নিশ্চিত করতে হবে চালকের নিয়োগপত্র

  ড. মোহাম্মদ মাহবুব আলম তালুকদার ২৩ মার্চ ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

নিশ্চিত করতে হবে চালকের নিয়োগপত্র
ছবি: সংগৃহীত

এখন পর্যন্ত পরিবহন খাতে কোনো ধরনের শৃঙ্খলা ফেরানো যায়নি। পরিবহন সংশ্লিষ্ট কেউ শৃঙ্খলায় আসতে চায় না, আইন মানতে চায় না। এ জন্য কিছু উদ্যোগ নেয়া যেতে পারে। যেমন- চালকদের চাকরির নিশ্চয়তা ও নিয়োগপত্র দেয়া এবং মালিকদের সুবিধা-অসুবিধা বিবেচনায় নেয়া, তড়িঘড়ি কোনোকিছু না করে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ, সরকারের শীর্ষমহল থেকে নিয়মিত মনিটরিংয়ের উদ্যোগ, প্রযুক্তিনির্ভর ট্রাফিক পদ্ধতি এবং ভালো কাজের জন্য পুরস্কার এবং মন্দ কাজের জন্য তিরস্কার পদ্ধতি চালু করা গেলে ধীরে ধীরে পরিবহন খাতে পরিবর্তন আসবে।

প্রথমে চালকদের নিয়োগপত্র দেয়ার প্রসঙ্গে আসি। যদি বাস কোম্পানি ও মালিকরা চালকদের নিয়োগপত্র দেয় তবে তাদের চাকরির নিশ্চয়তা থাকবে এবং ট্রিপভিত্তিক পদ্ধতিতে কে কত বেশি ট্রিপ চালিয়ে বেশি আয় করবে, সে ধরনের পাড়াপাড়ি থাকবে না। এতে করে চালকদের মানসিক প্রশান্তি, চাকরির নিশ্চয়তার কারণে অহেতুক বাড়াবাড়ি, ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের মতো বিষয়গুলো তারা এড়িয়ে চলবে। তাছাড়া নিয়োগপত্র থাকার কারণে দুর্ঘটনা ঘটিয়ে তারা পালিয়ে গিয়ে পার পাবে না- এ ধরনের ভয়ও তাদের মধ্যে কাজ করবে। নিয়োগপত্র দেয়ার সময় বৈধ লাইসেন্স থাকার বিষয়টিও নিশ্চিত হওয়ার সুযোগ থাকবে। সড়ক আইনেও চালকদের নিয়োগপত্র দেয়ার বিষয়টি রয়েছে।

আরেকটা বিষয়- গাড়ির মালিকরা সরকারের নির্দেশনা শোনে না, আইন মানতে চায় না। এক্ষেত্রে মনে রাখতে হবে, এটা কাঁচা টাকা কামানোর একটি খাত। এতে যেহেতু সরকার কোনো ধরনের সুযোগ-সুবিধা দেয় না, সেহেতু মালিকরা সরকারের নির্দেশনা মানতে চায় না। সরকার নিয়ন্ত্রণ আরোপ করতে চাইলে তাকে মালিকদের বিষয়ও বিবেচনায় নিতে হবে। যেমন- স্বল্প সুদে বা বিনা সুদে গাড়ি কেনার পথ করে দেয়া, তাদের বিনিয়োগের সুরক্ষার জন্য কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করলে মালিকরা সরকারের নির্দেশনা মানতে বাধ্য হবে। যেহেতু এটি দৈনন্দিন জীবনের খুবই অপরিহার্য একটি খাত, সেহেতু অন্যান্য খাতের মতো কোনোভাবে ভর্তুকি, ছাড় ও ঋণপ্রাপ্তিতে সহযোগিতা দিয়ে তাদের আয়ত্তে আনা যেতে পারে।

পরিবহনের মতো গণমুখী খাতে হঠাৎ করে কোনো সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে না। এক্ষেত্রে গাড়ি বন্ধ করে দিলে মানুষের ভোগান্তি-সমস্যা আরও বাড়বে। ফলে ধীরে ধীরে মনিটরিংয়ে নিয়ে আসার উদ্যোগ নিতে হবে। সড়ক দুর্ঘটনাসহ পরিবহন খাতের আরও নানা সমস্যার পেছনে ম্যানুয়াল ট্রাফিক পদ্ধতিরও দায় রয়েছে। এজন্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে ডিজিটাল সিস্টেমে যেতে হবে। ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ, মামলা দেয়া, দূর থেকে গাড়ি পর্যবেক্ষণ ইত্যাদি প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে করতে হবে। আমরা ডিজিটাল বাংলাদেশ বলে নিজেদের দাবি করি; কিন্তু জীবনের সঙ্গে সবচেয়ে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত খাতটিকে ম্যানুয়াল রেখে তো এগোনো যাবে না। তাছাড়া বাস কোম্পানি-মালিকদের নিয়মনীতির আওতায় আনার জন্য তাদের ভালো কাজের জন্য পুরস্কার, মন্দ কাজের জন্য তিরস্কারের উদ্যোগ নেয়া যায়। সরকার ইচ্ছা করলে অনেক কিছুই করতে পারে।

ড. মোহাম্মদ মাহবুব আলম তালুকদার : অধ্যাপক, বুয়েট; সাবেক পরিচালক, অ্যাক্সিডেন্ট রিসার্চ ইন্সটিটিউট

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×