খেলাপি ঋণ হ্রাসে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা চাই

  এম এ খালেক ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

দুর্নীতি

দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি ঘোষণার পর থেকেই ব্যাংকিং সেক্টরের দুরবস্থা নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। বিশেষ করে খেলাপি ঋণের মাত্রা সহনীয় পর্যায়ে নামিয়ে আনা এবং অন্যান্য অনিয়ম দূর করে উন্নয়নের সহায়ক শক্তি হিসেবে এই সেক্টরকে কীভাবে আরও কাজে লাগানো যায়, তা নিয়ে অনেকেই ভাবতে শুরু করেছেন।

অর্থনীতিবিদরা একবাক্যে স্বীকার করে নিয়েছেন যে, অর্থনৈতিক উন্নয়ন সত্যিকারভাবে গতিশীল ও টেকসই করে তার সুফল সবার জন্য ন্যায্যতার ভিত্তিতে ভোগ করার সুযোগ সৃষ্টির ক্ষেত্রে একটি স্বচ্ছ ব্যাংকিং সেক্টরের বিকল্প নেই। কারণ ব্যাংকিং সেক্টর হচ্ছে দেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি। বিশেষ করে উন্নয়নশীল দেশ, যেখানে ব্যক্তিগত পুঁজি জোগানোর সীমাবদ্ধতা রয়েছে, সেখানে ব্যাংকিং সেক্টর ভালোভাবে কাজ না করলে কোনোভাবেই দ্রুত ও টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।

দেশের ব্যাংকিং খাত নানা জটিল সমস্যায় জর্জরিত। সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে অভ্যন্তরীণ সুশাসনের অনুপস্থিতি এবং খেলাপি ঋণের উচ্চমাত্রা। খেলাপি ঋণের পরিমাণ কমানো না গেলে কোনোভাবেই ব্যাংকিং সেক্টরকে গতিশীল এবং উদ্যোক্তা কল্যাণে ব্যবহার করা যাবে না। এমন একটি অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে যে, একজন উদ্যোক্তাও বুকে হাত দিয়ে বলতে পারবেন না তিনি ব্যাংক ঋণ গ্রহণ করেছেন অথচ কোনো পর্যায়েই দুর্নীতির সঙ্গে সমঝোতা করেননি। রাষ্ট্র্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা দেশের সাধারণ মানুষের ট্যাক্সের অর্থে বেতন-ভাতা গ্রহণ করেন।

কিন্তু তাদের অনেকের আচরণ দেখলে মনে হয়, তারা যেন জনগণের সেবক নন, জনগণের প্রভু। তারা অর্পিত দায়িত্বকে ব্যক্তিগত ক্ষমতা বলে মনে করেন। ব্যাংকিং সেক্টর নানা জটিল সমস্যায় জর্জরিত হয়ে পড়ার কারণে এর স্বাভাবিক গতি বিঘ্নিত হচ্ছে। এর মধ্যে সবচেয়ে জটিল সমস্যা হচ্ছে খেলাপি ঋণ কালচার। ব্যাংকিং সেক্টরের জন্য যেসব আইন-কানুন চালু আছে তার বেশিরভাগই সৎ এবং নিয়মিত ঋণ পরিশোধকারী উদ্যোক্তাদের স্বার্থ রক্ষা করছে না। অপব্যবহারের কারণে এসব আইন ঋণখেলাপিদের স্বার্থই সংরক্ষণ করছে। আমাদের দেশের ব্যাংকিং সেক্টরের জন্য যেসব আইন চালু আছে তা আন্তর্জাতিক মানের।

অধিকাংশ আইন উন্নয়ন সহযোগীদের প্রেসক্রিপশনে প্রণীত। কিন্তু এগুলো দেশের প্রচলিত সমাজ বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। ফলে এসব আইনের অপব্যবহার করে ঋণখেলাপিরা স্বার্থ হাসিল করছে। বাংলাদেশের ব্যাংকিং সেক্টরে যেসব আইন প্রচলিত আছে তার বেশিরভাগই ঋণখেলাপি এবং ইচ্ছাকৃতভাবে যারা ব্যাংক পরিশোধ করে না তাদের স্বার্থরক্ষা করে চলেছে।

