বিরোধীপক্ষের অনৈক্যই কি মোদির শক্তি?

  এ কে এম শামসুদ্দিন ১৯ এপ্রিল ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

বাতায়ন

১১ এপ্রিল ভারতের লোকসভার ৫৪৩টি আসনের মধ্যে প্রথম দফায় ১৮টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত দুটি অঞ্চলের ৯১টি আসনের নির্বাচন হয়ে গেল।

লোকসভার এ নির্বাচন মোট ছয় সপ্তাহজুড়ে সাত দফায় শেষ হবে। সর্বশেষ দফায় ভোট গ্রহণ হবে ১৯ মে এবং ফলাফল ঘোষণা হবে ২৩ মে।

ভারতের ১৭তম লোকসভা নির্বাচনে আনুমানিক ৯০ কোটি ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচন থেকে এবার ১০ কোটি নতুন ভোটার বেশি। তবে গত লোকসভা নির্বাচনের তুলনায় এবারের নতুন ভোটারের সংখ্যা কম।

গত নির্বাচনে নতুন ভোটার ছিল ২৭ কোটি। ৯০ কোটি ভোটারের মধ্যে ৪৩ কোটিরও বেশি নারী ভোটার ভোট দেবেন লোকসভা নির্বাচনে।

১৮ থেকে ১৯ বছর বয়সী ভোটার আছে দেড় কোটির মতো। এবার ভোটদাতাদের ৯৯ শতাংশই ভোট দেবেন ভোটার পরিচয়পত্র দিয়ে। ভোট গ্রহণের জন্য ১০ লাখেরও বেশি ভোটকেন্দ্র প্রস্তুত করা হয়েছে এবং ভোটার ভেরিফাইয়েবল পেপার এডিট ট্রেইলসহ (ভিভিপ্যাট) ৪০ লাখ ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহার করা হচ্ছে।

ভিভিপ্যাট হল একটি বিশেষ ডিভাইস, যার মাধ্যমে ভোটার যে প্রতীকে ভোট দেবেন; তা সংরক্ষণ করতে সক্ষম অর্থাৎ একবার একটি প্রতীকে ভোট প্রয়োগ করলে ওই প্রতীক ছাড়া অন্য কোনো প্রতীকে ভোট রেকর্ড হবে না। অর্থাৎ ঞধসঢ়বৎবফ করে অন্য প্রতীকে বা শুধু একটি নির্দিষ্ট প্রতীকে ভোট রেকর্ড করা সম্ভব হবে না।

৩০ ডিসেম্বর বাংলাদেশের সাধারণ নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারে বিরোধী দলগুলোর যেমন আপত্তি ছিল, ভারতেও বিরোধী দলের পক্ষ থেকে ইভিএম ব্যবহারে আপত্তি করা হয়েছিল। তবে ভিভিপ্যাট সংযোগ করায় সে আপত্তি আর ধোপে টেকেনি।

ইভিএম নিয়ে বিরোধীদের আপত্তি যে অমূলক ছিল না, তার প্রমাণ পাওয়া যায় ১১ এপ্রিল নির্বাচনের প্রথম ধাপে। এদিন দেশটির বিভিন্ন রাজ্যে অনুষ্ঠিত ভোট গ্রহণকালে কারচুপি এবং ইভিএম নষ্ট হয়ে যাওয়ার অভিযোগ ওঠে।

অন্ধ্রপ্রদেশে ৩০ শতাংশ ইভিএম নষ্ট হয়ে যায় বলে খবর পাওয়া গেছে। নির্বাচন কমিশন ইতিমধ্যেই ৩৬২টি ইভিএম খারাপ হয়ে যাওয়ার ঘটনা স্বীকার করে নিয়েছে। এ ছাড়া কংগ্রেস পার্টি মহারাষ্ট্রে ইভিএম কারচুপির ৩৯টি অভিযোগ জমা দিয়েছে নির্বাচন কমিশনে। পশ্চিমবঙ্গ, কাশ্মীরসহ অন্য রাজ্যগুলো থেকেও অনুরূপ অভিযোগ উঠেছে বলে জানা গেছে।

