জাতীয় পাট দিবস

পাটের সোনালি দিন ফিরে আসছে

  ড. কামাল উদ্দিন আহাম্মদ ০৬ মার্চ ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

পাটের সোনালি দিন ফিরে আসছে

আমার জন্ম পাকিস্তান আমলের প্রথম দিকে। জন্মের পর দেখতাম, বাবা-চাচাসহ আশপাশের সবাই পাটচাষ করছে। সে সময় কৃষকের স্বপ্নই ছিল এ পাটকে কেন্দ্র করে।

কারণ বিশ্ববাজারে এদেশের পাট ও পাটজাত দ্রব্যের একক আধিপত্য ছিল। রফতানি আয়ের শীর্ষ খাতও ছিল পাট। ব্রিটিশ আমল তো বটেই, পাকিস্তান আমলেও এ অঞ্চলের প্রধান অর্থকরী ফসল ছিল পাট।

এ পাটের যে কতটা কদর ছিল, তা দেখার সৌভাগ্য হয়েছিল আমার। আবার চোখের সামনে পাটের সে সোনালি দিন মলিন হয়ে যাওয়ার দৃশ্যও দেখতে হয়েছিল; কিন্তু পাট এ ভূখণ্ডের মানুষের মতোই নানা দুর্বিপাক আর বিপর্যয় থেকে ফিনিক্স পাখির মতো জেগে উঠেছে।

ব্রিটিশরা এদেশ থেকে বিতাড়িত হলে এ অঞ্চলের পাটশিল্পের নিয়ন্ত্রণ চলে যায় পাকিস্তানিদের হাতে। সেই ধারাবাহিকতায় পূর্ব পাকিস্তানের ২২ পরিবারের অন্যতম আদমজী পরিবারের তিন ভাই ওয়াহেদ আদমজী ওরফে দাউদ আদমজী, জাকারিয়া আদমজী এবং গুল মোহাম্মদ আদমজী যৌথভাবে ১৯৫০ সালে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের শীতলক্ষ্যা নদীর তীরে ২৯৭ একর জমির ওপর আদমজী জুট মিলের নির্মাণকাজ শুরু করেন; ১৯৫১ সালের ১২ ডিসেম্বর যেখানে উৎপাদন শুরু হয়।

পরবর্তীকালে সারা বিশ্বে আদমজী একটি ব্র্যান্ডে পরিণত হয়। এর আগে পশ্চিম পাকিস্তানের ‘বাওয়া গ্রুপ’-এর উদ্যোগে ১৯৫১ সালের ‘দি বাওয়া জুট মিলস’ স্থাপিত হয়। নারায়ণগঞ্জের পাশাপাশি খুলনার খালিশপুর ও দৌলতপুর হয়ে উঠেছিল পাটশিল্পের অন্যতম কেন্দ্র।

আমার দেশের কৃষক অনেক পরিশ্রম করে সে সময় পাট উৎপাদন করলেও তার ন্যায্যমূল্য পেত না। এ পাট থেকে যে বড় অঙ্কের অর্থ আসত, তা পশ্চিম পাকিস্তানিরা নিয়ে বিভিন্ন ইমারত থেকে শুরু করে রাস্তাঘাট, স্কুল-কলেজ নির্মাণ করত। আর বঞ্চিত হতো এদেশের কৃষক। এ কারণে পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের ভেতর অসন্তোষ ক্রমাগত বৃদ্ধি পেতে থাকে। আমার মনে পড়ে, সে সময় রাজনৈতিক একটি স্লোগান ছিল ‘সোনার বাংলা শ্মশান কেন? আইয়ুব শাহী জবাব চাই।’

