রুখতেই হবে দুর্নীতি

  অমিত রায় চৌধুরী ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

রুখতেই হবে দুর্নীতি
ছবি-যুগান্তর

অত্যন্ত আশার কথা- দুর্নীতি নির্মূলের পক্ষে জনমত ক্রমশ সুদৃঢ় হচ্ছে। বিশেষ করে তরুণ জনগোষ্ঠীর মাঝে এমন আকাক্সক্ষা তীব্র থেকে তীব্রতর হয়ে উঠছে। দুর্নীতি রুখে দিতে জনমানসে একটা প্রতিরোধমূলক প্রস্তুতি হয়তো সম্পন্ন হয়েছে।

সমাজ, সভ্যতা, রাষ্ট্রনীতি, অর্থনীতি ও সংস্কৃতি সময়ের খেয়ায় নিয়তই বদলে যায়। মূল্যবোধ গঠনের রসায়নও হয়তো কালের চিহ্ন বহন করে চলে। যে উচ্চ ন্যায়বোধ একজন বাঙালিকে অনন্য দেশাত্মবোধে উজ্জীবিত করে ’৭১-এ মুক্তিযুদ্ধে শামিল করেছে, ’৫২-র রক্তস্নাত রাজপথে মায়ের ভাষাকে আগলে রেখেছে, সেই অনপনেয় আবেগ, সংবেদনশীলতা কীভাবে সময়ের স্রোতে ভেসে ফিকে হয়ে আসে- তা অনাগত দিনে কৌতূহলের উৎস হয়ে থাকবে।

বিগত শতক জুড়ে ইতিহাসের বাঁকে বাঁকে এ জনজাতির যে নৈতিক মান, দৃঢ়তা ও রাজনৈতিক প্রজ্ঞার পরিচয় মেলে, বিশ্ব ঐতিহ্যে তা নিতান্তই বিরল। সেই জনগোষ্ঠীই নিছক বৈষয়িক প্রাপ্তির আশায় ইহজাগতিক লোভকে সংযত করতে হিমশিম খাবে- এ কথা মেনে নেয়া কঠিন।

মুক্তিযুদ্ধোত্তর কালেই বঙ্গবন্ধুকে মানব প্রকৃতির এই বিচিত্র স্খলন ব্যথিতই করেছে। সম্মোহনী সাংগঠনিক প্রজ্ঞার আলোয় সাদা পোশাকে আবৃত তথাকথিত শিক্ষিত শ্রেণীকে দুর্নীতির বিরুদ্ধে তিনি সতর্ক করেছিলেন। লুটপাটতন্ত্রের লোলুপ হাতছানিকে তারা যেন অগ্রাহ্য করে সেজন্য তিনি প্রাণপণ চেষ্টাও করেছিলেন।

কিন্তু বঙ্গবন্ধুর নির্মম হত্যাকাণ্ডের মধ্য দিয়ে দেশ শুধু রাষ্ট্রীয় চরিত্র হারিয়ে ফেলে তা নয়, ন্যায়ভ্রষ্টতার অপ্রতিরোধ্য সংক্রমণ সেবা প্রতিষ্ঠানগুলোর সীমারেখা ছাড়িয়ে ব্যক্তির নাগরিকতাবোধকে পর্যন্ত বিপর্যস্ত করে তোলে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে সমাজ কার্যত দুর্নীতিসহিষ্ণু হয়ে যায়।

কয়েক দশকের ব্যবধানে পরিস্থতি এতটাই পাল্টে যায় যে, একজন অসাধু দুর্নীতিবাজও সামাজিক গ্লানি বা লজ্জাবোধ থেকেও দায়মুক্তি পেয়ে যায়। রাষ্ট্রব্যবস্থার দুর্বলতার কারণে অসৎপথে অর্জিত টাকা রাষ্ট্রীয় আর্থিক প্রতিষ্ঠানে গচ্ছিত রাখতেও এদের কোনো ভয়-ভীতি বা দ্বিধা কাজ করেনি।

