আলোকপাত

শ্রীলংকা হামলা একটি সতর্ক সংকেত

  এম হুমায়ুন কবির ২৩ এপ্রিল ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ছবি: দ্য গার্ডিয়ান
ছবি: দ্য গার্ডিয়ান

শ্রীলংকায় ইস্টার সানডের অনুষ্ঠানে যে বর্বর হামলাটি হল একে এককথায় নির্মম হত্যাকাণ্ড ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বলতে হবে। একইসঙ্গে প্রায় একই সময়ে ৭-৮ জায়গায় হামলা ও বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে, যাতে ২৯০ জনের বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন।

এর মধ্যে ৩৫ জনের বেশি বিভিন্ন দেশের নাগরিকও রয়েছেন। এছাড়া আহত হয়েছেন আরও কয়েকশ’ মানুষ। দক্ষিণ এশিয়ার শান্ত দেশ হিসেবে পরিচিত দ্বীপ দেশ শ্রীলংকার ৩-৪টি জেলায় গির্জা, হোটেল ও ধর্মীয় স্থাপনায় হামলার ঘটনা ঘটেছে। হামলার ধরন দেখে মনে হচ্ছে এটি কো-অর্ডিনেটেড বা সংঘবদ্ধ হামলা।

এমন বর্বর হামলার পেছনে দায়ী কে বা কারা, তা এখনও জানা যায়নি। এমনকি কেউ হামলার দাবিও করেনি, অন্যান্য সন্ত্রাসী হামলার ক্ষেত্রে যেমনটি দেখা যায়। সারা পৃথিবীর মানুষ হামলার নিন্দা জানিয়েছে এবং নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিরা শ্রীলংকার সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করেছেন এবং হতাহতদের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।

এখানে কয়েকটি বিষয় রয়েছে। প্রথমত, যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন তাদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং তা চলছে। বলা যায়, শ্রীলংকার সরকার এক্ষেত্রে ভালোভাবেই পরিস্থিতি সামাল দিচ্ছে। অন্যদিকে নিরাপত্তার বিষয়টি চলে আসছে সর্বাগ্রে। আর যেন কোনো ধরনের হামলার ঘটনা ঘটতে না পারে, তা নিশ্চিত করতে হবে। এরই মধ্যে দেশটির সরকার নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছে। কারণ, অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, এ ধরনের হামলার পর আতঙ্ক সৃষ্টির জন্য সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসীরা আরও হামলা চালানোর চেষ্টা করে থাকে। এতে আক্রমণাত্মক পরিস্থিতি তৈরি হয়। ফলে সরকারকে কঠোরভাবে ও সতর্কতার সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে হবে।

দ্বিতীয়ত, সংঘবদ্ধ এ হামলায় কারা জড়িত? এখনও পর্যন্ত সেটি যেমন চিহ্নিত করা যায়নি, তেমনি কোনো সন্ত্রাসী গ্রুপ হামলার দায়িত্ব স্বীকারও করেনি। তবে এ ধরনের কিছু ঘটতে পারে বলে ইঙ্গিত ও গোয়েন্দা তথ্য ছিল বলে শ্রীলংকার পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে। হামলার পরপরই দেশটির প্রধানমন্ত্রী রনিল বিক্রমাসিংহে তেমনটি বলেছেন। অবশ্য এত দ্রুত ঘটনা ঘটে যাবে ধারণা না থাকায় আগাম কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। এখন পর্যন্ত দেশটির পক্ষ থেকে কাউকে দায়ী করা হয়নি। তারা ইনভেস্টিগেশন করছে, তদন্ত শেষ হলে জানানো হবে। এর পেছনে দীর্ঘদিনের গৃহযুদ্ধে পরাজিত তামিলদের কোনো সংযোগ আছে কিনা, তা এখনই বলা যাচ্ছে না।

উদ্বেগের বিষয় হচ্ছে, হামলার জের ধরে এরই মধ্যে দ্বীপ দেশটিতে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনার পরিস্থিতি আঁচ করা যাচ্ছে। যদিও শ্রীলংকা কর্তৃপক্ষ হামলার জন্য কাউকে দায়ী করেনি এবং মুসলিম সম্প্রদায়সহ অন্যান্য সম্প্রদায় হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের পাশে থাকার ঘোষণা দিয়েছে। অভিজ্ঞতা থেকে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনার বিষয়টি সামনে চলে আসে। কারণ ২০১৮ সালেও দেশটিতে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা ও হামলার ঘটনা ঘটেছে। আমরা আশা করব, আন্তঃসাম্প্রদায়িক সংহতি যেন নষ্ট না হয়- ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই সেদিকে দৃষ্টি দেবে ও সজাগ থাকবে। অবশ্য সরকার ও দায়িত্বশীল সবাই সে ধরনের উদ্যোগ নিচ্ছে।

সর্বশেষ, এ অঞ্চলের দেশগুলোর জন্য শ্রীলংকার হামলা একটি সতর্ক সংকেত। সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে এবং পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে সন্ত্রাসকে পরাজিত করতে হবে। কারণ, এ অঞ্চলের বিভিন্ন দেশ বিভিন্ন সময় সন্ত্রাসের শিকার হয়েছে।

এম হুমায়ুন কবির : সাবেক কূটনীতিক

ঘটনাপ্রবাহ : শ্রীলংকায় গির্জা ও হোটেলে সিরিজ হামলা

আরও
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×