ঋণ ফেরত দেই মৃত্যু আসার আগেই

  চৌধুরী মনজুর লিয়াকত ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ঋণ,

একটু অবাকই হতে হয় শুনলে যে, অর্থঋণ আদালতে শুধু সরকারি ব্যাংকের ৫৫ হাজার কোটি টাকা খেলাপি ঋণ বিচারের অপেক্ষায় আটকে আছে। এ আদালতে দুই লাখ মামলা নিষ্পত্তি না হওয়ায় বিশাল অঙ্কের অর্থ আদায় হচ্ছে না। তাই অর্থঋণ আইন সংশোধনের পাশাপাশি উচ্চ আদালতে পৃথক বেঞ্চ প্রতিষ্ঠার জোরালো দাবি ব্যাংকাররা করে আসছেন বহুদিন থেকেই।

এ প্রেক্ষাপটে লিখতে গিয়ে হঠাৎ চোখে পড়ল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের একটি পোস্ট- দেশের একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার চৌধুরী তানজিম করিম নিজে উপস্থিত হয়ে একটি লিখিত অনুরোধ জানাচ্ছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে। ঋণখেলাপিদের বিচার ত্বরান্বিত করার কিছু সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব রয়েছে সেখানে, যা এগিয়ে নেয়ার উদ্যোগ আমাদের আশাবাদী করবে।

ওই প্রস্তাবনার মর্মার্থ হল আইনের প্রয়োগ আরও গতিশীল করে খেলাপি ঋণ দ্রুত যেন নামিয়ে আনা যায় সহনীয় পর্যায়ে। এ লক্ষ্যে পদক্ষেপগুলো হতে পারে এরকম : ১. ক্রমবর্ধমান অর্থঋণ মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে অর্থঋণ আদালতের সংখ্যা বাড়ানো; ২. অর্থঋণ আদালতের বিচারকদের অভিজ্ঞতা নিরূপণ করে তাদের বদলি-রদবদলের দিকে বিশেষভাবে দৃষ্টি দেয়া; ৩. অর্থঋণ মামলার বিপরীতে বিবাদীকৃত রিটগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য হাইকোর্ট বিভাগে বেঞ্চ গঠন; ৪. আদালতকে বিভ্রান্ত করতে ঋণখেলাপি কর্তৃক মিথ্যা তথ্য প্রদানকে একটি অন্যতম অপরাধ হিসেবে পরিগণিত করে প্রচলিত আইনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা; ৫. ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে জারিকৃত গ্রেফতারি পরোয়ানা কার্যকরের উদ্দেশ্যে বিশেষ মনিটরিং সেল গঠন করে ব্যবস্থা নেয়া। তিনি আরও আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন, ঋণ আদায়বিষয়ক প্রাসঙ্গিক মন্ত্রণালয়গুলোর সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের বর্তমান গভর্নরের সুদূরপ্রসারী নেতৃত্বে একটি আলোচনা শুরু করা, যাতে ব্যাংক ও নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো একটি ভালো ফল পায় এ বিষয়ে।

কাকতালীয়ভাবে এরপরই ৩০ জানুয়ারি বিভিন্ন পত্রিকায় দেখলাম বাংলাদেশ ব্যাংক ৬ ফেব্রুয়ারি একটি পরামর্শক সভা তলব করেছে। ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ এ বৈঠকটি আহ্বান করেছিল। খেলাপি ঋণ সমস্যার লাগাম হাতে রাখতে ব্যাংক কোম্পানি আইন সংশোধন করতে পারে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংক, আইন কমিশন ও তফসিলি সব ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের সঙ্গে বৈঠক হল ৬ তারিখেই।

উল্লেখ্য, ২০০৯ সালে যেখানে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ২২ হাজার ৪৮২ কোটি টাকা, সেখানে ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯৯ হাজার ৩৭০ কোটি টাকায়। একই সময় ঋণ অবলোপন করা হয়েছে আরও প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকা। এই হিসাব ধরলে দেশের ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ হবে দেড় লাখ কোটি টাকা, যা আমাদের জাতীয় বাজেটের এক-চতুর্থাংশ।

