ঋণ করে প্রকল্প করার প্রয়োজন নেই

  এম এ হাসেম ১১ মে ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

টাকা

সম্প্রতি জাতীয় সংবাদপত্রের মাধ্যমে জানতে পারি সরকার ৪ লাখ কোটি টাকার বিদেশি ঋণ সহায়তা নিতে যাচ্ছে। এক্ষেত্রে আমার মতামত হল, ঋণ না করে বিওটি’র (BOT: Build, Operate, Transfer) মাধ্যমে বিভিন্ন কর্মকাণ্ড সম্পাদন করা যেতে পারে।

সারা পৃথিবীতে এক দেশ আরেক দেশকে বিওটির মাধ্যমে উন্নত করেছে- উদাহরণস্বরূপ মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড ও সিঙ্গাপুরে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা বিওটির মাধ্যমে এ ধরনের প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে।

আমার মতামত হল- আমাদেরও ঋণ না নিয়ে বিদেশি বিনিয়োগকারীর সহযোগিতায় এবং তাদের সহায়তায় এসব প্রকল্প বাস্তবায়ন করা খুবই সম্ভবপর। যেমন :

মহাসড়ক/হাইওয়ে : সারা দেশে রাস্তা রড-সিমেন্ট ঢালাইয়ের মাধ্যমে বিওটির ভিত্তিতে করা উচিত, এতে করে ঋণের প্রয়োজন হবে না।

মেট্রোরেল : সারা ঢাকা শহরে মেট্রোরেল বিওটির মাধ্যমে করা সম্ভব।

পর্যটন শিল্প : বাংলাদেশে পর্যটন শিল্পে অব্যবস্থাপনার কারণে আমরা এ ক্ষেত্র থেকে লাভবান হতে পারছি না। আমি মনে করি, বিশ বছর মেয়াদে এ শিল্প বিওটির মাধ্যমে জাপান ও চীনকে দেয়া যেতে পারে। বিশ বছর পর সম্পদ আমাদের কাছেই থাকবে।

বন্দর/পোর্ট : বাংলাদেশের জনসংখ্যা বিশ কোটির কাছাকাছি। চট্টগ্রামের একমাত্র বন্দরটি আমাদের পণ্য স্বদেশে ও বিদেশে আনা-নেয়ার জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে, এটা সম্পূর্ণ অপ্রতুল। এতে দেশের যথেষ্ট ক্ষতি হচ্ছে। সিঙ্গাপুরের মতো দেশে সারা পৃথিবীর জাহাজ নোঙর করা হয়। এটা তাদের বড় একটি আয়ের উৎস।

আমি মনে করি, বাংলাদেশের কুতুবদিয়ায় গভীর সমুদ্রে বিওটির মাধ্যমে জাপান ও চীনকে দিয়ে এ বিশাল আন্তর্জাতিক বন্দর করা একান্ত আবশ্যক। এতে করে ভবিষ্যতে আমাদের কর্মসংস্থান থেকে শুরু করে দেশের অন্যান্য ক্ষেত্রে উন্নয়ন হবে।

সিঙ্গাপুরের মতো এ বিশাল সমুদ্রবন্দর যদি তৈরি হয়, সারা পৃথিবীর জাহাজ আমাদের কুতুবদিয়া সমুদ্রবন্দরে নোঙর করতে পারবে। বর্তমানে আমাদের যে সমুদ্রবন্দর রয়েছে সেখানে ৫০ থেকে ৬০ হাজার টনের অতিরিক্ত ভারবাহী জাহাজ নোঙর করতে পারে না, আমাদের সমুদ্রের গভীরতা কম হওয়ার কারণে।

৫০ হাজার টন পণ্য খালাস করতে ছোট ছোট জাহাজ ফিডার ভেসেলের মাধ্যমে করা হয়। এতে করে আমাদের পণ্যের পরিবহন খরচ অনেক বেড়ে যায়। এ কারণে আমাদের সাধারণ ক্রেতারাও অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