একজন ঋণখেলাপিকে স্বচ্ছ এবং খেলাপি ঋণমুক্ত দেখানোর একটি চমৎকার পন্থা হচ্ছে ঋণ হিসাব পুনঃতফসিলীকরণ বা লোন অ্যাকাউন্ট রিসিডিউলিং। কোনো ঋণ হিসাব খেলাপি হয়ে পড়লে ঋণগ্রহীতা মোট খেলাপি ঋণের ১৫ শতাংশ অথবা মোট পাওনা ঋণের ১০ শতাংশ এককালীন ডাউন পেমেন্ট হিসেবে ব্যাংকে জমা দিলে তার ঋণ হিসাব পুনঃতফসিলীকরণ করে নিতে পারবেন। প্রথমবার ঋণ হিসাব পুনঃতফসিলীকরণের মেয়াদ হচ্ছে সর্বোচ্চ ২ বছর।

অর্থাৎ এ দুই বছরের মধ্যে সংশ্লিষ্ট ঋণগ্রহীতাকে কোনোভাবেই খেলাপি হিসেবে আখ্যায়িত করা যাবে না। দ্বিতীয়বার ঋণ হিসাব পুনঃতফসিলীকরণের ক্ষেত্রে মোট খেলাপি ঋণের ৩০ শতাংশ অথবা মোট পাওনা ঋণের ২০ শতাংশ এককালীন ডাউন পেমেন্ট হিসেবে ব্যাংকে জমা দিতে হয়। দ্বিতীয়বার পুনঃতফসিলীকরণের মেয়াদ হচ্ছে সর্বোচ্চ ১ বছর ৬ মাস। তৃতীয়বার ঋণ হিসাব পুনঃতফসিলীকরণ করার ক্ষেত্রে ডাউন পেমেন্টের হার হচ্ছে মোট খেলাপি ঋণের ৫০ শতাংশ অথবা মোট পাওনা ঋণের ৩০ শতাংশ। তৃতীয়বার পুনঃতফসিলীকরণের মেয়াদ ১ বছর। এখন প্রশ্ন হল, কোনো ঋণখেলাপি প্রথমবার পুনঃতফসিলীকরণের পর নিয়মিত কিস্তি পরিশোধে ব্যর্থ হলে তাকে দ্বিতীয় ও তৃতীয়বাবের জন্য পুনঃতফসিলীকরণের সুযোগ কেন দেয়া হবে? এটা তো অনেকটাই পরীক্ষিত যে, তিনি পুনঃতফসিলীকরণের পরও ঋণের কিস্তি পরিশোধে ব্যর্থ হয়েছেন। বারবার পুনঃতফসিলীকরণের সুযোগ দেয়ার অর্থই হচ্ছে তাদের সময়ক্ষেপণের সুযোগ সৃষ্টি করে দেয়া।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে একশ্রেণীর ঋণখেলাপি কোনো ডাউন পেমেন্ট ছাড়াই ঋণ হিসাব পুনঃতফসিলীকরণের সুযোগদানের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকে আবেদন করেছিলেন। খেলাপি ঋণ হিসাব পুনঃতফসিলীকরণের সুযোগ পাচ্ছেন মূলত তারা, যারা নিয়মিত ঋণের কিস্তি পরিশোধ করেন না। যারা ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপি এবং নিয়মিত ঋণের কিস্তি পরিশোধ করেন না, তাদের ঋণ হিসাব পুনঃতফসিলীকরণের সুযোগ ঢালাওভাবে দেয়া ঠিক নয়। বরং যারা নিকট অতীতে নিয়মিত ঋণের কিস্তি পরিশোধ করেছেন, কিন্তু বাস্তবসম্মত কোনো কারণে বর্তমানে ঋণের কিস্তি পরিশোধে অপারগ হয়েছেন, এমন উদ্যোক্তাদেরই ঋণ হিসাব পুনঃতফসিলীকরণের সুযোগ দেয়া যেতে পারে।