অবশেষে সেই পরামর্শক সভায় ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীরা ঋণখেলাপিদের আটকাতে বিভিন্ন পরামর্শ তুলে ধরেন। সভাটিতে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ আইন কমিশনের চেয়ারম্যান সাবেক প্রধান বিচারপতি এবিএম খায়রুল হকসহ কমিশনের সব সদস্য, আদালতের বাইরে বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য গঠিত বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল আরবিট্রেশন সেন্টারের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ (রুমি) এ আলী। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে করিমের সভাপতিত্বে এ সভায় প্রতিষ্ঠানটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

জানা যায়, বৈঠকে ব্যাংকের এমডিদের পক্ষ থেকে প্রস্তাব ওঠে- খেলাপি ঋণ কমাতে হলে ঋণখেলাপিদের ওপর সামাজিক চাপ সৃষ্টি করতে হবে, যা অনেক দেশেই আছে। বিস্তারিত না জানা গেলেও যতটুকু জানা যায়- সভায় উঠে আসে ঋণখেলাপিরা দেনা শোধ না করে বিলাসী জীবনযাপন করবে, তা যেন না হয়। তাদের জমি কেনার ক্ষেত্রে বাধা সৃষ্টি করা উচিত। তাদের পাসপোর্ট নবায়ন আটকে দেয়ার কথাও আসে। দেশের বাইরে ভ্রমণে বাধা দেয়া, এমনকি দেশের ভেতরে যেন বিমান টিকিট কিনতে না পারে তারা, এ ব্যাপারটিও উঠে আসে।

তাদের সন্তানদের ভালো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি হওয়ার সুযোগ আটকে দেয়া যেতে পারে বলে অভিমত আসে। এসব ব্যক্তি যেন গাড়ি কিনতে না পারে, কোনো ধরনের যানবাহনের লাইসেন্স না পায় তারা, এ বিষয়গুলোও আসে অন্য অনেক পন্থার পাশাপাশি। মালয়েশিয়া, চীন, নেপালের মতো খেলাপিদের সামাজিকভাবে বয়কটের সিদ্ধান্ত নিলে খেলাপি ঋণ কমে যাবে বলে জোরালো মতামত আসে এ সভায়। তবে বলা হয়, এটি ফলপ্রসূ করতে হলে আইন সংশোধন করতে হবে।

এমডিদের এ পরামর্শের সঙ্গে একমত আর্থিক খাতের নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ব্যাংক। আইনজ্ঞরা বলছেন, দেশে খেলাপি ঋণ কমাতে চাইলে শক্ত পদক্ষেপ দরকার। তবে সবই নির্ভর করবে সরকারের মনোভাব ও সিদ্ধান্তের ওপর। রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত ছাড়া কঠোরভাবে কোনো পদক্ষেপ নেয়া সম্ভব নয়।

প্রসঙ্গত, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এবার শপথ নেয়ার পর তার প্রথম বৈঠকে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর মনোভাব (জিরো টলারেন্স) প্রকাশ করেছেন। আর নতুন অর্থমন্ত্রী প্রথমদিন শপথের পরই খেলাপি ঋণের ব্যাপারে তার কঠিন অবস্থান জানিয়ে দিয়েছেন। তাই উপরের বৈঠকে আসা রাজনৈতিক অঙ্গীকারের বিষয়টি অনেকটাই পরিষ্কার হয়ে গেছে। এ বৈঠক শেষে তফসিলি ব্যাংকগুলোর প্রধান নির্বাহীদের সংগঠন এবিবি চেয়ারম্যান মাহবুবুর রহমান বলেন, সরকার চাচ্ছে খেলাপি ঋণ কমাতে।