ভারতের এবারের লোকসভা নির্বাচনে মোদির ক্ষমতাসীন বিজেপি আবারও নির্বাচিত হয়ে আসতে পারবে কি না, এ নিয়ে ব্যাপক জল্পনা-কল্পনা চলে আসছে ভোটের বাতাস শুরু হওয়ার আগ থেকেই। বিভিন্ন জরিপে যদিও শরিকদের নিয়ে বিজেপির আবারও সরকার গঠনের আগাম ইঙ্গিত পাওয়া গেছে ইতিমধ্যে, তবে ২০১৪ সালের মতো একক সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হিসেবে এবার ক্ষমতায় আসা বিজেপির জন্য কঠিন হবে বলে ধারণা করা যায়।

২০১৪ সালের ‘মোদি ম্যাজিক’ এবারের নির্বাচনের ময়দানে কাজে দেবে বলে মনে হয় না। এ নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ হয়েছে প্রচুর। অনেক লেখালেখিও হয়েছে। গত নির্বাচনে ভারতের জনগণের কাছে দেয়া অনেক গুরুত্বপূর্ণ প্রতিশ্রুতিই মোদি রক্ষা করতে পারেননি। ১৩০ কোটি মানুষের দেশ ভারতে অর্ধেকেরও বেশি যুবকের বয়স ২৫ বছরের নিচে। আনুমানিক দশ লক্ষাধিক যুবক চাকরির অভাবে বেকার হয়ে পড়ছে প্রতিবছর। কর্মসংস্থানের বদলে মোদির পাঁচ বছরের শাসনামলে বেকার সমস্যা আরও প্রকট আকার ধারণ করেছে। ২০১৮ সালেই বেকারত্বের হার বেড়েছে ৬.১ শতাংশ, যা বিগত ৪৫ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। অপরদিকে দেশটির উত্তরাখণ্ড রাজ্যের এক কৃষক ঈশ্বর চন্দ্র শর্মা ঋণে জর্জরিত ও প্রতারিত হয়ে ৮ এপ্রিল বিষপানে আত্মহত্যার মধ্য দিয়ে বিগত পাঁচ বছরে ভারতের কৃষকের দুর্দশার চিত্রটি তুলে ধরেছে। আত্মহত্যার আগে তিনি একটি সুইসাইডাল নোটও লিখে গেছেন; যেখানে লেখা ছিল- ‘গত পাঁচ বছরে বিজেপি সরকার কৃষককে ধ্বংস করে দিয়েছে। তাদের ভোট দেয়া যাবে না। ভোট দিলে সবাইকে চা বিক্রেতা বানিয়ে ছাড়বে।’ শর্মা সম্ভবত মোদির আদি পেশার দিকে ইঙ্গিত দিয়ে ‘চা বিক্রেতা’র কথা উল্লেখ করেছেন। কৃষিকাজে অতিরিক্ত খরচ এবং উৎপাদিত ফসলের উপযুক্ত মূল্য না পাওয়ার কারণে কৃষকের ব্যাংক থেকে নেয়া ঋণের টাকা পরিশোধ করতে না পেরে আত্মহত্যার ঘটনা ভারতে যদিও নতুন নয়; তবু নির্বাচনের ঠিক আগ মুহূর্তে এ ধরনের একটি সুইসাইডাল নোটসহ আত্মহত্যার ঘটনাটি ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে সন্দেহ নেই। উল্লেখ্য, গত দু’বছরে দেশটিতে ১৭ জন কৃষক আত্মহত্যা করেছেন।

অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ আছে মোদি সরকারের বিরুদ্ধে। অভিযোগ আছে ভারতের আর্থিক খাতের বড় বড় প্রকল্প পাওয়ার ক্ষেত্রে শীর্ষস্থানীয় কিছু গোষ্ঠী বিশেষ সুবিধা পাওয়ার ব্যাপারেও। অনিল আম্বানির কোম্পানি এদের মধ্যে অন্যতম। কথিত আছে, ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচন এবং বর্তমানে চলমান নির্বাচনে বিজেপির মোটাদাগের অর্থ জোগানদাতা এসব বিশাল পুঁজির মালিকদের সঙ্গে গোপন বোঝাপড়া আছে নরেন্দ্র মোদির। এসব অর্থনৈতিক আইকন ব্যবসায়িক ফায়দা হাসিলের জন্য বিরাট অঙ্কের অর্থ ঢালছে মোদির পেছনে। একটি উদাহরণ দিলেই বিষয়টি পরিষ্কার হবে বলে মনে হয়।

