল ক্যাস্ত্রো ও চে গুয়েভারা লড়াই করে কিউবার ডিকটেটর বাতিস্তার পতন ঘটাতে সক্ষম হলেও লাতিন আমেরিকাকে এক করতে পারেনি, যদিও মধ্য আমেরিকার নিকারাগুয়া ও আফ্রিকার অ্যাঙ্গোলাসহ কয়েকটি দেশের মুক্তির সংগ্রামে কিউবা ভূমিকা রেখেছে। তবে ফিদেল ক্যাস্ত্রোর নেতৃত্বে যুক্তরাষ্ট্রের নাকের ডগায় কিউবা মাথা তুলে দাঁড়াতে পেরেছে এক সংহত ও শক্তিশালী দেশ হিসেবে।

ক্যাস্ত্রো হয়ে উঠেছিলেন বিশ্বমানবতার মুক্তির অন্যতম প্রধান নেতা। যেখানে মুক্তির সংগ্রাম, সেখানেই বরাভয় নিয়ে পাশে দাঁড়িয়েছেন ফিদেল ক্যাস্ত্রো। বাংলাদেশেরও তিনি পরম বন্ধু ছিলেন। পাশে ছিলেন আমাদের মুক্তিসংগ্রামের দিগুলোতে।

কিন্তু সামগ্রিকভাবে লাতিন আমেরিকার দেশগুলো ভালো ছিল না, ভালো নেই এখনও। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে লাতিন আমেরিকার মানুষের ওপর অত্যাচার চলেছে, দুর্ভাগ্য হানা দিয়েছে। স্খলন ও বিভেদ এ অঞ্চলের মানুষের কী নিদারুণ যন্ত্রণার কারণ হয়ে দেখা দিয়েছে, তার মর্মস্পর্শী বিবরণ পাওয়া যায় লাতিন আমেরিকার লেখকদের বিভিন্ন ক্ল্যাসিকাল রচনায়।

গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেজের কালজয়ী উপন্যাস ‘অ্যা হানড্রেড ইয়ারস অব সলিচিউড’ উপন্যাসে বিধৃত জীবন-সংগ্রাম ও যাতনার কাহিনী পড়ে বিচলিত না হয়ে পারা যায় না। এদুয়ার্দ গালিয়ানোর ‘ওপেন ভেইনস অব লাতিন আমেরিকা’ গ্রন্থেও বর্ণনা রয়েছে এ অঞ্চলের দুর্ভাগ্য, স্বপ্ন ও সংগ্রামের। ২০০৯ সালের এপ্রিলে ত্রিনিদাদে অনুষ্ঠিত আমেরিকান সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্রের বন্ধুত্ব প্রত্যাশা করে প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাকে বইটি উপহার দিয়েছিলেন ভেনিজুয়েলার তখনকার স্ট্রংম্যান হুগো শ্যাভেজ।

গত শতাব্দীর শেষপ্রান্তে ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়ে হুগো শ্যাভেজ আবারও সামনে নিয়ে আসেন সাইমন বলিভারের স্বপ্নের ঐক্যবদ্ধ লাতিন আমেরিকা ইস্যুটিকে। শুরু করলেন বলিভেরিয়ান মিশন। সেই মিশনের অংশ হিসেবে তিনি বইপড়া আন্দোলন শুরু করেছিলেন। লাতিন আমেরিকার ইতিহাস-ঐতিহ্য ও সাহিত্যের বই ছাপিয়ে বিনামূল্যে জনসাধারণ্যে বিতরণ করা হয়।

তখন রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে মানুষকে বিনে পয়সার বই সংগ্রহ করতে দেখা গেছে। বইপড়া আন্দোলন শুরুর আগে শ্যাভেজ জাতির উদ্দেশে ভাষণও দিয়েছিলেন। দেশবাসীকে তিনি বলেছিলেন, পড়ুন এবং পড়ুন। তিনি বিশ্বাস করেছিলেন, বইপড়ার মধ্য দিয়ে মানুষ নিজ দেশ ও লাতিন আমেরিকার শক্তি, সম্ভাবনা ও দুর্ভাগ্যের কারণগুলো চিহ্নিত করতে পারবেন। তারা সচেতন হবেন।

লিবিয়ার মুয়াম্মার গাদ্দাফি, ইরান এবং সমাজতান্ত্রিক ভাবধারার দেশগুলো সমর্থন দিয়েছিল শ্যাভেজকে। কিউবার সমর্থন তো ছিলই। তখন গাদ্দাফির লিবিয়া, ইরান এবং শ্যাভেজের ভেনিজুয়েলা, ক্যাস্ত্রোর কিউবা সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিল সমানতালে। ইরানের পারমাণবিক শক্তি অর্জনের অধিকার রয়েছে, সাহস করে বলতে পেরেছিলেন হুগো শ্যাভেজ। আরব বসন্তের সাইক্লোনে যখন গাদ্দাফির নাভিশ্বাস উঠে গেল, তখনও হুগো শ্যাভেজ গাদ্দাফির সমর্থনে ছিলেন অকুণ্ঠিত।