বর্তমান অর্থমন্ত্রী ৬ ফেব্রুয়ারি রূপালী ব্যাংকের এক সম্মেলনে খেলাপি ঋণকে অপরাধ (ক্রাইম) হিসেবে চিহ্নিত করে বলেন, আমাদের দেশে দুই ধরনের ব্যবসায়ী রয়েছেন। প্রথম শ্রেণী হল- যারা আসলেই ব্যবসা করতে চান, কিন্তু মাঝে মাঝে হোঁচট খান (Forceful Defaulter)। হোঁচট খেয়ে খেলাপিতে পরিণত হন। তাদের প্রতি সহনশীল হতে হবে। কারণ তারা হয়তো পরিস্থিতির শিকার। আরেক ব্যবসায়ী শ্রেণী আছেন, যারা টাকা ফেরত না দেয়ার জন্য ঋণ নেন (Willfull Defaulter)। তাদের প্রতি তিনবার সাবধানবাণী উচ্চারণ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, তাদের কোনো ছাড় দেয়া হবে না; সেই টাকা আদায়ে যে ধরনের ব্যবস্থা নেয়া দরকার সেটিই করা হবে জোর দিয়ে।

ব্যাংকের এমডিদের সভাটিতে খেলাপি ঋণ কমাতে বিদ্যমান আইনগুলো সংস্কার ও যুগোপযোগী করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। ব্যাংকাররা আরও জানিয়েছেন, ব্যাংক কোম্পানি আইন, অর্থঋণ আদালত আইন ও দেউলিয়া আইনের কিছু বিষয় সংস্কার দরকার। কারণ অনেকেই ব্যাংকের দায় শোধ না করে আদালতে চলে যাচ্ছেন। সেখান থেকে স্থগিতাদেশ নিয়ে আসছেন। এ সভায় আর্বিট্রেশন নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

জানা গেছে, কেন্দ্রীয় ব্যাংক হয়তো অচিরেই সার্বিকভাবে সব বিবেচনা করে প্রচলিত আইনের কিছু সংশোধনের জন্য তাদের প্রস্তাবনাগুলো দেবেন অর্থ মন্ত্রণালয়ে। গত সভায় ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের অনুরোধ বিবেচনায় নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক হয়তো খুব সহসাই আইনমন্ত্রী মহোদয়, অ্যাটর্নি জেনারেল এবং মাননীয় বিচারকদের সঙ্গে একটি আলোচনা সভা করবে প্রচলিত আইন সংশোধনের জন্য, যাতে ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া যায়। জানা যায়, কেন্দ্রীয় ব্যাংক ইতিমধ্যে ক্রমবর্ধমান খেলাপি ঋণের লাগাম টানার উদ্দেশ্যে কিছু আইন সংশোধনের লক্ষ্যে কাজ শুরু করেছে, যার মধ্যে আছে দেউলিয়া আইন-১৯৯৭, অর্থঋণ আদালত আইন-২০১৩ এবং নেগোশিয়েবল ইন্সট্র–মেন্ট অ্যাক্ট-১৮৮১।

ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপিকে ক্রাইম বলার পাশাপাশি ব্যাংকারদেরও সচেতন করেন অর্থমন্ত্রী রূপালী ব্যাংকের ওই সভায়। কিন্তু যারা অনিচ্ছাকৃত ঋণখেলাপি তাদের বিষয়টি কঠিনভাবে না দেখে তাদের পথ দেখাতে হবে খেলাপি থেকে বের হয়ে আসার জন্য। কারণ তারাও পরিস্থিতির শিকার। এ সভায় মাননীয় অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আর যারা (ব্যাংকাররা) ঋণখেলাপিদের সহায়তা করেছেন, তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়া হবে। প্রতিটি ব্যাংকে বিশেষ নিরীক্ষা (অডিট) করা হবে।

আপনাদের (ব্যাংকারদের) বিপদে ফেলতে নয়, নির্ভার করতেই এ নিরীক্ষা হবে।’ অসাধারণ এক বাস্তবভিত্তিক কথা বলেছেন মাননীয় অর্থমন্ত্রী। অনেক মাঝারি ও নিচের সারির ব্যাংকার বিনা দোষে বিপদে পড়েন। মালিক পক্ষের কেউ কেউ এবং উচ্চপদস্থ কিছু অসাধু ব্যক্তি অসৎ কাজগুলো করে আর অসৎভাবে অর্জিত টাকার জোরে ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যায়।