বর্তমানে দেশের ব্যাংকিং সেক্টরে মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ হচ্ছে প্রায় ৯৯ হাজার কোটি টাকা। এর সঙ্গে অবলোপনকৃত ৩৭ হাজার ৮৬৬ কোটি টাকা যোগ করা হলে মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়ায় ১ লাখ ৩৬ হাজার কোটি টাকারও বেশি। ব্যাংকিং সেক্টরের খেলাপি ঋণের পরিমাণ কৃত্রিমভাবে কমিয়ে দেখানোর একটি চমৎকার পন্থা হচ্ছে ঋণ হিসাব অবলোপন। ‘অবলোপন’ শব্দটি উচ্চারিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই মওকুফ বা দাবি ত্যাগ করার মতো একটি আবহ সৃষ্টি হয়।

কিন্তু অবলোপন অর্থ কোনোভাবেই ঋণের দাবি ত্যাগ করা নয়। এটা হচ্ছে সেই গৃহস্থের মতো যার তিনটি ছেলে আছে। এর মধ্যে দু’জন সুস্থ-স্বাভাবিক এবং একজন শারীরিকভাবে পঙ্গু। কোনো অতিথি বেড়াতে এলে তিনি সুস্থ সন্তানদ্বয়কে তাদের সামনে নিয়ে পরিচয় করিয়ে দেন। অসুস্থ ছেলেটিকে ঘরের ভেতরে আটকে রাখেন, যাতে সে অতিথিদের সামনে গিয়ে বিব্রতকর পরিস্থিতির সৃষ্টি না করে। অসুস্থ ছেলেটিকে অতিথিদের সামনে না আনলেও সে কিন্তু অস্তিত্বহীন হয়ে যায় না। সে অস্তিত্ববান কিন্তু দৃশ্যমান নয়। অসুস্থ ছেলের জন্য তার অভিভাবকের দায়িত্বও কম নয়। অবলোপনকৃত ঋণের অবস্থাও ঠিক তাই।

অবলোপনকৃত ঋণের অঙ্ক অস্তিত্ববান, কিন্তু প্রদর্শিত বা দৃশ্যমান নয়। কোনো ঋণ অ্যাকাউন্ট মন্দ ঋণ হিসাব শ্রেণীকৃত হওয়ার পর ৫ বছর অতিক্রান্ত হলে সেই প্রকল্প বা প্রকল্প উদ্যোক্তার বিরুদ্ধে উপযুুক্ত আদালতে মামলা দায়েরের পর কিছু শর্তসাপেক্ষে তা অবলোপন করা হয়। মন্দা ঋণ হচ্ছে সেই ঋণ হিসাব, যা থেকে কিস্তি আদায়ের আশা ব্যাংক ত্যাগ করে। এ জন্য মন্দ ঋণকে লোকসানও বলা হয়। মন্দ ঋণের জন্য শতভাগ প্রভিশন রাখতে হয়। অবলোপনকৃত ঋণ হচ্ছে মন্দ ঋণের সর্বশেষ অবস্থা। এই ঋণের বিপরীতেও শতভাগ প্রভিশন রাখতে হয়। প্রত্যেক ঋণ হিসাবের বিপরীতে ব্যাংকগুলোকে নির্ধারিত হারে প্রভিশন সংরক্ষণ করতে হয়। যেমন, নিয়মিত ঋণের ক্ষেত্রে ১ শতাংশ প্রভিশন রাখতে হয়। স্পেশাল মেনশন অ্যাকাউন্টের ক্ষেত্রে ৫ শতাংশ। সাব-স্ট্যান্ডার্ড ঋণের ক্ষেত্রে ২০ শতাংশ, সন্দেহজনক ঋণ হিসাবের ক্ষেত্রে ৫০ শতাংশ এবং মন্দ ঋণের ক্ষেত্রে শতভাগ প্রভিশন রাখতে হয়। যদি ধরা হয়, কোনো ব্যাংকের মন্দ বা অবলোপনকৃত ঋণের পরিমাণ ১০০ কোটি টাকা, তাহলে সেই ব্যাংককে তার বিনিয়োগযোগ্য তহবিল থেকে ১০০ কোটি টাকা আলাদাভাবে সংরক্ষণ করতে হবে। ব্যাংকটির বিনিয়োগযোগ্য তহবিল যদি ২০০ কোটি টাকা হয়, তাহলে সেই ব্যাংক ১০০ কোটি টাকার বেশি বিনিয়োগ করতে পারবে না। কারণ অবশিষ্ট ১০০ কোটি টাকা তাকে প্রভিশন হিসেবে সংরক্ষণ করতে হবে।

