মার্কিন হস্তক্ষেপ ভেনিজুয়েলা সংকটকে আরও গভীর করবে

  বেন ড্যাংগল ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

মার্কিন হস্তক্ষেপ ভেনিজুয়েলা সংকটকে আরও গভীর করবে
মার্কিন হস্তক্ষেপ ভেনিজুয়েলা সংকটকে আরও গভীর করবে

স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের অজুহাতে ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে উৎখাতের জন্য বর্তমানে কাজ করছে ট্রাম্প প্রশাসন। যদিও ওয়াশিংটনের প্রচেষ্টায় ভেনিজুয়েলার সংকট এবং মেরুকরণের বিষয়টিকে রক্তাক্ত ও আরও বাজে পরিস্থিতির দিকেই শুধু ঠেলে দিতে পারে।

ওয়াশিংটন থেকে অভ্যুত্থান প্রচেষ্টায় কে নেতৃত্ব দিচ্ছেন- একটু নজর বুলিয়ে দেখে নিন। গত সপ্তাহে ভেনিজুয়েলার স্বঘোষিত অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট জুয়ান গোয়াইদোকে যুক্তরাষ্ট্র স্বীকৃতি দেয়ার পর থেকে দেশটির বিরুদ্ধে যুদ্ধের দামামা বাজিয়ে যাচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা উপদেষ্টা জন বোল্টন।

সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে বোল্টন বিস্ময় তৈরি করেছেন, যেখানে তার কাছে থাকা একটি নোটপ্যাডে (ছোট ল্যাপটপ) লেখা ছিল ‘কলম্বিয়ায় ৫ হাজার সেনা’। যদিও ভেনিজুয়েলার প্রতিবেশী দেশ (কলম্বিয়া) থেকে কারাকাসে সামরিক হস্তক্ষেপ করতে যাচ্ছে কিনা যুক্তরাষ্ট্র- লেখাটি এর ইঙ্গিত হোক বা না হোক, এ থেকে যা স্পষ্ট তা হল, ভেনিজুয়েলার ক্ষেত্রে ট্রাম্পের হোয়াইট হাউস সব কটি বিকল্প টেবিলে নিয়েই অগ্রসর হচ্ছে।

সহিংসতা ও বশ না মানা সরকার পরিবর্তনের ক্ষেত্রগুলোয় জন বোল্টন অপরিচিত কেউ নন। ইরাক যুদ্ধের দিকে ফিরে তাকালে দেখা যায় বোল্টনই ছিলেন মূল ব্যক্তি, যিনি সাদ্দাম হোসেনের কাছে গণবিধ্বংসী অস্ত্র আছে- এমন বিশ্বাস তৈরিতে জনগণকে বোকা বানানোর কাজটি করেছেন। যার ফল ছিল আধুনিক ইতিহাসের সবচেয়ে বিপর্যয়কর এবং অনিঃশেষ সংঘর্ষ।

ইতিমধ্যে ভেনিজুয়েলায় বর্তমান মার্কিন সংশ্লিষ্টতা পরিচালনা করার জন্য বিশেষ দূত হিসেবে থাকা এলিয়ট আব্রামস হয়ে পড়েছেন একটি ব্যবহারযোগ্য ফাঁদ। আব্রামস পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে সামরিক শক্তি প্রয়োগের পক্ষপাতী হিসেবে কুখ্যাত, যিনি ১৯৮০-এর দশকে এল সালভেদরে রোমহর্ষক নৃশংস হত্যাকাণ্ড দেখাশোনা করেছেন এবং প্রেসিডেন্ট রেগানের সময়ে ইরানবিরোধী স্ক্যান্ডালের নেতৃত্ব দিয়েছেন ও তা গোপন করেছেন।

বিশেষ দূত হিসেবে নিজের নিয়োগের পর আব্রামস বলেছেন, ‘ভেনিজুয়েলার এ সংকট গভীর, কঠিন ও বিপজ্জনক এবং এটি নিয়ে কাজ করার জন্য আমার তর সইছে না’। শান্তি ও গণতন্ত্রের জন্য কাজ করতে সক্ষম সুষ্ঠু মস্তিষ্কের কূটনীতিক কিন্তু এ মানুষগুলো কখনোই নয়। এরা মূলত যুদ্ধাপরাধী এবং এদের বিধিনিষেধের ভেতর রাখা উচিত।

ল্যাতিন আমেরিকা এবং বিশ্বব্যাপী সরকার পরিবর্তনের মার্কিন প্রচেষ্টা যেমনটি অতীতে দেখা গেছে, ভেনিজুয়েলার বেলায়ও সামরিক হস্তক্ষেপ করা হলে রাজনৈতিক ও সামাজিক বিপর্যয়ের সম্ভাব্য একই ফল দেখা যাবে। একটি কেস স্টাডি হতে পারে, ২০০৯ সালে হন্ডুরাসের অভ্যুত্থান ঘটানোর ক্ষেত্রে সক্ষম করে তুলতে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা, যা সহিংসতা ও দায়মুক্তির সংস্কৃতি তৈরিতে সহায়তা করেছে, এমনকি যাতে ভর করে বর্তমানে শরণার্থী কাফেলার পলায়নের ভিত্তি তৈরি হয়েছে।

গত সপ্তাহে ভেনিজুয়েলার বিরুদ্ধে যেসব নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র, নিশ্চিতভাবে তা মাদুরো সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করবে; কিন্তু যেসব মানুষ এর ফলে ভোগান্তির শিকার হবেন তারা হলেন সমাজের সবচেয়ে দরিদ্র অংশগুলো।

মাদুরোর একনায়কতান্ত্রিক মানসিকতা বিবেচনায় না নিলেও একটি অভ্যুত্থানের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন, তীব্র নিষেধাজ্ঞা এবং সম্ভাব্য একটি সামরিক হস্তক্ষেপ সংকটকে কেবল গভীর ও বিস্তৃতই করবে। বিপরীতে, ওয়াশিংটনের উচিত মাদুরো ও বিরোধীদের মধ্যে শান্তিপূর্ণ আলোচনা আহ্বানের জন্য মেক্সিকো এবং উরুগুয়েকে সমর্থন করা- কারণ মাদুরোও আলোচনার জন্য একমত হয়েছেন।

বর্তমান অচলাবস্থার মাঝে একটি ঐকমত্যের সমাধান হতে পারে টেকসই ও শান্তিপূর্ণ পথ, যাতে করে সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়া যাবে। ভেনিজুয়েলায় শান্তিপূর্ণ আলোচনার প্রয়োজনের বিষয়ে উরুগুয়ের সাবেক প্রেসিডেন্ট ও বামপন্থী গেরিলা হোসে মুজিকা বলেছিলেন- ‘সবচেয়ে বাজে বিকল্প হল যুদ্ধ’। তিনি বলেছিলেন, যুদ্ধে মারা যায় ও সবচেয়ে ভোগান্তির শিকার হয় তারা, সংকটের পেছনে ‘যাদের কোনো দায়ই নেই’।

কাউন্টারপাঞ্চ ডটঅর্গ থেকে অনুবাদ : সাইফুল ইসলাম

বেঞ্জামিসন ড্যাংগল : টুয়ার্ডফ্রিডম ডটকমের সম্পাদক

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×