এ বিষয়টির অনুধাবন প্রয়োজন সমাজে সুস্থ ধারা বজায় রাখতে। এখানেও ওই অনিচ্ছাকৃত ঋণ প্রক্রিয়ায় জড়িয়ে যাচ্ছেন যে কর্মকর্তারা, তাদের নিরাপত্তা দেয়ার কথা চিন্তা করতে হবে। কারণ ইচ্ছা করলেই তো চাপের মুখে মুহূর্তে চাকরিটি ছেড়ে দেয়া যায় না। চোখের সামনে ছেলেমেয়ে, সংসার আর মা-বাবার মুখ ভাসে। প্রতিবাদ করে হঠাৎ চাকরি ছেড়ে যাবেন কোথায়, খাওয়া-পরা চলবে কীভাবে। এগুলো মনে ভাসে। বিষয়গুলো রেগুলেটর আর তদন্ত প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত সবাইকে ভেবে দেখতে হবে।

সত্যিকার অর্থে তাদের (নিরপরাধ) সম্পর্কে পুরো প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের (একেবারে পিয়ন-ড্রাইভারসহ) কাছ থেকে ভালো-খারাপ দিক জানা হোক। দেখা হাক ‘আইটি টেন বি’-এর মাধ্যমে ইনকাম ট্যাক্স রিটার্নসহ সব সম্পদের বিষয়টি। চাকরি হারানোর ভয়ে করা একটি সইকে প্রাধান্য দেয়ার আগে আরও কিছু টুল বের করা হোক নিরপরাধ মানুষকে রক্ষায়। এতে অনেক নিরপরাধ রক্ষা পাবে। অনেক নিরীহ পরিবারের চোখের পানি থামবে। দৃষ্টি দেয়া প্রয়োজন রাঘববোয়ালদের দিকে।

অর্থমন্ত্রী নিরীহ নিরপরাধ মানুষের কথা চিন্তা করেই হয়তো বলেছেন, আপনাদের (ব্যংকারদের) নির্ভার করতেই নিরীক্ষার ব্যবস্থা হচ্ছে। তিনি মালয়েশিয়ার উদাহরণ টেনে বলেছেন, সেখানে যেসব ব্যক্তি ইচ্ছাকৃত খেলাপি তাদের নামের তালিকা সরকারিভাবে তৈরি করে বিভিন্ন সংস্থায় পাঠানো হয়। আইন প্রয়োগকারী সংস্থাসহ বিমানবন্দরে এটি ঝোলানো থাকে। কেউ দেশত্যাগ করতে চাইলে তাকে আটক করা হয়। সেখানে খেলাপিদের কোনো ভিসা দেয়া হয় না।

এ প্রসঙ্গে আরও দু-একটি উদাহরণ দেয়া যায়। ঋণখেলাপিদের পরিচয়পত্র এবং পাসপোর্ট কালো তালিকাভুক্ত করেছে চীন। তাদের কোনো হাইস্পিড ট্রেনের টিকিটও দেয়া হচ্ছে না। রাষ্ট্রীয় আর সামাজিকভাবে হেয় করার ফলও পেয়েছে দেশটি। আইনি প্রক্রিয়ায় গতি এনে খেলাপি ঋণের হার নিয়ন্ত্রণে রেখেছে শ্রীলঙ্কা। নেপাল ও ভুটান রেগুলেটরদের ক্ষমতায়ন করে আইনে গতি এনে এ ব্যাপারে সাফল্য পেয়েছে। ভারতও কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে এ ব্যাপারে। এর মধ্যে একটি হচ্ছে ‘ফিউজিটিভ ইকোনমিক অফেন্ডার্স বিল’ নামে একটি আইন। এ আইনে কোনো ঋণখেলাপি দেশত্যাগ করলে তার সম্পদ জব্দ করা হবে।

আসলে ঋণখেলাপি সংস্কৃতি লিগ্যাল সমস্যা বা লিগ্যাল গভর্নেন্স সমস্যার চেয়ে সামাজিক-সাংস্কৃতিক সমস্যাই বেশি। এ বিষয়টি মনে রেখেই আমাদের পদক্ষেপ নিতে হবে। ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। সামাজিক আন্দোলনের পাশাপাশি একটু ভাবা যাক স্পিরিচুয়ালিটির আলোকে। মৃত্যু আসে যে কোনো সময়ে।