রাজনীতির দুর্বৃত্তায়ন পরিবেশকে এমনভাবে কলুষিত করে ফেলে যে, দুর্নীতিবাজ সরকারি কর্মচারী, ব্যবসায়ী বা রাজনীতিক তার অসৎ সঞ্চয়ের তথ্য জনসমক্ষে প্রকাশ করতে লজ্জাবোধ করেননি।

শিক্ষা বা স্বাস্থ্য পরিসরে দুর্নীতির চিত্র সাম্প্রতিকতম সংযোজন। নিকট অতীতেও দেখা গেছে চিকিৎসা কিংবা শিক্ষা মহৎ পেশা হিসেবেই সমাদৃত ছিল। শৈশবের স্মৃতি ঘাটলে চোখের সামনে ভেসে ওঠে ত্যাগ ও প্রজ্ঞার মূর্তপ্রতীক হিসেবে চিকিৎসক ও শিক্ষকদের বেশ কিছু উজ্জ্বল মুখচ্ছবি; যাদের শুদ্ধাচারী জীবনযাপন আজও আদর্শ জীবনের পথরেখা হিসেবে গ্রাহ্য হয়ে যায় অনায়াসে।

অথচ সেই শিক্ষাঙ্গনও সাম্প্রতিক সময়ে পাঠবিমুখতা, শ্রেণীবহির্ভূত কোচিং বাণিজ্য, ভর্তি বাণিজ্য, প্রশ্ন ফাঁস, উত্তরপত্র মূল্যায়নে অবহেলা, নিয়োগ বাণিজ্যের মতো অনৈতিক চর্চার কেন্দ্রমুখে পরিণত হয়েছে। তবে আশার কথা- বিগত দশকে মূলত রাজনৈতিক সদিচ্ছার কারণে শিক্ষাক্ষেত্রে পরিস্থিতির অনেক ইতিবাচক পরিবর্তন ঘটেছে। প্রযুক্তির ব্যবহার শিক্ষা প্রশাসনে গতিশীলতা, জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা অনেকটাই ফিরিয়ে এনেছে।

স্বাস্থ্য খাত রাষ্ট্রীয় সেবার মানচিত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একজন মেধাবী সন্তান করদাতার বিপুল অর্থে লেখাপড়া সম্পন্ন করে দেশসেবার মহৎ আপ্তবাক্য উচ্চারণ করে ক্যারিয়ার শুরু করেন। এসব চিকিৎসকের উজ্জ্বল পদচারণায় মুখরিত ও সুরভিত থাকার কথা চিকিৎসাসেবা কেন্দ্রগুলো।

কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য, স্বাস্থ্যসেবা কাঠামোর ফাঁকফোকরে বেড়ে ওঠা দুর্নীতির পরিপুষ্ট অস্তিত্ব মাঝেমধ্যে আমাদের চমকে দিচ্ছে। একজন হিসাবরক্ষক আফজালের শতকোটি টাকা আত্মসাতের নিদর্শন অপরাধের গভীরতা বোঝার জন্য যথেষ্ট। এটা যে হিমশৈলের চূড়া তা বুঝতে কষ্ট হয় না। চিকিৎসকের নিষ্ঠার অভাব বা অতি মুনাফার লালসা বিদেশমুখী চিকিৎসাপ্রার্থী মানুষের কাফেলাকে যে দীর্ঘতর করছে- এ বিষয়ে কেউ সংশয় প্রকাশ করে না।

পণ্যক্রয়, পদায়ন, বদলি কিংবা কর্মস্থলে অনুপস্থিতির অভিযোগ নতুন নয়। তৃণমূলের মানুষকে সেবা দেয়ার জন্য বর্তমান প্রধানমন্ত্রী যখন ইউনিয়নভিত্তিক ইন্টার্ন ডাক্তারদের সেবার সুযোগ সৃষ্টি করেছিলেন, তা সদ্ব্যবহার করা যায়নি। এমনকি কমিউনিটি ক্লিনিকের ধারণার সফল বাস্তবায়নের পথেও বাদ সেধেছে চিকিৎসকের লাগামহীন লালসা। সরকারি হাসপাতালগুলোয়ও ব্যবহার্য যন্ত্রপাতির অযত্ন, অবহেলার অভিযোগ এখন গা সওয়া।