মোদি সরকার ৫৮ হাজার কোটি রুপির বিনিময়ে ৩৬টি অত্যাধুনিক ‘রাফায়েল যুদ্ধবিমান’ কেনার জন্য ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বরে ফ্রান্সের সঙ্গে চুক্তি সই করে। অথচ কংগ্রেস আমলে ২০০৭ থেকে শুরু করে ২০১৪ সালে আলোচনা চূড়ান্ত হয়ে গেলেও চুক্তি সই না হয়ে ঝুলেছিল। সে চুক্তি অনুসারে মোট খরচ পড়ত ৭৯ হাজার ২০০ কোটি রুপি, বিনিময়ে রাফায়েল যুদ্ধবিমান আসত ১২৬টি। বিজেপি আমলের চুক্তিতে ৩৬টি যুুদ্ধবিমান, যার খরচ পড়বে ৫৮ হাজার কোটি রুপি। সে অনুসারে প্রতিটি বিমানের খরচ পড়ছে ১ হাজার ৬১১ কোটি টাকা। অথচ কংগ্রেস আমলের চুক্তি অনুসারে খরচ পড়ত ৬২৯ কোটি।

বিমানপ্রতি ৬২৯ কোটি রুপিতে ৩৬টি বিমানের খরচ হওয়ার কথা ২২ হাজার ৬৪৪ কোটি রুপি। অর্থাৎ মোদি সরকার প্রায় আড়াইগুণেরও বেশি অর্থের বিনিময়ে রাফায়েল যুদ্ধবিমান ক্রয়ের চুক্তি করেছে। বিরোধী দল, বিশেষ করে কংগ্রেসের প্রশ্ন- যুদ্ধবিমান ক্রয়ের অতিরিক্ত অর্থ কার স্বার্থে ধরা হয়েছে? কথিত আছে, এ যুদ্ধবিমান চুক্তির পেছনে ভারতের বিশাল পুঁজির মালিক অনিল আম্বানির বিরাট বড় একটি ভূমিকা আছে। তার কারণেই রাফায়েল চুক্তি সম্ভব হয়েছে বলা হয়ে থাকে। ভারতের বিশেষজ্ঞ মহল এবং মিডিয়া মনে করে, ‘রাফায়েল কেলেঙ্কারি’র মধ্যে ৩০ বছর আগের ‘বোফর্স কেলেঙ্কারির’ ছায়া দেখা যাচ্ছে। বোফর্স কেলেঙ্কারির জের ধরে ১৯৮৯ সালের নির্বাচনে কংগ্রেসের যেমন ভরাডুবি হয়েছিল; তারই পদাঙ্ক অনুসরণ করে বিজেপিকে হয়তো এবার ‘রাফায়েল কেলেঙ্কারি’র খেসারত দিতে হতে পারে।

এ সবকিছু মিলিয়ে মোদি কিছুটা কোণঠাসা হলেও বিরোধীপক্ষ এ পরিস্থিতি কাজে লাগিয়ে এর ফায়দা ঘরে তুলতে পেরেছে সামান্যই। নিজেদের মধ্যে অনৈক্য এর মূল কারণ বলে মনে হচ্ছে। মোদিবিরোধী সবচেয়ে বৃহৎ দল কংগ্রেস। মোদির দুর্বল জায়গাগুলোয় আঘাত হানার ক্ষেত্রে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ করে একটি শক্ত অবস্থান তৈরিতে যে নেতৃত্বের প্রয়োজন, এ ক্ষেত্রে কংগ্রেসের সভাপতি হিসেবে রাহুল গান্ধীর ভেতর সে নেতৃত্ব প্রদানে পরিপক্বতার অভাব অনুভূত হয়েছে। পরিবারতন্ত্রের ঘোর প্যাঁচে এবারের নির্বাচন প্রস্তুতিতে কংগ্রেসকে আগের মতো ক্ষুরধার মনে হয়নি। প্রিয়াংকার দলভুক্তি কিছুটা সাড়া ফেললেও জনগণের রায় শেষ পর্যন্ত কোন দিকে যায়; সে জন্য ২৩ মে পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে সবার। গান্ধী পরিবারের প্রতি মানুষের আবেগ ও সহানুভূতিকে পুঁজি করে দলকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা কতটুকু ফলদায়ক হবে; তা এবারের নির্বাচনের ফলাফলই বলে দেবে। যুগের পর যুগ একই পরিবারের সদস্যদের দলের নেতৃত্বে রাখার কারণে কংগ্রেসের অনেক মেধাবী ও ক্যারিশমেটিক নেতাকে পুরোদস্তুর কাজে লাগানোর চেয়ে সাইডলাইনে বসে থাকতে দেখা গেছে। এ বক্তব্যের পক্ষে প্রণব মুখার্জির অবস্থান অন্যতম উদাহরণ বলা যায়।