আমার বিশ্বাস, যদি কুতুবদিয়ায় গভীর সমুদ্রবন্দর স্থাপন করা হয়, তাহলে দেড় থেকে দুই লাখ টন পর্যন্ত পণ্যবাহী জাহাজ বাংলাদেশের বন্দরে নোঙর করতে পারবে। তখন আমাদের পরিবহন ব্যয় কমে যাবে এবং সময়ের সাশ্রয় হবে; একইসঙ্গে কর্মসংস্থানও বেড়ে যাবে।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স : প্রতি বছর বিমান খাতে চারশ’ থেকে পাঁচশ’ কোটি টাকা লোকসান হচ্ছে। এটি কোনোক্রমেই গ্রহণযোগ্য নয়। আমি এর আগে যখন সংসদ সদস্য ছিলাম তখন সংসদ বক্তৃতায় বলেছিলাম, আরব-আমিরাতের মতো বাংলাদেশ বিমানের পরিচালনা/ব্যবস্থাপনার জন্য ম্যানেজমেন্ট হায়ার করে সম্পাদন করা যেতে পারে; কিন্তু আজ পর্যস্ত এটি বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। এ কারণে প্রতি বছর বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের প্রায় পাঁচশ’ কোটি টাকা লোকসান হচ্ছে।

নদী খনন : আমাদের দেশে বিভিন্ন অঞ্চলে নদী খনন করা একান্ত বাঞ্ছনীয়। আমরা বিভিন্ন দেশের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়ে নদী খননের কাজটি অত্যন্ত সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে করতে পারি। তখন আমাদের পানির জন্য ভারতের তিস্তা নদীর ওপর নির্ভরশীল হওয়ার প্রয়োজন হবে না।

ফ্লাইওভার : আমাদের দেশে রাস্তায় গাড়ির সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। আর এসব গাড়ি অনিয়ন্ত্রিত চালনার জন্য প্রতিনিয়ত সড়ক দুর্ঘটনায় অনেক মানুষ অকালে প্রাণ হারাচ্ছে। সারা পৃথিবীতে বিওটির মাধ্যমে উড়াল সেতু নির্মাণ করা হচ্ছে। টোল আদায়ের মাধ্যমে বিশ থেকে পঁচিশ বছরের মধ্যে এটি পরিশোধযোগ্য।

আমি মনে করি, বাংলাদেশে যেসব বিদেশি দূতাবাস আছে, বিশেষ করে এশিয়া ও ইউরোপের, তাদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে আমন্ত্রণ জানানো উচিত। অনুরূপভাবে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী ডা. মাহাথির মোহাম্মদ তার দেশকে বিওটির মাধমে উন্নত করেছেন। আমরা তাদের অনুসরণ করতে পারি।

পরিশেষে : ঢাকার কাঁচপুর থেকে সরাসরি চট্টগ্রাম পর্যন্ত একটি ৩০০ ফুট সড়ক নির্মাণ করে তার সঙ্গে বুলেট ট্রেন সংযুক্ত করে ৪০ মিনিটেই ঢাকা-চট্টগ্রাম যাতায়াত করা সম্ভব। ছয় লেন করে যদি মালামাল পরিবহন করা যায়, তাহলে আমাদের বর্তমান ট্রাক ভাড়া বিশ হাজার থেকে কমে ছয় হাজারে নেমে আসবে। এতে করে ক্রেতারা লাভবান হবে।

বিনিয়োগকারীরা আমাদের দেশে বিনিয়োগ করতে কেন আগ্রহী হচ্ছে না : আমার মনে হয় বৈদেশিক নীতিমালা সংশোধন করতে হবে। এটি একটি কারণ হতে পারে। কাজেই সরকারের উচিত বিষয়টি খতিয়ে দেখা।

এম এ হাসেম : সাবেক সংসদ সদস্য

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×