রাষ্ট্রীয় অর্থের বিপুল অপচয় রোধ করার ক্ষেত্রে ডাক্তারদের একাংশের নিষ্পৃহতা লক্ষণীয়। তবে এ কথাও ঠিক, স্বাস্থ্য খাতে বিনিয়োগ বেড়েছে। সেবার পরিসরেও গুণগত মান বৃদ্ধির প্রাণান্ত চেষ্টা লক্ষ করা গেছে। বিগত বছরগুলোয় সেবার পরিধি বেড়েছে, নতুন নতুন বিশেষায়িত হাসপাতাল, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সেবা পৌঁছে দিতে পরিকল্পিত উদ্যোগও চোখে পড়ছে। তবে সেবার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত চিকিৎসকরা যদি নৈতিকতা ও আদর্শের পরীক্ষায় পিছিয়েই পড়েন, সে ক্ষেত্রে পরিস্থিতির উন্নতি শ্লথ হয়ে পড়বে।

তীব্র প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে সর্বোচ্চ মেধার প্রমাণ দিয়ে পাবলিক সার্ভিস কমিশনের সুপারিশের ভিত্তিতে প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীরা নিযুক্ত হন। তবে শোনা যায়, অনেক ক্ষেত্রেই দুর্নীতির সম্ভাব্য আকারই এদের ক্যাডার পছন্দের অগ্রাধিকার নিরূপণে নির্ধারকের ভূমিকা পালন করে; যা লজ্জাজনক ও মেধার অন্তর্গত মাধুর্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। অন্যায্যতার সে পথ ধরেই কাস্টমস, পুলিশ, রেল, প্রকৌশল, সড়ক ও ভূমি ব্যবস্থাপনা দুর্নীতির প্রচলিত ক্ষেত্র হিসেবে সমাজে স্বীকৃত হয়ে এসেছে।

খাদ্যে ভেজাল দেয়া নৈতিক অবক্ষয়ের আরও একটা কুৎসিত চিত্র। পবিত্র রমজান মাসেও এ নীতিবিবর্জিত অভ্যাস থেকে আমরা বিরত থাকতে পারছি না; যা জাতি হিসেবে আমাদের ভাবমূর্তির অন্তঃসারশূন্যতা প্রকট করে তোলে।

ছোট-বড় বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলোও স্বল্পতম সময়ে যেভাবে ব্যাপক মুনাফার ক্ষেত্র হিসেবে আমাদের দেশে বিকশিত হওয়ার সুযোগ পায়- তা এককথায় অবিশ্বাস্য। অপরদিকে খেলাপি ঋণের সংস্কৃতি ও আর্থিক অব্যবস্থা পরিস্থিতিকে ক্রমশ জটিল করে তুলছে।

ভূমি, আইন, বিচারিক দফতরসমূহ যথেষ্ট নজরদারির দাবি রাখে। ফারাক্কা বা তিস্তার কথা বলে রাজনীতির মঞ্চ আমরা সহসাই উত্তপ্ত করি। কিন্তু দেশের ছোট-বড় নদী দখল আমাদের দৈনন্দিন অভিজ্ঞতা, যা নদীগুলোর অস্তিত্বকে প্রতিনিয়ত বিপন্ন করে তুলছে। এভাবেই আমরা সড়ক বা সরকারি জমি অবৈধভাবে দখল করার সংস্কৃতি তৈরি করে ফেলেছি।