১৯৬৬ সালে বঙ্গবন্ধুর ছয় দফার জনপ্রিয়তার পেছনে এ পাটশিল্পেরও ভূমিকা ছিল। ছয় দফার পঞ্চম দফা ছিল ‘অঙ্গরাজ্যগুলো নিজেদের অর্জিত বৈদেশিক মুদ্রার মালিক হবে এবং এর নির্ধারিত অংশ তারা দেবে’, অর্থাৎ পূর্ব পাকিস্তানের পাট থেকে অর্জিত বৈদেশিক মুদ্রার ন্যায্য দাবি উত্থাপিত হয়েছে; যা বাঙালি জাতিকে স্বাধীনতার মন্ত্রে উজ্জীবিত করে।

একাত্তরে আমরা যেমন দেশের জন্য যুদ্ধ করেছি, তেমনি পাটের জন্যও আমরা যুদ্ধ করেছি। পাট থেকে পাওয়া অর্থ যেন আমাদের কাছেই থাকে, তার জন্য লড়াই করেছি। স্বাধীনতা যুদ্ধের অন্যতম স্বপ্ন ছিল এ পাটকে ঘিরে। তখন ভাবা হতো, পাট বাংলাদেশের মানুষেরই কাজে লাগবে; কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, এ শিল্পের সমৃদ্ধ অবস্থা বেশি দিন ধরে রাখা যায়নি।

স্বাধীনতার পর পাট খাতকে বঙ্গবন্ধু ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর জন্য নয়; বরং জাতীয় সম্পদ হিসেবে বিকাশের লক্ষ্যে পুনর্গঠন করতে চেয়েছিলেন। তাই তিনি সুস্পষ্ট রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে পাট খাতকে ১৯৭২ সালের ২৬ মার্চ ‘বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল এন্টারপ্রাইজ (ন্যাশনালাইজেশন) অর্ডার ১৯৭২ (পিও-২৭)-এর আওতায় সব পাটকল জাতীয়করণ করেছিলেন।

পাটশিল্পের উন্নয়নে ১৯৭৩-৭৮ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় উদ্যোগ নিয়েছিলেন। তার শাসনামলে ৭টি পাটকলের নির্মাণকাজ সম্পন্ন করে পুরনো কারখানাগুলো ব্যালান্সিং, মডার্নাইজেশন, রিনোভেশন অ্যান্ড এক্সপানশন (বিএমআরআই) করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন।

আমরা দেখেছি, স্বাধীনতা যুদ্ধের সময়ে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী পাটের গুদামে অগ্নিসংযোগ করেছে, কারখানা ধ্বংস করে পাটশিল্পের ব্যাপক ক্ষতি করেছে, কলকারখানার যন্ত্রাংশ পাকিস্তানে পাচার করেছে।

এ রকম যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশে সীমিত সাধ্যের মধ্যে বঙ্গবন্ধু পাট খাতসহ সবক্ষেত্রে যে উন্নয়ন প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছিলেন, তা ছিল সত্যিই প্রশংসার দাবিদার। এ সময় দেশে ৮৭টি পাটকল চালু ছিল। তার শাসনামলে ১৯৭২-৭৩ অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট রফতানি আয় ছিল ৩৪ কোটি ৮৪ লাখ ডলার। এর মধ্যে শুধু কাঁচা পাট ও পাটজাত দ্রব্য রফতানি করে আয় হয়েছে ৩১ কোটি ৩১ লাখ ডলার। অর্থাৎ মোট রফতানি আয়ের প্রায় ৯০ শতাংশ এসেছে পাট থেকে।

জাতির জনক বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর পঁচাত্তর-পরবর্তী দেশপ্রেমহীন শাসককুলের অপরিণামদর্শী সিদ্ধান্ত এবং পাটের বিকল্প হিসেবে সিনথেটিক পণ্যের ছড়াছড়ির কারণে বাংলাদেশের পাট তার গৌরব হারিয়েছে।

