নতুন বইয়ের গন্ধ যখন মন টানে

  সৈয়দ রবিউস সামস্ ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

বইমেলা

শিক্ষক শব্দটি শুনলে যে শব্দটি মনের অজান্তেই নিজেদের ভেতর উচ্চারিত হয় তা হল ছাত্র। তেমনি লেখকের বেলায় সেই শব্দটি পাঠক। জীবনের এ অন্তর্নিহিত বিষয়গুলো কেউ ঠিক করে দেয় না, মানুষ বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এসব বিষয় নিজেদের জীবনের গতিপথের নির্ণায়ক হয়।

সেভাবেই একজন লেখকের গতিপথের যাত্রী তার পাঠকরা। একজন লেখক তখনই নিজের লেখা প্রকাশে আগ্রহী হয়ে ওঠেন, যখন পাঠকরা তার প্রকাশিত বই বেশি পড়েন।

তবে বই লেখা এবং তা প্রকাশ হওয়ার মাঝখানের বিষয়গুলো একজন লেখকের জন্য সবসময় সহজ হয় না। প্রকাশনা সংস্থাগুলোর সব চাহিদা পূরণ করে অনেক ভালো বিষয়ে লেখার পরও সবসময় বই প্রকাশ করা সম্ভব হয়ে ওঠে না। এতে করে লেখক ও পাঠক দু’পক্ষেরই নিজেদের সংস্পর্শে আসা বিলম্বিত হয়।

বর্তমান সময়ে লেখকদের শুধু যে পড়া ও লেখা এবং লেখার মান উন্নয়নে নিজেকে নিয়োজিত রাখতে হয়, তা কিন্তু নয়। সময়ের স্রোতে পাঠকের মন, চিন্তাভাবনায় ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। পরিবর্তন এসেছে তাদের প্রত্যাশা ও প্রাপ্তিতে।

বর্তমানে আমরা যে যুগে পদার্পণ করেছি, ই-কমার্সের বদৌলতে সেখানে হাজারও বই পাওয়া যায়। প্রকাশনীর সমস্যাটিও দূর হয়েছে অনেকাংশে। প্রায় সব পাঠকের মধ্যেই এখন পিডিএফ ফাইল সংগ্রহ করার আগ্রহ দেখতে পাওয়া যায়; অনেককেই বলতে শোনা যায়, এ বইটার পিডিএফ হবে? তবে তাতে বইয়ের গন্ধ, বইয়ে হাত বোলানো- এসব কিছু থেকে পাঠকরা বঞ্চিত হয়, এটাও সত্য।

মহান ভাষা আন্দোলনের মাসে অমর একুশে গ্রন্থমেলা পাঠকদের জন্য প্রতিবছর একটি উৎসব হয়ে আসে। আগে মেলা আয়োজনের যেসব উদ্দেশ্য ছিল, সেগুলোর সঙ্গে বর্তমানে ই-কমার্সের যুগে বইয়ের মুদ্রিত কপিটি পাঠকদের হাতে পৌঁছে দেয়াটাও একটি উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে!

তাই বলা যায়, গ্রন্থমেলা ও ই-কমার্সের বদৌলতে লেখক ও পাঠক উভয়েই উপকৃত হচ্ছে সমানভাবে। তবে উৎসবের মধ্য দিয়ে দল বেঁধে গ্রন্থমেলায় যাওয়া, প্রিয় লেখকের সঙ্গে সরাসরি কথা বলা- এসব কিছুই গ্রন্থমেলার প্রধান আকর্ষণ।

যদিও প্রত্যন্ত অঞ্চলের পাঠকদের পক্ষে সবসময় সম্ভব হয় না গ্রন্থমেলায় যাওয়া। তাই অনলাইনভিত্তিক প্রকাশনীগুলোর অবদান পাঠক ও লেখক উভয়ের জন্যই অনস্বীকার্য। তবে অনলাইন পাঠকদের বলব, সময় পেলে একবার গ্রন্থমেলায় ঘুরে আসুন।

অনলাইনভিত্তিক পাঠকদের জন্য এসব সুযোগ-সুবিধা উন্নত দেশগুলোতে অনেক আগে থেকে বিদ্যমান থাকলেও এ ক্ষেত্রে আমাদের পাঠকরা ছিল পশ্চাৎপদ।

