মোদির ফিরে আসা কি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির জন্য অশনিসংকেত?

  এ কে এম শামসুদ্দিন ০৩ জুন ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

মোট সাত পর্বে অনুষ্ঠিত ভারতের ১৭তম লোকসভার নির্বাচনের ফল ইতিমধ্যেই বেরিয়ে গেছে। নরেন্দ্র মোদির বিজেপি এ নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হিসেবে আবারও নির্বাচিত হয়েছে। ৩০ মে দ্বিতীয় মেয়াদে আবারও তিনি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন। নির্বাচনের ফল সম্পর্কে দেশ-বিদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষক, সুশীলসমাজ, বুদ্ধিজীবীদের সব বিচার-বিশ্লেষণ, ধ্যান-ধারণাকে পাল্টে দিয়ে এত বিশাল ব্যবধানে জয়লাভ করবে এটা হয়তো খোদ বিজেপির রাজনৈতিক নেতারাও চিন্তা করেননি।
ফাইল ছবি

মোট সাত পর্বে অনুষ্ঠিত ভারতের ১৭তম লোকসভার নির্বাচনের ফল ইতিমধ্যেই বেরিয়ে গেছে। নরেন্দ্র মোদির বিজেপি এ নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হিসেবে আবারও নির্বাচিত হয়েছে। ৩০ মে দ্বিতীয় মেয়াদে আবারও তিনি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন। নির্বাচনের ফল সম্পর্কে দেশ-বিদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষক, সুশীলসমাজ, বুদ্ধিজীবীদের সব বিচার-বিশ্লেষণ, ধ্যান-ধারণাকে পাল্টে দিয়ে এত বিশাল ব্যবধানে জয়লাভ করবে এটা হয়তো খোদ বিজেপির রাজনৈতিক নেতারাও চিন্তা করেননি।

৩৯ বছর আগে প্রতিষ্ঠিত মাত্র দুটি আসন নিয়ে যে দলের সংসদ দখলের যাত্রা শুরু, সেই বাজপেয়ি-আদভানির হাতে গড়া বিজেপি যখন ২০১৪ সালে মোদি-অমিত শাহের দলে পরিণত হল, তখনও কি কেউ ভেবেছিল ভারতের মতো ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রে কট্টর হিন্দুপন্থী এ দলটি পরপর দুটো লোকসভা নির্বাচনে এত বিপুল আসনে জয়লাভ করে ক্ষমতায় ফিরে আসবে? দাঙ্গার রক্ত হাতে মেখে সব বিরূপ সমালোচনাকে পাশ কাটিয়ে নরেন্দ্র মোদি এতদূর যে আসবেন তখন হয়তো অনেকেই তা ধারণা করতে পারেননি।

২০১৪ সালে ক্ষমতায় আসার পর তরুণ সমাজের বেকারত্বের রেকর্ড, ঐতিহাসিকভাবে জিএসটি চালুর সাফল্য-ব্যর্থতা, নোট বাতিলে জনগণের ভোগান্তি, ঋণ জালিয়াতির খপ্পরে পড়ে কৃষকের আত্মহত্যার ঘটনা, গো-রক্ষার নামে মুসলমান এবং দলিত সম্প্রদায়ের মানুষকে হত্যা কিংবা তিন তালাক বন্ধের উদ্যোগ ইত্যাদি সব বিতর্ক ও ব্যর্থতাকে পাশ কাটিয়ে নির্বাচনের ফলকে বের করে নিয়ে আসায় কি শুধু মোদির ব্যক্তিগত ইমেজই কাজ করেছে? না এর পেছনে অন্য কোনো রসায়ন কাজ করেছে তা ভেবে দেখার বিষয়।