পাটশিল্প চলে গেছে ধ্বংসের মুখে। শুধু ধ্বংস নয়, বঙ্গবন্ধুর প্রণীত ১৯৭৩-৭৮ সময়ে যে পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছিল, তা পরবর্তী সময়ে যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হয়নি। এরপর দ্বিবার্ষিক পরিকল্পনা প্রণীত হলেও সেখানে পাট খাতের উন্নয়নে পূর্ববর্তী পরিকল্পনার ধারাবাহিকতা রক্ষা করা হয়নি। এমনকি আশির দশক থেকে অলাভজনক দেখিয়ে নামমাত্র মূল্যে বিক্রি করা হতে থাকে পাটকলগুলো।

এভাবে ৮৭টির মধ্যে ৬০টি পাটকলই বেসরকারি মালিকদের হাতে ছেড়ে দেয়া হয়। এ সময় পাটের বস্তার পরিবর্তে পরিবেশ দূষণকারী পলিথিনের উৎপাদন ব্যাপক হারে বেড়ে যায় এবং ১৯৮২ সালে বাংলাদেশে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে পলিথিনের উৎপাদন শুরু হয়।

১৯৯০ সালের পর আমরা আশা করেছিলাম, পাটের সুদিন ফিরে আসবে। শিল্পবান্ধব পরিবেশের মাধ্যমে দেশীয় শিল্পের বিকাশ হবে। কিন্তু সেই আশা সুদূরপরাহতই থেকেছে; বরং ১৯৯৪ সালে বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের পরামর্শে তৎকালীন সরকারের পাটমন্ত্রী ওয়াশিংটনে বসে ১৭ ফেব্রুয়ারি আদমজী জুট মিল বন্ধের চুক্তি সই করেন।

সেই ধারাবাহিকতায় ২০০২ সালের ৩০ জুন ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা লোকসানের অজুহাতে বন্ধ করে দেয়া হয় আদমজী পাটকল এবং কর্মরত ৩২ হাজার স্থায়ী-অস্থায়ী শ্রমিক তাদের চাকরি হারায়। সংশ্লিষ্ট আরও লাখ লাখ লোকের কর্মসংস্থান ব্যাহত হয়। আদমজী পাটকল বন্ধের ব্যাপারটি ছিল বিশ্বব্যাংকের একটি চক্রান্ত। অন্যদিকে তৎকালীন সরকারের একটি অপরিণামদর্শী সিদ্ধান্ত।

২০০৭ সালে সেনাবাহিনীর সমর্থনপুষ্ট তত্ত্বাবধায়ক সরকারও পাট খাত ধ্বংসের ধারাবাহিকতা রক্ষা করে গেছে। তৎকালীন প্রধান উপদেষ্টা জাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণে ‘৪টি পাটকল সরকার চালাতে সক্ষম নয়, তাই সেগুলো বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। বাকি ১৮টি পাটকল ভালোভাবে চালানোর জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে।

বন্ধ মিলগুলো বেসরকারি উদ্যোক্তাদের মাধ্যমে চালানো হবে এবং সেখানে ছাঁটাইকৃত শ্রমিকরাই অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজ পাবে’ বলে জানিয়েছিলেন। কিন্তু সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করা হয়নি। এ সময় বন্ধ হওয়া ৪টি মিলে কর্মরত ৬ হাজার ৩৭৩ এবং বাকি ১৮টি মিলের ৭ হাজার ৬২৭ শ্রমিক ছাঁটাই করা হয়েছিল।

তবে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্যোগে বাংলার পাট আবারও নতুন সম্ভাবনার মুখ দেখছে। বিশ্বব্যাপী পরিবেশ বিপর্যয় ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব নিয়ন্ত্রণে রাখতে পচনশীল ও পরিবেশবান্ধব প্রাকৃতিক তন্তু ব্যবহারে আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে। ফলে বাংলাদেশের পাট ও পাটপণ্যের চাহিদা বাড়ছে।

