কিছুমিছু

বিমান হাইজ্যাকের পর নিরাপত্তা ব্যবস্থা কঠোর করা হইছে

  মোকাম্মেল হোসেন ০৪ মার্চ ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

বিমান হাইজ্যাকের পর নিরাপত্তা ব্যবস্থা কঠোর করা হইছে
প্রতীকী ছবি

পাখিদের দোষ কী? পাখা থাকলে মহব্বত জান উড়াউড়ি করত না? অবশ্যই করত। সমস্যা উড়াউড়ি নিয়ে নয়; সমস্যা হল, উড়াউড়ির সময় বেজায়গায় ঢুস মারা নিয়ে। বিধাতা মহব্বত জানকে পাখির জীবন দেননি; মানবজীবন দান করেছেন। পক্ষীকুলে জন্ম হলে উড়ার স্বাধীনতা পেয়ে মহব্বত জানও নিশ্চয়ই বেজায়গায় ঢুস মারত। পাখিদের ঢুস মারার সুবাদে কিছু বাড়তি অর্থের সংস্থান হওয়ায় মহব্বত জান তার সাধের মানবজীবন সামান্য হালকা করার সুযোগ পাচ্ছে, এটাই তার কাছে শোকর আলহামদুলিল্লাহ।

মহব্বত জানের অর্থ সংস্থানের বিষয়টা খোলাসা করা দরকার। লজ্জার কিছু নেই- যে টাকা বেতন পায় মহব্বত জান, তাতে তার সংসার চলে না। সংসারের চাকায় কিছুটা গতি যোগ করতে নানা জায়গায় পার্টটাইম চাকরি তালাস করছিল সে। আচানক কারবার- বেকার বোঝাই এই দেশে হঠাৎ একসঙ্গে দুটো চাকরির খোঁজ পেয়ে গেল সে। প্রথমটা একটি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানে। এরা স্কুল-কলেজের ছেলেমেয়েদের জন্য নোট ও গাইড বই প্রকাশ করে থাকে। মহব্বত জানকে বলা হল, বিষয়ভিত্তিক নোটবই লেখার জন্য। ওদের কথাবার্তা শোনার পর মহব্বত জান সাহস পেল না। মহব্বত জান টুকটাক লেখালেখি করে বটে, তবে তার সঙ্গে পরীক্ষায় পাস-ফেলের কোনো সংযোগ নেই। কাজেই সেগুলো কাউকে পড়তেই হবে- এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। নোট বা গাইড বই লেখার মানে হল, কিছু ছেলেমেয়েকে সেগুলো পড়তে বাধ্য করা। টাকা-পয়সা খরচ করে নোটবই কেনার পর ছাত্রছাত্রীরা পরীক্ষার খাতায় আশানুরূপ নম্বর না পেলে অভিশাপ খাওয়ার ভয় আছে ভেবে মহব্বত জান পিছুটান দিল।

দ্বিতীয় চাকরিস্থল হযরত শাহজালাল (র.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। এখানকার চাকরিটা বেশ মজার- বন্দুকে ঠুসঠাস আওয়াজ করে রানওয়ের চারপাশে উড়তে থাকা পাখিদের তাড়িয়ে দিতে হবে। কাজটার একটা পোশাকি নামও আছে- ‘বার্ড হিটার’। আকাশে থাকা অবস্থায় উড়োজাহাজগুলো যাতে বেমক্কা দুষ্টু কোনো পাখি গুঁতা খেয়ে দুর্ঘটনার কবলে না পড়ে, সেজন্য কর্তৃপক্ষ বিমানবন্দর এলাকায় বার্ড হিটার নিয়োগের ব্যবস্থা রেখেছেন। মহব্বত জান ‘কলকাইত্তা’ মুক্তিযোদ্ধা নয়; খাঁটি মুক্তিযোদ্ধা। ভালো প্রশিক্ষকের অধীনে কষ্টসাধ্য প্রশিক্ষণ সমাপ্ত করে রণাঙ্গনে শত্রু বাহিনীর সঙ্গে বীরের মতো যুদ্ধ করেছে। তার হাতের নিশানা ছিল প্রায় অব্যর্থ। এ অভিজ্ঞতা নিয়ে কর্তৃপক্ষের দ্বারস্থ হওয়ার পর বার্ড হিটার পদে মহব্বত জানের চাকরি হয়ে গেল।

এয়ারপোর্টের চাকরিতে সহকর্মী হিসেবে মহব্বত জান যাকে পেল, তার নাম আবদুল বাতেন। বাতেন সাহেব লোক ভালো, তবে অর্থকড়ির প্রতি কিছুটা ঝোঁক আছে। একদিন মহব্বত জানকে তিনি বললেন-

: মোহাব্বত, এইসব বেহুদা কাম কইরা কোনো টেস্ট পাইতেছি নারে।

: কেন!