মোদি নির্বাচন-উত্তর এক সভায় বলেছেন, নির্বাচনের অঙ্কের হিসাব রসায়নের কাছে হেরে গেছে, তবে এ রসায়নের বলতে তিনি কী বুঝিয়েছেন তা খুলে বলেননি। অনেকের ধারণা, এ রসায়ন হল, হিন্দু অধ্যুষিত ভারতের সাধারণ মানুষের ধর্মীয় বিশ্বাসকে কাজে লাগিয়ে দলের প্রতি মানুষের দৃঢ় আস্থা ও বিশ্বাস অর্জন করা অর্থাৎ বিজেপি মানুষের মনে এ বিশ্বাস স্থাপন করতে সক্ষম হয়েছে, বিজেপিই একমাত্র দল, যে দলের কাছে তাদের ধর্ম ও ধর্মীয় আচার-আচরণ অন্য যে কোনো দলের চেয়ে অধিকতর নিরাপদ।

মোদির রাজনৈতিক আচার-আচরণ যারা ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করেন, অন্তত তাদের ভেতর নির্বাচন-উত্তর মোদির রসায়নের রহস্য এভাবেই উন্মোচিত হয়েছে। অনেকে আবার মনে করেন, বিরোধী জোটের ঐক্যের দুর্বলতাকে সর্বোচ্চ কাজে লাগানো এবং জোটভুক্ত আঞ্চলিক দলের বিরোধীপক্ষকে কাছে টেনে নিয়ে জনসমর্থন আদায় করে নেয়া হল মোদির রসায়নের অন্যতম উপাদান বা রহস্য।

নির্বাচনের ফল বিশ্লেষণ করলে মোদির রসায়নের ইঙ্গিত উত্তরপ্রদেশ ও পশ্চিমবঙ্গে স্পষ্ট করে দেখা যায়। বিজেপির প্রথম থেকেই লক্ষ্য ছিল উত্তরপ্রদেশ এবং পশ্চিমবঙ্গের বেশিসংখ্যক আসন দখল করা। এ দুটি রাজ্যে লোকসভার আসন সংখ্যাও বেশি। বিরোধী জোটই যেন তাদের এ কাজটি সহজতর করে দিয়েছে। জোটের মধ্যে অনৈক্য ও বোঝাপড়ার অভাবের সুযোগ নিয়ে বিজেপি এ ফায়দাটুকু আদায় করে নিয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দেয়া একের বিরুদ্ধে এক ফর্মুলা হয়তো বিজেপির সাফল্যের লাগাম কিছুটা টেনে ধরতে পারত।

কিন্তু বাস্তবে তা ঘটেনি। মমতার এ ফর্মুলা প্রসঙ্গে নির্বাচন-পূর্ব আমার একটি নিবন্ধে বিস্তারিত উল্লেখ করেছিলাম। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর প্রিয়াংকা গান্ধী সক্রিয় রাজনীতিতে নাম লিখিয়ে তিনি দায়িত্ব নিলেন পূর্ব উত্তরপ্রদেশের। নির্বাচনের ঠিক আগে আগে প্রিয়াংকা দলের কর্মী-সমর্থকদের চাঙ্গা করে তুললেও ভোটের মাঠে বড় কিছু অর্জন করার মতো রাজনৈতিক প্রজ্ঞা যে তার ছিল না তা বাস্তবে প্রমাণ হয়ে গেছে। ভোটের হিসাবে সব উত্তরপ্রদেশে তিনি মাত্র একটি আসন ঘরে তুলতে সক্ষম হয়েছেন। কাজের কাজ যেটি হয়েছে তা হল, সমাজবাদী পার্টি এবং বহুজন সমাজ পার্টির জোটের ভোট কেটে নেয়া। এ জোটের সঙ্গে কংগ্রেসও যদি উত্তরপ্রদেশে একসঙ্গে লড়াই করত, তাহলে বিজেপি অন্তত ৬২টি আসন দখল করতে পারত না। এ পরিস্থিতি শুধু উত্তরপ্রদেশের নয়, সমগ্র দেশের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য ছিল।