এ চাহিদা বৃদ্ধি বাংলাদেশের সোনালি আঁশের সোনালি ভবিষ্যতের ইঙ্গিত। বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ বাজারে পাট এবং পাটপণ্যে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিতে ইতিমধ্যে সরকারের বিভিন্ন ইতিবাচক পদক্ষেপ ও বৈশ্বিক চাহিদা বৃদ্ধি পাট খাতের উজ্জ্বল সম্ভাবনা সৃষ্টি করেছে।

বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার ঐকান্তিক ইচ্ছায় ও পাট মন্ত্রণালয়ের পৃষ্ঠপোষকতায় ‘পণ্যে পাটজাত মোড়কের বাধ্যতামূলক ব্যবহার আইন-২০১০’ এবং ‘পণ্যে পাটজাত মোড়কের বাধ্যতামূলক ব্যবহার বিধিমালা-২০১৩’ প্রণীত হয়; যা সফলভাবে বাস্তবায়নের পথে এগিয়ে যাচ্ছে। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৬ মার্চকে ‘জাতীয় পাট দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করেছেন।

তার উৎসাহে প্রয়াত জিন বিজ্ঞানী মাকসুদুল আলমের নেতৃত্বে সোনালি আঁশ পাটের জিন বিন্যাস আবিষ্কৃত হয়েছে। পাটশিল্পের অগ্রযাত্রা ধরে রাখতে দেশের অভ্যন্তরে ৬টি পণ্য যথা- ধান, গম, চাল, ভুট্টা, চিনি এবং সার মোড়কীকরণে পাটজাত পণ্যের ব্যবহার বাধ্যতামূলক করার পাশাপাশি আরও ১২টি পণ্য মোড়কীকরণে পাটজাত পণ্যের ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। মানসম্মত পাট উৎপাদন, পাটের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতকরণ, পাটপণ্যের বহুমুখীকরণ, পাটকলের আধুনিকায়ন, পাটপণ্যের বাজার সম্প্রসারণ- এ পাঁচটি বিষয়কে অগ্রাধিকার দিয়ে ‘জাতীয় পাটনীতি-২০১৮’-এর খসড়ার অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। সরকারের এসব সময়োচিত পদক্ষেপের ফলে কৃষক, শ্রমিক, ব্যবসায়ী, রফতানিকারক ও ভোক্তাসহ প্রায় চার কোটি মানুষের কর্মসংস্থানের বিপুল সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে।

সোনালি আঁশের কোনো কিছুই এখন আর ফেলনা নয়। একদিকে সোনালি আঁশ, অন্যদিকে রুপালি কাঠি- এ দুটি মিলে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে পাট উৎপাদনে। পাটকাঠি পুড়িয়ে উৎপাদিত ছাই দিয়ে তৈরি হচ্ছে কার্বন বা চারকোল। সব ধরনের কালি উৎপাদন, প্রসাধনী তৈরিসহ অন্যান্য ক্ষেত্রে ব্যবহারের উদ্দেশ্যে চীনসহ বিভিন্ন দেশে রফতানি হচ্ছে এ চারকোল।

পাটগাছের মূল দিয়ে তৈরি হচ্ছে জীবন রক্ষাকারী ওষুধ। অত্যাধুনিক জেট বিমান থেকে সাধারণ খেলনাসহ সব পণ্যেই এখন কোনো না কোনোভাবে পাটের ব্যবহার হচ্ছে। অন্তত এক হাজার বহুমুখী পণ্য তৈরি হচ্ছে পাট দিয়ে। প্রচলিত ব্যবহারের পাশাপাশি বহুমুখী ব্যবহারের ফলে পুনরুদ্ধার হচ্ছে রফতানি বাজার। আবাদ, উৎপাদন ও দর বেড়েছে পাটের।

বাংলাদেশের ইতিহাসে গেল মৌসুমে মণপ্রতি সর্বোচ্চ আড়াই হাজার টাকা দরে বিক্রি হয়েছে কাঁচা পাট; সঙ্গে পাটকাঠির মূল্য সংযোজনের ফলে মণপ্রতি দর দাঁড়িয়েছে চার হাজার টাকা।