: আমরা বেক্কলের মতো পাখির লেঙ্গুড় নিশানা কইরা অমূল্য জীবনের মূল্যবান সময়ের অপচয় ঘটাইতেছি; অথচ এয়ারপোর্টে কত কিসিমের কাম আছে!

মুচকি হেসে মহব্বত জান বলল-

: চাকরি নিছেন পাখির পেছনে দৌড়ঝাঁপ করার; অন্য কাজ কিভাবে করবেন?

মহব্বত জানের সরলতাকে আবদুল বাতেন চোখের চাহনিতে ভর্ৎসনা করলেন। তারপর গোঁফ মুচড়াতে মুচড়াতে বললেন-

: কিভাবে করব মানে? এই এয়ারপোর্টের অধিকাংশ লোক এক বিভাগে পোস্টিং লইয়া অন্য বিভাগে ডিউটি করতেছে। আমরাও তাই করব।

মহব্বত জান আগের মতোই মুচকি হেসে জানতে চাইল-

: কী করতে চান?

: স্মাগলিং করব। স্মাগলিংয়ের লাইনঘাট করতে না পারলে আরেকটা অতি সহজ কাম আছে- যাত্রীদের লাগেজ কাইট্যা মূল্যবান জিনিসপত্র লোপাট করা; সেইটা করব। মাত্র তিন মাসে ঢাকা শহরে বাড়ি-গাড়ি, বিদেশি কুত্তা; আর কী চাও তুমি?

আবদুল বাতেনের পরিকল্পনা শুনে তোতলাতে তোতলাতে মহব্বত জান বলল-

: যদি ধরা পইড়া যান!

: ধুরাউ! এই এয়ারপোর্ট হইল একটা তেলেসমাতি জায়গা। এইখানে দিন-রাইত চুরি-চামারি, লুটতরাজ, বাটপারি-কুবলাকুবলি চলতেছে; আইজ পর্যন্ত কয়জন ধরা পড়ছে- কও আমারে! বুঝলা, বড় কিছুর টার্গেট লইয়া অগ্রসর হওয়া দরকার; মারলে হাতি-লুটলে ভাণ্ডার। তেলাপোকা মারা রুস্তম হইয়া জীবন পার করার কোনো মানে হয় না।

মহব্বত জানের চেহারায় দুনোমুনো ভাব লক্ষ করে আবদুল বাতেন তরল গলায় বললেন-

: আইচ্ছা, ঠিক আছে; তোমার টেনশনই কাউন্ট করলাম। এখন তুমি আমারে কও- ধরা পড়লে কী এমন ছাতারমাথা হবে!

ঢোক গিলে মহব্বত জান বলল-

: প্রথমে ছেঁচা দিয়া আপনের পায়ের নলি ভাঙবে। তারপর জেলে ঢুকাবে। বস! জেলে খুব কষ্ট।

মহব্বত জানের কথা শুনে বাতেন সাহেব হো-হো করে কিছুক্ষণ হাসলেন। তারপর বললেন-

: ধুর মিয়া! এই ব্যাপারে তোমার কোনো ধারণাই নাই। এই দেশে কুকাম কইরা জেল-ফাঁসের সম্মুখীন হইছে- এমন দুই নম্বরির সংখ্যা খুবই কম।

হাঁটতে হাঁটতে দু’জন খালপাড়ে পৌঁছার পর দেখল- এক লোক আপন মনে ঘাস কাটছে। বিষয়টি বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থার সঙ্গে যারা যুক্ত, তাদের দেখার কথা। তবে চোখের সামনে এরকম একটা অনিয়ম দেখে মহব্বত জান উদাসীন থাকতে পারল না। লোকটার উদ্দেশে সে বলল-

: অই মিয়া, বিষয় কী!

: ঘাস কাটি।

: অমি কানা না; তুমি যে মাইনষের ছোবড়া না কাইট্যা ঘাস কাটতেছ- এইটা পরিষ্কার দেখতে পাইতেছি। প্রশ্ন হইল- তুমি এইখানে ঢুকলা কিভাবে?