পশ্চিমবঙ্গের চিত্রটি একটু অন্যরকম। বলা যায়, বামপন্থীদের এবারের লোকসভা নির্বাচনের রাজনৈতিক অবস্থানই পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির শক্ত খুঁটি গাড়তে সাহায্য করেছে। ২০১১ সালে তৃণমূলের কাছে পরাজয়ের পর ৩৪ বছরের ক্ষমতার আসন থেকে ছিটকে পড়ে তৃণমূল শাসনামলে যে রাজনৈতিক উৎপীড়নের শিকার হয়েছে বামপন্থীরা, তা সহজে হজম করতে পারেনি তারা। এ কারণে এবারের ভোটে বামপন্থীদের মূল লড়াইটা মোদির বিরুদ্ধে না হয়ে মমতার বিরুদ্ধে হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে বামপন্থী, বিশেষ করে সিপিএম সমর্থকদের মতিগতি দেখে মনে হয়েছে, ‘আপাতত তৃণমূলকে হটানোর কাজটা বিজেপি করে দিক, তারপর যথাসময়ে ক্ষমতার মঞ্চে গিয়ে বসা যাবে।’ পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির এ অপ্রত্যাশিত উত্থানে তৃণমূল কংগ্রেসের অবস্থান অনেকটা নড়বড়ে হয়ে গেছে।

এবারের লোকসভার ৪২টি আসনের মধ্যে ১৮টি পেয়েছে বিজেপি। মোট ভোটের ৪৩ শতাংশ তৃণমূল পেলেও বিজেপির অবস্থান বেশি দূরে নয়। তারা পেয়েছে ৪০ শতাংশ। তৃণমূলের এ পরিস্থিতির জন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও যে কিছুটা দায়ী একথা বলা যায়। তার একরোখা মনোভাব এবং একতরফা কিছু সিদ্ধান্তও দলের বিপক্ষে গিয়েছে। দলবিরোধী আচরণ এবং মন্তব্যের জন্য কথায় কথায় দলের নেতাকর্মীদের অপদস্ত করা বা বহিষ্কার অনেকেই মেনে নিতে পারেননি। ফলে এসব দলছুট নেতাকর্মীরা তাদের সমর্থকদের নিয়ে বিজেপির পক্ষে কাজ করেছে লোকসভার নির্বাচনে। শুধু তাই নয়, নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর তৃণমূলের বিধায়কসহ পৌরসভার কাউন্সিলররা যে হারে বিজেপির দুয়ারে আশ্রয় নিচ্ছে তা আগামীদিনে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির ক্ষমতা দখলের পূর্বাভাস বলে মনে হচ্ছে।

পশ্চিমবঙ্গে মোদি রসায়নের আরেকটি বৈশিষ্ট্য হল, রাজ্যের হিন্দু ভোটারদের নিশ্চিন্ত আশ্রয়ের সন্ধান দিতে পারা। ভোটের সংখ্যা অন্তত তাই বলছে। পশ্চিমবঙ্গে মুসলিম অধ্যুষিত এলাকায় তৃণমূল ভালো ভোট পেয়েছে। অপরদিকে রাজ্যের হিন্দুদের বড় অংশের সমর্থন বিজেপির পক্ষে গেছে। যেখানে দুই সম্প্রদায়ের মেরুকরণ প্রবল, সেখানেই হিন্দু ভোটাররা বিজেপিতে আস্থা রেখেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তৃণমূল নেত্রীর সংখ্যালঘুদের প্রতি দুর্বলতা বিজেপির প্রচার কাজে লেগেছে বেশি। মানুষের মনের গভীরে সাম্প্রদায়িক মনোভাবের যে বীজ লুকানো রয়েছে, তা সযত্নে বাইরে নিয়ে আসতে সক্ষম হয়েছে বিজেপি। নাগরিকপঞ্জি করে তথাকথিত বাংলাদেশি মুসলমানদের বাংলা থেকে বিতাড়নের যে হুঙ্কার বিজেপি দিয়েছে, তার ওপরও নিঃসংকোচে আস্থা রেখেছে হিন্দু ভোটাররা।