পাটের উপকারিতার কথা বলে শেষ করা যাবে না। পাট গবেষণা ইন্সটিটিউটের আবিষ্কার করা পাট পাতার চা এখন রফতানি হচ্ছে। পাট শুধু বাংলাদেশের অগণিত কৃষকের জীবিকার অবলম্বন নয়, বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের বিবেচনায় এটি গুরুত্বপূর্ণ রফতানি খাত। পাটের এত সম্ভাবনা সত্ত্বেও বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে এখনও। পাটের উন্নত বীজের অভাব রয়েছে।

রয়েছে দক্ষ লোকবলের অভাব। সেই সঙ্গে মধ্যস্বত্বভোগী ফড়িয়াদের দৌরাত্ম্য বিদ্যমান। বিপণন কৌশলে দুর্বলতা এবং আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্কিংয়েও ঘাটতির রয়েছে। এর সঙ্গে রয়েছে প্রতিদিন আবাদযোগ্য জমির পরিমাণ কমে যাওয়া।

পরিশেষে যে কথাটি বলতে চাই তা হল- দেশে পাটের ব্যবহার বাড়াতে হবে। গবেষণা করে পাটের উন্নত জাত তৈরি করতে হবে। বাংলাদেশি বিজ্ঞানী ড. মোবারক হোসেন পাট থেকে পলিথিনের বিকল্প পলিথিনসদৃশ বস্তু আবিষ্কার করেছেন।

বাণিজ্যিক ভিত্তিতে অতি দ্রুত এর উৎপাদন করা জরুরি। এ পলিথিন সহজে পচনশীল এবং পরিবেশবান্ধব। এর ব্যবহার বৃদ্ধি অত্যন্ত জরুরি, যা থেকে প্রচুর অর্থনৈতিক আয় সম্ভব হবে। পাট থেকে উৎপাদিত পণ্যের গুণগত মান বৃদ্ধি করতে হবে। নতুন নতুন পাটজাত দ্রব্য উৎপাদন করতে হবে।

পাটের সুষ্ঠু বাজার ব্যবস্থা ও পরিবহন সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে। প্রয়োজনীয় গুদামের ব্যবস্থা করতে হবে। এসবের জন্য পাট গবেষণা ইন্সটিটিউটকে আরও শক্তিশালী করতে হবে। প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ করে আধুনিক শিল্পকারখানা স্থাপন করতে হবে।

কৃষিজমির হ্রাস নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। পাটচাষ জোন গড়ে তোলা যেতে পারে। সুষ্ঠু শিল্প সম্পর্ক বজায় রাখতে সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। পলিথিন উৎপাদন, বিপণন ও ব্যবহার বন্ধ করে পাটপণ্যের মোড়ক ব্যবহার বাধ্যতামূলক করতে আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।

বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের লক্ষ্যে চাহিদা মোতাবেক গুণগত ও মানসম্পন্ন পণ্য উৎপাদন এবং এর প্রচার বাড়াতে হবে। সারা পৃথিবীর মানুষ এখন পরিবেশবান্ধব পণ্য ব্যবহারে আগ্রহী। এক্ষেত্রে পাট একটি নেয়ামত; এ সুযোগের সদ্ব্যবহার জরুরি। পরিকল্পনামাফিক উৎপাদন অব্যাহত রাখলে পাটের সোনালি দিন ফিরিয়ে এনে দেশকে সত্যিকারের সোনার বাংলা হিসেবে গড়ে তোলা এখন কেবল সময়ের ব্যাপার।

প্রফেসর ড. কামাল উদ্দিন আহাম্মদ : ভাইস-চ্যান্সেলর, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়

[email protected]

আরও পড়ুন
--
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×