বর্তমানে পাঠকরা অনলাইনে বই পড়তে আগ্রহী হয়েছে, এর কারণ উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার এখন হাতের মুঠোয়। তাই সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে পাঠকদের কাছে লেখা হৃদয়গ্রাহী করার পাশাপাশি কীভাবে পাঠকের কাছে বইটি দ্রুত ও সহজে পৌঁছানো যায় তাও লেখককে ভাবতে হয়। কারণ এখন বেড়ে গেছে ডিজিটাল পরিষেবা। বদলে যাচ্ছে লেখকের দায়িত্ব, যোগাযোগের মাধ্যম আর প্রয়োজনীয়তা।

আগে একটি বই সম্পর্কে জানার জন্য দোকানে গিয়ে খোঁজ নিতে হতো। কিন্তু আধুনিক সময়ের পাঠকরা নিজেদের সময় বাঁচাতে অনলাইন সেবা পেতে চান। উন্নত দেশগুলোতে প্রযুক্তি ব্যবহার করে অনেকে পাঠকের কাছে বইয়ের বিস্তারিত পাঠিয়ে দিচ্ছে।

আমাদের দেশেও পাঠকের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করতে সুদূরপ্রসারী উদ্যোগ হাতে নিয়েছে রকমারি ডটকম। ফলে বাংলাদেশের পাঠকরা অনলাইনে ঘরে বসেই বিভিন্ন বই সম্পর্কে ধারণা, বইয়ের মূল্যসহ অন্যান্য বিষয় জানতে পারছে।

এতে করে পাঠকের মূল্যবান সময় যেমন বেঁচে যাচ্ছে, তেমনি বই পড়ার প্রতি আগ্রহও বাড়ছে। আগে লেখকদেরও বই প্রকাশ নিয়ে অনেক বেশি চিন্তিত থাকতে হতো। নানা রকম শর্তের মুখোমুখি হতে হতো তাদের।

অনেক সময় লেখকরা তাদের বই প্রকাশে সমস্যায় পড়ে যেতেন। নতুন লেখকরা তাদের বই প্রকাশে বাধার সম্মুখীন হতেন বেশি। আমিও প্রথম বই প্রকাশের সময় এমন অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হয়েছিলাম।

ইংরেজিতে লেখা বলে আমার প্রথম বই প্রকাশে অনেকে রাজি হতে চায়নি এবং কঠিন শর্ত জুড়ে দিয়েছিল, যা পূরণ করা আমার জন্য দুরূহ ব্যাপার ছিল। এ সময় আমি অনলাইনে বই বিক্রির প্লাটফর্ম রকমারি ডটকমের বিভিন্ন সুবিধা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পারি। সাহস করে একদিন ওই অফিসে গিয়ে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সরাসরি কথা বললাম।

তারা আমাকে কিছু সহজ শর্ত দিলেন এবং আনুষঙ্গিক কিছু কাজের কথা জানালেন। সবকিছু আমার অনুকূলে থাকায় আমি রাজি হতে দ্বিধাবোধ করিনি এবং শর্ত মোতাবেক নিজের বই নিজেই প্রকাশ করে ফেলি।

বইটি পাঠকের কাছে সমাদৃত হয়। আমি এখন বইটি পুনর্মুদ্রণ করার প্রস্তুতি নিচ্ছি। সত্যি বলতে কী, রকমারির জন্যই আজ আমি লেখক। কেননা এ অনলাইন প্লাটফর্ম না পেলে আমি বইটি প্রকাশ করতে পারতাম না। আমার মনে হয়েছে, রকমারি আমার চোখ-কান খুলে দিয়েছে।

পরিশেষে বলব, তথ্যপ্রযুক্তির এ যুগে আমরা যেন বইপড়া থেকে দূরে সরে না যাই। একবার হলেও গ্রন্থমেলায় যাই, প্রাণ ভরে নতুন বইয়ের গন্ধ নিই।

সৈয়দ রবিউস সামস্ : ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক, একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী

[email protected]

ঘটনাপ্রবাহ : বইমেলা ২০১৯

আরও
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×