নির্বাচনের ফল বের হওয়ার পর মোদির প্রথমোক্ত রসায়নের বেশকিছু আলামত ইতিমধ্যেই দৃশ্যমান হতে শুরু করেছে। ২৮ মে নরেন্দ্র মোদির শপথও হয়নি, এরই মধ্যেই ধর্মীয় উগ্রবাদী দল আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত রাজস্থানের উদয়পুরে এক অনুষ্ঠানে বলেন, ‘রামের কাজ করতে হবে। আর সে কাজ হবেই। রামের কাজ তো নিজেদেরই কাজ। নিজেদের কাজ নিজেদেরই করতে হবে।’ ভাগবত অবশ্য খোলাসা করে বলেননি, ‘রামের কাজ’ বলতে তিনি রাম-রাজ্যের কথা বলেছেন না অযোধ্যার রামমন্দিরের। তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, তিনি আপাতত রামমন্দিরের কথাই বুঝিয়েছেন। যদিও অযোধ্যায় রামমন্দির নির্মাণের মামলা এখনও ভারতের সুপ্রিমকোর্টের বিচারাধীন। এ ব্যাপারে তিন সদস্যের একটি কমিটিও নিয়োগ করা হয়েছে মধ্যস্থতার জন্য। আগামী ১৫ আগস্টের মধ্যে কমিটির রিপোর্ট জমা পড়ার কথা দেশটির সর্বোচ্চ আদালতে। ২০১৪ সালে ক্ষমতায় আসার পর বিজেপির সঙ্গে আরএসএসের নিবিড় সম্পর্কের কথা নতুন করে বলার কিছু নেই। মোদির বিগত আমলেই আরএসএস প্রতিটি রাজ্যে একাধিক রাজ্য শাখা খোলার সুযোগ পেয়েছে। শুধু তাই নয়, রাজ্যে-রাজ্যে, এমনকি কেন্দ্রের সরকারেও বিভিন্ন নিয়োগ-বদলির ক্ষেত্রে আরএসএসের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল, এখন সবাই বিশ্বাস করে আরএসএসের এ ভূমিকা মোদি ও অমিত শাহের সম্মতি ছাড়া সম্ভব ছিল না। এর ফলও মোদি হাতে হাতে পেয়ে গেছেন। নির্বাচনের তারিখ ঘোষণার পর থেকে আরএসএসের বিভিন্ন রাজ্য শাখার সদস্যরা মাঠ পর্যায়ে বিজেপির পক্ষে প্রকাশ্যেই প্রচার শুরু করে। ধর্মীয় অনুভূতিকে নাড়া দিয়ে বিজেপির পক্ষে ভোট ভিক্ষা প্রার্থনা করে। নিজ ধর্ম ও ধর্মীয় অনুশাসন নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে বিজেপির বিকল্প নেই বলে ব্যাপক প্রচারণার মাধ্যমে মানুষের আস্থা ও বিশ্বাস স্থাপনে বিশেষ ভূমিকা পালন করে। গোটা বিজেপি নেতৃত্ব একথা স্বীকার করে, মোদির এ জয়ের পেছনে আরএসএসের অবদান অনেক। এ কারণেই হয়তো আরএসএস নেতা ভাগবত এত আস্থার সঙ্গে ‘রামের কাজের’ কথা ঘোষণা দিতে পারেন। বিজেপির এক শীর্ষ নেতা তো বলেই দিয়েছেন, ‘এত বিপুলসংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে বিজেপি ফিরে আসার পর আরএসএস মোদি সরকারের কাছে এতটুকু প্রত্যাশা করতেই পারে।’ মোদি ক্ষমতায় ফিরে আসায় উগ্রবাদী হিন্দুরা যে আবারও সক্রিয় হয়ে উঠেছে, তারও কিছু আলামত দেখা গেছে বিভিন্ন রাজ্যে। নির্বাচনের ফল ঘোষণার তিন-চার দিনের মধ্যেই বিভিন্ন রাজ্যে সংখ্যালঘু মুসলমানদের হেনস্তা, অপমান এবং জীবননাশের মতো ঘটনা ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে।