সন্তানরা যদি প্রশ্ন করে, ‘বাবা ঋণ নিয়েছিলে, ফেরত দিয়েছিলে কি? আমাদের যে ঋণখেলাপির সন্তান বলে ডাকা হচ্ছে। এতে আমাদের কী দোষ। একজন রিকশাচালকও তো ঘাম ঝরিয়ে দুটো ডাল-ভাত খাইয়ে সন্তানদের সৎ রোজগারে বড় করছে। মানুষের টাকা ব্যাংক থেকে সরিয়ে দিয়ে নয়।’ এ আলোকে প্রত্যেক ধর্ম, ধর্মগ্রন্থ নিশ্চয়ই তিরস্কার করে আমানতের খেয়ানতকারীদের। এখানে পবিত্র কোরআনের কয়েকটি আয়াত নিয়ে একটু চিন্তা করি সবাই- হে বিশ্বাসীগণ! আল্লাহ নির্দেশ দিচ্ছেন যে, তোমরা সব আমানত তার মালিককে ফিরিয়ে দেবে। আল্লাহ সব শোনেন, সব দেখেন (সূরা নিসা, আয়াত ৫৮ থেকে)।

কিতাবিদের মধ্যে অনেকে রয়েছে আমানতদার। যাদের কাছে বিপুল ধনসম্পত্তি রাখলেও তা ফেরত দেবে। আবার অনেকে আছে, যাদের কাছে একটা দিনার আমানত রাখলেও তার পেছনে লেগে না থাকলে ফেরত দেবে না। কারণ এটা ওদের ভ্রান্ত ধারণার পরিণতি (সূরা আলে ইমরান, আয়াত ৭৫ থেকে)।

অতএব হে বিশ্বাসীগণ! আল্লাহ ও তার রাসূলের বিশ্বাসকে ভঙ্গ করো না আর জেনেশুনে পরস্পরের আমানতের কোনো খেয়ানত করো না। জেনে রাখো, ধনসম্পত্তি ও সন্তানসন্ততি তো তোমাদের জন্য এক প্রলুব্ধকারী পরীক্ষা মাত্র। আসল পুরস্কার তো আল্লাহর কাছে (সূরা আনফাল, ২৭-২৮ নং আয়াত)।

আল্লাহ তাঁর সন্তুষ্টির জন্য মানবকল্যাণে করা প্রতিটি কাজকেই উত্তম ঋণের মর্যাদা দিয়েছেন। এর মধ্যে মানুষের টাকা, যা ব্যাংক থেকে ঋণ আকারে নেয়া হয়, তা ফেরত দেয়াটা অর্থাৎ সাধারণ মানুষের কষ্টার্জিত আমানতের খেয়ানত না করা অন্যতম। যা যথাসময়ে পরিশোধ করতে হবে, নিজের জীবদ্দশায়। আর এর পাশাপাশি অসিয়ত করে যাওয়া উচিত, যাতে হঠাৎ মৃত্যু গ্রাস করে নিলেই (যা অবশ্যম্ভাবী) পরিবার-পরিজন তা পরিশোধ করতে এতটুকু দ্বিধা না করে, কষ্ট না করতে হয়। মনে রাখতে হবে, ওই ঋণ তো আল্লাহতায়ালা মাফ করবেন না, কারণ তা যে ছিল বান্দার হক (হাক্কুল ইবাদ)।

তাই উত্তরাধিকারদের ভারমুক্ত করে সৃষ্টিকর্তার নির্দেশিত পথে স্থায়ী নিবাস (পরকালীন জীবনের) আর চিরকালীন শান্তি অর্জনের জন্য চলুন যথাসময়ে ঋণ ফেরত দেই মৃত্যু আসার আগেই। সময় যে বড় কম।

চৌধুরী মনজুর লিয়াকত : অর্থনীতিবিষয়ক লেখক

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×