২০১৩ সালে ক্যান্সারে হুগো শ্যাভেজ পরলোকগমন করলে নিকোলাস মাদুরো হন তার উত্তরসূরি। মাদুরো শ্যাভেজের অনুসারী, শ্যাভেজের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন ২০০৬ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত। শেষে এক বছর শ্যাভেজের ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। শ্যাভেজের মৃত্যুর পর শাসনতন্ত্র অনুযায়ী তিনি প্রেসিডেন্টের কার্যভার গ্রহণ করলেও নেতার উত্তরাধিকার বহন করার সক্ষমতা মাদুরোর আছে কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

শ্যাভেজের ব্যক্তিত্বের দৃঢ়তা, সাহস, কারিশমা- কোনোটাই মাদুরোর নেই। নতুর প্রেসিডেন্টের জনপ্রিয়তায় ধস নামতে সময় লাগেনি। দুর্নীতি ও অপরাধপ্রবণতার লাগাম ধরতে পারেননি মাদুরো। অত্যধিক মূল্যস্ফীতির কারণে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা নিদারুণভাবে হ্রাস পায়। বিক্ষুব্ধ মানুষ নেমে আসে রাজধানী কারাকাসের রাজপথে। জীবন দিতে হয়েছে অনেককে। মে মাসের একতরফা ও জালিয়াতিপূর্ণ নির্বাচনোত্তরকালে পরিস্থিতির অবনতি ঘটে আরও বেশি। আগাম ইলেকশন দিয়ে যেনতেন প্রকারে জিতে নিজের শক্তি বাড়িয়ে নেয়ার মাদুরিয়ান প্রয়াস দেখা দেয় বুমেরাং হয়ে।

এক্ষণে বলিভেরিয়ান ভেনিজুয়েলার দোস্ত-দুশমনরা নিজ নিজ অবস্থানে অটল ও সরব। আমেরিকা ও তার মিত্ররা গুইয়াইদোর পাশে; একথা বলা হয়েছে আগেই। যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের গুয়াইদোর পাশে শক্ত অবস্থান নেয়ার অর্থ এ নয় যে, তারা কারাকাসে গণতন্ত্রের দুর্দশায় বিচলিত। এর মানে এও নয় যে, ভেনিজুয়েলার মানুষের অর্থনৈতিক দুরবস্থার অবসান ঘটার জন্য নিকোলাস মাদুরোকে তারা ‘নো’ বলছে।

আসলে পশ্চিমা শক্তিবলয় ভেনিজুয়েলার বলিভেরিয়ান স্বপ্নের মূলোৎপাটন করতে চায়। হুগো শ্যাভেজকে টেক্কা দিয়ে সেটা করা সম্ভব হয়নি। নিকোলাস মাদুরোর অপশাসন, অজনপ্রিয়তা এবং নৈতিক দুর্বলতার সুযোগটাকে ওয়াশিংটন এবার কাজে লাগাতে চাইছে পুরোমাত্রায়। নজর তাদের কারাকাসের তেল ও খনিজসম্পদের ওপর। এজন্য তারা বেছে নিয়েছে ৩৬ বছর বয়সী তরুণ গুয়াইদোকে।

তিনি হুগো শ্যাভেজের কট্টর সমালোচক। জোয়ান গুয়াইদো ভেনিজুয়েলাকে পুনর্গঠিত করতে চান। তার রিকনস্ট্রাকশন প্ল্যান নিয়ে ইতিপূর্বে আমেরিকায় একাধিক বৈঠক হয়েছে। নিকোলাস মাদুরোকে হটাতে প্রয়োজনে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হস্তক্ষেপে আপত্তি নেই গুয়াইদোর। আর যুক্তরাষ্ট্রও এ বিকল্পপন্থা অবলম্বনের ইচ্ছাটি গোপন রাখেনি। এ বৃহৎ শক্তি শেষ পর্যন্ত যদি সেটা করেই বসে, তাহলে রাশিয়া চুপ করে থাকবে না। মস্কো সেটা জানিয়েও দিয়েছে।

কারাকাসের পরিস্থিতি প্রতিদিন বদলাচ্ছে। নিকোলাস মাদুরো বিরোধীদের দমনে কঠোরতা অবলম্বন করে চলেছেন। এ অবস্থায় গৃহযুদ্ধ অনিবার্য হয়ে উঠছে কিনা, সেটাই এখন দেখার বিষয়। ওয়াশিংটন সামরিক পদক্ষেপ নিলে বৃহৎ যুদ্ধ বেধে যাওয়ার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেয়া যায় না।

ফাইজুস সালেহীন : সাংবাদিক ও কথাসাহিত্যিক

[email protected]

ঘটনাপ্রবাহ : ভেনিজুয়েলায় অচলাবস্থা

আরও
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×