এতদসত্ত্বে¡ও মোদি এখনও একজন শক্তিশালী নেতা হিসেবে নিজেকে ধরে রাখতে পেরেছেন বলে মনে হয়। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ক্ষমতাসীন হওয়ার পর নরেন্দ্র মোদি প্রকাশ্যে মুসলিমবিরোধী বক্তব্য দেয়া থেকে নিজেকে সংযত রাখলেও তারই ছত্রছায়ায় তার দল ও নেতারা মুসলমানদের বিরুদ্ধে ব্যাপক সংহিস ঘটনা ঘটিয়েছে; সে ব্যাপারে কোনো দ্বিমত নেই। তার শাসনামলে প্রতি বছর ভারতজুড়ে শত শত সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা-হাঙ্গামার ঘটনা ঘটেছে। এ ব্যাপারে বিরোধী দলসহ সাধারণ মানুষ ব্যাপক সোচ্চার হলেও নরেন্দ্র মোদি এসবকে খুব কমই তোয়াক্কা করেছেন। এ কারণেই আমরা দেখতে পাই, বিজেপিকে তাদের ইশতেহারে আবারও ক্ষমতায় গেলে অযোধ্যায় রামমন্দির নির্মাণসহ কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিলের অঙ্গীকার করতে; পশ্চিমবঙ্গসহ অন্যান্য রাজ্যে জাতীয় নিবন্ধীকরণের নামে মুসলমানদের বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী হিসেবে চিহ্নিত করে রাজ্যছাড়া করার হুংকার দিতে।

কিছু কিছু ক্ষেত্রে ভাগ্য মোদির পক্ষে কাজ করেছে বলে মনে হচ্ছে। ‘রাফায়েল কেলেঙ্কারি’সহ অন্য ইস্যুতে মোদির জনপ্রিয়তা যখন ভাটার দিকে; একই সময় বিরোধী দলগুলো যখন মোদিবিরোধী কর্মসূচিতে ঐক্যবদ্ধ, ঠিক তখনই কাশ্মীরে চল্লিশজন আধা-সামরিক সদস্যের মৃত্যুর ঘটনাকে মোদি শতভাগ কাজে লাগিয়ে পাকিস্তানের বালাকোটে বিমান আক্রমণ করে সাধারণ মানুষের দৃষ্টি ঘোরাতে সক্ষম হয়েছেন। ভারতের মিডিয়াকে যথেচ্ছ ব্যবহার করে প্রশিক্ষণ ক্যাম্পসহ সাড়ে তিনশ’ জঙ্গি হত্যার খবর প্রচার করে সমগ্র ভারতকে তার পেছনে সারিবদ্ধ করতে সমর্থ হয়েছেন। তথাকথিত এই ‘মোদি ম্যাজিক’ দু’দিনও কিন্তু ধরে রাখতে পারেননি নরেন্দ্র মোদি। ভারতীয় পাইলট অভিনন্দন পাকিস্তানে আটক হওয়ার পর সে ম্যাজিকে কিছুটা ভাটা পড়লেও পাকিস্তানবিরোধী মোদির আগ্রাসী ইমেজ অটুট রাখতে সমর্থ হয়েছেন। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন সূত্রে বালাকোটের ঘটনা মিথ্যা বলে প্রকাশ পেলেও আপাতদৃষ্টিতে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে মোদির জনপ্রিয়তা কিছুটা পুনরুজ্জীবিত হয়েছে ধারণা করা হচ্ছে। কিন্তু তাতেও যেন বাদ সাধলেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। নির্বাচনে মোদির সাফল্য কামনা করে ইমরানের সাম্প্রতিক বিবৃতি বিরোধী দলের হাতে যেন মোদিবিরোধী নির্বাচনী প্রচারণার ইস্যু তুলে দিয়েছে।

