আমাদের মানসিকতার পরির্বতন জরুরি

  ড. মো. মিজানুর রহমান ২৩ মার্চ ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

আমাদের মানসিকতার পরির্বতন জরুরি
আমাদের মানসিকতার পরির্বতন জরুরি। ছবি: সংগৃহীত

আমরা যখন পথচারী, তখন পরিবহন মাধ্যমের সবাইকে বাঁকা চোখে দেখি। সেই আমরাই যখন রিকশার আরোহী হই, তখন পথচারীদের ওপর বিরক্ত হই- তারা কেন আইন মানে না। অথচ রিকশাকে উল্টো পথে চলার প্ররোচনা দেই।

যখন আমরা মোটরসাইকেল ও অটোরিকশার আরোহী হই, তখন পথচারী ও রিকশার ওপর বিরক্ত হই। মোটরসাইকেল ফুটপাতে তুলে দেই, উল্টো পথে চলে দুর্ঘটনার কারণ হই। যখন আমরা প্রাইভেট কারের আরোহী হই, তখন পথচারী, রিকশা, মোটরসাইকেল ও অটোরিকশার ওপর বিরক্ত হই।

কেন বাসযাত্রীরা রাস্তার যেখান-সেখান থেকে বাসে উঠে সে কারণে বিরক্ত হই। যখন কোনো অ্যাম্বুলেন্স আমাদের পেছনে চিৎকার করে সাইরেন বাজাতে থাকে, আমরা তার জন্য জায়গা না করে দিয়ে বিরক্ত প্রকাশ করি। যখন আমরা গণপরিবহনের যাত্রী হই, তখন বাসস্টপে না নেমে আমার যেখানে প্রয়োজন সেখানে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নেমে যাই। যখন ভিআইপি আরোহী হই, তখন রাস্তার উল্টো দিক দিয়ে চলাচল করাকে নিজের অধিকার বলে মনে করি।

যখন আমরা গাড়ির মালিক, তখন ফিটনেসবিহীন গাড়ি রাস্তায় নামানোকে অধিকার মনে করি। যখন আমরা গাড়ির চালক, তখন মনে করি সড়কে মানুষ মারার লাইসেন্স আমার আছে। যখন আমরা বিআরটিএ’র কর্মকর্তা, তখন যথাযথভাবে নিয়ম অনুসরণ না করেই গাড়ির ফিটনেস প্রদান করি এবং সেই গাড়ি কোনো দুর্ঘটনা ঘটালে কোনো দায়িত্ব নিতে চাই না। যখন আমরা আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্য, তখন সড়কে কোনো নৈরাজ্য হলে নিজের দায়িত্ব এড়িয়ে যাই। যখন আমরা সড়কের নকশা প্রণয়নকারী, তখন আমার নকশা প্রণয়নের ত্রুটির কারণে কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে চালককে দায়ী করি। যখন আমরা জনপ্রতিনিধি, তখন নিজের ভোটের কথা চিন্তা করে নন-স্ট্যান্ডার্ড গাড়ি মহাসড়কে চলার অনুমতি প্রদানের জন্য চাপ প্রয়োগ করি, অথচ সেই গাড়ি দুর্ঘটনা ঘটালে কোনো দায়িত্ব নিতে চাই না।

অর্থাৎ আমরা যখন যে অবস্থানে থাকি, নিজের সুবিধার কথাই চিন্তা করি। সড়কের নিরাপত্তার কথা বেমালুম ভুলে যাই। আমার সড়ক ব্যবহারের অনিময়ের কারণে অপরের যে অসুবিধা হতে পারে, অনেক সময় সে কথা ভুলে যাই। যে যখন (চালক, মালিক, পথচারী, আরোহী, যাত্রী, পুলিশ, বিআরটিএ, ভিআইপি, আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্য, সড়কের নকশা প্রণয়নকারী বা জনপ্রতিনিধি) যে অবস্থানে থাকি না কেন, সবাই যদি ট্রাফিক আইন মেনে চলি এবং যার যে দায়িত্ব তা যথাযথভাবে পালন করি, তাহলে ঢাকা শহরের পরিবহন ব্যবস্থায় কিছুটা শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা সম্ভব।

এর সঙ্গে প্রয়োজন রাজনৈতিক সদিচ্ছা, গণপরিবহন ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানো, বাস রুট ফ্রাঞ্চাইজের দ্রুত বাস্তবায়ন, এমআরটি ও বিআরটি রুটগুলো নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নির্মাণ করা, ঢাকার সঙ্গে আশপাশের জেলাগুলোর মধ্যে কমিউটার ট্রেন চলাচলের ব্যবস্থা করা, ঢাকার চারদিকে সার্কুলার ওয়াটারওয়ে সড়কপথের সঙ্গে সমন্বয় করে পুনরায় চালু করা, পথচারীবান্ধব ফুটপাত ও ফুট ওভারব্রিজ তৈরি করা এবং সর্বোপরি আমাদের মানসিকতার পরিবর্তন করা।

ড. মো. মিজানুর রহমান : অধ্যাপক, বুয়েট; পরিচালক, অ্যাক্সিডেন্ট রিসার্চ ইন্সটিটিউট

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×