২০০২ সালে দেশের ব্যাংকিং সেক্টরের জন্য অবলোপন নীতিমালা জারি করা হয়। সেই থেকে এ পর্যন্ত ৪৯ হাজার ৭৪৫ কোটি টাকার ঋণ হিসাব অবলোপন করা হয়েছে। অবলোপনকৃত ঋণ হিসাব থেকে ব্যাংকগুলো এ পর্যন্ত আদায় করতে পেরেছে ১১ হাজার ৮৭৯ কোটি টাকা। ইতিমধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ঋণ হিসাব অবলোপন নীতিমালা আরও সহজীকরণ করেছে। আগে একটি ঋণ হিসাব মন্দ ঋণ হিসেবে বিবেচিত হওয়ার পর ৫ বছর অতিক্রান্ত হলে উপযুক্ত আদালতে মামলা দায়েরের পর তা অবলোপন করা যেত। এখন মন্দ ঋণ হিসেবে চিহ্নিত হওয়ার পর তিন বছর অতিক্রান্ত হলেই মামলা দায়ের করা যাবে।

একই সঙ্গে ২ লাখ টাকা পর্যন্ত মন্দ ঋণ অবেলোপনের জন্য মামলা করার বাধ্যবাধকতা থাকছে না। আগে এটা ছিল ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত। এ ছাড়া এসব ঋণের ওপর কোনো নিরাপত্তা সঞ্চিতি বা প্রভিশন রাখতে হবে না। বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশোধিত অবলোপন নীতিমালা কার্যত ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণ কালচারকে আরও জটিল করে তুলবে। খেলাপি ঋণ আদায়ের মাধ্যমে স্থিতি কমানোর পরিবর্তে অন্য কোনো পন্থায় তা কমিয়ে দেখানোর উদ্যোগ কখনোই সমর্থনযোগ্য হতে পারে না।

নতুন অর্থমন্ত্রী দায়িত্ব গ্রহণের পর বলেছেন, এখন থেকে খেলাপি ঋণ আর বাড়বে না। তার এই বক্তব্য বাস্তবায়িত করার জন্য ব্যাংক ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো জোর তৎপরতা শুরু করেছে। কিন্তু বিদ্যমান অবস্থায় ঋণের কিস্তি আদায়ের মাধ্যমে খেলাপি ঋণের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো যাবে বলে মনে হয় না। কারণ ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর খেলাপি ঋণ পরিস্থিতি খুবই নাজুক অবস্থার মধ্যে রয়েছে। স্বাভাবিক অবস্থায় ঋণ আদায়ের মাধ্যমে এ অবস্থা থেকে উত্তরণ সম্ভব নাও হতে পারে। কারণ ব্যাংকগুলো বিপুল পরিমাণ বাজে ঋণ দিয়েছে গত কয়েক বছরে। আগামীতে নতুন করে ঋণ প্রদান না করলেও পুরনো ঋণ আদায়ে তাদের ঘাম ছুটে যাবে। অর্থমন্ত্রী বলেছেন, খেলাপি ঋণ আর বাড়বে না। অর্থমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রতি সম্মান দেখিয়ে ব্যাংকগুলো এখন বিকল্প কিছু ব্যবস্থা নিতে পারে। কিস্তি আদায়ের মাধ্যমে খেলাপি ঋণ যেহেতু কমাতে পারবে না, তাই ব্যাংকগুলো ব্যাপক হারে ঋণ হিসাব পুনঃতফসিলীকরণ করতে পারে। অবলোপনের পরিমাণ বাড়িয়ে দিতে পারে। একই সঙ্গে তারা ব্যাপক হারে নতুন ঋণ দিতে পারে। এই তিনটি পদক্ষেপের যে কোনো একটি গ্রহণ করা হলেও খেলাপি ঋণের পরিমাণ অথবা হার কমে আসবে।