প্রতিবেশী দেশ হিসেবে ভারতের ১৭তম লোকসভা নির্বাচন বাংলাদেশের জন্য বিশেষ গুরুত্ববহ। ভারতের আগামী কেন্দ্রীয় সরকার কোন দল গঠন করবে, তা নিশ্চিত হওয়ার জন্য ২৩ মে পর্যন্ত আমাদের অপেক্ষা করতে হবে। ভারতের যে রাজনৈতিক দল বা জোটই সরকার গঠন করুক না কেন; তাতে বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্কের গুণগত কী পরিবর্তন হবে, তা ভেবে দেখতে হবে। ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি অমীমাংসিত সমস্যাগুলোর সমাধান হবে কিনা, সে ব্যাপারে বাংলাদেশ কতটুকু আশাবাদী হতে পারে? আগের সব রেকর্ড ঘেঁটে দেখলে খুব একটা বেশি আশাবাদী হওয়ার কারণ দেখা যাচ্ছে না। নির্বাচনী সব জরিপকে মিথ্যা প্রমাণিত করে মোদিবিরোধী জোট যদি ক্ষমতায় আসে, তাহলেও আমাদের বিশেষ বিশেষ মহল ছাড়া বাংলাদেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় সংরক্ষিত হবে কিনা, সে ব্যাপারে সন্দেহ কিন্তু রয়েই যাচ্ছে। কারণ মোদি সরকারের আগে কংগ্রেস ক্ষমতায় থাকাকালেও বাংলাদেশের স্বার্থ রক্ষায় তাদের মনোভাবের কোনো পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়নি। ভারতের সব স্বার্থ রক্ষা করলেও তিস্তা-ফারাক্কাসহ বাংলাদেশের অন্যান্য বৃহৎ সমস্যার সমাধান করতে আমরা ব্যর্থ হয়েছি। এমনকি রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানেও আমরা ভারতকে পাশে পাইনি। তবে মোদি সরকার আবারও ক্ষমতাসীন হলে আসামসহ ভারতের অন্যান্য অঞ্চলে বসবাসরত বাঙালি মুসলমানদের ব্যাপারে তাদের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে বাংলাদেশের সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে। ভারতশাসিত কাশ্মীরের পর আসামেই সবচেয়ে বেশি মুসলমানের বসবাস; বিশেষ করে আসামের জাতীয় নিবন্ধীকরণের পর ৪০ লাখ বাঙালি মুসলমানের অমীমাংসিত ইস্যু নিয়ে তারা কী সিদ্ধান্ত নেয়, সে ব্যাপারে আমাদের সতর্ক থাকতে হবে। ভারতের প্রতি আমাদের পররাষ্ট্রনীতি তখন কতটুকু কাজ করবে, সে সংশয় কিন্তু থেকেই যাচ্ছে।

পুনশ্চ : মোদির ‘রাফায়েল কেলেঙ্কারি’র কথা শুনে সেদিন আমার এক বন্ধু বলেই ফেললেন, রাফায়েলের মধ্যে বোফর্সের ছায়া পড়বে কেন; বরং প্রতি বর্গফুট হিসেবে বিশ্বরেকর্ডকৃত মূল্যে তৈরি আমাদের যাত্রাবাড়ী ফ্লাইওভারের ছায়া পড়েছে ওই রাফায়েলের ওপর। কারণ ভারতের অনিল আম্বানির মতো আমাদের এখানেও এমন অনেক আম্বানি আছেন, যারা তাদের শীতল ছায়াতলে পুরো দেশটাকেই ঢেকে রেখেছেন।

একেএম শামসুদ্দিন : অবসরপ্রাপ্ত সেনাকর্মকর্তা

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×