: চিপা দিয়া ঢুইকা পড়ছি।

: বিমান হাইজ্যাকের পর দেশের সব বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা কঠোর করা হইছে, এইটা তুমি জানো না?

: জি না।

: তোমার সঙ্গে আর কেউ আছে?

: গরু আছে কয়েকটা।

: সঙ্গে আবার গরুও নিয়া আইছো?

: জে।

: গরু কই?

লোকটা উঠে দাঁড়াল। তারপর ডানহাত তুলে দূরে একটা স্থান নির্দেশ করে বলল-

: ওইখানে ছাইড়া রাখছি। নিরিবিলি ঘাস খাইতেছে।

বাতেন সাহেব কেইস ফিট করার সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেললেন। জামার হাতা গুটিয়ে লোকটার কাছে জানতে চাইলেন-

: অই ব্যাটা, তর নাম কী?

: ইয়াসিন।

: এয়ারপোর্ট হইল সংরক্ষিত এলাকা। এইখানে সুরা ইয়াসিন পইড়া কুনু কাম হবে না। এয়ারপোর্ট এরিয়ায় বেআইনিভাবে প্রবেশ কইরা তুই গুরুতর অপরাধ করছস। এই জন্য তোকে পানিশমেন্ট খাইতে হবে। মামলার আলামত হিসেবে আমরা সবকিছু সিজ করব।

: কী করবেন!

: তর মালসামানা সব আমাদের হাওলায় নিয়া যাব।

যন্ত্রপাতির দখল নিতে গিয়ে বস্তার মধ্যে মাছ ধরার একটা জাল পাওয়া গেল। বাতেন সাহেব চোখ কপালে তুলে ইয়াসিনের কাছে জানতে চাইলেন-

: জাল দিয়া তুই করস কী!

: মাছ ধরি।

: মাছ ধরস মানে? কোন জায়গায় মাছ ধরস?

নির্লিপ্ত ভঙ্গিতে ইয়াসিন বলল-

: খালে।

: তুই ঘাসও কাটস, আবার মাছও ধরস।

: জে। ঘাস কাইট্যা যাওয়ার সময় চাইরটা মাছ ধইরা লইয়া যাই।

: তর জরিমানার পরিমাণ তো ডাবল হইয়া গেলরে! সঙ্গে ফোন আছে?

: আছে।

: তর মালিকরে ফোন লাগা। তারে বল- একঘণ্টার মধ্যে ৫০ হাজার টাকা ক্যাশ লইয়া এইখানে চইলা আসতে। কোনোরকম টালটি-বালটি করলে কিন্তু গরু অর এইসব আত্তাবাত্তা নিলামে বিক্রি হইয়া যাবে।

বাতেন সাহেবের কথায় ইয়াসিনের মধ্যে কোনো ভাবান্তর পরিলক্ষিত হল না। ধমক দিয়ে বাতেন সাহেব বললেন-

: তরে না ফোন করতে বললাম?

: কারে ফোন করব?

: বলি নাই- কারে ফোন করবি?

: বলছেন; কিন্তু আমার তো কোনো মালিক নাই। আমি নিজেই আমার মালিক।

বাতেন সাহেব কপাল কুঁচকালেন। বললেন-

: অই ব্যাটা, ফাইজকামি করস! তর বউ নাই?

: আছে।

: বউ জীবিত থাকতে তুই তর মালিক হস ক্যামনে? এক্ষণ বউয়ের কাছে ফোন কইরা ঘটনার বর্ণনা দে।

কথোপকথনের এ পর্যায়ে মহব্বত জান হস্তক্ষেপ করল। বলল-

: বাদ দেন তো বস! গরিব মানুষ- দুইটা কানমলা দিয়া ছাইড়া দেন।

ডিউটি শেষ করে অস্ত্র জমা দেয়ার সময় মহব্বত জান তার ইনচার্জকে বলল-

: মোখলেছ ভাই, একটা কথা বলতে চাই।

: বলেন।

: বিমানবন্দরের খালে কি মাছ চাষ করা হয়?

: জি।

: কারা চাষ করে?

: তাতো জানি না। মনে হয়, খালগুলা লিজ দেওয়া হইছে।

: কারা লিজ দিছে?