এমন আত্মহননের প্রক্রিয়া জীববৈচিত্র্য, জলবায়ু সর্বোপরি আমাদের অস্তিত্বের জন্যই হুমকি। নগ্ন ভোগবাদিতার আস্ফালন আমাদের মৃত্যুদ্বীপের কিনারায় পৌঁছে দিতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, ভবন বা যে কোনো অবকাঠামো নির্মাণে দেশের জনগণ দেশীয় ইঞ্জিনিয়ার বা ঠিকাদারের ওপর আস্থা রাখতে পারছে না। লক্ষ করলে দেখা যাবে, রাজধানী কিংবা দেশের বড় বড় শপিংমলে ক্রেতাদের গতিবিধির ওপর সার্বক্ষণিক নজরদারির ব্যবস্থা আছে।

অথচ উন্নত দেশগুলোয় পারস্পরিক বিশ্বাস ও উচ্চ নৈতিকতাবোধের কারণে শপিংমলে দোকানদারেরও প্রয়োজন পড়ে না। আমাদের মতো দেশে যেখানে ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধ চর্চার ঐতিহ্য প্রাচীন ও সমৃদ্ধ, সেখানে কেন আমরা একে অপরকে বিশ্বাস করতে পারছি না সেটি আমাদের ভাবিয়ে তুলছে। আমাদের মানসজগতেও একটা বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনা জরুরি বলে মনে হয়।

আদালত প্রাঙ্গণ বিচারপ্রার্থী সাধারণ নাগরিকের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জনদুর্ভোগের আরও একটি ক্ষেত্র সেই অত্যাবশ্যক পরিসরটি। জজকোর্ট থেকে সুপ্রিমকোর্ট- বিজ্ঞ আইনজীবীদের পরামর্শ ফি সাধারণ মধ্যবিত্তের নাগালের বাইরে; ফলে মানুষ ন্যায়বিচার পাওয়ার সাংবিধানিক অধিকার থেকে অনেক ক্ষেত্রে বঞ্চিত হয়।

আইন পেশায় একজন আইনজীবী তার ফি কত নিতে পারেন, সে বিষয়েও নীতিমালা থাকা উচিত। দেখা যায়- দুর্বল বিপদগ্রস্ত মানুষ যখন বিচারপ্রার্থী হয়ে আদালতের দ্বারে দ্বারে ঘোরেন, তখন তিনি আইন পেশাজীবীদের শরণাপন্ন হন বললে যথেষ্ট হবে না, রীতিমতো এক ক্লেদক্লিষ্ট ব্যবস্থার কাছে নিজেকে সমর্পণ করেন, যেমনভাবে জীবনের জন্য চিকিৎসকের কাছে তিনি অসহায় হয়ে পড়েন।

বাস্তবতার নিরিখে বলা যায় উভয় ক্ষেত্রেই অনেকাংশে মানবতার নিদারুণ পরাজয় ঘটে। একজন জাহালম বা চট্টগ্রামের একজন অসহায় শিশুর মৃত্যুর আর্র্তি সমাজে ঘটে যাওয়া এমন অনেক ঘটনার নিরুচ্চার প্রতীক। শুধু আইন প্রয়োগ করে বা এককভাবে সরকারের পক্ষে এই সামাজিক দুর্বৃত্তায়ন সামাল দেয়া কঠিন।

দুর্নীতির প্রসঙ্গ উঠলে অনেকেই আজকাল গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। মুক্তসমাজে সব বিষয়ে প্রশ্ন ওঠা দরকার, অমীমাংসিত নীতিগত প্রশ্নের নিষ্পত্তিও প্রয়োজন। চাই পক্ষপাতমুক্ত দৃষ্টিকোণ। জরুরি আত্মবীক্ষণ।

আমরা যেন সত্যকে সত্য, মিথ্যাকে মিথ্যা বলার অভ্যাস তৈরি করি। মুক্তিযুদ্ধ, ১৫ আগস্ট, ২১ আগস্ট, বিভিন্ন হত্যাকাণ্ড বা তার দায়মুক্তি এমনকি রাষ্ট্রনৈতিক, অর্থনৈতিক বা বৈদেশিক নীতির মতো গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় ইস্যুতে আমাদের অবস্থানকে স্পষ্ট করা জরুরি।