বিজেপির প্রতি সাধারণ মানুষের জোয়ার দেখে অনেকেই মনে করছেন, আগামী দিনে লোকসভার ফলের প্রভাব পড়তে পারে রাজ্যসভাতেও। রাজ্যসভাতে বিরোধীদের প্রায় কোণঠাসা করার পথেই এগোচ্ছে বিজেপি। অনুমান করা যায়, ২০২০ সালের নভেম্বরের মধ্যে রাজ্যসভাতেও সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে চলেছে বিজেপির রাজনৈতিক জোট এনডিএ। বর্তমানে রাজ্যসভায় এনডিএ’র সদস্য রয়েছেন ১০২ জন। তাদের বিরোধী ইউপিএ’র সদস্য আছেন ৬৫ জন। অন্যান্য দলের সদস্য রয়েছেন ৭৩ জন। উল্লেখ্য, রাজ্যসভায় কোনো বিল পাস করাতে হলে ১২৩ জনের সমর্থন প্রয়োজন হয়। চলতি বছরে ১০ এবং আগামী বছরে ৭২টি রাজ্যসভার আসন খালি হবে।

এনডিএ যদি চলতি বছরের অবশিষ্ট তিনটি রাজ্যের অর্থাৎ মহারাষ্ট্র, হরিয়ানা এবং ঝাড়খণ্ডের বিধানসভা নির্বাচনে জয়লাভ করতে পারে তাহলে রাজ্যসভাতেও বিজেপি এবং তাদের জোট সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন পাবে অনায়াসে। উল্লেখ্য, পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূলের তিনজন বিধায়ক ইতিমধ্যেই বিজেপির পতাকাতলে আশ্রয় নিয়েছেন। বিজেপি সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে যদি একবার রাজ্যসভা দখল করতে পারে, তাহলে বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ বিল পাস করিয়ে নিতে পারবে। এর মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিল হচ্ছে মুসলিম সম্প্রদায়ের ‘তিন তালাক’ রোধসংক্রান্ত বিতর্কিত বিল এবং ‘সংশোধিত নাগরিক’ বিল। উল্লেখ্য, দুটো বিলই মুসলমানদের লক্ষ্য করে সংসদে উত্থাপিত হয়েছিল; যা পাস হলে প্রথমটি মুসলমানদের ধর্মানুভূতিতে আঘাত হানবে এবং অপরটি তথাকথিত অনুপ্রবেশকারী হিসেবে চিহ্নিত মুসলমানদের দেশ থেকে বিতাড়নের পথটি হবে সুগম।

লোকসভার এবারের নির্বাচনের ফলাফল পর্যালোচনা করলে এ কথা নির্দ্বিধায় বলা যায়, সংবিধানে ‘ধর্মনিরপেক্ষতা’র যে স্তম্ভই থাকুক না কেন, রাজনৈতিক ও ধর্মীয় মেরুকরণে ভারত স্পষ্টই একটি হিন্দু রাষ্ট্রে পরিণত হচ্ছে। ভারতীয় রাজনীতির ইতিহাসে একটি কট্টর হিন্দুপন্থী দল সব হিসাব-নিকাশ এবং ধারণাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে হিন্দু ধর্মবিশ্বাসী সাধারণ মানুষের বিপুল ভোটে মহিধরের মতো ক্ষমতায় ফিরে আসবে তা অনেকেরই ধারণার বাইরে ছিল। কিন্তু বাস্তবে তাই ঘটেছে। তাতে একথা এখন বলা যায়, ভারতের জনগণ এখন আর ধর্মনিরপেক্ষতায় বিশ্বাসী নয়। বরং ধর্মনিরপেক্ষতার পথ ছেড়ে খাঁটি হিন্দুত্ববাদের পথকেই বেছে নিয়েছে। এসব সমীকরণের হিসাব মেলাতে গিয়ে ভারতের মুক্তমনা মানুষও হিমশিম খাচ্ছেন। প্রশ্ন জাগে, মোদির ক্ষমতায় ফিরে আসা ভারতের এতদিনের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির জন্য অশনিসংকেত নয়তো?

একেএম শামসুদ্দিন : অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা

ঘটনাপ্রবাহ : ভারতের জাতীয় নির্বাচন-২০১৯

আরও
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×