: এইখানেরই কোনো হোমরাচোমরা হবে।

: কিন্তু ভাই, খালে মাছ চাষ করা হইলে বিমানবন্দর এলাকায় পাখির অত্যাচার তো কোন দিনও বন্ধ হবে না। মাছ খাওয়ার লোভে পাখিরা আসবেই।

: আসুক। তাতে আপনের সমস্যা কী? পাখিরা আসে বইলাই তো আমরা এইখানে চাকরি করার সুযোগ পাইছি।

: তা ঠিক। কিন্তু খালে মাছ চাষ করা তো বেআইনি। দুর্নীতির আশ্রয় লইয়া এই ধরনের বেআইনি কাজ করা কি ঠিক হইতেছে?

যে বেদনা নিয়ে শীতের শিশির গাছের পাতা থেকে মাটিতে ঝরে পড়ে, মোখলেছ সাহেবের চেহারায় সেরকম বেদনার ছায়া পড়ল। দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে তিনি বললেন-

: দুর্নীতির কথা বলতেছেন! বাংলাদেশ বিমানের কোথায় দুর্নীতি নাই? বিমানের ইঞ্জিনিয়ারিং শাখা, মার্কেটিং ও বিপণন বিভাগ, গ্রাউন্ড সাপোর্ট এজেন্সি, ফ্লাইট ক্যাটারিং সার্ভিস ইত্যাদি থেইকা শুরু কইরা এমন কোনো বিভাগ বা শাখার নাম বলেন, যেখানে দুর্নীতি চলে না; আমি সেই বিভাগ বা শাখার নামে একটা সিমেন্টের উড়োজাহাজ বানাইয়া সততার মডেল হিসেবে জয়দেবপুর চৌরাস্তায় বীর মুক্তিযোদ্ধার মূর্তির পাশে স্থাপন করব।

মহব্বত জানের চেহারায় হঠাৎ আলোর রেখা দেখা গেল। মাথা নেড়ে সে বলল-

: নতুন বিমানমন্ত্রী অনেক সুন্দর সুন্দর কথা বলছেন।

মহব্বত জানের কথা শুনে মোখলেছ সাহেব বললেন-

: হাসতে চাইছিলাম; হাসলাম না। চোরাদের রাজত্বে যত বড় সাধু-দরবেশের আমদানিই ঘটুক কেন, তার অজু ছুটতে দুই মিনিটের বেশি টাইম লাগবে না।

: তাইলে উপায়?

: আপতত কোনো উপায় দেখতেছি না; তবে...

: তবে কী!

: তবে বিমানের স্ট্র্যাটেজিক পার্টনার হিসেবে যদি জিনজাতিরে নেয়া হয়, তাইলে উদ্ধার পাওয়ার একটা আশা আছে।

জিনজাতিকে বিমানের স্ট্র্যাটেজিক পার্টনার করার কথা শুনে মহব্বত জান হেসে ফেলল। মহব্বত জানকে হাসতে দেখে মোখলেছ সাহেব বললেন-

: ভাইরে! হাসির কোনো কথা বলি নাই। আপনে বিষয়টা উপলব্ধি করার চেষ্টা করেন। পঞ্চাশ বছর হইতে চলল, দেশ স্বাধীন হইছে। এই দীর্ঘ সময়ে স্বাধীনতার সদ্ব্যবহার কইরা বাংলাদেশ বিমান তার সমুদয় সম্ভাবনা ধ্বংস কইরা বর্তমানে শূন্যের কোঠায় পৌঁছাইছে। এই শূন্য ময়দানে মানবজাতির পক্ষে ফুল ফোটানো সম্ভব নয়; জিনজাতির সাহায্য লাগবে। জিনেরা তাদের গায়েবি সিস্টেম প্রয়োগ করার মাধ্যমে দুর্নীতিরে আছাড় মাইরা আশি হাত মাটির নিচে পুঁইত্যা ফেলার পর তবেই সম্ভাবনার ফুল ফুটবে...

বিমানের ব্যবস্থাপনার সঙ্গে জিনজাতি যুক্ত হলে মহব্বত জানের চাকরি হারানোর আশঙ্কা একশ’ ভাগ। এজন্য তার মন খারাপ হওয়া উচিত। মহব্বত জান মন খারাপ করল না। এরকম অলৌলিক একটি ঘটনার জন্য সে সত্যি সত্যি উন্মুখ হয়ে অপেক্ষা করতে লাগল।

মোকাম্মেল হোসেন : সাংবাদিক

[email protected]

ঘটনাপ্রবাহ : বাংলাদেশ বিমানের উড়োজাহাজ ছিনতাইয়ের চেষ্টা

আরও
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×