সব দলের গণতন্ত্র চর্চার অতীত ও ভবিষ্যৎ বিশ্লেষণের সাহস, সততা ও স্বচ্ছতা দরকার। ভোটার তালিকায় কীভাবে ভুয়া ভোটার অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল, ইসি বা দুদক কী নিরপেক্ষভাবে অতীতে কাজ করতে পেরেছিল তার নির্মোহ বিশ্লেষণও প্রয়োজন।

ভবিষ্যতের রাজনীতির চরিত্রই বা কী হবে সে বিষয়েও সুনির্দিষ্ট দৃষ্টিকল্প থাকতে হবে। আমাদের মতাদর্শিক অবস্থান যেন দেশ, কাল, পাত্রভেদে বদলে না যায়, সেদিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখা জরুরি। সুশাসন প্রতিষ্ঠায় যেন আমরা সবাই মিলে একটা সহনশীল, বহুত্ববাদী ও ন্যায়পরায়ণ রাষ্ট্র হিসেবে আমাদের দেশকে এগিয়ে নিতে পারি সে লক্ষ্যে একসঙ্গে কাজ করার বিকল্প নেই।

আদালতের ভাষায় দুর্নীতির যেখানে শুরু, মানবাধিকারের সেখানেই যবনিকা। মূল্যবান এ পর্যবেক্ষণের তাৎপর্য আমাদের উপলব্ধি করতে হবে। আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে আনা দুর্নীতির অভিযোগগুলো যত দ্রুত সম্ভব নিষ্পত্তি করলে জনমনে স্বস্তি ও আস্থা সৃষ্টি হবে।

রাষ্ট্রীয় সেবা খাতগুলোয় দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তা, কর্মচারী যত প্রভাবশালীই হোক না কেন তাদের বিচারের আওতায় আনা জরুরি। আমলা, চিকিৎসক, শিক্ষক, আইনজীবী, রাজনীতিবিদ- সমাজের যে অংশের প্রতিনিধিই হোন না কেন, তাকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।

রাজনীতিবিদ, আমলা, ব্যবসায়ী- যাদের বিরুদ্ধে অতীতে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল, মামলার সারবস্তু অনুযায়ী তা নিষ্পত্তির পক্ষে জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলতে হবে। দুর্নীতিবিরোধী অভিযান চালিয়ে যাওয়া বিদ্যমান সমাজ বাস্তবতায় খুব সহজ কাজ নয়। ছত্রে ছত্রে আসবে প্রতিরোধ। দল-মত নির্বিশেষে।

স্বার্থচক্র সক্রিয় হবে। আজ যারা দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরব, তাদের অনেকের অস্বস্তিও দৃশ্যমান হবে। সে কারণেই প্রয়োজন দেশের বৃহত্তর স্বার্থে দল-মত নির্বিশেষে দুর্নীতির বিরুদ্ধে সব শুভশক্তির ইস্পাতকঠিন ঐক্য।

সব ক্ষুদ্রতার ঊর্ধ্বে উঠে জাতীয় স্বার্থে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দুর্নীতিবিরোধী অভিযানের প্রতি নিঃশর্ত সমর্থন ও সহযোগিতা করা সব দেশপ্রেমিক নাগরিকের কর্তব্য। বিশ্বাস রাখতে পারি, এ দেশের বিশাল তারুণ্যের ওপর; যাদের ঋজুতা, সারল্য ও দেশপ্রেমের পুনর্জাগরণ এগিয়ে দেবে প্রিয় মাতৃভূমিকে অবিশ্বাস্য এক সম্ভাবনার আলোকিত বলয়ে।

অমিত রায় চৌধুরী : সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ

[email protected]

আরও পড়ুন
--
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×