ধরা যাক, একটি ব্যাংকের মোট প্রদত্ত ঋণের পরিমাণ হচ্ছে ২০০ কোটি টাকা। এর মধ্যে ১০০ কোটি টাকা বা ৫০ শতাংশই খেলাপি। ব্যাংকটি যদি ৫০ কোটি টাকা খেলাপি ঋণ পুনঃতফসিলীকরণ করতে পারে তাহলে সেই ব্যাংকের খেলাপি ঋণের হার ২৫ শতাংশে নেমে আসবে। একইভাবে ব্যাংকটি যদি পুনঃতফসিলীকরণ না করেও ৫০ কোটি টাকার খেলাপি ঋণ অবলোপন করে, তাহলেও তার খেলাপি ঋণের হার ৫০ শতাংশ থেকে ২৫ শতাংশে নেমে আসবে। এ দুটি পন্থা গ্রহণ না করেও যদি ব্যাংকটি তার নতুন ঋণদান কার্যক্রম বাড়িয়ে দেয় এবং এক বছরের মধ্যে আরও ২০০ কোটি টাকা নতুন ঋণ প্রদান করে, তাহলে অতীতে ঋণের কিস্তি আদায় না করেও তাদের খেলাপি ঋণের হার ২৫ শতাংশে নেমে আসবে। যদি নির্দেশ দেয়া হয়, ঋণ হিসাব পুনঃতফসিলীকরণ, অবলোপন এবং ব্যাপকভাবে নতুন ঋণ প্রদান করা ছাড়াই বকেয়া ঋণের কিস্তি আদায় করতে হবে, তাহলে বোঝা যাবে ব্যাংকগুলো ঋণ আদায়ে কতটা সামর্থ্যবান।

ব্যাংকিং সেক্টরের অবস্থা ভালো করতে হলে ঋণ হিসাব পুনঃতফসিলীকরণ এবং অবলোপন কার্যক্রম সীমিত করা যেতে পারে। একমাত্র পরীক্ষিত ও প্রকৃত ঋণখেলাপি, যারা ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও নানা প্রতিকূলতার কারণে সময়মতো ঋণের কিস্তি পরিশোধ করতে পারছেন না, তাদেরই এসব সুযোগ প্রদান করা যেতে পারে। ঋণখেলাপি সৃষ্টির জন্য উদ্যোক্তারা যেমন দায়ী তেমনি ব্যাংকের একশ্রেণীর অসৎ কর্মকর্তাও কম দায়ী নন। তাদের চিহ্নিত করে কঠোর আইনি ব্যবস্থার আওতায় আনতে হবে। প্রয়োজনে এদের অবসরোত্তর বিচার করা যেতে পারে। তাদের অবসরকালীন সুবিধাদি এবং প্রভিডেন্ট ফান্ডের টাকা আটকে দেয়া যেতে পারে। রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের দলীয় রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হওয়ার প্রবণতা যে কোনো মূল্যে বন্ধ করতে হবে। মামলাধীন প্রকল্পগুলো থেকে ঋণ আদায়ের পরিমাণ খুবই সামান্য। ব্যাংক মামলায় জয়লাভ করলেও উদ্যোক্তারা রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করে রায় কার্যকর করা বিলম্বিত করেন। এটা দূর করতে খেলাপি ঋণ আদায়ের জন্য পৃথক ট্রাইব্যুনাল গঠন করা যেতে পারে। এ ছাড়া একজন উদ্যোক্তাকে কোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করতে হলে দাবিকৃত টাকার অন্তত ৫০ শতাংশ এককালীন জমা দিতে হবে- এ ধরনের একটি নিয়ম করা যেতে পারে। ব্যাংকিং সেক্টরের ভবিষ্যৎ নিয়ে আমাদের গুরুত্বের সঙ্গে ভাবতে হবে। অন্যথায় আগামীতে দেশের উন্নয়ন কার্যক্রমে এ সেক্টর তার দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করতে পারবে না।

এম এ খালেক : অর্থনীতিবিষয়ক কলাম লেখক

--
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×